সোশাল ডিসটেন্স মেনে অনেক ডিপার্টমেন্টেই পরীক্ষা নেয়া যেতো
সোশাল ডিসটেন্স মেনে অনেক ডিপার্টমেন্টেই পরীক্ষা নেয়া যেতো

রউফুল আলম

সোশাল ডিসটেন্স মেনে অনেক ডিপার্টমেন্টেই পরীক্ষা নেয়া যেতো

Other

স্কুল-কলেজে লক্ষ লক্ষ স্টুডেন্ট। তাদের জন‍্য সারা দেশে একসাথে ক্লাস শুরু করা, পরীক্ষা নেয়া অনেক কঠিন একটা কাজ। এটা সহজেই বোধগম‍্য। কিন্তু একটা ইউনিভার্সিটিতে তো লক্ষ লক্ষ স্টুডেন্ট থাকে না।

তাছাড়া ইউনিভার্সিটিগুলো চলে স্বায়ত্ত্বশাসনে।
 
ইউনিভার্সিটির একটা ডিপার্টমেন্টের প্রতি ব‍্যাচে ৫০ জন স্টুডেন্ট থাকে। একশো জন স্টুডেন্ট থাকে। চেষ্টা করলেই এই ব‍্যাচগুলোর পরীক্ষা নেয়া যেতো অনেক আগে। সিনিয়র স্টুডেন্টদের পরীক্ষা নেয়া যেতো। ইউনিভার্সিটিতে অনেক বড়ো বড়ো হলরুম থাকে। ক্লাস রুম থাকে। সোশাল ডিসটেন্স মেনে অনেক ডিপার্টমেন্টেই পরীক্ষা নেয়া যেতো।

বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে যে জট সৃষ্টি হয়েছে—এটা যে কতো ক্ষতিকর ইমপ‍্যাক্ট ফেলবে, সেটা নিয়ে কেউ কি ভাবে? —ভাবে না।
 
আমাদের দেশে একটা স্টুডেন্টের জীবন সংগ্রামে যতো কষ্ট সহ‍্য করতে হয়, সেটার জন‍্য প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় না। এই জটের কারণে বহু স্টুডেন্ট তার জীবনে মটিভেশন হারাবে। বহু স্টুডেন্ট পরিবারের জন‍্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু স্টুডেন্টের জীবন থেকে চাকরির বয়স চলে যাচ্ছে। অনেক ফিমেইল স্টুডেন্ট পরিবারের চাপে বিয়ে করতে হচ্ছে। অনেক স্টুডেন্ট বিদেশে পড়াশুনা করতে চেয়েও পিছিয়ে গেছে। এই যে উচ্চশিক্ষিত তরুণ—রাষ্ট্রে তাদের অভিভাবক কোথায়?
 
আমাদের দেশের স্টুডেন্টরা অভিভাবকহীন। হতভাগ‍্য। তাদের কথা চিন্তা করার মতো মানুষ নেই খুব বেশি। যারা চিন্তা করে, তাদের ক্ষমতা নেই। যাদের ক্ষমতা আছে, তাদের চিন্তা করার মতো মুরোদ নেই। তারা চিন্তা করেও না। জাতীয়ভাবে এমন একটা দীনতা, এমন এক উদাসীন, নির্লিপ্ত উচ্চশিক্ষা ব‍্যবস্থা দুনিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোতেও খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। আহা!
 
আমি ভেবেছিলাম আমার ছাত্রজীবনের চেয়ে আমার পরের প্রজন্মের ছাত্রজীবন হবে আরো উন্নত। আরো গাইডেড হবে। আরো স্মুথ হবে। কিন্তু সে আশা মিছে।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

news24bd.tv/এমি-জান্নাত

;