সুলতান ইয়ুজবাকের সাথে উজবুকের কোন সম্পর্ক নাই
সুলতান ইয়ুজবাকের সাথে উজবুকের কোন সম্পর্ক নাই

সুলতান ইয়ুজবাকের সাথে উজবুকের কোন সম্পর্ক নাই

Other

সুলতান ইখতিয়ারউদ্দিন ইয়ুজবাক মুগিসউদ্দিনের জীবন ও শাসনকাল ছিল অতিবিচিত্র। জালালুদ্দিন মাসুদ জানি ( যিনি ইখতিয়ারউদ্দিন ইয়ুজবাকের পূর্বসূরি ছিলেন। )  চার বছর ধরে পূর্ব গঙ্গার সম্রাট নরসিংহ দেবের প্রতিনিধিত্বকারী বাহিনীকে পরাজিত করতে না পারার পর ইয়ুজবাক বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন।  

১২৫৪ সালে তিনি উত্তর-পূর্ব বাংলার আজমারদান রাজ (বর্তমান আজমিরিগঞ্জ) আক্রমণ করেন এবং স্থানীয় রাজাকে পরাজিত করতে সক্ষম হন।

১২৫৫ সালে ইয়ুজবাক সম্রাট নরসিংহের বাহিনীকে প্রতিহত করতে সক্ষম হন, সম্রাটের জামাতা সাভান্তরের নেতৃত্বে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ থেকে দূরে। পশ্চিমবঙ্গে মান্দারান দখল করার পর ইয়ুজবাক দামোদর নদীতে দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করেন।  

পরবর্তীতে তিনি দিল্লীর নিয়োগ পেয়েই দিল্লীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং সুলতান উপাধি ধারণ করেন। সাহস, শক্তি ও বাহুবলে তিনি বাঙলা রাজ্যের সীমান্ত বাড়িয়ে প্রায় দিল্লীর সমান একটি রাজ্য গড়ে তোলেন। তখন তিনি নিজেকে সুলতান মুগিথউদ্দিন আবুল মুজাফফর ইয়ুজবাক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং নিজের নামে মুদ্রা তৈরি করেন।

এরপর উনার ইচ্ছা হয় আসাম আক্রমণ করার। ইখতিয়ারউদ্দিন মোহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী একইভাবে তিব্বত আক্রমণ করতে গিয়ে পরাজিত এবং নাস্তানাবুদ হয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ময়াশার কামড় খেয়ে সেই যে শয্যাশায়ী হলেন আর বাঁচলেন না। সেই একই ভুল করলেন মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাক।  

আসাম আক্রমণ করলেন তিনি বসন্তকালে। আসাম-রাজা মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাকের বিশাল সেনাবাহিনী আর যুদ্ধসাজ দেখে ভড়কে গিয়ে দলবল ও সৈন্যসহ পাহাড়ে পালিয়ে গেলেন এবং সন্ধির প্রস্তাব পাঠালেন। তখন সহজ জয়ের আনন্দে মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাক দিশেহারা।  

সন্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ইয়ুজবাক। দলবল নিয়ে আনন্দ-উল্লাস আর লুটপাটে ব্যস্ত রাখলেন নিজেকে। বসন্ত শেষ হয়ে গ্রীষ্ম এলো তারপরে বর্ষা। আসাম অঞ্চলের বর্ষা ভয়ানক।  
 
আসাম রাজা এ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। চারিদিকে অথই পানি। ঘোড়ার ঘাস নেই, সৈন্যের খাবার নেই, চলাচলের নৌকা নেই। এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা।  

মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাক এবার পালাতে শুরু করলেন আসাম থেকে। পালাতে চাইলেই কি আর পালানো যায়? আসাম-রাজা ছাড়বেন কেন? সন্ধির প্রস্তাব আগেই ইয়ুজবাক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।  

আসামের সেনারা পালানোর পথে মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাকের পুরো সেনাবাহিনীকে বিধ্বস্ত করে দিলো আর মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাককে বন্দী করে হত্যা করলো।

আরও পড়ুন:


বরিশাল সদরের সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে ২ মামলার আবেদন

মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দুদকের

মাহফুজ আনাম ও তার স্ত্রীর সম্পদের উৎস জানতে চাই: অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বোনের হাতে বোন খুন


 

আমার ধারণা হয়েছিলো মুগিসউদ্দিন ইয়ুজবাকের নির্বুদ্ধিতায় বাঙালী হয়তো উজবুক মানেই বোকা ভাবে। পরে খোঁজ খবর নিয়ে দেখলাম, উজবুক  শব্দটির অর্থ আহাম্মক, বোকা, অথবা আনাড়ি। উজবেকিস্তানের সাথে উজবুক শব্দের উৎপত্তিগত সম্পর্ক থাকলেও সুলতান ইয়ুজবাকের সাথে উজবুকের কোন সম্পর্ক নাই। মধ্যযুগে মুসলিম শাসকগণ উজবেকিস্তান থেকে ভাড়াটে সৈনিক আনত। তাদের উজবক বা উজবেক বলা হত। এ সৈন্যরা প্রচণ্ড শক্তিশালী হলেও খুব নির্বোধ ছিল। অথচ দেখেন এই ইয়ুজবাকের সাথে নামেরও কী মিল তাই না?

লেখাটি শান্তা আনোয়ার- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv নাজিম