মানুষের হাতে যে শক্তি আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করে ফেলা যায়
মানুষের হাতে যে শক্তি আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করে ফেলা যায়

মানুষের হাতে যে শক্তি আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করে ফেলা যায়

অনলাইন ডেস্ক

ছবিটার মানুষ জন রবার্ট ওপেনহিমার, পৃথিবীর প্রথম এটম বোমা ইনিই বানিয়েছিলেন। তার বাবা জার্মানী থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের অধ্যাপক ছিলেন ওপেনহিমার।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে যখন জার্মানি আর অক্ষশক্তি একের পর এক দেশ দখল করে নিচ্ছে তখন আইনস্টাইন জানতে পারলেন হিটলারের জার্মানী এটম বোমা প্রায় বানিয়ে ফেলেছে।

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন হিটলার এটম বোম আগে বানাতে করলে পৃথিবীর মানুষের কী দশা হবে কারণ আনবিক তেজষ্ক্রিয় পদার্থের বিপুল ক্ষমতার সূত্র তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রথমে প্রেসিডন্ট রুজভেল্ট আর পরে প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে বার বার চিঠি লিখে বোমা তৈরির জন্য তাগাদা দিতে থাকেন আইনস্টাইন। তাঁর সঙ্গে অন্যান্য বিজ্ঞানী যোগ দেন।

অবশেষে আমেরিকার বোমা বানানোর ম্যানহাটন প্রজেক্টের ডিরেক্টর হন ওপেনহিমার। প্রায় তিন বছরের চেষ্টার পর এটম বোমা তৈরি হল। এখন পরীক্ষার পালা।

আমেরিকার সরকার আর সামরিক যৌথ বাহিনির একটি বিশেষ টিম ওপেনহিমারের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "এই বোমার ধ্বংসক্ষমতা কতখানি?'"

তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "আমার কোন ধারনা নেই। তবে এই বোমা ফাটলে যা ঘটবে পৃথিবীতে ইতিপূর্বে তা ঘটে নি। "

টেস্টের জন্যে নিউ মেক্সিকো মরুভূমির ত্রিনিটি সাইটে দ্বিগুন পুরু করে ব্ল্যাক পাইলনের কংক্রিটের একটি ৯১ ফুট টাওয়ার বানিয়ে ইউরিয়াম বোমাটিকে সেখানে তোলা হল। ১৬ কিলোমিটার দূরে একইরকম আরো একটি টাওয়ারে অব্জারভেশন পোস্ট বসানো হল। সকল বৈজ্ঞানিকরা সেখানে উপস্থিত, সবার পরনে শব্দ, আলো আর উত্তাপ প্রতিরোধক পোষাক-চোখে কালো চশমা।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তারা দেখলেন ব্যাঙের ছাতার মত পুঞ্জীভূত ঘন মেঘ তীব্র বেগে আকাশে কয়েকশ ফিট উঠে গেল। সেইসঙ্গে সুতীব্র আলোর ছটা উত্তপ্ত বাতাস আর ঝড়ের তাণ্ডব।

কর্মীরা যন্ত্রপাতির সাহায্যে পরিকল্পনা মত সমস্ত উপাত্ত নিয়ে এসে দেখলেন ওপেনহিমার বাইরে চেয়ারে বসে কিছু যেন বিড়বিড় করে আওরাচ্ছেন। অনেকটা আবৃত্তির মত কিন্তু ভাষা দুর্বোধ্য।

একজন সাহস করে জিজ্ঞাসা করলেন, "What are you reciting, professor? Is it Greek?"

"No, it's Sanskrit. Its from Bhagbatgita " --- ওপেনহিমার উত্তর দিলেন।

ওপেনহিমার বিস্ফোরণের সেই তীব্র আলোর বিচ্ছুরণের তুলনা পেয়েছিলেন গীতার একটি শ্লোক থেকে। গীতার একাদশ অধ্যায়ের দ্বাদশ সংখ্যক শ্লোকঃ

"যদি আকাশে হাজার হাজার সুর্য একই সঙ্গে উদিত হয়, তা হলে তাকে সেই মহাত্মা বিশ্বরূপের প্রভার সংগে সামান্যমাত্র তুলনা করা যেতে পারে। "

ওপেনহিমার যা দেখেছিলেন তা ছিল অবর্ণনীয়, তবুও তিনি সেই বিচ্ছুরণের ভাবচিত্রটি বলার চেষ্টা করেছেন এই শ্লোকটি আউড়ে।

আরও পড়ুনঃ

এমবাপ্পে চলে গেলে রোনালদোকে আনবে পিএসজি!

আজ থেকে অনলাইনে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু

আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ

হুমায়ুন আজাদ হত্যার ১৮ বছর, রায় হয়নি দুটি মামলার


হিরোশিমায় বোমা ফেলার দু’দিন পর এক সাক্ষাৎকারেও তিনি গীতার আর একটি শ্লোক বলেছিলেন যার ইংরেজি করলে হবেঃ I am become death, the destroyer of worlds. কুরুক্ষেত্রে ১৭ অক্ষৌহিনি সৈন্য নিহত হবার পরে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে একথা বলছিলেন।

মাত্র ২.৫ মেগাটনের বোমা হিরোশিমায় কি ঘটিয়েছিল তা এখন সকলেই জানে। মানুষের হাতে এখন হাজার মেগাটনের বা তার চেয়েও বেশি শক্তির অস্ত্র মজুত আছে যা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করে ফেলা যায়।

news24bd.tv/ নকিব