মধ্যযুগেই চরম সমৃদ্ধি অর্জন করে ইসলামী সভ্যতা
মধ্যযুগেই চরম সমৃদ্ধি অর্জন করে ইসলামী সভ্যতা

মধ্যযুগেই চরম সমৃদ্ধি অর্জন করে ইসলামী সভ্যতা

Other

‘অন্ধকার যুগ’ বা মধ্যযুগ বলে আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে। শুধু আমাদের দেশ বলি কেন (!) পশ্চিমেও মনে করা হয় যে মধ্যযুগ ছিলো পশ্চাৎপদ আর বিজ্ঞান বিরোধী।  

মধ্যযুগ সম্পর্কে পশ্চিমে এমন ধারণা করা হয় যে মধ্যযুগীয় খ্রিস্টান গির্জা বিজ্ঞানীদের কাজই করতে দিতো না। বৈজ্ঞানিক কারণে মরদেহ কাটাকেও তারা নিষিদ্ধ করে এবং মূলত সকল ধরণের বিজ্ঞানের অগ্রগতি তারা বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু মজার কথা হচ্ছে ঐতিহাসিক প্রমাণ মধ্যযুগ সম্পর্কে এই ধারণাকে একেবারেই সমর্থন করে না।  

মধ্যযুগের প্রথম দিকে পশ্চিম ইউরোপে অগ্রগতি ধীর ছিলো, এটা সত্য, কিন্তু তা কখনোই প্রগতি বিরোধী বা বিজ্ঞান বিরোধী ছিলোনা। প্রগতি বা বিজ্ঞান বিরোধ যেটুকু ছিলো তা বিচ্ছিন্ন এবং তা সমাজের মূল ধারা ছিলো না। এবং মধ্যযুগের প্রথম দিকে প্রগতি ধীর গতি থাকলেও তা মধ্যযুগের শেষ পর্বের ভবিষ্যতের অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

একই সময়ে, ইসলামী বিশ্ব গণিত ও বিজ্ঞানে এগিয়ে যায়।   গ্রীক এবং আরবিতে অনূদিত অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ইসলামী সভ্যতা আর বিজ্ঞান। মধ্যযুগেই চরম সমৃদ্ধি অর্জন করে ইসলামী সভ্যতা। মধ্যযুগে ইসলামের জ্ঞান নিয়েই ইউরোপে আসে রেনেসাঁ।  

এই ইউরোপের সভ্যতার  পরতে পরতে মিশে আছে ইসলামের অবদান। ধরা যাক এলগোরিদম শব্দের কথা। আজকের ডিজিটাল সভ্যতার মূল কী ওয়ার্ড এলগোরিদম। এই এলগোরিদম ইউরোপ পেলো কোথা থেকে?  

নবম শতাব্দীর ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ আল-খাওয়ারিজমির নাম শুনেছেন অনেকেই!! তিনি তার "দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিউশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং" এর ল্যাটিন অনুবাদ, ইউরোপকে বীজগণিতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আল খাওয়ারিজমির কাছেই প্রথম ইউরোপ শিখে রৈখিক এবং চতুর্ভুজ সমীকরণ।
আল-খাওয়ারিজমির নামের ল্যাটিনাইজড সংস্করণটি ইউরোপকে "অ্যালগরিদম" শব্দটি দিয়েছে। এলগোরিদম শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে ইউরোপকে দেয়া আল খাওয়ারিজমির অবদানের কথা।   

news24bd.tv

বিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম আল খাওয়ারিজমি। পুরো নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমি। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। জন্ম খাওয়ারিজম নামক স্থানে। তিনি বীজগণিতের আবিষ্কারক। এ কারণেই তাঁকে বীজগণিতের ‘জনক’ বলা হয়।

দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে পাটিগণিতের উপর তার বই (Algorithmo de Numero Indorum) এর বর্ণনাকৃত ভারতীয় সংখ্যা এর উপর ভিত্তি করে পশ্চিমা বিশ্ব দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি চালু করে।

১১৪৫ সালে রবার্ট অব চেস্টার কর্তৃক অনুবাদকৃত আল জিবর ওয়াল মুকাবিলা বইটি ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণিতের প্রধান বই হিসেবে পড়ানো হত।  

আরও পড়ুন:


করোনা ভাইরাসের টিকা সংগ্রহ-বিতরণে সরকার ব্যর্থ: ফখরুল

হোমিও-ইউনানি ডিগ্রিধারীরা ‘ডাক্তার’ শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন না: হাইকোর্ট

প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় খালে ফেলে দিল মা, অতঃপর…

প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে, অবশেষে বুড়িগঙ্গায় মিলল গৃহবধূর লাশ


এছাড়াও তার অন্যতম একটি বিখ্যাত কাজ হচ্ছে, টলেমির Geography এর বইটি সংশোধন করা। তিনি এই বইয়ে বিভিন্ন শহর এবং এলাকার অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ তালিকাভুক্ত করেন। তিনি আরও কিছু জ্যোতির্বিদ্যা টেবিল প্রস্তুত করেন এবং বর্ষপঞ্জি, সূর্যঘড়ি, অ্যাস্ট্রোল্যাব নিয়ে কাজ করেন।  

আল-খাওয়ারিজমির "দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিউশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং" এর মুল এরাবিক বইটি এখানে দিয়ে দিলাম।

news24bd.tv নাজিম

;