অবৈধ ভিওআইপির ভয়াবহ সিন্ডিকেট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক

অবৈধ ভিওআইপির ভয়াবহ সিন্ডিকেট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কারবার করে একটি ভয়াবহ সিন্ডিকেট আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উঠেছে। তাদের অবৈধ কারবারে সরকার বছরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। 

এসব টাকা হুন্ডি, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসির অভিযানে চক্রের মাঠপর্যায়ে থাকা কিছু কর্মী গ্রেপ্তার হলেও মূল গডফাদাররা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। রহস্যজনক কারণে তারা আইনের আওতায় আসছে না। 

অবৈধ ভিওআইপি কারবারিদের কারণে সরকারের কত রাজস্ব ক্ষতি হয়- এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, অবৈধ ভিওআইপির কারণে সরকারের দৈনিক রাজস্ব ক্ষতি হয় কমপক্ষে সাড়ে ১২ কোটি টাকা। মাসে এর পরিমাণ ৩৭৫ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসাবে ৪ হাজার ৫৬২ কোটি টাকার বেশি। ভিওআইপির কারণে উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আন্তর্জাতিক কল। শারুন-সাহাব সিন্ডিকেটসহ ভিওআইপি কারবারিরা সরকারের প্রভাবশালীদের আশ্রিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না বিটিআরসি। অথচ ভিওআইপি শনাক্ত করার সব আধুনিক সরঞ্জাম বিটিআরসির রয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলেই অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ ও সরকারের রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হতো।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মিনিট ইনকামিং আইএসডি কলে সরকার ৩ সেন্ট হিসেবে রাজস্ব পাবে। ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বিভিন্ন তথ্য বলছে, দেশে দৈনিক ১০ কোটি মিনিটের বেশি বৈদেশিক কল রিসিভ হয়। এর প্রায় ৭ কোটি মিনিটই আসছে চোরাপথে বা ভিওআইপির মাধ্যমে। এতে দৈনিক প্রায় ২০ কোটি টাকার বিদেশি কল ভিওআইপির মাধ্যমে চুরি হয়। যা বন্ধ করা গেলে সরকার দৈনিক সাড়ে ১২ কোটি টাকা আর বার্ষিক ৪ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব পেত।

টেলিযোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দফতর থেকে পাওয়া নথি ও অনুসন্ধান বলছে, সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক রয়েছে ভিওআইপি কারবারের শীর্ষে। এর আগে বিভিন্ন অভিযানে যত সিম জব্দ হয়েছে তার প্রায় ৮৫ শতাংশই টেলিটকের। সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভয়াবহ এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরী। রাজধানীর গুলশানে অফিস খুলে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন দেশের ভিওআইপি কারবারের বড় একটি অংশ। এ কারবারে তার অন্যতম সহযোগী টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাহাব উদ্দিন। টেলিটকের কর্মকর্তাদের কেউ শারুন-সাহাব সিন্ডিকেটের বাইরে গেলে তাদের চাকরিচ্যুতি এমনকি নির্যাতনের শিকারও হতে হয়।

শারুন-সাহাব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বেশ একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘তাদের বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সেখানে বিবেচনা ও আমলযোগ্য কোনো বিষয়ে টেলিটকের এমডিসহ অন্য কারও বিরুদ্ধে তথ্য থাকলে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’ 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাধারণত আমি একটি কাগজও ফেলে দিই না। এসব অভিযোগ আমলযোগ্য হলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক তদন্ত ও অন্য যেসব করণীয় তা অবশ্যই করা হবে।’

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এ চক্রের অবৈধ কারবারে সরকারই যে শুধু রাজস্ব হারাচ্ছে তা নয়, লোকসান গুনতে গুনতে বৈধভাবে দেশে ফোন কল প্রবেশের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিআইপি কারবারের হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে অচিরেই ধ্বংসের মুখে পড়বে টেলিকম খাতের বহু প্রতিষ্ঠান। এতে সরকার যেমন রাজস্ববঞ্চিত হবে তেমনি ব্যবসা বন্ধ করে পথে বসতে হবে বৈধ বহু ব্যবসায়ীকে।

