টেলিভিশনের মালিক পরিচয় দিয়ে খুনি-চাঁদাবাজরা চালাচ্ছে আইপি টিভি

অনলাইন ডেস্ক

টেলিভিশনের মালিক পরিচয় দিয়ে খুনি-চাঁদাবাজরা চালাচ্ছে আইপি টিভি

‘জনতার টিভি’ নামে একটি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন (আইপি টিভি) খুলেছেন আতাউল্লাহ খান। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ঘাতক ফারুক রহমানের ফ্রিডম পার্টি করতেন বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আছে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। আতাউল্লাহর মতো বিতর্কিত আরো অনেকে খুলে বসেছেন আইপি টিভি। তাঁদের অনেকে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত। আবার কেউ কেউ খুনের মামলার আসামি, অস্ত্র-গোলাবারুদসহ একাধিকবার আটক হওয়া ব্যক্তি।

আইপি টিভিগুলোর মালিকদের অনেকে আবার নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলে পরিচয় দেন। কেউ কেউ নিজেকে ১৪ দলীয় শরিক জোটের বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। অথচ দলে তাঁদের কোনো পদ-পদবি থাকার তথ্য পাওয়া যায় না। আইপি টিভি নামে ইউটিউবে চ্যানেল চালান। অথচ তাঁরা নিজেকে পরিচয় দেন পুরোদস্তুর টেলিভিশনের মালিক হিসেবে।

এ দেশে নামে-বেনামে কত আইপি টিভি চলছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই কারো কাছেই। তবে একটি আইপি টিভিরও সরকারি অনুমোদন নেই। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (টিভি-২) রুজিনা সুলতানা আইপি টিভি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একটি আইপি টিভিরও অনুমোদন তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি। অনেকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার আলোকেই তাঁদের নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে যেসব আইপি টিভির কথা জানা যাচ্ছে তার বড় অংশই চালাচ্ছেন বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মূল ধারার গণমাধ্যমে ঠাঁই না পেয়ে ওই জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা নামে-বেনামে স্থান করে নিয়েছেন আইপি টিভিতে। তাঁরা আইপি টিভি ব্যবহার করে কী ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন সে ব্যাপারেও নজরদারি নেই। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে আইপি টিভির কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দেশের মূল ধারার টিভিগুলো। আইপি টিভি নামে দেশে কথিত যেসব টিভি চলছে সেগুলোর বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে না পারলে সমাজে গণমাধ্যম সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে—এমনটিই বলেছেন মূল ধারার টিভির নীতিনির্ধারকরা।

অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি টিনুর ‘সিটিজি ক্রাইম’ : চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে নুর মোস্তফা টিনু দ্বিতীয়। টিনুর বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম জামায়াতে ইসলামীর রুকন পর্যায়ের একজন নেতা। টিনুর ছোট ভাই নুর মুহাম্মদ শিপু চট্টগ্রামের চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি।

চট্টগ্রামের গোল পাহাড় মোড় থেকে ২০০৩ সালে একটি অত্যাধুনিক চায়নিজ একে-২২ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিনসহ টিনুকে গ্রেপ্তার করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর টিনু নিজেকে যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। ২০১২ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় টিনুর বিরুদ্ধে আবারও অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান ও ৬৭ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে র‍্যাব। 

টিনুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলের মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে নগর পুলিশের তৈরি করা কিশোর গ্যাংয়ের ‘গডফাদার’ তালিকায় টিনুর নাম ছিল ওপরের দিকে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত টিনুর রয়েছে ‘সিটিজি ক্রাইম’ নামে একটি আইপি টিভি।

শিবির ক্যাডার হাছানের ‘চট্টলা ২৪’ : শিবির ক্যাডার, একসময়ের টেম্পোচালক মোহাম্মদ হাছানের নিয়ন্ত্রণে এখন চলছে ‘চট্টলা ২৪’ নামের একটি আইপি টিভি। চট্টগ্রামের রাউজানের উত্তর সর্ত্তা গ্রামে রয়েছে তিনতলা বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে প্রেস ক্লাবের পেছনে আম্বিয়া সেরিন নামের একটি ভবনে রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। রয়েছে একটি ল্যান্ড ক্রুজার ও একটি হুন্দাই জিপ এবং একটি টয়োটা প্রিমিও কার। বাড়ি-গাড়িতেই শেষ নয়, দুটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রেরও মালিক হাছান। নিজের ফেসবুক পেজ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ছবি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। দেখলে মনে হবে হাছানের মতো আওয়ামী লীগ করা মানুষ দেশে কমই আছে।

অথচ চট্টগ্রামের বড় অংশের মানুষই তাঁকে চেনে অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরির অন্যতম হত্যাকারী হিসেবে। চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা গোপাল কৃষ্ণ মুহুরি তাঁর কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর এ কারণেই ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর তাঁকে নগরীর জামালখানের বাসায় কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে শিবির ক্যাডাররা। গোপাল কৃষ্ণ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ২০০২ সালের ২০ আগস্ট নগর গোয়েন্দা পুলিশ হাটহাজারী উত্তর মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করে হাছানকে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তিনি ওই মামলায় ছাড়া পান।

হাছানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আরো অতীত ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সদরঘাটের ডিলাইট রেস্তোরাঁ থেকে কাটারাইফেল, গুলিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

ফ্রিডম পার্টি ও সাবেক শিবির ‘নেতা’র জনতার টিভি : মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খানের ভিজিটিং কার্ডে উল্লিখিত পরিচয় অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশ গণআজাদী লীগের মহাসচিব। দলটি ১৪ দলীয় জোটের শরিক। জনতার টিভি নামে একটি আইপি টিভির মালিক এই আতাউল্লাহ খান আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ‘কর্নেল’ ফারুকের দল ফ্রিডম পার্টি করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কারণে ২০২০ সালে গণআজাদী লীগের মহাসচিব পদ থেকে আতাউল্লাহ খানকে বহিষ্কারও করা হয়।

আতাউল্লাহ খানের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তাঁর ভাই শফিকউল্লাহ খান ১৯৯৬ সালে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। ভাইয়ের হয়ে আতাউল্লাহ খান ফ্রিডম পার্টির কুড়াল মার্কার প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সহসভাপতি প্রার্থী হয়েছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

আতাউল্লাহ খান সম্পর্কে জানতে চাইলে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ বলেন, ‘তাঁদের পরিবারটি আওয়ামী ঘরানার নয়। জামায়াত-শিবিরের সাংস্কৃতিক সংগঠন পাঞ্জেরী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক ছিলেন আতাউল্লাহ খান। তাঁদের পরিবারটি বিতর্কিত। বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সখ্য ছিল।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আতাউল্লাহ খান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি, এটাই আমার অপরাধ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই শিবির হবে এমন তো কথা নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফর করেছি। ডিজিএফআই, এনএসআই আমার বিষয়ে তদন্ত করেছে। এ রকম হলে আমার নামে মামলা থাকত।’ তিনি আরো বলেন, ‘গণআজাদী লীগের এখন দুই গ্রুপ। আমরা ওদের বহিষ্কার করেছি। গণআজাদী লীগের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশের ছেলে সৈয়দ সামসুল আলম হাসু তর্কবাগিশ আমাদের কমিটির সভাপতি। আমরাই মূল ধারার গণআজাদী লীগ।’

আরিয়ান লেনিনের ‘সি ভিশন’ : আরেক আইপি টিভির মালিক চট্টগ্রামের আরিয়ান লেনিন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা নিয়ে থাকেন। গত বছরের ২০ এপ্রিল শেঠ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সোলায়মান আলম শেঠ চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সি ভিশনের মালিক আরিয়ান লেনিনের বিরুদ্ধে। জিডিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, ‘গত বছর এ রকম অভিযোগে একটা জিডি করেছিলাম।’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে চান নি।

গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের মোল্লা মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউজ টিভি বাংলা নামে একটি আইপি টিভির অফিসে অভিযান চালায় র‍্যাব-৪। সাংবাদিক নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগে আইপি টিভির প্রতিনিধি দিদারুল ইসলাম দিদারসহ সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আসমা রিতু, ওয়াশিম হোসেন ও মাহাবুবা বেগমকে আটক করে র‌্যাব। অফিসটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার ৯০ হাজার টাকা, ইয়াবা, বিদেশি মদও উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীমণির মুক্তির দাবি, বিকেলে নাগরিক সমাবেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ২৩ জনের মৃত্যু

টি স্পোর্টসে আজকের খেলা

একের পর এক বিজয় আমাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ: তালেবান

বর্তমানে জামিনে আছেন দিদারুল ইসলাম। র‍্যাবের অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘র‍্যাবের অভিযান চালানোর বিষয়টি সঠিক। মামলাটি থানা পুলিশের কাছে এখনো চলমান আছে।’ 

এভাবেই অনুমোদনহীন আইপি টিভি সারা দেশে ছেয়ে গেছে। মূল ধারার টিভিগুলো এসব আইপি টিভির কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে অনেক ক্ষেত্রে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক নেতা প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডিবিসি নিউজ চ্যানেলের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘দেশে অনলাইনের নামে, আইপি টিভির নামে যা হচ্ছে, বিশেষ করে জয়যাত্রা ধরা পড়ার পর, সেটা সাংবাদিকতার মানদণ্ডে ভালো কিছু হচ্ছে না। আইপি টিভির লাইসেন্স দেওয়ার আগে এর প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা এবং নীতি-নৈতিকতা কতটুকু তারা মেনে পরিচালনা করবে সেটা দেখার বিষয় আছে। না হলে দেখা যাবে এরা মূল ধারার সাংবাদিকতা, ইলেকট্রনিক সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে।’

news24bd.tv রিমু  

 

 

পরবর্তী খবর

বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি ‘স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’ এ ভার্চুয়াল যোগদান করে এ সুপারিশ উত্থাপন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।’

পূর্ব-রেকর্ডকৃত বক্তৃতায় ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ)’র উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তঃসংযুক্ত।

শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারী পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

রও পড়ুন:

প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে প্রেট্রোল ঢেলে আগুন দিলেন নারী!

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে

মাদাগাস্কারে গরু চুরি নিয়ে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত


তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

তবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়া-জনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’ 

সূত্র : বাসস

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ঢাকায় যানজটে দৈনিক নষ্ট ৩৭ হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টা (ভিডিও)

ফখরুল ইসলাম

ঢাকায় গাড়ির গতি আর হাটার গতির গড় একই। গবেষণা বলছে, পিক আওয়ারে গাড়ির গতির গড় ঠেকেছে মাত্র ৫ কিলোমিটারে। বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণায় যানজটে রাজধানীতেই প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৩৭ হাজার কোটি টাকার কর্মঘণ্টা। এর জন্য রাস্তার তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপকেই দুষলেন বিশেষজ্ঞরা। বিআরটিএ বলছে, গেল ১ দশকে দেশে গাড়ি বেড়েছে ৩৩ লাখ। বিপরীতে নতুন রাস্তা বেড়েছে যৎসামাণ্যই।

বিশ্বের ১৪০টি রাজধানীর মধ্যে বসবাসযোগ্যতার বিচারে ঢাকার অবস্থান ১৩৭তম।দ্যা ইকোনোমিস্টের  সাম্প্রতিক জরিপে উঠে আসে এমনই তথ্য । ঢাকার এই তলানীতে অবস্থানের অন্যতম কারণ দুঃসহ যানজট। 

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা বলছে এক দশক আগে ঢাকায় গাড়ির গতি ছিলো ২১ কিলোমিটার। তা নেমে গড়ে এখন ৫ কিলোমিটার। রাস্তা যা আছে বিপরীতে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বলছে গত এক দশকে দেশে গাড়ি বেড়েছে ৩৩ লাখের বেশি। ঢাকাতেই ১১ লাখ বেড়ে ছোটবড় মিলিয়ে গাড়ির সংখ্যা্ প্রায় ১৭ লাখ। এরমধ্যে সারাদেশে ব্যাক্তিগত সাড়ে ৪ লাখ গাড়ির ৪ লাখই চলে ঢাকায়।

