হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’
হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’

অনলাইন ডেস্ক

হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার বছরের ঐক্য এবং ঐতিহ্যকে বিলীন করার অপচেষ্টা নিয়ে হিন্দুদের ঘরে ঘরে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। এর কর্ণধার শাহীন আনাম এবং তার স্বামী ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে এ চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

আজ রবিবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক প্রতিভা বাগচী বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা সুসংহত হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে অশান্তির বীজ বপন করছে।

১০ হাজার বছরের পুরনো এই হিন্দু পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে চক্রটি। তাদের দুরভিসন্ধি হাসিলে হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য আইন কমিশনে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। যার নেতৃত্বে আছেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম ও তাঁর স্বামী মাহফুজ আনাম সিন্ডিকেট।  

তিনি আরও বলেন, হিন্দু পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজন করে ব্যক্তি কেন্দ্রিক সম্পত্তি বণ্টন, বিবাহ বিচ্ছেদ, হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ও শাস্তির বিধান, দত্তক, ভরণ-পোষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রীয় পবিত্র বিধি-বিধান পরিবর্তনের চক্রান্ত করছে। আর এটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের’ পরিচালক শাহীন আনাম ও ‘বাঁচতে শেখা’র পরিচালক এঞ্জেলা গোমেজের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে হিন্দু বিধিবিধান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিদ্বেষমুলক তথ্য প্রচার করছে। সারাদেশের হিন্দু সমাজের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি পাঁয়তারা চালাচ্ছে।  

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধেও হিন্দু সম্প্রদায়কে ক্ষেপিয়ে তোলার গোপন মিশনের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শাহীন আনাম সিন্ডিকেটের এই অপতৎপরতার কারণে সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায় মনে করছে এই সরকার আমাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস শুধু নষ্ট হচ্ছে না, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে। এইভাবে শাহীন আনাম গং কৌশলে হিন্দু সম্প্রদায়কে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার নীল নকশা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছে। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও হিন্দু সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শাহীন আনাম এর আগে ২০১৭-১৮ সালে তার এক কর্মচারীকে দিয়ে হিন্দু ধর্মে তালাক প্রথা চালু করার জন্য রিট দায়ের করেন। তখন কোর্ট বিষয়টি শুনানীযোগ্য নয় বলে খারিজ করে দেয়। হিন্দু বিবাহে বর ও বধুকে নানা বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয়। এই বৈদিক মন্ত্র হলো, পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদ থেকে সংকলিত। বিবাহের মন্ত্রগুলো কোনো পুরুষের রচিত নয়; মন্ত্রদ্রষ্টা নারী ঋষি সূর্যার নিকট আবিভূত হয়েছিল। আর বিয়ের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি স্ত্রী আচার দিয়ে মহিমামণ্ডিত। যে বিধান হাজার হাজার বছর ধরে এই নারী ঋষির তৈরি এই বিবাহ ব্যবস্থা অবিকৃতভাবে চলমান থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবার ব্যবস্থা উপহার দিয়ে চলেছে। এই মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দুটি হৃদয়, দুটি মন, দুটি শরীর একসূত্রে গ্রথিত হয়। হিন্দু নারী পুরুষের জীবনে আসে অর্ধাঙ্গীনি হিসাবে; তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। হিন্দু কুমারী যখন বিয়ের পিড়িতে বসে তখন রাজরাণীর মুকুট পড়ে বসে। রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ফলে দুষ্ট মানুষেরা বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে গোপনে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে সহজ সরল নারীদের প্রতারিত করবে। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য নষ্ট হবে; ধর্মীয় বিশ্বাস নষ্ট হবে। অতএব তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ যে নামেই হোক না কেন কোনটাই হিন্দু সমাজ মেনে নেবে না।

আরও পড়ুন:

ছবি করার কথা বলে ঘরে ডেকে শার্লিন চোপড়াকে যৌন হেনস্তা করে সাজিদ

ইরানের পরমাণু সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা নিয়ে যা বলল রাশিয়া

কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার দায় নিতে চান না তালেবান

ঘর থেকে বেরিয়ে বিশ্বরেকর্ডের পথে বেলজিয়ান তরুণী


শাহীন আনাম চক্র অনেক দিন ধরেই হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে এবং সামান্য কিছু অনৈতিক ও বিকৃত রুচির নর-নারীর জন্য কোটি কোটি জনগণকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করে সংগঠনটি।

বক্তব্যে বলা হয়, ‘গুটিকয়েক পাশ্চাত্য চিন্তা চেতনার অসুস্থ মস্তিষ্ক ও বিকৃত রুচির হৃদয়হীন নর নারীর কারণে লক্ষ লক্ষ নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না; সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খুনি তৈরি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায় না। ’

news24bd.tv/ নকিব