জানা গেছে, ১৪ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে চিঠি দেন জনৈক নূরুল জিহাদ। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভিওআইপি কারবারে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে টেলিটকের এমডিই শুধু নন, জড়িত রয়েছেন আরও বহু কর্মকর্তা, যার অনেকেই বিতর্কিত ও সমালোচিত। শারুনের ভিওআইপি কারবার গড়ে উঠেছে সেই বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনের সিন্ডিকেট ঘিরে। বিটিসিএলে ক্রয় বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ওএসডি করা হয়েছিল সাহাব উদ্দিনকে। তার বেশুমার দুর্নীতির কারণে বিটিসিএলের টেলিকমিউনেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (বিডি-পি ৫৩) থেকে অর্থ প্রত্যাহার করে নেয় জাপানি দাতাপ্রতিষ্ঠান জাইকা। তখন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। ভিওআইপি কারবারে সম্পর্কের সূত্র ধরে সাহাব উদ্দিন ধরনা দেন শারুনের কাছে। শারুনের নানামুখী তদবির ও একান্ত চেষ্টায় দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যান সাহাব। পরে শারুনের সহযোগিতায় টেলিটকের বড় একটি প্রকল্পে পরিচালকের (পিডি) পদও বাগিয়ে নেন সাহাব উদ্দিন। এর পর থেকে সাহাব উদ্দিনের প্রত্যক্ষ মদদে ভিওআইপি কারবারের জাল বিস্তৃত করেন শারুন। 

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০১৮ সালে এমডির দায়িত্ব পান সাহাব উদ্দিন। এরপর ভিওআইপি কারবারে শনৈ শনৈ উন্নতি হয় শারুনের। ভিওআইপি কারবারে পাওয়া বিপুল অর্থ আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং এবং হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন শারুন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেলিটকের টাওয়ার ও সিম ব্যবহার করে এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ ভিওআইপি কারবারের আখড়ায় পরিণত করে শারুন-সাহাবের সিন্ডিকেট। তারা টেলিটকের বিভিন্ন সেবাও বন্ধ করে দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘টেলিপে’ নামে টেলিটকের ডিজিটাল অ্যাপ ছিল। পল্লী বিদ্যুতের বিল আদায় করা হয় এ অ্যাপের মাধ্যমে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছিল। কিন্তু ১৫ জুন কোনো নোটিস ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অ্যাপটি। এর নেপথ্যে রয়েছেন সাহাব উদ্দিন, টেলিটকের মার্কেটিং বিভাগের জিএম প্রভাস চন্দ্র, আইটি বিভাগের জিএম নুরুল মাবুদের যোগসাজশ। যারা সবাই শারুন সিন্ডিকেটের সদস্য। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে টেলিটকের অ্যাপসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। তা ছাড়া বর্তমানে টেলিটক গ্রাহকদের এসএমএস পাঠিয়ে পল্লী বিদ্যুতের বিল বিকাশে দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে লোভনীয় অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে টেলিপে ও টেলিটকের রিটেইল পয়েন্ট।

টেলিটকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমডি সাহাব উদ্দিনের দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক অভিযোগ আমলেই নেওয়া হয়নি। এতে তার বেপরোয়া দুর্নীতির মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছেই। এমনকি কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তার অনুগত চক্রকে দিয়ে ওইসব আলামত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যারা অভিযোগ করেন তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।’ 

তারা আরও বলেন, ‘এমডির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ওই ফুটেজে এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে এমডির অন্তরঙ্গতার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।’

আরও পড়ুুুন:


ফরিদপুরে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৮

পিএসজির হয়ে অনুশীলন করলেন মেসি (ভিডিও)

চতুর্থবারের মতো পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা


জানা গেছে, টেলিফোন শিল্প সংস্থা-টেশিসের এমডির সঙ্গে যোগসাজশে অপটিক্যাল মাস্ক কেনায় দুর্নীতির আলামত গোপন করার চেষ্টা চালান সাহাব উদ্দিন। তার এসব তথ্য জানেন এমন কিছু কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজনকে শারুনের গুলশানের অফিসে ডেকে শায়েস্তা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া টেলিটকে নির্বিঘ্ন দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সাহাব উদ্দিন যাকে নিরাপদ মনে করেন তাকেই কাছে টানেন। তার নিজস্ব বলয়ে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের জামাতা ও টেলিটকের কোম্পানি সচিব তাগরিবুল ইসলামের নামও আছে। এ ছাড়া আরও আছেন তিন জিএম নূরুল মাবুদ, আনোয়ার হোসেন ও প্রভাস চন্দ্র এবং ক্রয় বিভাগের ম্যানেজার রফিক। শারুনের সঙ্গে এই কয়েক কর্মকর্তা ভিওআইপিসহ নানান অনিয়ম-দুর্নীতির বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যার মাধ্যমে দুর্নীতি করছেন হাজার হাজার কোটি টাকা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘টেকনিক্যাল কারণে টেলিপে অ্যাপসটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শিগগিরই এটি আবার চালু করা হবে।’ দুর্নীতির কারণে ওএসডি থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে সাত মাসের জন্য ওএসডি করা হয়েছিল। তবে এটাকে ঠিক ওএসডি বলা যায় না, আমাকে এমডি অফিসে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছিল।’ 

হুইপপুত্র শারুনের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে ভিওআইপি কারবার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শারুনের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই।’

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব চেয়ে দুদক'র চিঠি, যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব চেয়ে দুদক'র চিঠি, যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব চেয়ে দুদক এর চিঠির দেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পান না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহামুদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজ) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় এ নিয়ে সাংবাদিকদের কোনো উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বারন জানান তথ্যমন্ত্রী।

এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের একাংশর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: 


স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

চীনে ১০ কি.মি. গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হানা

দুবলার চর থেকে খুলনা কাঁকড়া পরিবহনে বাধা নেই: হাইকোর্ট


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাফল্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বিরাট ভূমিকা রাখছে। তবে সরকারের সাফল্যকে আড়াল করার জন্য আরেকটি গ্রুপ নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

সিনিয়র  সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি মোল্লা জালাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদন সাজ্জাদ আলম খান তপু সহ ডিইউজের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সাধারণ সদস্যবৃন্দ।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও ৫ বছর চালাতে সংসদে বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক

‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও ৫ বছর চালাতে সংসদে বিল পাস

‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও ৫ বছর চালাতে সংসদে বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা সংসদে পাস হয়। এর আগে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০২১’ উত্থাপন করা হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে প্রণীত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর বিশেষ আইনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়তেই বিলটি আনা হয়।

বিলটি সংশোধনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে এখাতে দ্রুত অধিক সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন


খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইন আদালতের প্রতি সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই: ওবায়দুল কাদের

বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপের ৪০তম জন্মদিন আজ

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে


মন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়।  আর এটা করার জন্য ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

এরই মধ্যে তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। সাজা স্থগিতের বিষয়টির অগ্রগতি কতদূর জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছোট ভাই আমাদের কছে একটি আবেদন নিয়ে আসছিলেন। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আপনারা জানেন, আমি বিদেশে ছিলাম। আমি এখনই ফিরেছি। আইন মন্ত্রণালয় যে অভিমত দিয়েছে, সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলছে। আমি তো অফিসে মাত্রই আসলাম। প্রক্রিয়া কোন পর্যন্ত, আমি না জেনে বলতে পারব না।’

সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ দণ্ড স্থগিতের সময় শেষ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ১৭ তারিখে বিদেশে যাবেন, সেক্ষেত্রে আজকের দিনটিই আছে- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করুন। ইয়েস, নো- কোনোটাই তো আমরা বলতে পারব না। এটা প্রক্রিয়ায় আছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওখানে যাবে। প্রক্রিয়াধীন আছে।’

দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রয়েছে। খালেদা জিয়ার নানান ধরনের শারীরিক জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

আরও পড়ুন


আইন আদালতের প্রতি সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই: ওবায়দুল কাদের

বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপের ৪০তম জন্মদিন আজ

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে

ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা


এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে কিছুদিন আগে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবেদনের বিষয়ে মতামত দেয় আইন মন্ত্রণালয়। বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে- আগের মতো এই দুটি শর্তে তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

এখন এতে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে খালেদা জিয়ার দণ্ড আরও ৬ মাস স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গেলেন সিইসি

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গেলেন সিইসি

রাশিয়ার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দেশটিতে সাতদিনের সফরে গেলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৩ নম্বর ফ্লাইটে দেশটির উদ্দেশে উড়াল দেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন একান্ত সচিব আবুল কাশেম মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম। তিনি বলেন, কোনো অসুবিধা হয়নি। সময় মতো প্লেন ছেড়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কাছে ইসির সেবা-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শামসুল হক ফৌজদারের পাঠানো এক চিঠি থেকে জানা গেছে, তারা ২২ সেপ্টেম্বর এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে বিকেল সাড়ে ৫টায় ফিরবেন।
 
রাশিয়ার জাতীয় সংসদ রাশিয়ান ফেডারেল অ্যাসেম্বলির নিম্নকক্ষ ‘স্টেট দুমা (State Duma)’-এর ভোট পর্যবেক্ষণ করতে দেশটিতে সাতদিন থাকবেন সিইসি। স্টেট দুমা নির্বাচনেও যন্ত্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয় না। সেখানে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিস্টেমে (অপটিক্যাল স্ক্যান ভোটিং মেশিন) ভোট হয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম নিম্নকক্ষের নির্বাচনে এ যন্ত্রে ভোট নেওয়া হয়। 

১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ভোটিং মেশিন ব্যবহার করেছে রাশিয়া, তবে তা নয় শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। বাংলাদেশ অবশ্য আগামী সংসদ নির্বাচনের অধিকাংশ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার পরিকল্পনা করছে।
 
নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, এটি অনেকটা সৌজন্যের মতো। আমরা সার্কদেশভুক্ত নির্বাচন কমিশনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকি। আবার অন্যরাও আমরাদের আমন্ত্রণ জানায়। এতে নির্বাচনের ভোটার এডুকেশন, কালচার ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়। অনেক সময় এগুলোর বাস্তবায়নও করা হয়।

আরও পড়ুন:


আইএস বধূ শামীমা বাংলাদেশে নয়, ফিরতে চান ব্রিটেনে

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও ১০ হাজারের কাছাকাছি মৃত্যু

রদ্রিগোর গোলে ইন্টার মিলানকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ

চট্টগ্রামের উপকূলে মিলল তিনটি মৃত ডলফিন!


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপের ৪০তম জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপের ৪০তম জন্মদিন আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপের ৪০তম জন্মদিন আজ। ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শেখ রেহানা ও অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক দম্পতির বড় মেয়ে টিউলিপের জন্ম লন্ডনের মিচামে সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতালে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টিউলিপ ব্রিটিশ লেবার পার্টি ও কো-অপারেটিভ পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে নির্বাচিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য তিনি। 

এর আগে তিনি রিজেন্ট পার্কের কাউন্সিলর এবং ক্যামডেন কাউন্সিলের কালচার অ্যান্ড কমিউনিটির সদস্য ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি লন্ডনের হ্যামস্টেড ও কিলবার্নে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন


অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে

ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা

করোনা শুরুর পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পরীর পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবে জেলা প্রশাসন


লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে তিনি পলিটিকস, পলিসি ও গভর্নমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হওয়া টিউলিপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন অথরিটি ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গেও কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী ক্রিস পার্সির সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনে বসবাস করেন। এ দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাদের মেয়ে আজালিয়া জয় পার্সি ও ছেলে রাফায়েল মুজিব সেন্ট জন পার্সি।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর