আফগান সহিংসতায় আমেরিকা ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে : স্যামুয়েল বাইড

স্যামুয়েল বাইড

আফগান সহিংসতায় আমেরিকা ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে : স্যামুয়েল বাইড

২০ বছরের সংগ্রাম এবং সন্ত্রাস্বদের পর তালেবান ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিজয়ীরুপে প্রবেশ করেছিল, যখন ভারত তার স্বাধীনতার ৭৫ তম বছর উদযাপন করছিল।

আফগানিস্তানের বর্তমান ঘটনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বা তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে দায়ী করা ন্যায্য নয়। তারা তাদের গলায় মৃত আলবাট্রসের মতো আফগান সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল।

এমন নয় যে তারা আফগানিস্তানে বিশৃঙ্খলার পূর্বাভাস দেয়নি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে যদি তারা মৃত অ্যালবাট্রস থেকে এটি পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা চিরকাল আমেরিকার গলায় ঝুলতে পারেনি।

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার অনিবার্যতা ২০০১ সালের অক্টোবরে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর আমেরিকার গৃহীত নীতিমালার অন্তর্নিহিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন জোটের অংশীদারদের সাথে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। অংশীদারদের মধ্যে পাকিস্তানও ছিল, যা আমেরিকানরা খুব ভালোভাবেই জানত, তালেবানদের সঙ্গে তাদের গভীর প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক।

আমেরিকা আফগানিস্তানে বোমা হামলা শুরু করার আগে, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ওসামা বিন লাদেন এবং আল কায়েদা নেতাদের দলকে আফগানিস্তান থেকে বের করে দেওয়ার জন্য যাতে নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে তাদের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আমেরিকার ক্রোধ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ৯/১১ তে মোল্লা ওমর গুজবে রাজি হননি যে ওসামা মোল্লা ওমরের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর জেনারেল মোশাররফ কাবুলে তালেবান সরকারকে ছাড় দেওয়ার জন্য আমেরিকার কাছে আবেদন করেন। আমেরিকা তাকে বাধ্য করেনি। তিনি তালেবানদের কথা বলেছিলেন যেন তারা পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মতো সম্পদ।

আমেরিকা যখন অক্টোবরে সকালে ভোরে বোমা হামলা শুরু করে, তখন তালেবান এবং আল কায়েদার সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যায় যেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনীকে পাকিস্তান প্রবেশ করতে বা বোমা ফেলার অনুমতি দেয়নি।

মি, খাইল গর্বাচেভ, যিনি ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে পরাজিত সোভিয়েত সৈন্যদের বেরিয়ে আসার পর ১৯৯১সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ), তিনি রাশিয়ান আরআইএ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে তিনি প্রথম সন্দেহ করেছিলেন আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো অভিযান সফল হলে। তার মতে তাদের সাফল্যের কোন সুযোগ ছিল না। রাশিয়ার সরকার এই অভিযানের প্রশংসা করলেও তিনি এ কথা বলেন।

গর্বাচেভের সন্দেহের ভিত্তি কী ছিল তা জানা যায় না, তবে ২০ বছর পিছনে তাকালে মনে হয় আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো ব্যর্থতার পূর্বাভাসের জন্য অবশ্যই খুব শক্ত কারণ থাকতে হবে। পাকিস্তান-তালেবান-আল-কায়েদার শক্তিশালী সম্পর্ককে তিনি ভালোভাবেই জানতেন। অতএব, এটা বিশ্বাস করা বোকামী ছিল যে পাকিস্তানকে এই নেক্সাস থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এবং বাকি দুটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে।

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সহায়ক হিসেবে বিবেচনা না করে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জোটের অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করার মার্কিন সিদ্ধান্তটি ছিল খুবই স্পষ্টভাবে মশোচিস্টিক। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানে সন্ত্রাসের উৎস ছিল পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকা যেখানে তালেবান এবং আল কায়েদা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে গিয়েছিল। মিত্র বাহিনী পাকিস্তানের অবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই নিরাপদ আশ্রয়স্থলে হামলা না করতে সম্মত হয়েছে যদিও বেসামরিক জনগোষ্ঠী, নির্বাচিত সরকার এবং ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় সমস্ত সন্ত্রাস সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বন্ধ করলে আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ হবে।

আফগান গোয়েন্দা সংস্থা প্রায়ই আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ করে, পাকিস্তান এই ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে মাথা ঘামায় না এবং উপজাতীয় এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আরো কিছু করার জন্য আমেরিকার আবেদনের প্রতি গুরুত্ব দেয়নি।

