আশুরার রোজা ও বিশেষ আমল

অনলাইন ডেস্ক

আশুরার রোজা ও বিশেষ আমল

মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা। এই দিনের মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। মর্যাদপূর্ণ হারাম ৪ মাসের প্রথম মাস মহররম-এর ১০ তারিখ রোজা পালন ও আমল সম্পর্কে হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসের বর্ণনায় আশুরার রোজা ও মহররমের বিশেষ আমলগুলো কী কী?

বিশেষ মর্যাদার কারণেই আল্লাহ তাআলা নিজে এ মাসের নামকরণ করেন ‘মহররম’। আরবরা এ মাসকে ‘সফরুল আউয়াল’ তথা প্রথম সফর নামকরণ করে নিজেদের ইচ্ছা মতো যুদ্ধ-বিগ্রহসহ বিভিন্ন কাজকে হালাল ও হারাম করতো। অবশেষে আল্লাহ তাআলা এ অবস্থাকে নিষিদ্ধ করে এ মাসের ইসলামি নামকরণ করেন ‘শাহরুল্লাহিল মুহাররাম’ তথা মহররম আল্লাহর মাস।

এ মাসের ১০ তারিখকই পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ আশুরা। নিঃসন্দেহে আশুরার দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার দিন। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহকে পৃথিবীর বিভিন্ন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এক কথায় এ দিনটি দ্বীন প্রতিষ্ঠায় হিজরত এবং হক তথা উত্তম প্রতিষ্ঠার জন্য এক সুমহান দিন। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে বিশেষ আমল তথা রোজা পালনের দিন হিসেবে শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে।

আশুরার রোজা

মহররম মাস ত্যাগ ও আদর্শের সেই বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেয়; যা প্রত্যেক মুমিন মুসলমান হৃদয় দিয়ে অনুভব করে। পবিত্র এ মাস আলোকিত হয়েছে আশুরায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বকরতপূর্ণ সিয়াম সাধনায়। হাদিসে এসেছে-

১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ রোজা হল আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’

হাদিসে বর্ণিত মহররমের রোজাটি মূলত ১০ মহররম তথা আশুরার রোজা। মহররমের মর্যাদা ও বরকতের উৎসও এদিন রোজা রাখা।

২. হজরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় আছে আশুরার রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন- আশুরার রোজা বিগত বছরের পাপসমূহ মোচন করে দেয়।’

আশুরার রোজা সব নবি-রাসুলের আমলেই ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসেও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পেলেন, ইয়াহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। তিনি রোজা রাখার কারণ জানলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে বললেন, ‘মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ইয়াহুদিদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। সুতরাং তোমরাও আশুরায় রোজা রাখ। তবে তাদের অনুকরণ বা সাদৃশ্য যেন না হয় সে জন্য তিনি আগের কিংবা পরের ১ দিন রোজা পালনের কথাও বলেছেন।

দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসে রোজা ফরজ হওয়ার আগ পর্যন্ত আশুরার রোজা ছিল বাধ্যতামূলক। রমাজনের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজা রাখার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতিত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম বলে ঘোষিত হয়েছে হাদিসে।

আশুরায় ২টি রোজা রাখা সুন্নাত

আশুরা উপলক্ষ্যে দুইটি রোজা রাখা সুন্নত। রোজা রাখার পদ্ধতি হল- মহররমের ৯-১০ কিংবা ১০-১১ তারিখ রোজা রাখা। এ রোজা রাখলে পুরো এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন বলে আশাবাদী ছিলেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-

হজরত কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ তাআলা এর অছিলায় বিগত জীবনের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)

মহররমের আমল

আশুরার দিন রোজা রাখা মহররমের অন্যতম আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরায় নয় বরং মহররম মাসে আমল করার কথা বলেছেন। আর আশুরায় রোজা রাখার পাশাপাশি তাওবাহ-ইসেতেগফার ও দান সাদকার কথাও বলেছেন। তাছাড়া মহররম মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা ও তাওবাহ-ইসতিগফারের প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই মাসব্যাপী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

তাওবা ও ইসতেগফারের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়া। এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আরও পড়ুন


নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত জুনায়েদ বাবুনগরী
আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা

সূরা বাকারা: আয়াত ২৯-৩০, আল্লাহ সব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত

১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সংসদ নির্বাচন, পর্যবেক্ষণে যাচ্ছেন সিইসি


মাসজুড়ে দোয়ার আমল

মাসজুড়ে তাওবাহ-ইসতেগফার বছরব্যাপী কল্যাণ লাভে এ দোয়া পড়া আবশ্যক। তাহলো-

اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

> বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা

رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ

উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

> সব সময় ইসতেগফার পড়া

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

> সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার রোজা পালন ও আমলসহ মাসব্যাপী দোয়া ও তাওবাহ ইসতেগফারে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

কেমন হবে জান্নাতের প্রাসাদ!

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

কেমন হবে জান্নাতের প্রাসাদ!

পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর ঈমানদার বান্দাদের জান্নাত দানের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে দুঃখ-কষ্ট বলতে কিছু থাকবে না। যেখানকার নিয়ামতগুলো কল্পনার চেয়েও কোটি গুণ সুন্দর। যা হবে মুমিনের স্থায়ী সুখের ঠিকানা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহর, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতে পবিত্র বাসগৃহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)

সুবহানাল্লাহ! উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জান্নাতে বাসগৃহ দানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই বাসগৃহগুলো কিসের তৈরি হবে, তা জানতে মুমিনের হৃদয় ব্যাকুল হওয়াই স্বাভাবিক। সেই ব্যাকুলতা থেকেই হয়তো আনাস (রা.) প্রিয় নবী (সা.)-কে জান্নাতের বাসগৃহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। প্রিয় নবী (সা.)-ও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তাঁর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যেখানে তিনি জান্নাতের প্রাসাদে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট, কঙ্কর ইত্যাদির বর্ণনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কী হলো যে আমরা আপনার কাছে থাকা অবস্থায় আমাদের অন্তর খুবই নরম হয়ে যায়, আমরা দুনিয়ার প্রতি উদাসীন হয়ে যাই এবং নিজেদের পরকালবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে থাকি। তারপর আপনার কাছ থেকে সরে গিয়ে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে পার্থিব কাজে জড়িয়ে পড়ি এবং সন্তানাদির সুগন্ধি পেতে থাকি, তখন আমাদের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা যে অবস্থায় আমার কাছ থেকে বেরিয়ে যাও, সব সময় যদি সেই অবস্থায় থাকতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বাড়িতে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত। আর তোমরা অপরাধ না করলে আল্লাহ নতুন প্রাণী সৃষ্টি করতেন, যাতে তারা অপরাধ করে আর তিনি তাদের ক্ষমা করেন।’ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কী দিয়ে প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে? তিনি বলেন, ‘পানি দিয়ে।’ আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, কী দিয়ে জান্নাত তৈরি করা হয়েছে? তিনি বলেন, ‘সোনা-রুপার ইট দিয়ে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ (চুন-সুরকি-সিমেন্ট) সুগন্ধি মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার ও মাটি হলো জাফরান। জান্নাতে প্রবেশকারী লোক অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কোনো দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সে অনন্তকাল এতে অবস্থান করবে আর মৃত্যুবরণ করবে না। না তার পরনের পোশাক পুরনো হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (অনন্তযৌবনা হবে)।’

তিনি পুনরায় বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, রোজাদারের ইফতারের সময়কালীন দোয়া এবং মজলুমের দোয়া। আল্লাহ তাআলা একে (মজলুমের দোয়া) মেঘমালার ওপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জত ও সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫২৬)। এ ছাড়া বিভিন্ন হাদিসে জান্নাতিদের মণি-মুক্তার তাঁবু দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে। 

আরও পড়ুন


সোমালিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৮

ট্রেনে ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় আটক ৫

আবদুল গাফফার চৌধুরী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

কুমিরের পেট থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধার!


মহান আল্লাহ সবাইকে জান্নাতের সুমহান মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

পরবর্তী খবর

ঈমানি মৃত্যু লাভে যে দোয়া পড়বেন!

অনলাইন ডেস্ক

ঈমানি মৃত্যু লাভে যে দোয়া পড়বেন!

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় এমন একটি দোয়া পড়তেন, যে দোয়ায় রয়েছে সব কাজের শেষে ভালো ও সুন্দর ফলাফল লাভের আবেদন।

মুমিন মুসলমানের অন্তরের চুড়ান্ত চাওয়া-পাওয়া হলো ভালো ও উত্তম মৃত্যু লাভ করা। আর প্রত্যেকের উচিত ভালো ও সুন্দর ঈমানি মৃত্যু কামনা করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালো ও সুন্দর মৃত্যুর জন্য কখনো এ দোয়া করতে ভুলতেন না। আর তাহলো-

اَللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِيْ الْأُمُورِ كُلِّهَا، وَأجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرَةِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহসিন আক্বিবাতানা ফিল উমুরি কুল্লিহা ওয়া আঝিরনা মিন খিযয়িদ দুনইয়া ওয়া আজাবিল আখিরাহ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের সব কাজের শেষ ফল সুন্দর করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখুন।’ (মুসনাদে আহমদ)

এ দোয়াটি অনেক ব্যাপক। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্দর ও উত্তম তথা ঈমানি মৃত্যু লাভের জন্য এ দেয়াটি সব সময় পড়তেন।

সুতরাং মুমিন ব্যক্তি সব সময় এ দোয়া পড়লে শুধু উত্তম ঈমানি মৃত্যুই নয়, বরং সব কাজের শেষই হবে তার জন্য উত্তম ও কল্যাণকর।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি কাজের শেষ ফল সুন্দর করতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়ার বরকতে ঈমানি মৃত্যু দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

আয়নায় চেহারা দেখার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক


আয়নায় চেহারা দেখার দোয়া

আয়নায় নিজের চেহারা দেখার সময় মহান আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দানকারী। 

আয়নায় চেহারা দেখার দোয়া তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতা হাসসানতা খালকি ফাহাচ্ছিন খুলুকি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার আকৃতি সুন্দর করেছেন, সুতরাং আপনি আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন।

আরও পড়ুন:


বিমানবন্দরে শুরু আরটি-পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম

নির্মাণশৈলী ও রাতে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পায়রা সেতুতে পর্যটকদের ভিড়

কাল লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বন্ধ হয়ে যাবে!

জাপার ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত


উপকার : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়তেন। কোনো কোনো মুহাদ্দিস এটিকে আয়না দেখার দোয়া হিসেবে উল্লেখ করলেও বেশির ভাগ মুহাদ্দিসের মতে এটি কোনো সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। (বুলুগুল মারাম, হাদিস : ১৫৮০)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহ সব মানুষকে একটি ময়দানে একত্র করবেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহ সব মানুষকে একটি ময়দানে একত্র করবেন

আত্মার দেহপিঞ্জর ত্যাগ করাকে মৃত্যু বলে। মহান আল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আত্মাকে আমাদের দেহপিঞ্জরে প্রবেশ করান, যত দিন তা আমাদের দেহপিঞ্জরে অবস্থান করে, সে সময়কালকে হায়াত বা জীবন বলা হয়। আর যখন তা মহান আল্লাহর আদেশে দেহপিঞ্জর ত্যাগ করে, তাকে মৃত্যু বলা হয়। একসময় এই মৃত্যু থাকবে না। পরকালে মৃত্যুকে জীবন্ত করে তোলা হবে এবং চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর অবসান ঘটানো হবে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে একটি ময়দানে একত্র করবেন। তারপর মহান আল্লাহ তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলবেন, পৃথিবীতে যে যার অনুসরণ করত, এখন কেন সে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না? অতএব, ক্রুশপূজারিদের জন্য ক্রুশ, মূর্তিপূজারিদের জন্য মূর্তি, অগ্নি উপাসকদের জন্য আগুন উপস্থাপন করা হবে এবং সবাই নিজ নিজ পূজনীয় উপাস্যদের সঙ্গে চলবে। আর মুসলমানরা তাদের জায়গাতেই থেকে যাবে। মহান আল্লাহ তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে বলবেন, তোমরা কেন ওই সব মানুষকে অনুসরণ করছ না? তারা বলবে, নাউজুবিল্লাহ মিনকা, নাউজুবিল্লাহ মিনকা (আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। আল্লাহ তাআলাই আমাদের প্রভু। আর এটা আমাদের জায়গা। আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই স্থান ছেড়ে যাব না। তিনি তাদের নির্দেশ দেবেন এবং তাদের নিজ জায়গায় অটল রাখবেন। তারপর আল্লাহ তাআলা অদৃশ্য হয়ে যাবেন। তিনি পুনরায় তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে বলবেন, তোমরা কেন ওই সব মানুষের অনুসরণ করছ না? তারা বলবে, নাউজুবিল্লাহ মিনকা, নাউজুবিল্লাহ মিনকা, আল্লাহ আমাদের রব এবং এটা আমাদের অবস্থানস্থল। আমরা আমাদের রবের দেখা পাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই জায়গা ছেড়ে যাব না। তিনি তাদের আদেশ দেবেন এবং নিজ স্থানে দৃঢ় রাখবেন। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি আমাদের প্রভুর দেখা পাব? তিনি বলেন, তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে অন্যদের কষ্ট দিতে হয়? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, অনুরূপভাবে সে সময় তোমরা তাঁকে দেখার জন্য তোমাদের কাউকেও যন্ত্রণা দিতে হবে না। তারপর আল্লাহ তাআলা আড়ালে চলে যাবেন। তিনি পুনরায় তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে নিজের পরিচিতি উপস্থাপন করে বলবেন, আমিই তোমাদের প্রভু। তোমরা আমার অনুসরণ করো। মুসলমানরা উঠে দাঁড়াবে। চলার পথে পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। তারা তা খুব সহজেই দ্রুতগামী ঘোড়া ও উটের মতো অতিক্রম করবে এবং এর ওপর ধ্বনিত হবে—‘সাল্লিম সাল্লিম’ (হে আল্লাহ আমাদের শান্তিতে রাখুন)। জাহান্নামিরা অতিক্রম না করতে পেরে এখানেই থেকে যাবে। তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং জাহান্নামকে প্রশ্ন করা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? সে বলবে, আরো আছে কি? আবার আরেকটি দলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং প্রশ্ন করা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? সে বলবে, আরো আছে কি? এভাবে সব জাহান্নামিকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন দয়ালু প্রভু আল্লাহ তাআলা তাঁর পা এর ওপর রাখবেন এবং এর এক অংশ আরেক অংশের সঙ্গে সংকুচিত হয়ে যাবে। তিনি বলবেন, যথেষ্ট হয়েছে তো? জাহান্নাম বলবে, হ্যাঁ, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন


আমাদের ফোন পেগাসাসের মাধ্যমে ট্যাপ করা হয়েছে

‘শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনাম হিন্দুদের ঐক্যে চিড় ধরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে : তথ্যমন্ত্রী


এরপর আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাতিদের জান্নাতে এবং জাহান্নামিদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন ‘মৃত্যু’কে গলায় কাপড় বেঁধে টেনে আনা হবে এবং জান্নাতি ও জাহান্নামিদের মাঝখানের প্রাচীরে রাখা হবে। তারপর ডেকে বলা হবে, হে জান্নাতবাসীরা! তারা ভয়ে ভয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসীরা! তারাও সুসংবাদ মনে করে শাফাআত লাভের আশায় আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কি একে  চেনো? জান্নাতি ও জাহান্নামিরা বলবে, হ্যাঁ আমরা একে চিনে ফেলেছি। এটা ‘মৃত্যু’, যা আমাদের ওপর নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তারপর মৃত্যুকে চিৎ করে শোয়ানো হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার প্রাচীরের ওপর জবাই করা হবে। তারপর বলা হবে, হে জান্নাতিরা! তোমরা চিরকাল জান্নাতে থাকবে, এরপর আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামিরা! তোমরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, এরপর আর মৃত্যু নেই। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৭)

মহান আল্লাহ সবাইকে পরকালের অসীম জীবনে জান্নাতি হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৯৪-৯৮, শিক্ষাণীয় বিষয়

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৯৪-৯৮, শিক্ষাণীয় বিষয়

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৯৪ থেকে ৯৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৯৪ ও ৯৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন,

قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآَخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (94) وَلَنْ يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ (95)

"(ওই ইহুদীদের) বলে দিন, যদি পরকালের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে- অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে তোমরা নিজেদের মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।" (২:৯৪)

"কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনোই মৃত্যু কামনা করবে না। আর আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের সম্পর্কে অবহিত।" (২:৯৫)

অতীতকাল থেকে ইহুদীরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি মনে করতো। তারা বিশ্বাস করতো বেহেশত তাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং দোজখের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। আর তারা আল্লাহর সন্তান ও তারই বন্ধু। এই মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা একদিকে তাদের খুশীমত জুলুম-অত্যাচার ও পাপ কাজ করতো আর অন্যদিকে আক্রান্ত হতো আত্মম্ভরিতা, গর্ব ও অহঙ্কারের ব্যাধিতে। ফলে এই আয়াতে তাদের বিবেকের ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, 'বেহেশত একমাত্র ইহুদীদের জন্য' যদি তোমাদের এ দাবি সত্য হয় তাহলে তোমরা কেন দ্রুত বেহেশতে যাওয়ার জন্য মৃত্যু কামনা কর না? কেন মৃত্যুকে ভয় পাও? মৃত্যু ভয় অনেকটা চালকের ভ্রমণভীতির মত। ওই চালকই সফর করতে ভয় পায় যে রাস্তা চেনে না, জ্বালানি নেই কিংবা অপরাধ করেছে, অথবা চোরাই মাল বহন করছে বা গন্তব্যস্থলে থাকার কোন জায়গা নেই। কিন্তু প্রকৃত মোমিন রাস্তা চেনে, সৎকাজের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে, তওবার মাধ্যমে অপরাধ মার্জনা করে নিয়েছে, তার কাছে চোরাই কিছু নেই এবং পরকালেও তার রয়েছে বাসস্থান বা বেহেশত।

অধিকাংশ মানুষ যারা মৃত্যুকে ভয় পায়,তাদের ভীতি মূলত: দু'টি কারণে।

প্রথমত: তারা মৃত্যুকেই চূড়ান্ত ধ্বংস মনে করে। দ্বিতীয়ত: তারা হয়ত পরকালে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজেদের পাপ ও অন্যায় কাজের জন্যে মৃত্যুকে ভয় পায়। কারণ মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় মানুষের কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ। আর তাই মৃত্যু যাতে দেরীতে আসে ইহুদীরা সেটাই কামনা করতো। কিন্তু নবী-রাসুল এবং আল্লাহর অলীরা মৃত্যুকে বিনাশ ও ধ্বংস মনে করেন না বরং একে আরেকটি জীবনের সূচনা বলে বিশ্বাস করেন। তারা তাদের কর্মে ও চিন্তায় কোন অপরাধ করেননি বলে মৃত্যুকে ভয় পান না বরং উদ্যম ও আগ্রহের সাথে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, খোদার কসম! মৃত্যুর প্রতি আমার আকর্ষণ মাতৃস্তনের প্রতি নবজাতকের আকর্ষণের চেয়ে বেশী৷

৯৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمَّرَ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ (96)

"আপনি তাদেরকে (ইহুদীদেরকে) জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা দেখেন।" (২:৯৬)

রাসূলে খোদা (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে এ আয়াতে বলা হয়েছে, বেহেশতের দাবিদার ইহুদীরা মৃত্যু কামনাতো করেই না বরং অন্যান্য মানুষ এমনকি মুশরিকরা যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং মৃত্যুকে জীবনের ধ্বংস বলে মনে করে, তাদের চেয়েও এ দুনিয়ার প্রতি তারা বেশী লোভী। তারা দুনিয়ার জীবনের প্রতি এতই আসক্ত যে, পৃথিবীতে হাজার বছর জীবন-যাপন করতে চায়। যাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে দূরে থাকা যায় এবং জমা করা যায় দুনিয়ার ধন-সম্পদ। কিন্তু আল্লাহপাক জবাবে বলেন, তাদেরকে এক হাজার বছর বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়া হলেও ওই দীর্ঘায়ূ তাদের প্রাপ্য শাস্তি ঠেকাতে পারবে না। কারণ তাদের সমস্ত কাজ আল্লাহ দেখেন, কাজেই এই শিশুসুলভ চিন্তা তাদের জন্য কোন ফল বয়ে আনবে না ৷

আরও পড়ুন


খালেদা জিয়া স্যুটকেস ভর্তি টাকা সৌদির লকারে রেখেছেন: প্রধানমন্ত্রী

ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, আঘাত হানবে কোথায় (লাইভ দেখুন)

টাকাই নয়,কাজ দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় : আইজিপি

ষড়যন্ত্র করে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না: শিল্পমন্ত্রী


এরপর ৯৭ ও ৯৮ নম্বর আল্লাহ পাক বলেছেন-

قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ (97) مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ (98)

"আপনি বলুন, যে জীবরাঈলের শত্রু সে জেনে রাখুক, জিবরাঈল আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কোরআন পৌঁছে দিয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ।" (২:৯৭) 

"যে কেউ আল্লাহ, তার ফেরেশতা, রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু, সে জেনে রাখুক আল্লাহ নিশ্চয় সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের শত্রু। " (২:৯৮)

রাসূলে খোদা (সা.) যখন মদীনায় আসলেন তখন কিছু ইহুদী তাদের একজন পুরোহিতসহ রাসূলের কাছে এসে কিছু প্রশ্ন করল। তাদের একটি প্রশ্ন ছিল, তোমার কাছে যে ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসে তার নাম কি? রাসূলে খোদা জবাবে বলেন, জিবরাঈল। তখন ইহুদীরা বলল, যদি ওহীর ফেরেশতা মিকাঈল হতো তাহলে আমরা ঈমান আনবো। কারণ জিবরাঈল আমাদের শত্রু। সে আমাদের জন্য জেহাদের মত কঠিন বিধান নিয়ে আসে। মানুষ যখন সত্যকে মেনে নিতে চায় না তখন অজুহাত খুঁজে বেড়ায়। এমনকি তারা আল্লাহর ফেরেশতাকেও অযৌক্তিকভাবে দায়ী করে যাতে সত্য থেকে পালিয়ে থাকা যায়। জিবরাঈল, মিকাঈল প্রমুখ ফেরেশতাগণ নিজের থেকে কোন বাণী আনেন না। তাঁরা আল্লাহর বাণী পয়গম্বরদের কাছে পৌঁছে দেন। তারা কেবল আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন। তাই এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে ইহুদীবাদীদের এ দাবি ছিল ইসলাম গ্রহণ না করার একটি বাহানা।

আজকের আলোচিত আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

১. প্রত্যেক মানুষকে এমনভাবে জীবন-যাপন করা উচিত, যাতে সে যেকোন সময় মৃত্যুর জন্যে তৈরি থাকতে পারে। এই পৃথিবীতে কেউ যদি সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করে এবং অপরাধের জন্য তওবা করে তাহলে মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

২. দীর্ঘ জীবন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। একমাত্র আল্লাহর নৈকট্যের মাধ্যমেই জীবন হয়ে উঠে মূল্যবান। তাই দেখা যায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) তার এক দোয়ায় বলেছেন, হে আল্লাহ! আমার আয়ু যদি তোমাকে মেনে চলার মাধ্যম হয় তাহলে তা বাড়িয়ে দাও। আর যদি শয়তানের অনুসরণের জন্য হয় তাহলে তা সংক্ষিপ্ত করে দাও।

৩. ধর্ম হলো অনেকগুলো বিশ্বাসের সমষ্টি। তাই কেউ যদি বলে আল্লাহকে বিশ্বাস করি কিন্তু তার ফেরেশতা আমার শত্রু বা ওই নবীকে বিশ্বাস করি না তাহলে তার ঈমান নেই। সুতরাং একজন প্রকৃত মুমিন হলো সেই যে আল্লাহ, সব নবী ও সব ফেরেশতার প্রতি বিশ্বাস রাখে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর