হোমিও-ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে রায়, যা বললেন রিটকারী আইনজীবী
হোমিও-ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে রায়, যা বললেন রিটকারী আইনজীবী

হোমিও-ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে রায়, যা বললেন রিটকারী আইনজীবী

অনলাইন ডেস্ক

হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রিধারী কোনও ব্যক্তি নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না বলে গতকাল শনিবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঐতিহাসিক এই রায়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন আইনজীবী। এ সংক্রান্ত জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭১ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন।

রোববার (১৫ আগস্ট) রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম রায় নিয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চূড়ান্ত রায়ে আদালত রুলটি খারিজ করেছেন।

তবে রায়ে আদালত বেশ কিছু ফাইন্ডিংস এবং পরামর্শ দিয়েছেন।  

প্রথম ফাইন্ডিংস: বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি বা আয়ুর্বেদিকে সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ হাজার বছর ধরে বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের বিকল্প ধারার চিকিৎসা চলছে। তার একটা তালিকা রায়ে দেখতে পেয়েছি। এগুলো হলো- আকুপ্রেশার, আকুপাংচার ও ফিজিওথেরাপি। আমাদের পরিচিত বিকল্পধারার চিকিৎসার কথাও রয়েছে।

দ্বিতীয় ফাইন্ডিংস: বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের বিকল্প চিকিৎসার আইনি স্বীকৃতি হচ্ছে। এসব চিকিৎসার আইনি স্বীকৃতি বিশ্বের সব দেশে বাড়ছে।

তৃতীয় ফাইন্ডিংস: বিকল্প ধারার চিকিৎসা ও প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০ ও অনুচ্ছেদ ৩৯ উল্লেখ করে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার তারা প্রচলিত চিকিৎসক হবেন নাকি বিকল্পধারার চিকিৎসক হবেন। কী ধরনের চিকিৎসা নেবেন এটাও নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেটা প্রচলিত হতে পারে বা বিকল্পধারার চিকিৎসা হতে পারে।

তারপর রায়ে ডাক্তার পদবি কারা ব্যবহার করতে পারবেন এটাও এসেছে। এটা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে নানা ধরনের কনফিউশন দেখতে পাচ্ছি। এটাই স্পষ্ট করে দিতে চাচ্ছি। বিএমডিসির ২০১০ সালের আইনে আছে, বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রিকৃত মেডিকেল বা ডেন্টাল প্র্যাকটিশনার ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। রায়েও এটা স্পষ্ট করে বলা আছে।

হোমিও, ইউনানি, আয়ুর্বেদিকসহ অন্যান্য বিকল্পধারা প্র্যাকটিশনার ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে কী পদবি তারা ব্যবহার করতে পারবেন সেটাও রায়ে বলা আছে। সেখানে চারটা পদবির নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ইন্ট্রিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান, কমপ্লিমেন্টারি ফিজিশিয়ান, ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন প্র্যাকটিশনার এবং কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন প্র্যাকটিশনার পদবি ব্যবহার করতে পারেন।

সর্বশেষ যে ফাইন্ডিংটা রায়ে আছে তা হলো, সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বিকল্পধারার চিকিৎসার জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা।

আরও পড়ুন


এবার ফেরিতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা

তুরস্কে দাবানল: রাশিয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

কক্সবাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে, নিহত ৭

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অবস্থানের ব্যাপারে তথ্য দিলেই পুরস্কার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


এরপর আদালত রায়ে চারটি পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হলো-

১. বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পৃথক মন্ত্রণালয় তথা ‘মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নম্যান্ট অব ইন্ডিয়া’ এর আদলে দেশে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন।

২. বিকল্পধারার চিকিৎসকদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, তাদের সার্ভিসের যে স্ট্যান্ডার্ড ও তাদের ডিগ্রিগুলোর স্বীকৃতির ব্যাপারে পদ্ধতি নির্ধারণ করতে বলেছেন।

৩. ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘কাজাখাস্তান ঘোষণা’ থেকে ‘আলমাআটা ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা, নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়ন করা।

৪. সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তথা প্রচলিত ও বিকল্পধারার চিকিৎসায় ‘রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা’ নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন ও অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।

news24bd.tv এসএম