সকল অসুখের মূল ‘পই পই হিসাব’
সকল অসুখের মূল ‘পই পই হিসাব’

সকল অসুখের মূল ‘পই পই হিসাব’

Other

মানুষের সকল অসুখের মূল হলো পই পই করে হিসাব করা। যিনি পই পই করে হিসাব করেন, তিনি মানুষ নন। ক্যালকুলেটর। তার বুক চিড়লে শুধু ব্যাটারিই পাওয়া যাবে।

পই পই করে হিসাবের একটি পুরাতন গল্প নতুন আঙ্গিকে বলি:

এক রাজা খুব অসুখী। তিনি উজিরকে একদিন ডেকে বললেন, আমার রাজ্যের সোলায়মান তো খুব সুখী। একটি ঘর ছাড়া তার কিছুই নেই, কিন্তু সারাদিন সে কতো আনন্দে থাকে। আমি থাকতে পারি না কেন?

উজির বললেন, মহারাজ, আপনি পই পই রোগে আক্রান্ত। আপনি খাজনা আদায় করেন পই পই করে, আইনের প্রয়োগ করেন পই পই করে। এমন কি, কেউ আপনার বন্ধু নাকি শত্রু, এ হিসাবও আপনি পই পই করে রাখেন। কিন্তু সোলায়মানের এ সমস্যা নেই।

রাজা বললেন, বলো কী উজির? তোমার কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমাকে প্রমাণ দেখাও।

উজির বললেন, বেশ, কাল সকালেই আমি আপনাকে প্রমাণ দেব।

এই বলে উজির, রাতের বেলা, সোলায়মানের ঘরের সামনে এক ব্যাগ স্বর্ণমুদ্রা রেখে আসলেন। ব্যাগের উপরে তিনি লিখলেন— ‘এই রাজথলিতে ১০০০ টি স্বর্ণমুদ্রা আছে। যিনি ব্যাগটি পাবেন, তিনি এই স্বর্ণমুদ্রার মালিক। ’

সোলায়মান ঘুম ভেঙেই দেখে, দরজার সামনে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রার থলি। থলিটি ঘরের ভেতর নিয়ে, সোলায়মান পই পই করে গুণতে শুরু করে। কিন্তু যতোবারই গুণে, ততোবারই দেখা যায়— স্বর্ণমুদ্রা আছে ৯৯৯টি! সোলায়মান অবাক হয়। একটি স্বর্ণমুদ্রা নিলো কে? নিলে তো পুরো বস্তাই নেওয়ার কথা। কাগজে তো লেখা ১০০০ টি। কাগজের লেখা তো ভুল হওয়ার কথা নয়।

সোলায়মান এই একটি স্বর্ণমুদ্রার হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারে না। প্রতিদিন খেয়ে না খেয়ে, ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে, সোলায়মান স্বর্ণমুদ্রা গুণতে থাকে। কিন্তু প্রতিবারই ৯৯৯!

হিসাবে গণ্ডগোল হতে পারে, এই ভয়ে সোলায়মান, কোনো স্বর্ণমুদ্রা খরচও করলো না।

উজির একদিন ছদ্মবেশে সোলায়মানের কাছে জমি বিক্রি করতে এলেন। সোলায়মানকে তিনি দুটি জমি দেখালেন। একটি ধানি জমি, আয়তন ৫০০ বিঘা, দাম ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা। আরেকটি জমি হলো বিলাসবহুল বাগানবাড়ি, আয়তন ৫০ বিঘা, দাম ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা। সোলায়মান পছন্দ করল বাগানবাড়িটি। কিন্তু একটি স্বর্ণমুদ্রা কম থাকার কারণে, তিনি উজিরের কাছে দুইদিন সময় চাইলেন।

উজির বললেন, যেহেতু এখন টাকা কম আছে, তুমি আপাতত ধানি জমিটা কিনে নাও। এতো কম দামে জমি আর পাবে না।

সোলায়মান বলল, না, বাগানবাড়ি কেনার এমন সুযোগ আর আসবে না। আমার কাছে ১০০০ স্বর্ণমুদ্রাই আছে, শুধু গণনায় একটু গণ্ডগোল হচ্ছে। হয়তো কেউ দুষ্টুমি করে একটি মুদ্রা লুকিয়ে রেখেছে।

উজির চলে গেলেন।  

সোলায়মান তার ঘরের সবাইকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা শুরু করলো। তার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা, সবাইকে সে জেরার পর জেরা করতে থাকল। একটি বাচ্চাকে সে চড়-থাপ্পড়ও মারল। কিন্তু স্বর্ণমুদ্রা সে পেলো না।

দুই সপ্তাহ পর, রাজা তার পাইক-পেয়াদা নিয়ে সোলায়মানের ঘরে এলেন। রাজা বললেন, এ কী সোলায়মান, তোমার এই অবস্থা কেন? তোমার স্ত্রী কাঁদছে কেন? তুমি শুকিয়ে এমন হয়ে গেছো কেন? হায় হায়! 

সোলায়মান রাজাকে ঘটনা খুলে বলল।

রাজা সব শুনে বললেন, সোলায়মান, তোমার এ দুর্দশার জন্য তুমি নিজেই দায়ী। ৯৯৯ টি স্বর্ণমুদ্রা পেয়েও তুমি সন্তুষ্ট হতে পারলে না? একটি স্বর্ণমুদ্রা তোমার এতোই প্রয়োজন ছিল? এতো পই পই হিসাব তুমি কোথা থেকে শিখেছ? 

সোলায়মান বলল, মহারাজ, আমি আগে এমন ছিলাম না।
 

আরও পড়ুন:


পরীমণির জামিন আবেদন দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের রুল

বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের আঘাতে তলা ফেটে ট্রলার ডুবি


news24bd.tv তৌহিদ

সম্পর্কিত খবর