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে দশকের পর দশক কার্যকর গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে বরাবরই ভেস্তে যাচ্ছে সে উদ্যোগ।  তবে রাজধানী জুড়ে নির্মিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার, নির্মাণাধীন এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল এর কাজ অচিরেই শেষ হলে, যানজট নিসরসনে আশার আলো দেখছে রাজধানীবাসী। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিচার্জ (ভিডিও)

সুলতান আহমেদ

এবার ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পেটালো পুলিশ। বুধবার মানববন্ধন শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে চাইলে প্রথমে পুলিশের বাধার মুখে পরে আন্দোলনরত গ্রাহকরা। পরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের।

এদিকে ইভ্যালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেলের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীও বলছেন, এমন ঘটনায় কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেনা সরকার। 

চটকদারি বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পরে বিনিয়োগ করে এখন রাজপথে ই-ভ্যালী, ই-অরেঞ্জের হাজার হাজার গ্রাহক। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যানার হাতে নিয়ে দলে দলে জড়ো হতে থাকে প্রেসক্লাব এলাকায়। এসময় ইভ্যালী, ই-অরেঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় গ্রাহকদের। 

মানবন্ধন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যেতেই পুলিশি বাধার মুখে পরে তারা। এসময় পুলিশের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়ায় ভুক্তভোগীরা। পরে প্রেসক্লাব থেকে মৎস ভবনের দিকে যেতেই ঘটে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। যেখানে আহত হয় অন্তত ১০ জন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারি গ্রেফতার হয়েছে বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের। 

নামধারি ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর দায় নিয়ে মঙ্গলবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয় অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নিউজটোয়েন্টিফোরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, গ্রাহকদের ক্ষতির প্রথম দায়ভারটি সরকারের। 

এদিকে বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি থানার প্রতারণার মামলায় সিএমএম আদালতে আনা হয় ইভ্যালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেলকে। আদালত এসময় তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। 

পরবর্তী খবর

ই-কমার্সের প্রতারণা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চান রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক

ই-কমার্সের প্রতারণা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চান রাষ্ট্রপতি

ই-কমার্সে প্রতারণা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভোক্তা প্রতারণা বন্ধ করার কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশনের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন প্রেস ব্রিফিং করেন। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে ই-কমার্সে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি পত্রপত্রিকা ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতি দেশে দ্রুত প্রসারণশীল ই-কমার্স ব্যবস্থায় ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু সংখ্যক লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এ খাতে প্রতারণাসহ ভোক্তার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কঠোর হস্তে দমনের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সব পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভোক্তারা যেন যৌক্তিক মূল্যে ও প্রত্যাশিত সময়ে মানসম্মত পণ্য পায়- তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

সাক্ষাৎকালে কমিশন চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়সহ কমিশনের চলমান কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে আরও অংশ নেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন, ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কার্বন নিঃসরণ কমাতে আসছে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ভিডিও)

ডেস্ক রির্পোট

কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিকে রূপান্তর হচ্ছে অটোমোবাইল শিল্প। জ্বালানি তেলনির্ভর গাড়িগুলো হয়ে উঠছে বৈদ্যুতিক।

এ কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিশোধনক্ষমতার চাহিদা অর্ধেক কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জি এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। সংশ্লিস্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। আর তা বৈশ্বিক পরিশোধন ক্ষমতার চাহিদা ৫০ শতাংশ কমাবে। কেননা বৈদ্যুতিক যানবাহন বিশ্বজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যয় কমাবে। তবে নগরায়ণের কারণে উড়োজাহাজ, সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে জ্বালানি তেলের উচ্চ চাহিদা থাকতে পারে।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর