দুই শিশু নিয়ে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সপ্তমি
Breaking News
দুই শিশু নিয়ে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সপ্তমি

দুই শিশু নিয়ে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সপ্তমি

Other

ছোট দুই শিশু সন্তান, মা বাসনা ও স্ত্রী সপ্তমি নিয়ে ছোট একটি সংসার ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের নিমাই হালদারের ছেলে শ্রী অতুল হালদারের। আর সংসার চালাতে অতুল হালদার পার্শ্ববর্তী নাচোল উপজেলায় মুন্টু জুয়েলার্সে কারিগরের কাজ করতেন এবং কাজের সুবাদে সেখানেই থাকতেন।  

সব মিলিয়ে সুখেই কাটছিল তার সংসার। কিন্তু গত ১৫ জুলাই অতুল হালদারের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তৎক্ষণিক স্বজনরা ছুটে যান নাচোল এবং গিয়ে দেখেন মাটিতে পড়ে আছে অতুল হালদারের নিথর দেহ।

আর শরীরে রয়েছে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন।  

অতুলের কাকা দিলিপ হালদার জানান, অতুল ৫-৬ মাস থেকে নাচোলের মুন্টু জুয়েলার্সে কাজ করত। সেই সুবাদে ওখানেই থাকতে হত তাকে। এতে তার সংসার ভালই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ গত ১৫ জুলাই রাত ১১ টায় বাড়িতে ফোন করে মুন্টু জুয়েলার্সের মালিক মুন্টু জানান, অতুল হার্ট অ্যাটাক করেছে এবং খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে তিনিসহ স্বজনরা তাৎক্ষণিক ছুটে যান সেখানে। পরে তাদের জুয়েলার্স মালিক মুন্টুসহ ৬-৭ জন নিয়ে যায় যে বাড়িতে অতুল থাকত। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অতুল মৃত অবস্থায় টিউবওয়েলের পাশে পড়ে আছে । সারা শরীর ভিজা কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন।  

এ সময় স্বজনরা দাবি করেন যে অতুলকে খুন করা হয়েছে এবং বিষয়টি জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ এ মোবাইল করা হয়। এদিকে ৯৯৯ এ মোবাইল করার কথা শুনে পালিয়ে যায় দোকানের মালিক মুন্টুসহ তার সহযোগীরা শুধু আমদের সঙ্গে তাকে আপেল। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।  

এদিকে অতুলের স্ত্রী সপ্তমি জানান, ছোট বেলায় মাকে হারিয়েছি। পরে বাবা আবারও বিয়ে করে সংসার করছে। সৎ মায়ের সংসারে অভাব অনটনের মধ্যে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। আবার অল্প বয়সে স্বামী হারা হলাম। এখন দুই শিশু সন্তান নিয়ে একেবারেই অন্ধকার দেখছি। তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।  

অন্যদিকে মৃত অতুলের মা শ্রী বাসনা জানান, বাড়িতে আয়-রোজগার করার কেউ নেই। আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে। আয় করার একমাত্র ছিল আমার ছেলে অতুল হালদার। কিন্তু সে আর নেই, ফলে আমরা এক মাস থেকে প্রায় না খেয়ে থাকছি। কি এমন শত্রুতা ছিল আমার অতুলের সঙ্গে যে এভাবে তাকে মরতে হলো। আজ দু’টা ছোট নাতি ও ব্যেমাকে নিয়ে আমি কোথাই যাব। পুলিশের কছে গিয়েও বিচার পাচ্ছি না।  

এ বিষয়ে মুন্টু জুয়েলার্সের মালিক মুন্টুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে নাচোল থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।  

এ বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন


রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় মৃত্যু আরও ১৩

নওগাঁয় নেসকোর কন্ট্রোল রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

অবশেষে মেসিকে স্বাগত জানালেন এমবাপ্পে

পরীমণির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন দেশের ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক


NEWS24.TV / কামরুল

;