ভয়, যে মার্কিন অগ্নিশক্তির হিংস্রতা পাকিস্তানীদের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তালেবান এবং আল কায়েদা তাদের সময় কাটানোর জন্য তাদের মিথ্যা বলেছে। সেই সময় বেশি দূরে ছিল না। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান তাদের জন্য খুব একটা সমস্যা নয়। এটি নিশ্চিত করা হয়েছিল যখন ২০০৩ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ আফগানিস্তান ত্যাগ করেছিলেন ইরাক আক্রমণ করার জন্য যেখানে ১৯৯০-৯১ সালে তার পিতা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (সিনিয়র) প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ হন।

জুনিয়র বুশ, সম্ভবত কাউ বয় স্পিরিটের দ্বারা পরাজিত, আফগানরা চেয়েছিল, যারা মনে করেছিল যে অক্টোবর ২০০১ সালে তাদের মুক্ত করে বিপ্লব ঘটেছিল, যখন আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল, তখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই হতাশ হয়ে বলেছিলেন, "আমেরিকানরা আমাদের হতাশায় রেখে গেছে।

বিবিসি (উর্দু) সংবাদদাতা রহিমনুল্লাহ ইউসুফজাই, তালেবান বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ইরাকের প্রতি আমেরিকান বিচ্যুতি তালেবানদের আফগানিস্তানে নিজেদের চিনার সুযোগ দিয়েছে। যা তারা করেছে এবং কখনোই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তারা পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো তালেবান সন্ত্রাসীদের সাথে বসবাস করেছিল। যখন প্রেসিডেন্ট ব্যারাক ওবামা ইউএস-ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তখন এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলোকে আরও উৎসাহিত করা হয়। ট্রাম্প দোহায় তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করে তাদের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্মান প্রদান করেছেন। ফেব্রুয়ারী চুক্তির ফলে যে শান্তি আলোচনা হয়েছে তা একতরফা মনে হয়েছে: তালেবান আফগানিস্তানের সংবিধানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে অস্বীকার করেছে। আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয়ের চূড়ান্ত সংকেত হিসেবে তালেবানরা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আগস্টের শেষের দিকে আমেরিকান বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একে আফগানিস্তানের মুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন,  ২০ বছর ধরে তার দেশ আমেরিকার কাছ থেকে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং আফগানিস্তানের "মুক্তি" রোধ করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়েছিল।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত
 

পরবর্তী খবর

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

মারুফ কামাল খান

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল

ভাতের খোঁটা: আমাদের কালচারে খাওয়ার খোঁটা দেওয়াটা খুব অশোভন। বরং যারা একটু বেশি খেতে পারে ও ভোজনরসিক তাদেরকে এদেশে 'খানেওয়ালা' বলে কৃতিত্ব দেয়া হয়। আগে খাওয়ার বড় বড় মজলিসে এই খানেওয়ালাদের প্রতিযোগিতাও একটা আমোদের ব্যাপার ছিল।

যা হোক, ওগুলো হারানো দিনের পুরনো কথা। এখন এই হা-ভাতের কালে খাদ্যের দাম বাড়লেই সরকারি লোকেরা আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন। কেউ প্রেসক্রিপশান দেন ভুট্টা খান। কারো ফতোয়া আলু খান। কেউ বলে খাদ্যাভ্যাস পাল্টান, ভাতের ওপর চাপ কমান। এবারে খোঁটা শুনছি, আমরা খুব বেশি খাদক। রাক্ষসের মতন গোগ্রাসে ভাত খাই। আমাদের ভাত খাবার পরিমাণ নাকি অন্য দেশের লোকের তুলনায় ডাবল। তাই সমাধান, হচ্ছে ভাত খাবার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। অন্য আরো যে সব দেশে ভাত মূল খাদ্য, তারা ভাতের পাশাপাশি রুটি, ডাল, ছাতু, চিপস, সব্জি,  মাছ, গোস্ত, ডিম, দুধ, পনির, মাখন, ঘোল, ঘি ও আরো অনেক খাদ্য ও পানীয় গ্রহন করে। সে সাধ্য আমাদের দেশে খুব কম লোকেরই আছে। কাজেই শাক-পাতা, নুন-মরিচ, আলু, শুটকি, গুঁড়ামাছ ও পানি ছাড়া আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকের ভাতের সাথে আর তেমন কিছু জোটে না। আমি নিজে গাঁয়ের চাষীদের শুধু নুন-মরিচ দিয়ে পান্তা বা পানিভাত এবং শীতকালে কড়কড়া বা বাসিভাত শুকনা মরিচ ও শুটকি মাছ পোড়া দিয়ে খেতে দেখেছি। তাই গড়পড়তা অন্য দেশের তুলনায় এ দেশের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশিই।

কিন্তু তাই বলে কত বেশি? দ্বিগুণ নিশ্চয়ই নয়। এটা একেবারেই ভুয়া তথ্য। ভাত প্রধান খাদ্য মূলতঃ এশীয় দেশগুলোতে। ফাও, ইরি, রাইসপিডিয়ার তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের লোক গড়ে বছরে মাথাপিছু ভাত খায় ১৭০ কেজি চালের। তাতে রোজ একজন ৪ থেকে সাড়ে চারশ' গ্রাম ভাত খায়। শহরের লোকের তুলনায় গ্রামের লোক এবং ধনীর চেয়ে গরীবের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশি। বার্মা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ আমাদের কাছাকাছি। তারাও গড়ে তিন থেকে চারশ' গ্রাম চালের ভাত খায় রোজ।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার জেরে অবরুদ্ধ রাখা শিক্ষকদের মুক্তি মিললো

এক সময় ওসব দেশের লোকেরা আমাদের চেয়ে বেশি ভাত খেতো। এখন ক্রমে কমে আসছ। ভাতের সাথে অন্যান্য বিকল্প খাদ্য গ্রহনের সুযোগ তাদের বাড়ছে বলে ভাত খাবার পরিমাণ কমছে। আমাদের দেশে  অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের দাম কমুক, সহজলভ্য হোক - কাউকে বলতে হবে না। ফতোয়া, উপদেশ, প্রেসক্রিপশন, পরামর্শ, খোঁটা, ভাষণ, শাহী ফরমান কোনো কিছুর প্রয়োজন হবেনা। এমনিতেই লোকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেবে নিজে থেকেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

আমি সম্প্রতি আমার পারিবারিক একজন শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকা এবং ব্রিটেন মিলে প্রায় ৫ সপ্তাহ থেকে দেশে ফিরেছি। এই সময় আমি কতগুলো জিনিস বিদেশে থাকার সময় লক্ষ্য করেছি। সেই বিষয়গুলি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ করে সৈয়দ বোরহান কবীর অনেক লেখা লিখেছেন। কিন্তু আমি নিজে আমার নিজস্ব অনুভূতিতে প্রথম আমি আমেরিকার কথায় আসি, যদি আমেরিকায় না যেতাম তাহলে অতটা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম না। সবাই জানে, বিশেষ করে যারা বাংলা ইনসাইডারের নিয়মিত পাঠক তারা ভালোভাবেই জানেন যে, আমেরিকাতে, কানাডাতে এবং ইউরোপে -এই তিনটি জায়গায়ই এবং ইউকেতে লন্ডনে বসে তারা এখন সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঠিক বললেও এটা ভাসা ভাসা বলা হয়। আসলে তাদের টার্গেট হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। যার জন্য আজকে গোয়েবলসীয় যদি আজকে হিটলারের সেই মন্ত্রী বেঁচে থাকতো আজকে সে লজ্জা পেত। কেননা তার গোয়েবলসীয় সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে এমনভাবে প্রচার করত যে লোকে ওই মিথ্যাটাকে বিশ্বাস করত। কিন্তু এরা সোজাসুজি মিথ্যাটাকেই খুব সুন্দরভাবে পরিবেশনা করে এবং ক্রমাগতভাবে জনগণকে বারবার জানাচ্ছে। যাদেরকে দিয়েই করানো হচ্ছে, এদের দেখলাম যে কাজের দিক থেকে মোটামুটি ভালো ভাবে। কেননা তাদের যে টিম, তারা ভালো একটা টিম করে নিয়েছে এবং এই টিমে যারা স্ক্রিপ্ট লিখে দেওয়া, এরা যাতে ঠিকমত টাকাপয়সা পায় সেটার ব্যবস্থা করা এবং তারা ঠিকমতো পরিবেশন করলো কিনা।

প্রত্যেকটা জিনিস বোঝা যায় যে এটা একটা নির্দিষ্ট ছক এঁকে করা হচ্ছে, একটা রোডম্যাপ একে করা হচ্ছে এবং এই রোডম্যাপের টার্গেট জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং টার্গেট হচ্ছে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত। তাদের এই কাজটি তারা তাদের দৃষ্টি থেকে আমি দেখলাম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করছে। আর আমাদের অনেকেই আমেরিকায় আছে। আর তাদের দুর্দিনের সময় নেত্রীর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্যে অনেক অবদান আছে এবং এটা ঠিক। এরমধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকেও এরা ভালো অবস্থানে আছে। অনেকে এসে যে বাংলাদেশে পাওয়ার প্লান্ট এনেছে আমি সেগুলার উদাহরণ আনতে চাই না। কারণ এমনিতেও তাদের অনেক টাকা। কিন্তু দুঃখজনক হলো যেভাবে নেত্রীকে আক্রমণ করা হচ্ছে, আমাদের এত লোক থাকা সত্ত্বেও তারা বড় বড় কথা বলে কিন্তু আমেরিকাতে সেইভাবে একটা অর্গানাইজড ওয়েতে এর উত্তর দেয়ার জন্য সামান্য কোন প্রচেষ্টা আমার চোখে পড়েনি। বুঝতে হবে যে, যারা বিদেশে থাকে যতই আমরা বলিনা কেন এরা মিথ্যা হলেও তাদের কিছু কিছু লোক এই মিথ্যাকে কিন্তু বিশ্বাস করে। তাদের সংখ্যা হয়তো বেশি না, কিন্তু এই তাদের মিথ্যাকে যে বিশ্বাস করে তাদের আত্মীয়-স্বজন ঢাকা, বাংলাদেশে আছে। তারা বাংলাদেশেও আসে। সুতরাং কিছু লোক হলেও তারা কিন্তু আস্তে আস্তে অন্তত এটাকে প্রচারের ফলে একটা কনফিউশনে পড়ে যায়। অথচ এজন্য আমরা একটা ছক এঁকে এবং কিছু লোককে ভালো করে দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজনে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে সবাই মিলে এটাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওইখান থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, নাহলে আমাদের এমনিতেই আমি নিজেই বিশ্বাস করি যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেল অত্যন্ত দুর্বল। এখানে মন্ত্রী হলেও প্রচারের ব্যাপারে আমাদের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ যথেষ্ট সক্রিয় এবং তার সাথে আরও কয়েকজন আছেন। তাছাড়া মোটামুটি অনেকেই রাজনীতি বেশ ভালো বুঝেন, অনেকের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ভালো। অথচ তারা সেইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তিপূর্ণভাবে দিয়ে কোন বক্তব্য দেন না, এমনকি যারা মন্ত্রী বা দলের লোক যেরকম বাহাউদ্দিন নাছিম, নানক এরা অন্তত বাংলা ইনসাইডারে মাঝে মাঝে লেখে। এই যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সব যায়গায় মন্ত্রী এবং দলের যারা তাদের তো ভালো লিখতে পারে। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে অনেক লোককে আওয়ামী লীগে নেত্রী স্থান দিয়েছেন এবং আমি বিশ্বাস করি যে উনি দিয়েছেন যে তারা লেখাপড়া জানা এবং এরা আওয়ামী লীগের দুর্দিনেও অবদান রাখবে। কিন্তু এই সময় যারা আমাদের কমিউনিস্ট ভাইরা আওয়ামী লীগে এসে এখনো কমিউনিস্টের গন্ধ হয়তো শরীর থেকে সরাতে পারেননি তাদের আমি সেরকম কোন কাজকর্ম অন্তত আমার কোন চোখে পড়ছে না। যারা এরকম আর্টিকেল লেখতো তাদের ভাবখানা এই যে নেত্রীর যেন একাই দায়িত্ব, তিনিই সবকিছু করবেন। তিনি দায়িত্ব এবং সবকিছু করতেছেন কিন্তু তাকে তো সাহায্য করার জন্যে আমাদের সকলের সামান্য সামান্য হলেও অবদান রাখা প্রয়োজন। সেটা রাখা হচ্ছে না।

সুতরাং আমি প্রথম যেটা আমেরিকার ব্যাপারে বললাম এটা ব্রিটেনের ব্যাপারে, কানাডার ব্যাপারে, সবজায়গার ব্যাপারেই সত্য যে আজকাল আরেকটা কথা এর সাথে বলে ফেলি যে সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব পাওয়ারফুল। এই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যেই আওয়ামী লীগের আলাদা একটা সেল করা দরকার। এসব সেল লোককে জানিয়ে বিভিন্ন প্রকাশ করে কমিটি করে দরকার নাই। নেত্রী নিজেই কাউকে দায়িত্ব দিবেন। সেই যারা যারা এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং পারবে তাদের মোটামুটি ফুল টাইম দায়িত্ব হবে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার উপর লক্ষ রাখা। আরেকটি গ্রুপ থাকতে হবে যারা পত্রিকার উপরে। এখানে কিন্তু শুধু লক্ষ রাখলে হবে না। সাথে সাথে তার উত্তরটাও দিতে হবে। যেমন- টকশো হাজার বলি না কেন যতই বলিনা, টকশোতে বড় বড় কথা চলবেই। ইলেকশন পর্যন্ত  চলবে, পরেও চলবে। এর উত্তর হচ্ছে আমাদেরও কিছু লোক সেখানে গিয়ে যেমন অনেকে অংশগ্রহণ করে তারা বেশ ভালো বলে। আমাদের আওয়ামী লীগের যারা যারাই টকশোতে গিয়ে অংশগ্রহণ করে আমি প্রায় সবারটাই শুনি এবং আমি মনে করি তাদের ক্ষমতার মধ্যে যথেষ্ট অবদান রাখে এতে কোন সন্দেহ নাই। এখন অনেক মিডিয়াকে আমি দেখেছি যে, টেলিভিশন মিডিয়ার কথায় আসি। নেত্রী নিজের হাতে যাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন তারা আলোচনায় এমনসব ব্যক্তিদের আনেন তারা কিছু থাকবেন নিরপেক্ষভাবে যারা সুশীল সমাজ হয়ে যান, আর কিছু কায়দা করে নেত্রীর বিরুদ্ধে বলেন। এখানে যে একটা আমাদের লোকজন যারা এটা ভালো করে বলতে পারবে এবং আছে তাদেরকে কিন্তু তারা অনেক মিডিয়াতে ডাকেন না। তারা নতুন নতুন বিজ্ঞ সমাজ গড়ে তুলছেন। যেমন- প্রথম আলো এদেশে সবাইকে বিজ্ঞ বানিয়েছেন, তারাই সুশীল সমাজ হয়েছে, ঠিক একই পন্থা কিছু কিছু মিডিয়া গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আবার নতুন টেলিভিশন চ্যানেলও অনুমতি পাচ্ছে। সত্যিকারে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি খুব সাধারণ মানুষ, আমি বুঝিনা, আমার বুদ্ধিতে কুলায় না যে এসব এভাবে কেন হচ্ছে। এত বড় দল, এত বিজ্ঞ লোক অথচ একটি কাজ রোডম্যাপ অনুযায়ী কেন হবে না। না হওয়ার তো কোন কারণ নেই।

আরও পড়ুন:

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য

আগামী মাসেই ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে আসছেন ট্রাম্প

পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে গদা নিয়ে যায় ইকবাল

মানবদেহে প্রতিস্থাপিত হল শূকরের কিডনী


আর আমি যদি আমেরিকায় গিয়ে না দেখতাম এবং সাধারণ মুদি দোকান আলাপ করেছি। যদিও আমেরিকাতে আমাদের চেয়ে অবস্থা খারাপ তবুও সেখানে তারা মাস্কও কেউ পরে না, না পরেই ঘুরে বেড়ায়। যদিও আমি যে কয়দিন ছিলাম, যে কাজে গিয়েছিলাম মাস্ক পরে সে কাজে যেতে হয়েছে। সব যায়গায় আলাপ করে দেখেছি যে সাধারণ লোকজনের ভিতরে কিছু কিন্তু ইনফ্লুয়েন্স হচ্ছে। এটা যদি অস্বীকার করেন আমার মনে হয় তিনি জিনিসটাকে গভীরভাবে দেখতেছে না। সুতরাং এই যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং এর সাথে ইউটিউব সব মিলিয়ে তারা যে একটা সাইবার যুদ্ধ আমদের বিরুদ্ধে শুরু করেছে এর বিরুদ্ধে আমদের অবিলম্বে আমাদের যারা এই জিনিসটা ভালো করে বুঝেন এবং করতে পারেন তাদেরকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলে শুধুমাত্র নেত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সবাই তো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষমতা আছে। অনেকগুলো বাঁশের কঞ্চি যদি একসাথে বাঁধা যায় তাহলে একটা বাঁশের চেয়ে সেটি শক্তিশালী হয়। তো সেই শক্তি আমাদের আছে। আমি নাম বললে দুঃখ পাবেন কারণ, তারা আমার কাছে যথেষ্ট বিজ্ঞ, এখন মন্ত্রণালয় চালান, যারা অনেকদিনের মন্ত্রী। প্রত্যেক পত্রিকা খুললেই পাবেন ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগ বা নেত্রীর পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সরাসরি বলতে শুনিনি। এটা আমি প্রমাণ দিয়ে বলতে পারবো। প্রমাণ দেয়া লাগবে না, কারণ আপনারা সকলে বিজ্ঞরা, এটা সকলেই জানেন, এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। সুতরাং আমার মনে হয় যে আমাদের এই জিনিসটির প্রতি খুব লক্ষ দেওয়া প্রয়োজন। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

এ সময় এসে নারীরা নিজের আত্মবিশ্বাস, যোগ্যতা আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘর সামলে তাই বাইরে বেরোতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় আর এখন নতুন যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই যেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।

যেমন নারীর একা চলাচলে নিরাপত্তার অভাব। আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নারীরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও চাকুরীক্ষেত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার আগেই এখনো গুটিয়ে যায় অনেকেই শুধুমাত্র নিরাপত্তার কথা ভেবে। অনিরাপদ বলতে শুধুমাত্র যৌন হয়রানিকেই আমরা অভিহিত করতে পারি না, বরং যৌন হয়রানি মূলক ইঙ্গিত, ইভটিজিং, অশালীন মন্তব্য, তার উন্নতি নিয়ে কটুবাক্য এসব কিছুই নারীর জন্য অনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

এরকম নানা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজেকে কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকেন আর কেউ কেউ এসবের শিকার হয়েও চক্ষুলজ্জা, সমাজের অপ্রত্যাশিত দৃষ্টিভঙ্গি অথবা আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় চুপ করে যায়।

আর নতুন মাত্রা নিয়ে যোগ হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো নারীর পোস্ট কারও মতের সাথে ভিন্ন হলেই আপনারা নেতিবাচক এবং আপত্তিজনক কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেন। হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি। এবং তাদেরকেই যারা এগুলোর সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত।

কারণ একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগ করা হয়, কোনো নারী কি যেকোনো পুরুষের পোস্টে গালি বা অসম্মানজনক কোনো কথা বলে? সেটা যতই মতের অমিল হোক না কেন। বড়জোড় একটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলে অথবা এড়িয়ে যায়। ব্যতিক্রম থাকলে সেটা খুবই সামান্য।

অনেকে আবার ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে শুধুমাত্র এসব বলার জন্য বা লেখার জন্যই! এসব করার আগে নিজেদের সাধুবাদ নিয়ে প্রশ্ন জাগে না মনে? নিজে সাধু না হলে অন্যকে অসাধু বলা তো দূর, বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে? কিন্তু এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তো নিত্য ঘটনা হতে পারে না। নারীর নিরাপত্তায় কঠোর আইন রয়েছে।

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে আছে, "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা থাকবে।"

সংবিধানের ২৯ (৩) অনুচ্ছেদে আছে, "কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারীপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।"

আরও পড়ুন


লক্ষ্মীপুরে খোঁজ মিলছে না দুই কিশোরীর

আশুগঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় দুই চালকল শ্রমিক নিহত

তিস্তার সব গেট খুলে দেওয়ায় বড় বন্যার আশঙ্কা

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা


১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন পাস করা হয়। এ আইন পাসের পর নারী নির্যাতন কিছুটা বন্ধ হয়। পরে আইনটি বাতিলক্রমে ২০০০ সালে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন প্রণয়ন করা হয়।

অর্থাৎ সংবিধানের ও আইনের প্রতি সম্পুর্ণ বিশ্বস্ত থাকলে কোনও ক্ষেত্রে নারীর প্রতি কোনও রকম অবমাননাকর আচরণ, বৈষম্য বা বৈষম্যমূলক কোনও আচরণ করার সুযোগ নেই। এমনকি, নারী উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় কোনও উদ্যোগ নিলেও তা সংবিধান সমর্থন করে, কিন্তু এসব আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক নারী বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। 

নারী অধিকার মানবাধিকার থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। মানবাধিকারের প্রতিটি বিষয়েই নারী অধিকার ও নিরাপত্তাকে জোর দেওয়া হয়। সেই সাথে নারীদের জন্য আছে রয়েছে কিছু অধিকার যা একান্তভাবে নারীকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখায়। নারী অধিকার এমন একটি বিষয় যা সব বয়সের নারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

কিছু বিশেষায়িত অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাতে। বিশেষায়িত অধিকারগুলো আইন, কিছু আঞ্চলিক সংস্কৃতি, শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জাতি, বর্ণ ও রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এ অধিকারগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ ও রীতি দ্বারা সিদ্ধ হতে পারে।

তবে, যেভাবেই আমরা দেখে থাকি না কেন, নারীর এই অধিকারগুলো তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রস্ফুটিত করে তোলে, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আর নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে নয়। যতবার রুখবেন তার চেয়ে কয়েকগুণ অদম্য হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই সময় থাকতে চেপে যাওয়া বোধহয় ভালো। নিজে শোধরান, পারলে অন্যকেও শোধরানোর সুযোগ এবং সুপরামর্শ দিন।

এমি জান্নাত (সাংবাদিক)

লেখাটি ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার

শওগাত আলী সাগর

সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ে দেশে দেশে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো এখন বিবেচিত হচ্ছে ব্যক্তি মানুষের চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক সেলিব্রেটিরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। মিথ্যা এবং ঘৃণার শিকার হয়ে তারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। 

টুইটার এবং ইন্সট্রাগ্রামে ফ্রান্স ফুটবলের কিংবদন্তি  থিয়েরি হেনরির ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন বুলি, ঘৃণা আর ব্যক্তিকে নির্যাতনের প্লাটফরমে পরিণত হয়েছে। বৃটেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডার বেশ কয়েকজন জাতীয় পর্যায়ের তারকা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে বলেছেন, এই মাধ্যমগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা দরকার।

শুধু সেলিব্রেটিরাই নয়, ফেসবুক, ইউটিউব এখন সাংবাদিকদের চরিত্রহানি এবং অনলাইন ভায়োলেন্সের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের জন্য এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

কানাডার সাংবাদিকদের সংগঠন দ্যা কানাডীয়ান এসোসিয়েশন অব জার্নালিষ্টস (সিএজি) সাংবাদিকদের প্রতি অনলাইন ভায়োলেন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইন শৃংখলা রক্ষী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সিএজি বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন হয়রানি থেকে  সাংবাদিকদের রক্ষার দায়িত্ব কেবল সাংবাদিকদের একার না। এর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। সংগঠনটি এই ব্যাপারে করণীয় বের করতে অটোয়ার  কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্মিলিতভাবে একটি সভার ডাক দিয়েছে।সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:

মেয়াদ-বেতন দুটোই বাড়ছে টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর

চাকরির কথা বলে তরুণীকে হোটেলে নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নূর

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

হঠাৎ পায়ের রগে টান পড়লে কী করবেন?


কানাডার বড় বড় মিডিয়া হাউজগুলো সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিকদের চরিত্র হণন, ঘৃণা এবং তাদের নিয়ে মিথ্যাচারের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে

মাহবুব-উল আলম হানিফ

বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে

আমাদের এই বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক বাঙালিদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশ রচিত হয়েছে। সব ধর্মের বাণী হচ্ছে - মানুষের কল্যাণ।

কুসংস্কার লালন করে ঘরমুখী রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করে যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইসলাম অন্তরের ধর্ম। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং ইসলামের হেফাজত কর্তা। অথচ আজ ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীরা ইসলামের নাম করে যে ভাষায় কথা বলছে, এর মধ্যে কোন শান্তির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়? এদের আচরণের মধ্যে কোন সভ্যতা খুঁজে পাওয়া যায়?

বঙ্গবন্ধু কখনো কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন নি। গোটা জাতিকে একত্রিত করে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই ‘৭১ এর ৭ ই মার্চ তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন তার অন্যতম ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কিন্তু ধর্মহীনতা নয়। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। আমাদের নবী করীম (সা:) ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তো এটা বলতে পারি না, আল্লাহপাক শুধু আমাদেরই সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআণের আলোকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা এক এবং অদ্বিতীয়।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামে কোন ‌অনাচার অবিচারের জায়গা নেই। এরা রাজাকার আলবদর বাহিনী তৈরি করেছিলো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে। নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিলো। ফতোয়া দিয়েছিলো নারীরা গণিমতের মাল। এদেরকে ভোগ করা জায়েজ। এই গোষ্ঠী কখনোই স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে নি। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানতে তাদের আপত্তি কিন্তু কায়েদে আজম মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির পিতা মানতে তাদের কোন অসুবিধা হয় নি।

আমার আলেম ভাইদেরকে বলছি, আপনাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে এই দূর্বৃত্তরা। আপনারা চোখকান খোলা রাখুন। আসল আর নকলের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে কোন নৈরাজ্য, অশান্তি কায়েম করার চেষ্টা করবেন না।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেই ফয়সালা ’৭১-এ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে যখন সংবিধান রচিত হয়, সেই সংবিধানের যে চারটি মৌলিক স্তম্ভ ছিল, তার একটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যেতেন, তিনি এটির অর্থ যে ধর্মহীনতা নয়, তা বারবার উল্লেখ করতেন। তিনি বলতেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক থাকবে। তিনি একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন চিরকাল। যে আওয়ামী লীগ শুরু হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম দিয়ে, অচিরেই সে নাম থেকে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি; যাতে তার চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষ হয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এ লড়াই, এ বিপুল আত্মত্যাগ নিছকই একটা ভূখন্ড বা মানচিত্রের জন্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে আমরা নিজেদের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো পেতে চেয়েছিলাম, যা কতগুলো সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করবে। নাগরিকদের মাঝে সেগুলো নির্বিঘ্ন চর্চার পরিসর তৈরি করবে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নেই। সবাই মানুষ। ’ এই সত্যকে ধারণ করেই আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছে। পৃথিবীর বুকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহু ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, পেশা ও আদশের্র সম্ভাবনাময় এক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে একই চেতনা ধারণ করে।

সে চেতনা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা। যখন গোধূলি নামে তখন একই সঙ্গে আজানের ধ্বনি এবং শাঁখের ধ্বনি জানান দেয় যে আমরা মহান বাঙালি জাতি, আমাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই, নেই কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ। সেই জন্মলগ্ন থেকেই আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ নামে পরিচিত বিশ্বের কাছে। আজান দিলে যখন মুসলিম পুরুষরা মসজিদের দিকে যায়, তখন হিন্দু নারীরা তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালেন। ঈদের সময় যেমন হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে আনন্দ করে, তেমনি পূজা-পার্বণে সব বাঙালি মেতে উঠে মহাসুখের আনন্দভেলায়। বাঙালির পয়লা বৈশাখে নারী-পুরুষ, বিভিন্ন ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে সবাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এখানে থাকে না কোনো বৈষম্য, কোনো ভেদাভেদ। সবাই মেতে উঠে বাঙালিয়ানায়।

আরও পড়ুন


কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন জমা

নায়িকা বললেন একাকিত্বেই শান্তি!

যে কারণে নোরা ফাতেহি ও জ্যাকলিনকে ডেকে পাঠাল ইডি

নারীর শ্লীলতাহানি: কারাগারে পাঠানো হল কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জনকে


মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠী তার ইতিহাসে একটি অনন্য ও অভিনব বাস্তবতা তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য একদিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে অভিষিক্ত করে, অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর ভিতরে দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবে পাওয়া সেসব আদর্শ ও মূল্যবোধ চর্চার এক কঠোর দায় আরোপ করে এবং অবারিত সম্ভাবনার সুযোগ করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ তাই একাধারে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের সমাপ্তি এবং আরেকটি দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনা। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে আদর্শগুলো ধারণ করে আছে, তার শুরুর দিকেই আসে মুক্তি, বাঙালিত্ব, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও মানবাধিকার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। সৃষ্টিলগ্ন থেকে অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদের যে ঝান্ডা উড়িয়ে এসেছে এই দলটি, শত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পেরিয়েও সেই ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে। দলটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির দেশে পরিণত করার চেষ্টাকে কেবল রুখেই দেয়নি, অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংবিধানকেও সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এবার আসি গতকাল কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে। আমার বক্তব্য পরিষ্কার। ইসলামে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের স্থান নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। যখন আস্থার সংকট দেখা দেয়; অনিশ্চয়তা, গুজব তখন আমাদের গ্রাস করে ফেলে। সাময়িক সমাধান নয় প্রয়োজন সমস্ত আস্ফালন আর ধৃষ্টতার কড়া জবাব। আস্থা ফেরাতে হবে এবং এক্ষেত্রে সবার দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এ দেশের মাটি খুব নরম। এই ভূখন্ডের মানুষ চরম সংবেদনশীল। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে সেটার ফয়সালা ’৭১ সালেই হয়ে আছে।

লেখক: মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর