সূরা বাকারা: আয়াত ৩৬-৩৭, আদম (আঃ) এর উপর শয়তানের প্রতিহিংসা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৩৬-৩৭, আদম (আঃ) এর উপর শয়তানের প্রতিহিংসা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরা আল-বাকারা’র ৩৬ ও ৩৭ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ৩৬ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন - 

فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ (36)

"এরপর শয়তান, আদম ও তার স্ত্রীকে পথভ্রষ্ট করল এবং তারা যে বেহেশতে ছিল সেখান থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করল। সে সময় তাদেরকে বললাম তোমরা নীচে নেমে যাও একে অন্যের শত্রু হিসাবে। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল।"(২:৩৬)

আগের পর্বেও আমরা হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। তখন বলেছিলাম আল্লাহপাক হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার জন্য বেহেশতের মত একটি বাগানে বসবাসের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে তাদের জন্য সব ধরনের খাবার ও ফলমূলের ব্যবস্থা করা হয়। শুধু নিষেধ করা হয় একটি বিশেষ গাছের ফল খেতে। কারণ ওই ফল ছিল তাদের জন্য ক্ষতিকর এবং তা খেলে তাতে তাদের আত্মার ওপর জুলুম হবে। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে হযরত আদমকে সেজদা না করায় শয়তান আল্লাহর দরবার থেকে বহিষ্কৃত হয়। আর এজন্য শয়তান প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে। তার সব রোষ গিয়ে পড়ে হযরত আদম (আ.)-এর ওপর। শয়তান প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তায় অস্থির হয়ে ওঠে। যেভাবেই হোক হযরত আদমকে শান্তিপূর্ণ ও আরামের স্থান থেকে বহিষ্কার করবে বলে ঠিক করল। যেমন ভাবা তেমন কাজ। শয়তান নানা কূটবুদ্ধি, ওয়াসওয়াসা ও চাল চেলে বুঝালো যে, সে হযরত আদম আর বিবি হাওয়ার মঙ্গল চায়। ওই নিষিদ্ধ ফলের সীমাহীন প্রশংসা আর উপকারিতা বর্ণনার ফলে একসময় সত্যি সত্যিই হযরত আদম আর বিবি হাওয়া শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে ফেললেন। শেষ পর্যন্ত শয়তানের কুমন্ত্রণায় তারা ওই নিষিদ্ধ ফল খেলেন। হযরত আদম (আ.) এবং বিবি হাওয়ার অবশ্য আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে চাননি। কিন্তু তাদের অবস্থা ছিল অনেকটা ওই শিশুর মতো, যাদের ধোঁকাবাজি ও কুটকৌশল বুঝার কোন অভিজ্ঞতাই নেই। শিশু যেমন সবাইকে সৎ সত্যবাদী মনে করে তেমনি সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম ও প্রথম মানবী বিবি হাওয়া শয়তানকে সত্যবাদী ভেবে বসল। শয়তান যখন কসমের পর কসম খেয়ে তাদেরকে নিষিদ্ধ ফলের উপকারিতা ও গুণাগুণ বর্ণনা করল তখন তারা তাকে সরল শিশুর মতো বিশ্বাস করে ধোঁকা খেল। এভাবে তারা আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত কাজ করে ফেলল, আল্লাহও তাদেরকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এল 'তোমরা আল্লাহর দরবার থেকে নীচে নেমে যাও। শয়তান ও তোমরা একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়ে গেছ এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে পৃথিবীতে বসবাস করতে হবে।'

আদমকে সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে তার খেলাফত বা প্রতিনিধিত্ব করা। তাই হযরত আদমকে পৃথিবীতে আসতেই হতো। এজন্য আল্লাহপাক প্রথমে তার জন্য সমস্যামুক্ত শান্তিপূর্ণ একটি স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করলেন, যাতে তিনি পৃথিবীতে আগমনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পরেন। পৃথিবীর অবস্থার সাথে পরিচিত হন এবং প্রকৃত শত্রু অর্থাৎ শয়তানকে ভালোভাবে চিনতে পারেন।

এই আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

১. শয়তানের আনুগত্য মানুষকে যেমন আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তেমনি মানুষকে প্রকৃত শান্তি থেকেও বঞ্চিত করে এবং তাকে নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্যে ফেলে দেয়। যেমনটি হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার জীবনে লক্ষ্য করা যায়।

২. মানুষের সাথে শয়তানের শত্রুতার ইতিহাস অতি প্রাচীন এবং সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু হয়ে যা এখনও চলছে।

৩. কোন মানুষ পাপ ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত নয়, যদি না আল্লাহ তাকে হেফাজত করেন। যে আদম পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা এবং ফেরেশতাদের সাহচার্য লাভ করেছেন সেই হযরত আদমই মুহূর্তের গাফলতির জন্য আল্লাহর দরবার থেকে বহিষ্কৃত হন। অবশ্য হযরত আদম (আঃ)-এর এই ভুল ছিল তার নবুয়্যত লাভের আগের ঘটনা।

এরপর এই সূরার ৩৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

فَتَلَقَّى آَدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (37)

"অতঃপর হযরত আদম (আ.) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, (এবং তাওবা করলেন) অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।"(২:৩৭)

সেই শান্তিময় স্থান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে কষ্টকর পৃথিবীতে নেমে আসার পর আদম তার ভুল এবং শয়তানের ধোঁকা বুঝতে পারলেন। তাই তিনি অনুশোচনা করতে লাগলেন এবং কিভাবে তওবা করা যায় সে পথ খুঁজতে লাগলেন। এখানেও আল্লাহপাক হযরত আদমকে অসহায়ভাবে ছেড়ে দিলেন না। তিনি হযরত আদমকে তওবা এবং অনুশোচনা করার ভাষা শিক্ষা দিলেন। সেই বাণী সূরা আরাফের ২৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে- "তারা বলল হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি। যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না কর, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভক্ত হব।"

এই ভাষা কেবল হযরত আদম (আ.)-এর তওবার জন্যেই নির্দিষ্ট নয় বরং হযরত ইউনুস ও হযরত মুসা (আ.)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। যেমন কোরআনে হযরত মুসা (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে- "তিনি বললেন-হে আমার প্রতিপালক,আমি আমার নিজের ওপর জুলুম করেছি। তুমি আমায় ক্ষমা কর।"

অবশ্য হযরত আদম (আ.) তার তওবা কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর শিখিয়ে দেয়া শাফায়াতকারীদের নাম উচ্চারণ করেন। এ সম্পর্কে বিখ্যাত আলেম আল্লামা সুয়ূতি (রহ.) তার লেখা দোরুল মানসুর তাফসীর গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ৬০ পৃষ্ঠায় বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। সেসব হাদিসে এসেছে যে হযরত আদম (আ.) আল্লাহর কাছে তার তওবা কবুল হওয়ার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদেরকে উসিলা হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন। হযরত ইবনে আব্বাস (র.) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে- "আদম (আ.) আল্লাহর কাছে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার আহলে বাইতকে উসিলা হিসাবে তুলে ধরেন যাতে তার তওবা কবুল হয়।" শাব্দিকভাবে তওবার অর্থ প্রত্যাবর্তন। এ শব্দটি যখন মানুষ সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়, তখন তার অর্থ হলো পাপ কাজ থেকে প্রত্যাবর্তন। আর যখন তওবা শব্দটি আল্লাহ সম্পর্কে ব্যবহৃত হয় তখন তার অর্থ হলো আল্লাহর দয়া ও রহমত ফিরে আসা। অর্থাৎ মানুষের পাপ কাজের কারণে আল্লাহ তার দয়া ফিরিয়ে নেয়ার পর মানুষ যখন পাপ কাজ থেকে প্রত্যাবর্তন করে তখন আল্লাহ পুনরায় দয়া ফিরিয়ে দেন। আল্লাহপাক নিজে তাওয়াব বা ক্ষমাশীল। যেমন সূরা বাকারাহ'র ২২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- "তাই আল্লাহর দয়া সম্পর্কে মানুষের নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনাকারীরা থাকলে আল্লাহর দয়া ও করুণার ধারাও থাকবে অবিরাম।

আরও পড়ুন


জোড়া আত্মঘাতী বিস্ফোরণ : মার্কিন সেনাসহ নিহত ৬০

বিদ্রোহী কবির ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যে কারণে ইভ্যালিতে বিনিয়োগে করবে না যমুনা গ্রুপ

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বোমা বিস্ফোরণ


সূরা বাকারাহ'র ৩৭ নম্বর আয়াতের শিক্ষণীয় কয়েকটি বিষয় হচ্ছে-

১. মানুষের তওবা করার তওফিক যেমন আল্লাহর হাতে তেমনি কিভাবে তওবা করা উচিত সেই পথও পেতে হবে আল্লাহর কাছ থেকে। তাই এ আয়াতে হযরত আদম (আঃ)-কে তওবার ভাষা আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন।

২. মানুষের তওবা যদি সত্যিকার তওবা হয় তাহলে আল্লাহ তা কবুল করবেন। কারণ তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়।

৩. আল্লাহপাকের ক্ষমা হলো দয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত। এতে নেই কোন অপমান এবং নেই কোন ভৎর্সনা।

৪. যদি আমরা কোন সময় তওবা করে তা ভঙ্গ করি এবং পুনরায় পাপে লিপ্ত হই, তারপরও আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হতে নেই। কারণ তিনি তাওয়াব বা তওবা গ্রহণকারী। যদি আবারও আমরা তওবা করি তাহলে তিনি আমাদের তওবা কবুল করে নেবেন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আল্লাহ যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহ যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করেন

আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি যত দিন পর্যন্ত আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আমি তত দিন তোমার গুনাহ মাফ করতে থাকব, তুমি যা-ই করে থাক, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। 

হে আদম সন্তান, তোমার গুনাহ যদি আকাশের উচ্চতা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও তবু আমি তোমাকে ক্ষমা করব, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান, তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪০)

আলোচ্য হাদিসে বান্দাদের হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আশাবাদী হতে বলা হয়েছে। ঘোষণা দিয়েছেন, বান্দার গুনাহের পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন আল্লাহ বান্দাকে মাফ করে দেবেন।

দোয়া করার শিষ্টাচার : আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু শিষ্টাচার ও শর্ত রয়েছে। এসব শিষ্টাচার দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সহায়ক। যেমন—

১. নিবিষ্ট মনে দোয়া করা : নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কবুলের দৃঢ় প্রত্যয় রেখে তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। জেনে রেখো, উদাসীন ও অমনোযোগী মনের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)

২. কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা : মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল করা হয় যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। যেমন সে বলল, আমি দোয়া করলাম কিন্তু তা কবুল হলো না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৭)

৩. আশা নিয়ে দোয়া করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে তখন এভাবে বলা উচিত নয় যে হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করেন যদি আপনার ইচ্ছা হয়। বরং বড় আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে। কেননা তিনি এমন এক সত্তা যেকোনো কিছুই দান করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮৮)

৪. অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করা : আল্লাহ অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রার্থনা করো গোপনে অশ্রুসিক্ত হয়ে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫)

৫. আল্লাহর গুণবাচক নাম নিয়ে দোয়া করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সে নামেই ডাকবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮০)

মুমিনের কোনো দোয়া নিষ্ফল নয় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমান যখন কোনো দোয়া করে, যাতে কোনো গুনাহের কাজ অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছেদের কথা নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে এ তিনটির যেকোনো একটি দান করেন। হয়তো তাকে তার প্রার্থিত বস্তু দুনিয়াতে দান করেন বা তা তার আখিরাতের জন্য জমা রাখেন অথবা তার অনুরূপ কোনো অমঙ্গলকে তার থেকে দূরে রাখেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১১৩৩)

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

নামাজ আদায়সহ যেসব আমল আল্লাহর প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

নামাজ আদায়সহ যেসব আমল আল্লাহর প্রিয়

কিছু আমল আছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তার মধ্যে অন্যতম আমল হলো, গুরুত্বসহ সময়মতো নামাজ আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? ‘তিনি বলেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’

তিনি আমাকে এ কথাগুলো বলেন, যদি আমি আরো প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি আরো অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৫)

এ ছাড়া যেকোনো নেক আমল ধারাবিহকতা বজায় রেখে নিয়মিত করা হলেও তা আল্লাহর প্রিয় আমলে পরিণত হয়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কী? তিনি বলেন, ‘যে আমল সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয়। যদিও তা অল্প হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা সাধ্যের অতীত কাজ নিজের ওপর চাপিয়ে নিয়ো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৫)

আরও পড়ুন: 


সরকারি আটায় রুটি তৈরি করা কারখানায় অভিযান চলছে

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া চলে গেলেন

মহান আল্লাহ আমাদের নিয়মিত নামাজ আদায় ও ইসলামে পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

পাকা চুল উঠানো কি জায়েজ?

অনলাইন ডেস্ক

পাকা চুল উঠানো কি জায়েজ?

চুল পাকার বয়স হওয়ার আগেই অনেকের চুল পেকে যায়। অল্প কয়েকটা চুল পাকলে সেটা রঙ না করে তুলে ফেলেন অনেকেই।  এটা করা যাবে না। কারণ পাকা চুল উঠিয়ে ফেলা মাকরুহ। এ ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানের একটি চুল পেকে গেলে আল্লাহতায়ালার তার জন্য একটি নেকি লেখেন। একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং একটি পাপ মোচন করে দেন। (নাসাঈ, মিশকাত)

অপর হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাদা চুল উঠাবে না। কারণ এগুলো কেয়ামতের দিন নূর হবে। আর যে (মুসলিম) ব্যক্তির চুল বার্ধক্যের কারণে সাদা হয় তার প্রতিটি সাদা চুলের বিপরীতে একটি করে সওয়াব লেখা হয়, একটি করে গুনাহ মাফ করা হয় এবং একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ (ইবনু হিব্বান)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা পাকা চুল-দাঁড়ি উঠাবে না। কেননা কোনো মুসলিম ইসলামের মধ্যে থেকে চুল পাকালে এটা তার জন্য কেয়ামাতের দিন উজ্জ্বল নূর (আলো) হবে। আল্লাহ তার প্রতিটি পাকা চুলের পরিবর্তে তাকে একটি নেকি দান করবেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কিয়ামতের দিন আল্লাহ যে তিন ব্যক্তির দিকে ফিরেও তাকাবেন না

অনলাইন ডেস্ক

কিয়ামতের দিন আল্লাহ যে তিন ব্যক্তির দিকে ফিরেও তাকাবেন না

কিয়ামতের বিচার হচ্ছে ফায়সালার দিন। যারা কিয়ামতের বিচারে পাস করবে আল্লাহর অনুগ্রহে তারা পবিত্র হয়ে জান্নাতে যেতে পারবেন। আর যাদের এত পাপ জমে থাকবে যে, বিচার শেষেও তাদের পাপের পাল্লা ভারি থাকবে, তাদের পরিণতি হবে জাহান্নাম।[সূরা আল-ক্বারিয়াহ] 

কিয়ামতের দিন একদল লোক থাকবেন, যাদের সাথে আল্লাহ সেদিন কোনো কথা বলবেন না। তারা যতই অনুনয়, বিনয় করুক না কেন, আল্লাহ কোনো উত্তর দেবেন না।

আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বাক্যগুলি তিনবার বললেন। আবূ যার্র বললেন, তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তারা কারা? হে আল্লাহর রসূল!

তিনি বললেন, (লুঙ্গি-কাপড়) পায়ের গাঁটের নীচে যে ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে লোকের কাছে দানের কথা বলে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে পণ্য বিক্রি করে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, যে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।[মুসলিম ১০৬, তিরমিযি ১২১১, নাসায়ি ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাউদ ৪০৮৭, ইবন মাজাহ ২২০৮, আহমদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমি ২৬০৫]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আত্মীয়-স্বজনের কথা পরিবারে বললে কি সেটা গীবত হবে ?

অনলাইন ডেস্ক

সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বদ অভ্যাস হচ্ছে গীবত। এটি মারাত্মক ঘৃণিত কাজ। যে অন্যের দোষ তালাশ করে বুঝতে হবে তার অন্তর নষ্ট হয়ে গেছে।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) গীবতের পরিচয় দিয়ে বলেন- ‘গীবত হলো তোমার ভাইয়ের এমন আচরণ বর্ণনা করা, যা সে খারাপ জানে।’

গীবত করার পরিণাম- আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন- ‘তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে, তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই করে থাকো’। [সূরা হুজুরাত – ১২] অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, গীবত করা মৃত ব্যক্তির গোশত ভক্ষণ করার শামিল।

আরও পড়ুন:


বন্দর কর্মচারীর মালিকানায় শত কোটি টাকার সম্পদ

আলোর পথে ফিরেছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

৩ হাজার কনস্টেবল নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ


আল্লাহ আমাদের সবাইকে গীবতের মতো ভয়াবহ গুনাহের কাজ থেকে দূর থাকার তাওফিক দান করুন। এখন প্রশ্ন হলো আত্মীয় স্বজনের কথা পরিবারে বললে কি সেটা গীবত হবে ? উত্তরটি জানতে ভিডিওটি দেখুন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর