ধর্ম সব সময়েই রাজনীতির সাথে সংযুক্ত
ধর্ম সব সময়েই রাজনীতির সাথে সংযুক্ত

ধর্ম সব সময়েই রাজনীতির সাথে সংযুক্ত

Other

আমার এসেস্মেন্ট হচ্ছে, তালেবান ২.০ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল হবে। এর মূলে রয়েছে, কোবাল্ট, লিথিয়াম এবং রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল। কপার, কোবাল্ট ও রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়ালের উপরে দখল আগামী দশক গুলোতে ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৯ এর বাণিজ্য যুদ্ধের সময়ে চায়না আমেরিকা হুমকি দিয়েছিল যে রেয়ার অর্থের রপ্তানি বন্ধ করে দেবে।

আফগানিস্তানের এই খনিজগুলোর ভ্যালু ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হিসেব করা হচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বে তেল সোনা বা রুপার চেয়েও এই খনিজ গুলো মুল্যবান কারন গ্লোবাল ওয়ার্মিং'এর কারণে ক্লিন এনার্জির দিকে যে রুপান্তর তার কেন্দ্রে আছে এই খনিজগুলো।

আগামী দুই দশকে বিশ্বের অনেক দেশে তেল পরিচালিত গাড়ি বাতিল হয়ে যাবে, যার জায়গায় স্থান নেবে ব্যাটারি পরিচালিত গাড়ি।  ল্যাপটপ, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অফ গ্রিড এনার্জিতে ব্যবহৃত এই ব্যাটারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লিথিয়াম।

আফগানিস্থানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লিথিয়ামের মজুদ পাওয়া গেছে। কিছু দিন আগে পেন্টাগনের একটি রিপোর্টে আফগানিস্থানকে, লিথিয়ামের সৌদি আরব বলে উল্লেখ করে হয়েছে। এই অবস্থায় আফগানিস্থানের তালেবান শাসকেরা এই খনিজগুলো উত্তোলন করতে চাইবে। তালেবান ২.০ শরিয়া আইনে চালাক আর সালাফ মানুক - তাদের অর্থ প্রয়োজন হবে। আফগানিস্থান এই মুহূর্তে লিটারিলি তেমন কিছু উৎপাদন করে না। সম্পূর্ণ ত্রানের উপরে নির্ভরশীল এই দেশের, বাৎসরিক ৬ বিলিয়ন ডলার আমদানির এগেষ্টস রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের ও কম। জাস্ট ফর একজাম্পল, বাংলাদেশের ষ্ট্যাণ্ডার্ড গ্রুপ এর চেয়ে বেশি পরিমাণ রপ্তানি করে।

ইতোমধ্যে  আমেরিকা আফগানিস্তানের ১০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএমএফ আফগানিস্তানের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার এসডিআর ব্লক করেছে। এই অবস্থায় তালেবান শাসকদের অর্থ প্রয়োজন হবে। এই অর্থ দিতে পারবে, শুধু মাত্র চায়না।

ফলে, চায়না এই স্পেসটা নেবে। চায়না আফগানিস্থানে খনিজগুলোর উপরে আগাম দখলের বিনিময়ে তালেবান সরকারকে অর্থ দিতে পারে। ২০০৮ সালেই চায়নার মেটারলুরজিকাল করপোরেশান অফ চায়না আফগানিস্থানের সব চেয়ে বড় কপার মাইনের উপরে দখল নিয়ছে।  কিন্তু, সিকিউরিটি সিচুয়েশানের কারণে সেই কপার উত্তোলন করা যায় নাই। ফলে আগামী দিন গুলোতে চায়না এগ্রেসিভ্লি আরো অনেক গুলো কন্ট্রাক্ট করে নিতে পারে, যার বিনিময়ে তারা তালেবানকে এডভানস পেমেন্ট করতে পারে।

এই এডভান্স পেমেন্ট জরুরী কারণ, রেয়ার আর্থ বা লিথিয়াম উত্তোলন ও প্রসেসিঙের জন্যে অত্যন্ত সফিস্টেটেকড টেকনলজি প্রয়োজন হয় যে প্রযুক্তি স্থাপন করতে কয়েক বছর টাইম লাগে। এই সময়টুকুতে তালেবানের অর্থের প্রয়োজন।

আফগানিস্থানের জন্যে উইন উইন সিনারিও হচ্ছে এই খনিজগুলো উত্তোলন করতে হলে, রোড এবং রেইল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে- যেইটা করতেও চায়না বা যে কোন কম্পিটেন্ট শক্তি প্রস্তুত থাকবে। ফলে প্রাথমিক ইনভেস্টমেন্ট হবে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে। ফলে, চায়না আগামী দিন গুলোতে আফগানিস্থানের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টে আগায় আসবে।

আপনি বলতে পারেন, চাইনিজরা তো তালেবানের সোশ্যাল কঞ্জারভেটিভ পলিসি নিয়ে মাথা ঘামায় না, চায়না এগোলে কেন তালেবান সহনশিল হবে? চাইনিজ  সাথে তালেবান ২.০ এর আরো সহনশীল হওয়ার কারন তালেবানরা খুব দ্রুত বুঝতে পারবে, শুধু মাত্র চাইনিজদের উপরে নির্ভরশীল হলে তাদের বারগেন গুলো খারাপ হবে। এবং চাইনিজদের এক্সপ্লয়টেশানের ইতিহাস মার্কিনীদের মতই খারাপ।

ফলে তালেবান চাইবে, শুধু চায়না নয় গ্লোবাল কোম্পানিগুলোও আসুক। এমনকি আমেরিকার প্রতিও তালেবান নমনীয় থাকলে আমি অবাক হবো না।  এই ছাড়া ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এর আফগানিস্থানের ভেতরে ২০ বছর ইন্সারজেন্সি থেকে ব্যাটেল হারডেন্ড তালেবানের বিশ্ব বিক্ষণ এবং রাষ্ট্র অভিজ্ঞতা কম ছিল। তাদের বড় অংশই ছিল, ট্রাইবাল ওয়ার লর্ড।

কিন্তু, বিগত ২০ বছরে তালেবান লিডারশিপ বাস করেছে, দেশের বাহিরে। বিগত ১০ বছরে ইফেক্টিভ্লি তালেবানের হেডকোয়ার্টার ছিল কাতারে।   কাতার মিডল ইস্টের সব চেয়ে লিবারেল দেশ গুলোর মধ্যে একটি। ফলে, আফগান ট্রাইবাল ওয়ার লর্ডরা লিবারেল একটি দেশের  বিভিন্ন  স্বাদ ও রুপ, গ্লবাল কানেক্টিভিটির সুফলগুলো কাতারে দেখেছে।

এইগুলো থেকে তারা শিখবে। তাই, নিজের দেশের খনিজ সম্পদ এক্সপ্লয়েট করার জন্যে আল্টিমেটলি তালেবান আগের মত নিজেকে আবদ্ধ করে রাখবেনা। তার অর্থনৈতিক ইন্টেরেস্টে সে গ্লোবাল ক্যাপিটালকে তার দেশে আনতে চাইবে।  সে ইতোমধ্যেই জানে, হারড লাইন সোশ্যাল কঞ্জারভেটিভ পলিসিতে তার কোন ম্যাটেরিয়াল গেইন নাই।

আরও পড়ুন


আফগানিস্তান: পলাতক আশরাফ গনিকে আশ্রয় দিয়েছে আরব আমিরাত

জুতা পায়ে দেয়ারও সুযোগ পাইনি: আশরাফ গনি

চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে শনাক্ত ৩৪৮, মৃত্যু ৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে ইরান ও রাশিয়া


আমার ব্যক্তিগত পলিটিকাল এনালিসিসের কেন্দ্র ধারণা হইলো, ধর্ম সব সময়েই রাজনীতির সাথে সংযুক্ত এবং রাজনীতি সব সময়েই অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত। এই সংযোগের ফলাফল হইল, ইসলামিক আমেরাটস ঘোষণা করলেও তালেবান ২.০ সামাজিকভাবে অনেক লিবারেল হবে। কোন নারী কাজ করতে পারবে না, ঘোষণা দেওয়া পূর্বের তালেবানকে এই দফায় দেখার চান্স খুবই কম।

বরং খুব চান্স আছে। এই তালেবান এমন একটা রুপ নেবে- বাংলাদেশ সহ অনেক দেশে ইসলামিস্টরা খুব্ধ হতে থাকবেন যে, - এই তালেবান সহি ইসলাম এবং সালাফ মানতেছে না। যাক গিয়া, অর্থনীতি/রাজনীতি/ ধর্মের যে কানেকশান আমি এজিউম করি তার ভিত্তিতে এইটা আমার একটি অনুমান মাত্র।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv রিমু