প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে নারী পাচার

দেশজুড়ে বিস্তৃত পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক

অনলাইন ডেস্ক

প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে নারী পাচার

দেশজুড়ে রয়েছে নারী পাচারকারীদের ভয়াবহ নেটওয়ার্ক। তারা টিকটক, লাইকি, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, ডিসকড, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির অ্যাপস ব্যবহার করে পাচারের জন্য নারীদের সংগ্রহ করছে। নিজস্ব দালাল নিয়োগ করেও নানা কৌশলে নারীদের পাচার করে দিচ্ছে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতার, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এরকম ৩০টি বা তারও বেশি চক্র সারা দেশে বিস্তৃত রয়েছে। আবার আদম পাচারকারী দালালদের কিছু চক্র নারীদের গৃহপরিচারিকার চাকরির লোভ দেখিয়ে পাচার করছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে কত নারী পাচার হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশ বা কোনো বেসরকারি সংস্থার কাছে নেই। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১০ বছরে বাংলাদেশ  থেকে ২ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশু পাচার হয়েছে। বছরে দেশ থেকে ২০ হাজার নারী, কিশোরী ও শিশু ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। অপর এক হিসাব অনুযায়ী কয়েক বছরে ভারতে অথবা ভারত হয়ে অন্যান্য দেশে ৫০ হাজার নারী পাচার হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বছরে ৫০০ নারী ও আট বছরে ১ হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ২০২০ সালে দেশে মানব পাচারের যে ৩১২টি মামলার বিচার হয়, সেগুলোর ২৫৬টি ছিল নারী পাচার ও যৌন সহিংসতা-সংক্রান্ত। এ ছাড়া গত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার নারী সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গেছে। যাদের বড় একটি অংশ যৌন নিপীড়নসহ নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যমতে, নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের ভয়াহব নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে বিস্তৃত। তারা কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে পাচারের জন্য নারী সংগ্রহ করে। সম্প্রতি তাদের কর্মকান্ডে নতুন সংযোজন হিসেবে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সারা দেশে ২৫ থেকে ৩০টি বা তারও বেশি আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট বা চক্র নারী পাচারে জড়িত। এসব চক্রে পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি নারী সদস্যও রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ৭-৮টি চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছি। এ চক্রগুলো পৃথক পৃথক কৌশলে দেশের বাইরে নারীদের পাচার করে। এক চক্রের সঙ্গে আরেক চক্রের যোগাযোগ কিছু ক্ষেত্রে থাকে আবার অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া একটি কন্টিনিউ প্রসেস।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকটক হৃদয় ও তার বাহিনী কর্তৃক ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে ভয়াবহ নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমরা এ চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। এমনকি চক্রের নারী সদস্যদেরও গ্রেফতার করেছি। সম্প্রতি নারী পাচারে নতুন একটি ডাইমেনশন এসেছে। সেটি হচ্ছে - পাচার চক্রের সদস্যরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক, লাইকিসহ বিভিন্ন অ্যাপসে আলাদা আলাদা গ্রুপ গঠন করে। সেখানে তারা টিকটক শো করা, লাইকি শো করা, পুল পার্টি করা নামে এবং কিশোর-তরুণীদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেওয়াসহ নানাভাবে প্রলুব্ধ করে বিদেশে নিয়ে যায়। বিদেশে নিয়ে নারীদের মাদকে আসক্ত করার পর বিভিন্ন নির্যাতন করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। পরে বিভিন্ন যৌন পল্লীতে বিক্রি করে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় দালাল চক্রের মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন ধরনের টোপ দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে দেয়।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘টিকটক লাইকিসহ কিছু ক্ষতিকর অ্যাপস আমরা বন্ধের বিষয়ে বলেছি। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালত কিছু গেমস নিষিদ্ধ করেছে। আমরা একা চেষ্টা করলে হবে না। এ জন্য অভিভাবকদেরও সচেতনতা দরকার ও সমাজে প্রতিনিধি যারা আছেন যাদের কথা মানুষ শোনেন তাদেরও সোচ্চার হতে হবে। এতে এ জাতীয় অনৈতিক অপরাধ সমাজে অনেক কমে যাবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘টিকটক, লাইকি ও ফেসবুকসহ তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভয়ানকভাবে নারী পাচার কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি বুঝতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম, এই অ্যাপসগুলো শুধু আনন্দ বিনোদনের জন্য এবং সেগুলো দুনিয়াব্যাপী চলছে। কিন্তু পরে দেখলাম, তরুণদের একটা গ্রুপ এসব অ্যাপসের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

সম্প্রতি রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ভারতে পাচারের শিকার হন তোহা আক্তার বীথি নামে ১৫ বছরের এক তরুণী। বেগুনবাড়ীর বাসিন্দা ওই তরুণীর বাবা মো. মনা মেয়েকে ফেরত পাওয়ার আশায় হাতিরঝিল থানায় গত ৮ জুলাই মামলা করেন।

বীথির মা বলেন, ‘আমার মেয়ে মাঝেমধ্যে হাতিরঝিল এলাকায় হাঁটতে যেত। সেখানে ইসরাত নামে এক মেয়ে আসত। তারা কয়েকজন মিলে টিকটক ভিডিও বানাত। আমার মেয়েকেও টিকটক বানাতে বলত। ইসরাত নিজের বাড়ি জিঞ্জিরায় বলে পরিচয় দেয়। ইসরাত আমার মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে বিউটি পার্লারে কাজ দেওয়ার কথা বলে ভারতে পাচার করে টিকটক হৃদয় বাবু ও তার দলের হাতে তুলে দেয়।’

কিছু দিন আগে গৃহপরিচারিকা হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া এক নারীর প্রতি ভয়ানক নিপীড়নের ভিডিও প্রকাশ হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে দেশে আনা হয়। নিপীড়নের শিকার ওই নারীর নাম সুমী আক্তার। তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাসিন্দা। এক দালাল তাকে সৌদি আরবের রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দিয়ে নিয়ে যায়। ওই বাসায় চার মাস কাজ করার পর সৌদি পরিবারটি তার কপিলের মাধ্যমে ১২ হাজার রিয়ালে ওমানের সীমান্তবর্তী নাজরান শহরের বাসিন্দা আরেকটি পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সুমীকে ভয়ানক নিপীড়ন করত। সুমীর আফলোড করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে আনা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিয়ত বড় একটি সংখ্যায় নারী ও শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন মাসে চাঁদপুর জেলা থেকে ৪১৩ জন নারী নিখোঁজ হয়। জেলার আট থানায় ছয় মাসের জিডি ও মামলা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ৩৯৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এদের কেউ কেউ পাচারের শিকার হয়েছেন।

জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ পরিদর্শক বলেন, ‘এসব নারী ও কিশোরীর বেশির ভাগই ঘর ছেড়েছেন ফেসবুকসহ তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে। একই সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার পাঁচটি থানায় ২১ নারী-শিশু অপহরণের মামলা হয়। যার মধ্যে পাঁচটি মামলার ভিকটিম উদ্ধার করা যায়নি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গাইবান্ধায় অপহরণ ও নিখোঁজের মামলা হয়েছে ৮২টি। গাজীপুর জেলার পাঁচ থানায় ২৪৮ নারী ও শিশু নিখোঁজের মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মানব পাচারের মামলা হয়েছে দুটি। মেহেরপুরের তিন থানায় ও নারী-শিশু অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে ৪২টি। একই সময় ময়মনসিংহ জেলায় ৪৭৪ নারী ও শিশু নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে জিডি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে প্রেম পরে তরুণীকে বিয়ে ও মোটা অংকের বিনিময়ে স্ত্রী এবং শ্যালিকাকে ভারতে পাচারের তথ্য উদঘাটন করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন


৯ বছর করে ৪০ ভাগ ভারতীয় নাগরিকের আয়ু কমছে

ধামরাইয়ে গাড়ি চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ ভাই নিহত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার ঘোষণা তামিমের (ভিডিও)

পরীমণির ক্ষেত্রে রিমান্ডের অপব্যবহার হয়েছে: হাইকোর্ট


এ অভিযোগে ইউসুফ মিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত বলেন, ‘মানব পাচারকারীদের এ চক্রটি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন থেকে ভারতে নারী পাচার করে আসছে।’

জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, চলতি বছরে নারী-শিশু নিখোঁজ অপহরণ মামলার সংখ্যা ৯২টি। সাধারণ ডায়েরি হয়েছে ৪৭৪টি। নিখোঁজের মধ্যে ফিরে এসেছেন ৪৩৩ জন। এখন পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি ৪১ জনের। জেলার ১৩ থানার মধ্যে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে সাতটি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে নেত্রকোনায় অপহরণ মামলা হয়েছে ৬৪টি এবং নিখোঁজের ডিজি হয়েছে ৭৪টি। জেলা পুলিশের ভাষ্যমতে, অধিকাংশ ঘটনাই মোবাইল ফোনে বা ফেসবুকে প্রেম করে পালানো সংক্রান্ত।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যহার করে নারী পাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, ‘টিকটক, লাইকিসহ তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে নারী পাচার একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির নির্ভরতা যত বাড়বে; এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি তত বাড়বে। এর বড় কারণ হচ্ছে কিশোরী বা তরুণীদের এসব অ্যাপস থেকে অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখানো হয়। তারা বিভিন্ন গ্রুপে অ্যাড হয়ে আড্ডা দিতে গিয়ে বা অন্যদের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে ভিকটিমে পরিণত হয়। এ ধরনের অপরাধ রোধে এই অ্যাপসগুলো সুপারভিশন করা জরুরি। তাছাড়া কারা কী ধরনের কন্টেন্ট অ্যাপসে আপলোড করছি সেটিও দেখা দরকার। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচিত সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো। যাতে কোনো নারী সহজেই সীমান্ত পার হয়ে অন্য দেশে যেতে না পারে।’

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

মোংলা বন্দরের দুই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেল বসুন্ধরা

অনলাইন ডেস্ক

মোংলা বন্দরের দুই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেল বসুন্ধরা

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসার কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন বসুন্ধরা গ্রুপের হিসাব বিভাগের প্রধান মো. রবিউল ইসলাম।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ দুই সম্মাননা পেল বসুন্ধরা গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা শিপিং লি. ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড।

বন্দরের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিগত বছরে সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।

মোংলা বন্দরের সম্মাননা পেল বসুন্ধরা

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড ‘সর্বোচ্চ সাধারণ পণ্য আমদানিকারক’ ক্যাটাগরিতে এবং বসুন্ধরা শিপিং লিমিটেড ‘সর্বোচ্চ বন্দর মাশুল প্রদানকারী শিপিং এজেন্ট’ ও সর্বোচ্চ সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ অনায়নকারী শিপিং এজেন্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হয়।

আরও পড়ুন: 


পায়ের রগকাটা মরদেহ পড়ে আছে নদীর পাড়ে


মোংলা বন্দরের সম্মাননা পেল বসুন্ধরা

বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে হিসাব বিভাগের প্রধান মো. রবিউল ইসলাম সম্মাননা ক্রেস্টগুলো গ্রহণ করেন।

ক্রেস্টগুলো হাতে তুলে দেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।

news24bd.tv /তৌহিদ

পরবর্তী খবর

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্ক

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রতীকী ছবি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৮৩ জনে। 

এ সময় নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে আরও ২৮২ জনের শরীরে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬৬ জনে।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন


বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ শতাধিক

টেস্ট ছাড়া কেউ দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৮ হাজার ৮৫১টি। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৮৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৮  জন।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী। এ সময়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু হয়নি।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: মেয়র আতিকুল

অনলাইন ডেস্ক

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: মেয়র আতিকুল

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

আতিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য ডিএনসিসি ৩০ একর জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্পটিতে প্রতিদিন সর্বমোট ৩ হাজার মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটিতে কাঁচামাল হিসেবে নগরীর কঠিন বর্জ্য‌ ব্যবহার করার ফলে এটি নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সুস্থ পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ডিএনসিসি মেয়রের উপস্থিতিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চীনের চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের এসংক্রান্ত দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন


লক্ষ্মীপুরে ধান ক্ষেতে নিয়ে গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ১১ দফা

অনলাইন ডেস্ক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ১১ দফা

সড়কে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কয়েকশ' শিক্ষার্থী রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা ১১টি দাবি জানিয়েছে।

তাদের দাবিগুলো হলো:

১. সড়কে নির্মম কাঠামোগত হত্যার শিকার নাঈম ও মাঈনুদ্দিনের হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

২. সারাদেশের সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ ভাড়ার জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের জন্য অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুয়ায়ী সমানভাবে বণ্টনের নিয়ম চালু করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তি ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে ২ জন চালক ও ২ জন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।


আরও পড়ুন:

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি, কাটাখালীর মেয়র আটক

শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস

আজ থেকে ঢাকার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক কার্যকর


৯. যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১১. মাদকাসক্তি নিরসনে গোটা সমাজে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্টের ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপদ সড়কের জন্য তাদের দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ১১ দফা

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

গুলি ছাড়াই প্রতিবেশীর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

গুলি ছাড়াই প্রতিবেশীর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সচিবালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিতে বিশ্বাসী। সে কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছি। কোনো গুলি ছাড়াই আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি বলে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এটি আগামী ৪-৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্রতে নিয়োজিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেবেন। এতে বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এদের মধ্যে ৬০ জন প্রতিনিধি সশরীরে আসবেন। আর ৪০ জন প্রতিনিধি ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন।

করোনার নতুন ধরন প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, সাউথ আফ্রিকা থেকে আসা বন্ধ করে দিয়েছি। আগে যারা আসছে তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা আমাদের আফ্রিকা দূতাবাসে বার্তা পাঠিয়েছি, বলেছি সেখানে যারা আছেন এখন যেন তাদের দেশে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

এবিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ আগামী ৪ ডিসেম্বর বিকেলে ভার্চ্যুয়ালি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। আর ৫ ডিসেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক অংশ নেবেন। সম্মেলনে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা, ব্রিটেনের সাবেক ফার্স্ট লেডি শেরি ব্লেয়ার অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন


করোনা বাড়লে আবারও বন্ধ হবে স্কুল: প্রধানমন্ত্রী

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর