আধুনকিতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে কুপি বাতি
আধুনকিতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে কুপি বাতি

আধুনকিতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে কুপি বাতি

Other

আধুনিকতার ছোঁয়ায় একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে বাতি শিল্প। আঞ্চলিক ভাষায় কুপিবাতি নামে বেশি পরিচিত। এক সময় কেরোসিনের হাতবাতি বা কুপিবাতি ছিল রাতের আঁধার নিবারনের একমাত্র অবলম্বন। আর এ বাতিতে কেরোসিন ঢুকানোর জন্য চুঙ্গা ছিল একমাত্র উপাদান।

 

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে নওগাঁ জেলার প্রায় সব গ্রামেই। প্রায় সব বাড়িতেই বিদ্যুৎ রয়েছে। গ্রামের রাস্তার ধারে ধারে লাম্পপোস্টের আলোয় হারিয়ে গেছে হাতবাতির আলো। এক সময়কার এ শিল্প ছিল লাভজনক। বাতি ও চুঙ্গা তৈরি করে আনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসত। টিন, কাঁচ, মাটি এই তিন উপাদান দিয়েই তৈরি করা যায় হাতবাতি। কাঁচের বাতিগুলোর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা, টিনের বাতিগুলোর দাম ছিল ২০-৩০ টাকা আর মাটির বাতিগুলোর দাম ছিল ৫-১৫ টাকা। নওগাঁ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে তৈরি হতো এ শিল্প।  

এ জেলার হাতবাতি এক সময় বানিজ্যিক ভাবে বিক্রি করা হতো বিভিন্ন অঞ্চলে। আর এ শিল্প এখন নেই বললেই চলে।  
তখনকার বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিংও কম ছিল। এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিদ্যুৎ চলে গেছে। গ্রাহক সংখ্যাও আগে থেকে অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গিয়ে যান্ত্রিক ক্রটি ব্যাপকহারে বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক সময় হাত বাতির ও চুঙ্গার চাহিদা ছিল। তখন কিছু কিছু মানুষ এ পেশাকে আকড়ে ধরে সংসার চালাত।  

পরবর্তীতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জরুরি লাইট, আইপিএস চালু হলে এ শিল্পে আস্তে আস্তে ধ্বস নামতে থাকে। কারণ বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে এসব জিনিস ব্যবহার হয়ে থাকে। আর যাদের বিদ্যুতের বিকল্প আইপিএস কেনার সাধ্য নেই তারা কেরোসিনের বাতিতে কেরোসিন ঢুকানোকে ঝামেলা মনে করে মোমবাতি জ্বালাতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে কেরোসিনের হাতবাতি ও চুঙ্গার চাহিদা উদ্বেগজনক হারে কমে যায়। চাহিদা না থাকায় একদিকে এ শিল্পে যেমন নতুন করে ধ্বস নেমেছে অন্যদিকে এ শিল্প স্থাপনের প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।  

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সন্ধ্যা হলেই এক সময় জল জল করতো হাতবাতি। কিন্তু সময়ের সাথে এখন হাট-বাজারে জ্বলে উঠে বিদুৎতের আলো। তাই গ্রামে ও শহরের হাটবাজারগুলোতে কেরোসিনের বাতি ও চুঙ্গা এখন আর চোখ পড়ে না। গ্রাম বাংলার মানুষ সামর্থ অনুযায়ী কুপি কিনে ব্যবহার করতেন। বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কুপি পাওয়া যেত বড় ও ছোট। বেশি আলোর প্রয়োজনে কুপিবাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরি গছা অথবা স্ট্যান্ডের উপর রাখা হতো।

এই গছা অথবা স্ট্যান্ডগুলো ছিল বাহারি ডিজাইনের। রুপসী-গ্রামবাংলা আপামর মানুষের কাছে কুপিবাতির কদর কমে গেলেও আবার কেউ কেউ এই কুপিবাতির স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছেন। অনেকেই স্বযত্নে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শন স্বরূপ কুপিবাতি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কুপিবাতির ব্যবহার ও কদর যেহারে হ্রাস পাচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে এটি শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।

NEWS24.TV / কামরুল