খবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের

দেশজুড়ে মাদক মাফিয়াদের বিশাল নেটওয়ার্ক

অনলাইন ডেস্ক

দেশজুড়ে মাদক মাফিয়াদের বিশাল নেটওয়ার্ক

করোনায় বিপর্যস্ত দেশে মাদকের অবাধ সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। সর্বত্রই মাদকের সরবরাহ, কেনাবেচা এমনকি দেশ থেকে বিদেশেও মাদক পাচারের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বেপরোয়া তৎপরতা চলছে। বছরের পর বছর ধরে সরকারের সব প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে দেশব্যাপী অপ্রতিরোধ্য মাদক বাজার পরিচালনা করে তারা একেকজন হয়ে উঠেছেন মাদক মাফিয়া। 

পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায়ও তারা ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত, থানা-আদালতে আছে ডজন ডজন মামলা। অথচ কোনো কিছুতে কিছুই হচ্ছে না তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রুটিন তৎপরতা, বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ অভিযান, চিরুনি অভিযান, সাঁড়াশি অভিযান, ক্রসফায়ার, গোয়েন্দা তৎপরতার সবকিছুকে ব্যর্থ করে দিয়ে মাদক মাফিয়ারা গড়ে তুলেছে আলাদা সাম্রাজ্য, নিজস্ব বলয়। সারা দেশে রয়েছে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। 

অপ্রতিরোধ্য এ সরবরাহব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫৬ জন জনপ্রতিনিধি, শতাধিক প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা পর্যায়ের কয়েক শ লোভী সদস্যকে মাদক বাণিজ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের আড়ালে মাদক বাণিজ্যে নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতার ঘৃণ্য চিত্র বেরিয়ে আসে। প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড, থানা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতা থেকে খোদ সংসদ সদস্য পর্যন্ত সম্পৃক্ত রয়েছেন। আছেন সিআইপি খেতাব পাওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিবেদনেও এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ১৪১ মাদক মাফিয়ার নেপথ্যশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সে তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাফিয়া হিসেবে পরিচিতরা সবাই মাদক বাণিজ্যের সুবাদে শত কোটিপতি হয়েছেন, কারও কারও সহায়সম্পদ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে।

বিদেশের কেমিক্যালে ঢাকায় ইয়াবা!

এদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মুখে মাদক সিন্ডিকেটগুলো পাচারঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশেই একাধিক কারখানা বসিয়ে দেদার ইয়াবা প্রস্তুত করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরার সুরক্ষিত বাসাবাড়িতে এ ধরনের কারখানা থাকার ব্যাপারে গোয়েন্দাদের কাছেও তথ্য রয়েছে। এর আগে ঢাকা মহানগর ডিবি একাধিক অভিযানে চলন্তপথে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ কয়েক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও গোয়েন্দারা কোনো কারখানার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ইয়াবা সরবরাহ ও পাইকারি ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে প্রশাসনিক ঝুঁকি এড়াতে ট্যাবলেটের পাশাপাশি তরল পদার্থ হিসেবেও ইয়াবা প্রবেশ করেছে ঢাকায়। 

মিয়ানমারসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে ঢুকছে এটি। টেকনাফ-কক্সবাজার এলাকার মাদক বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধান চালানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক জানিয়েছেন, মূলত দুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সীমান্ত গলিয়ে আসা মাদক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এর একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির অপরাধী কর্মকর্তাদের বিশেষ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন মাদক গডফাদারের নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ীদের মাদক সরবরাহব্যবস্থা। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাদক চালান মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও তখন কর্মকর্তাদের সমন্বিত মাদক সরবরাহব্যবস্থা যথারীতি চলতেই থাকে। এ কারণেই বিভিন্ন অভিযানে লাখ লাখ এমনকি কোটি কোটি পিস ইয়াবা আটক হলেও সারা দেশে ইয়াবার কোনো সংকট হয় না, দামেও হেরফের হয় না। 

ইদানীং শাহ আলমের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা সিন্ডিকেটের মাদক ব্যবসায়ীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশে ইয়াবা ও গাঁজার চালান পাঠিয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে চক্রটির অন্তত ছয় সদস্যকে মাদকসহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হলেও কুরিয়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তাদের মাদকের চালান পাঠানো কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা উইং সবচেয়ে ঢিলেঢালা হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দিন দিনই চরম আকার ধারণ করছে। নতুন নতুন রুটে নিত্যনতুন যেসব পদ্ধতিতে মাদক সরবরাহ ঘটছে সেসব ব্যাপারে মাদকের গোয়েন্দা উইং পুরোপুরি অজ্ঞ থাকায় কাক্সিক্ষত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রে এসব নিত্যনতুন কৌশলের খবর প্রকাশ হলে কিছুটা নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুমোদনহীন বারে মদ বিক্রি : রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরার অভিজাত এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও রেস্ট হাউসের আড়ালে দেদার চলছে মদ, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ। অভিজাত এলাকা হিসেবে নানারকম বাড়তি সুবিধায় এ এলাকাগুলোয় ক্লাব, রেস্ট হাউস ঘিরে হরদম বসছে মদ-জুয়ার রমরমা আসর, গড়ে তোলা হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া। এসব আস্তানায় নিরাপদ ভেবে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের আনাগোনা চলে। বিভিন্ন ঘটনায় হইচই সৃষ্টি হলেই লোক দেখানো দু-একটি অভিযান চলে, পরক্ষণেই সবকিছু ম্যানেজও হয়ে যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে গুলশান-বনানীর অবৈধভাবে মাদক বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব রেস্টুরেন্ট মালিককে ডেকে সতর্ক করে দেওয়াসহ নোটিস প্রদান করা হয়েছে।

চাঁদাবাজির টাকা ইয়াবা ব্যবসায় : যাত্রাবাড়ী থানার মোড়ে যানবাহন থেকে বেপরোয়াভাবে আদায় করা চাঁদাবাজির টাকা এখন ইয়াবা বাণিজ্যের পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। লকডাউনের ধকলে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে মাদক বাণিজ্যে নেমেছেন কিছুসংখ্যক শ্রমিক। এ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিরআখড়া, শহীদ ফারুক রোড, ইলিশ কাউন্টার, জুরাইনসহ আশপাশ এলাকায় অন্তত ৩০ জন নতুনভাবে মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন। ফলে ওই এলাকাসমূহের পুরনো মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের মারামারি, হামলা-পাল্টা হামলাসহ নানারকম মহড়া ঘটে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

মাদকের যত সিন্ডিকেট : অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা-এনএসআই, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআই, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার-ভিডিপির তালিকা থেকে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরির পর প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের বিবরণসূত্রেই জানা যায়, মাদক পাচার ও সরবরাহ বাণিজ্যে কক্সবাজারের পরই অবস্থান রয়েছে কুমিল্লা জেলার। অন্যদিকে থানা পর্যায়ে মাদকের আধিক্যতায় টঙ্গী ও আশুলিয়া থানা এলাকা শীর্ষে অবস্থান করছে। এ দুটি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা চলে বলে তথ্য রয়েছে। কুমিল্লা জেলার তালিকায় সেখানে ৮৯ জন ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও গডফাদার পর্যায়ের রয়েছেন ১৬ জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হচ্ছে মাদক পাচার ও সরবরাহের অন্যতম সীমান্ত ঘাঁটি। সেখানে সকল প্রকার মাদক ও পণ্যের অবাধ চোরাচালান চলে অবাধে। তালিকায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোরের সীমান্তকেন্দ্রিক মোট ২১ জন মাদক গডফাদারের নাম রয়েছে। 

এরা সীমান্তের ওপার থেকে বড় বড় মাদক চালান এনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি সরবরাহ দেন। এদিকে মাদকসংক্রান্ত আন্তসংস্থার সমন্বিত প্রতিবেদনে সিলেট অঞ্চলকে এখন হেরোইন চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেটকেন্দ্রিক এ হেরোইন বাণিজ্যের মাফিয়া লন্ডনে অবস্থান করলেও তার ভাই-ভাতিজারা ঢাকাসহ আট জেলায় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। লন্ডনি মাফিয়ার হেরোইনের চালান বাংলাদেশ পেরিয়ে পাকিস্তানেও যায় বলে জানা গেছে। মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত হেরোইন চক্র ছাড়াও সিলেট অঞ্চলে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের একচ্ছত্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ১২ জন গডফাদার। 

এ ছাড়া দেশের ১৬টি সীমান্ত পয়েন্ট যথা দিনাজপুরের হাকিমপুর-হিলি; রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ-মনাকষা; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট; সিলেটের গোয়াইনঘাট-জাফলং; হবিগঞ্জের সাতছড়ি; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া; ফেনীর ছাগলনাইয়া; খাগড়াছড়ির রামগড়; বান্দরবানের রুমা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পয়েন্টে পৃথক গডফাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সদাতৎপর। এসব চক্র বরাবরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় পর্যায়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাদক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখে।

আরও পড়ুন


রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় মৃত্যু আরও ১৩

নওগাঁয় নেসকোর কন্ট্রোল রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

অবশেষে মেসিকে স্বাগত জানালেন এমবাপ্পে

পরীমণির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন দেশের ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

অনলাইন ডেস্ক

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

জয়পুরহাটের কালাইয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম (৩৮) নামে একজনকে আসামি করে কালাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন। 

এর আগে একই দিন দুপুরে ঘটনাটি 'ধামাচাপা দিতে' সালিশের আয়োজন করে গ্রাম্য মাতবররা। কিন্তু অভিযুক্ত উপস্থিত না থাকায় পরে সালিশ বাতিল করা হয়।

মামলার আসামি জহুরুল ইসলাম উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মাস্তর চান্দারপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি পোশায় একজন অটোরিকশা চালক। তিনি পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন


রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে ইইউ’র সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগ কাদের মির্জার বিরুদ্ধে

লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত, উপকূলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন স্কুলের ১৪ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত


মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে অন্য বাড়িতে টিনের ঘর ছাউনি দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন শিশুটির বাবা। দুপুরের দিকে শিশুটির মা তাকে বাড়িতে রেখে স্বামীর কাছে যান। এ সময় শিশুটি বাড়িতে একাই ছিল। এ  সুযোগে জহুরুল ইসলাম ওই বাড়িতে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।

মামলার বাদী ও নির্যাতিত শিশুর বাবা জানান, কাজ শেষে দুপুরে বাড়িতে ঢুকে তিনি মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার কাছ থেকে ঘটনা জেনে গ্রামের লোকজনদের জানান। তখন গ্রামের মাতবর ছফির উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, ছুমির ফকির, আলতাব হোসেন সরদার, আমিরুল খান ও ছাত্তার খান শিশুটির বাবা-মাকে ঘটনাটি জানাজানি করতে নিষেধ করেন। তারা সবাই মিলে রাতে সালিশ করে এ ঘটনার মীমাংসা করে দেবেন বলেও আশ্বাস দেন।

নির্যাতিত শিশুটির বাবা আরও জানান, এরপর তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে কিছু ওষুধ এনে মেয়েকে খেতে দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামে সালিশ বসান মাতবররা। ওই সালিশে তারা উপস্থিত হলেও জহুরুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে মাতবররা সালিশ বাতিল করেন। পরে রাতেই তিনি জহুরুলকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিশুটির বাবা জানান, রাতে মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসকরা শিশুটিকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠান।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নুর আলম বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই শিশুটিকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কালাই থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

হত্যা মামলার আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভে, এলাকায় তোলপাড়!

অনলাইন ডেস্ক

হত্যা মামলার আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভে, এলাকায় তোলপাড়!

চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর ফেসবুকে লাইভে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে 'ছাতক টু সুনামগঞ্জ' নামক একটি পেজে লাইভটি প্রচার করা হয়। লাইভ শুরুর পর পরই প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন। আপলোড দেওয়ার পর মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

খোদ পুলিশের মোবাইলে ধারণ করা গোপনীয় এই ভিডিও কিভাবে কথিত এই পেজে চলে গেল তা নিয়ে সচেতন মহলে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। পরবর্তীতে প্রায় এক ঘণ্টা পর ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। 

ভিডিওতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিসহ ছাতক থানার ওসি নাজিমউদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমি অবগত ছিলাম না, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।


সিলেটে বাসার ছাদ থেকে আপন দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার

ক্ষমতায় থাকছেন ট্রুডো, তবে গঠন করতে হবে সংখ্যালঘু সরকার

মিডিয়া ভুয়া খবর ছড়িয়েছে: বাপ্পী লাহিড়ি


 

ছাতক থানার ওসি নাজিম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এগুলো করিনি, পরে অন্য কেউ হয়তো করেছে। ফেসবুক লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

আইনবিদরা বলছেন, ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ গর্হিত অপরাধ। আসামির অপর সহযোগীদের তথ্য নেওয়া, রহস্য উদঘাটনের বদলে তদন্তকাজে বড় ধরণের ক্ষতির সমূহ আশংকা থাকে। 

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে পালিয়ে যায়।

রাতেই গ্রামের মাঠের ক্ষেতের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আখলাদ গোবিন্দগঞ্জ -সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামের জাহির আলীর ছেলে ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগ ও বিশ্বনাথ উপজেলার  দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে নিজ বাড়ি থেকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আসামিরা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মাস্ক না পরার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

মাহমুদুল হাসান

করোনায় সংক্রমণ ও মৃতের পরিসংখ্যান নিম্নগামী হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীনতা বেড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বেড়িয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মানুষের এমন গা ছাড়া ভাব দ্রুত আনতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ।

লকডাউনের সময়ে পেরিয়ে দেশের সবকিছুই এখন যেন স্বাভাবিক।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের চিত্র। বেশিরভাগ মানুষ ভুলে গেছে করোনার কঠিন দিনগুলোর কথা। এমন উদাসীন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন শঙ্কার।

বাস ট্রেন কিংবা বিমানবন্দরের উন্মুক্ত স্থানে দেখা মিলছে অসংখ্য মানুষের। হাসপাতালে করোনায় মৃত্যুর মিছিল আর অসুস্থদের আকুতি দেখেছেন যারা তাদের চলাচলে এখন বেপরোয়াভাব।

করোনার ভয়াবহতা কিছুটা কমায় ঢাকার বাইরেও ঢিলেঢালাভাবে চলছে সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে- বাজারে অসংখ্য মানুষ ঘুরছেন মুখে মাস্ক ছাড়াই।

আরও পড়ুন:


স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবলীগ নেতার আত্মহত্যা

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

গাজীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভেসে আসা তিমির ওজন ৩০ হাজার কেজি, দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট


করোনা শনাক্তের হার এখন ৫ শতাংশের নিচে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আবারও আসতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ- আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

অন্তত ৮০ ভাগ মানুষের টীকার আওতায় না আসা পর্যন্ত বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ছাত্রের কিশোরী বোনকে ধর্ষণ, জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ধরা

অনলাইন ডেস্ক

ছাত্রের কিশোরী বোনকে ধর্ষণ, জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ধরা

ছাত্রের বড় বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে এমন ঘটনা। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনের নাম তৌহিদুল আলম হৃদয় (১৯)।

তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মুছাপুর ৮নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীরের ছেলে।

থানায় দায়ের মামলা সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের আর আর জুট মিলস জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন তৌহিদুল আলম হৃদয় একই কলোনীতে এক শিশুকে আরবি শিক্ষা দিতেন। সেই সূত্রে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই ছাত্রের কিশোরী বোনকে ডেকে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ করেন মুয়াজ্জিন। পরে তাকে একথা কাউকে না বলার জন্য বলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে, বাড়ি ফেরার পর মেয়েটি এ ঘটনা তার মাকে জানায়। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে অভিযান চালিয়ে মুয়াজ্জিন হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক।

পরবর্তী খবর

চিৎকার বন্ধ করতে সন্তানের গলায় ছুরি, মাকে ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক

চিৎকার বন্ধ করতে সন্তানের গলায় ছুরি, মাকে ধর্ষণ

‌ব্যবসায়ীক কাজে স্বামী চলে যান বাহিরে। শিশুসন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন গৃহবধূ। গভীর রাতে ঘরের মধ্যে পুরুষ দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। চিৎকার শুনে সন্তানের গলায় ছুরি ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে সন্তানকে জিম্মি করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেন নির্যাতিন সতা।

মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চরাঞ্চলের রুলীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রুলীপাড়া গ্রামের শহিদ জামানের ছেলে কবির সরকার (২৬) ও হাবেস ঘোষের ছেলে শাহাদতের (৩০) নামে মামলা করেন গৃহবধূ।

আরও পড়ুন:


স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবলীগ নেতার আত্মহত্যা

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

গাজীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভেসে আসা তিমির ওজন ৩০ হাজার কেজি, দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট


পরে পুলিশ কবিরকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠায়।

গ্রেপ্তার কবির রুলীপাড়া গ্রামের শহীদ জামানের ছেলে।

ঘটনার ব্যাপারে কথা হয় গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। অভিযুক্ত কবির একাধিক বিয়ে করেছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে সে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, থানায় অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আসামি কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর