খেলা হবে, খেলা চলুক
খেলা হবে, খেলা চলুক

খেলা হবে, খেলা চলুক

Other

খেলা হবে- এই বাক্যটির রাজনৈতিক প্রয়োগ করেছেন শামীম ওসমান। তার বক্তৃতায় খেলা হবে শুনে, অনেকে নানারকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এমনকী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এই ডায়ালগ এবার বেশ জনপ্রিয় হয়। গানে, শ্লোগানে এই ‘খেলা হবে’ শব্দযুগলের নানামুখি ব্যবহার আমরা দেখেছি।

তবে রাজনীতির বাইরে জীবনের জন্য এই ‘খেলা হবে’ শব্দের অনেক মূল্য রয়েছে। বিশেষ করে শিশু যখন খেলতে চায়, তখন তাকে মানা না করে, হাসিমুখে বলুন, খেলা হবে। কেন খেলা দরকার তা বলতেই আজকের এই লেখা।

আমরা সাধারণত মনে করি খেলাধুলা করলে শরীর ভালো থাকে, মন বিকশিত হয়। শরীর ভালো থাকে মানে ব্যয়াম হয়, শরীরের দরকারি গঠনের জন্য তা দরকার। আবার মন ভালো থাকে মানে মন প্রশান্ত থাকে। এর বাইরে খেলা আমাদের অনেক উপকার করে। কীভাবে তা করে, কিছু উদাহরণ দিয়ে বলি, তাহলে আমার বলতে সুবিধা হবে।

শিশু যখন খেলা করতে আসে, তখন সে নানারকম খেলার আইডিয়া নিয়ে আসে। এই যেমন ধরুন, কোনো শিশু একটা খেলনা স্টেথো নিয়ে আপনার কাছে এলো। এখন সে ডাক্তার ডাক্তার খেলতে চায়। খেলার অংশ হিসাবে সে, নিজের দেখা কোনো একজন ডাক্তারকে অনুকরণ করে। আপনার বুকে বা পিঠে স্টেথো লাগিয়ে পরীক্ষা করে। প্রেসক্রিপশন দেয়, ওষুধ দেয়, এমনকী ওষুদ খাওয়ার নিয়মও বলে দেয়। এসবই একটি দক্ষতার পরিচয়। খেলার ছলে এই অভিনয় থেকে সে বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে নিজের মনে গেঁথে  রাখে। কোনো একটা কাজের দক্ষতা  ব্লু প্রিন্ট হয়ে তার মনে গেঁথে যায়। ফলে, তাকে খেলা শেষ করতে দিন। না হলে বড় হয়ে কোনো কঠিন কাজ শেষ করার ধৈর‌্য তার না ও থাকতে পারে।

এখানে নিজের জীবন থেকে দুই লাইন না লিখে পারছি না। কোনো এক ছুটির দুপুরে আমার মেয়ের সঙ্গে ডাক্তার ডাক্তার খেলতে গিয়ে মনে হলো আমিও একটু ক্রিয়েটিভ হই। দেখি, কী দাঁড়ায়। যেই ভাবা সেই কাজ। আমার মেয়ে ডাক্তার সাজলো। সব পরীক্ষার পর বললো সব ওকে। তোমার সমস্যা কী ? আমি বললাম, আমার হাতের লেখা আঁকাবাকা হয়ে যায়। লেখা ভালো না। ডাক্তার ম্যাডাম আমি কী করব ?

এবার মেয়ে খানিকক্ষণ ভাবল। তারপর একটা কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে নিয়ে এলো।

আমি সেই কাগজ খুলে দেখি, তাতে লেখা আছে , ‘প্রতিদিন লিখবেন’। আমি সেই কাগজ আমার ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছি। সেটা প্রতিদিন দেখি আর মানুষের বড় হওয়ার প্রক্রিয়া অবাক বিস্ময়ে বোঝার চেষ্টা করি।

এভাবে শিশু প্রতিদিন অনেক কিছু হবে। কোনোদিন চালক, কোনোদিন পাইলট, কোনো দিন হকার কোনো দিন দোকানদার। তাকে সঙ্গ দিলে , বাস্তব জীবনটা সহজ করার প্রস্তুতি এই খেলা থেকেই চলে আসতে পারে। ফলে, খেলার জন্য তাকে সময় দিতে হবে। বিশেষ করে খেলা নিজে থেকে শেষ না করা পর্যন্ত বল প্রয়োগ করে শিশুর খেলা শেষ করা যাবে না।

আমরা অনেকে মনে করি, খেলা না করে শিশুর পড়া উচিত। মনে রাখতে হবে, শিশুকে আমরা পড়তে পাঠাই তার ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য। পড়া অবশ্যই তাকে অনেক বিষয়ে দক্ষ করে তোলে। তবে, খেলাও তার জীবনে কম দক্ষতা যোগ করে না।  আজ এই পর্যন্তই। এবার নিজের শিশুকে ডাকুন আর বলুন, চলো এখন খেলা হবে।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

আরও পড়ুন: 


আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপরে পদ্মার পানি


news24bd.tv তৌহিদ

;