যে পরিবারে একজন ছাড়া সবাই নোবেল পেয়েছিল

শান্তা আনোয়ার

যে পরিবারে একজন ছাড়া সবাই নোবেল পেয়েছিল

পোলীয় ও ফরাসি বিজ্ঞানি মেরি ক্যুরি, পুরো নাম মেরি স্কলোদসকা ক্যুরি। তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য পুরো পৃথিবী তাঁকে মনে রাখবে সব সময়। ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তার উপর গবেষণার জন্য তার স্বামী পিয়ের ক্যুরি এবং তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুইটি শাখায় (পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন) দু'বার নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। শুধু তিনিই না, জেনে আশ্চর্য হবেন যে, তাঁর পরিবারের প্রায় প্রতিজন সদস্য নোবেল বিজয়ী ছোট মেয়ে ইভ ক্যুরি ছাড়া।

পিয়েরে ক্যুরি - তিনি ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯০৩ সালে তিনি তার স্ত্রী মারি ক্যুরির সাথে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

আইরেন জোলিও ক্যুরি - তিনি ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রের রেডিওলজিস্ট, অ্যাক্টিভিস্ট, রাজনীতিবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত দুই বিজ্ঞানী: মেরি ক্যুরি এবং পিয়েরে ক্যুরি দম্পতির বড় মেয়ে। তাঁর স্বামীও ছিলেন একজন বিশিষ্ট পারমানবিক পদার্থবিদ। পুরো নাম ফ্রেদেরিক জোলিও-ক্যুরি। ১৯২৫ সালে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটে আইরেন ক্যুরির মা, মেরি ক্যুরি'র সহকারী হিসেবে কাজ করেন। একপর্যায়ে জোলিও মেরি ক্যুরির মেয়ে আইরেন ক্যুরিকে ভালোবেসে ফেলেন। ৪ অক্টোবর, ১৯২৬ সালে প্যারিসে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়েই তাদের গোত্র নাম পরিবর্তন করে জোলিও-ক্যুরি রাখেন।

পরবর্তীতে আইরেন এবং তার স্বামী ফ্রেদেরিক জোলিও-ক্যুরি'র সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় পদার্থ আবিস্কারের ফলে রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। ক্যুরি দম্পতির এ সাফল্যের প্রেক্ষাপটে অদ্যাবধি সফলতম নোবেল বিজয়ী পরিবার হিসেবে আসীন রয়েছে।

ইভ ক্যুরি - ছিলেন ফরাসি ও আমেরিকান লেখক, সাংবাদিক এবং পিয়ানোবাদক। তিনি ছিলেন মেরি এবং পিয়েরে ক্যুরি দম্পতির ছোট মেয়ে। বড় বোন ছিলেন আইরেন এবং তাঁর বোনের স্বামী ফ্রেদরিক জোলিও-ক্যুরি। একজন সাংবাদিক হিসাবে তিনি তাঁর মায়ের জীবনী মেরি ক্যুরি এবং যুদ্ধের রিপোর্টের উপর একটি বই, ‘জার্নি উইং ওয়ারিয়র্স’ রচনা করেছিলেন।

১৯৬০ এর দশক থেকে তিনি ইউনিসেফের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভাবে উন্নয়নশীল দেশের শিশু এবং মায়েদের সহায়তা প্রদান শুরু করেন। তিনি তাঁর পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি একজন বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নেননি এবং নোবেল পুরস্কার পাননি, যদিও তার স্বামী হেনরি রিচার্ডসন লাবুইস জুনিয়র ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার সংগ্রহ করেছিলেন।

এখানে উল্লেখ্য যে হেনরি রিচার্ডসন ছিলেন একাধারে আমেরিকান কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী। তিনি ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত জাতিসংঘের ত্রাণ ও ওয়ার্কস এজেন্সি ফর ফিলিস্তিন রিফিউজিসের তৃতীয় পরিচালক তাছাড়াও কয়েক বছর তিনি জাতিসংঘ শিশু তহবিলের পরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মার্শাল প্ল্যান বাস্তবায়নের সাথে সম্পর্কিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান কর্মকর্তা হন।

মেরি ক্যুরি আজীবন তেজষ্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করে এক অজানা রোগে (সম্ভবত লিউকেমিয়া) ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই স্বল্প বয়সে এই মহীয়সী বিজ্ঞান সাধিকার জীবনপ্রদীপ চিরদিনের জন্য নির্বাপিত হয়।

মেরি স্কলোদসকা ক্যুরি রাশিয়ায় অত্যাচারী জার শাসনের নিষ্পেষণের আমলে ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে তাঁকে মানিয়া নামে ডাকা হত। তাঁর বাবা ব্লাদিস্লাভ শক্লোদোভস্কি ওয়ারশয়ে একটি নামকরা কলেজের পদার্থের অধ্যাপক ছিলেন এবং মা ছিলেন একটি নামকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর বাবা প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিজ্ঞান ও সাহিত্য বিষয়ে আসর বসাতেন। এক সময় মেরির পরিবার মারাত্মক অর্থ সংকটে পড়ায় তাঁর বড় বোনের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য ১৮৬৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি মাসিক পাঁচশ রুবল-এর বিনিময়ে এক অভিজাত রুশ আইনজীবীর বাড়িতে গভর্নেসের চাকরি নেন। তাঁদের দুবোনের মধ্যে শর্ত ছিল একজনের পড়াশোনা শেষ করে অপরজনের পড়াশোনার খরচ জোগাবে। তাই অনেক মানসিক পীড়নের মধ্যে তাঁকে তিন বছর চাকরি করতে হয় এবং এরই মধ্যে তাঁর বড় বোন ব্রোনিয়া ডাক্তারি পাস করে। পূর্ব শর্তানুযায়ী এবার মেরি তাঁর বোনের আর্থিক সহায়তায় বিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমে অস্ট্রিয়ার শাসনাধীন ‘ক্রাকো বিশ্ববিদ্যালয়ে' পড়তে যান। কিন্তু সেখানে তিনি বিজ্ঞান ক্লাসে যোগ দিতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচিব তাঁকে অসম্মতি জ্ঞাপন করে বলেন, ‘বিজ্ঞান মেয়েদের জন্য নয়। তিনি রন্ধন শিক্ষা ক্লাসে যোগ দিন।’

পরবর্তীতে ডাক্তার হওয়ার আশায় মেরি ভর্তি হয়েছিলেন প্যারিসের সর্বোর্ণে বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষকেরা তাঁর কল্পনাশক্তি, উদ্যম ও মেধা দেখে তাঁকে উৎসাহিত করতেন নতুন নতুন গবেষণায়।

এ সময় তাঁর পরিচয় ঘটে ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়ারে কুরির সঙ্গে যিনি ইতিমধ্যে চুম্বকত্ব ও পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণা করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁরাও একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। এরপর মেরি পিয়ারে ক্যুরির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করেন। ১৮৯৮ সালেই এই দম্পতি প্রথমে পিচব্লেন্ড থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ পলোনিয়াম এবং পরে রেডিয়াম আবিষ্কার করেন, যা ইউরোনিয়াম হতে দশ লক্ষগুণ বেশি শক্তিশালী। এই রেডিয়ামের ব্যবহার অপরিসীম। ক্যুরি দম্পতি প্রমাণ করলেন কোনো কোনো মৌলের পরমাণু ক্রমাগত ভেঙে গিয়ে রশ্মি বিকিরণ করে। এই বিকিরণ অন্য পদার্থ ভেদ করেও যেতে পারে। এই ধরনের পদার্থকে বলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আর এই গুণকে বলে তেজস্ক্রিয়তা। বিরল ধাতু ইউরেনিয়ামের লবণ থেকে তাঁরা রেডিয়াম, পলোনিয়াম মৌল দু'টি আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের জন্য ১৯০৩ সালে মেরি কুরি এবং পিয়ের কুরি যৌথ ভাবে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯১০ সালে মেরি কুরি রেডিয়াম ক্লোরাইডকে তড়িৎ বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ রেডিয়াম নিষ্কাষণ করেন। এই অসাধারণ উদ্ভাবনের জন্য ১৯১১ সালে মেরিকে রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র নারী যিনি দু’বার নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি ১৫টি স্বর্ণপদক, ১৯টি ডিগ্রি এবং অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

গবেষণা ছাড়াও মেরি ক্যুরি দ্বিতীয় যুদ্ধে আহত সৈনিকদের দিয়েছেন একাগ্র সেবা, ভবিষ্যত বিজ্ঞানীদের দিয়েছেন উপদেশ ও পরামর্শ। সর্বোপরি নিজের স্বাস্থ্যের দিকে না তাকিয়ে যিনি ঢেলে দিয়েছেন তাঁর সবটুকু সময়। মেরি ক্যুরি তাঁর বাকি জীবন রেডিয়াম গবেষণাগারে কাটিয়ে দিয়েছেন। রেডিয়ামের বিষ তাঁকে সমস্ত জীবন ধরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এই মহিয়ষী বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।
 
তিনিই ছিলেন প্রথম নারী যার অসামান্য মেধার কারণে ১৯৯৫ সালে প্যান্থিয়নে সমাহিত করা হয়।

এখানে উল্লেখ যে, ক্যুরি পরিবারের বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। আইরেন এবং ফ্রেদরিক জোলিও-ক্যুরির মেয়ে হ্যালেন ল্যাঞ্জভিন-জোলিও ফ্রান্সের একজন সম্মানিত পারমাণবিক পদার্থবিদ। হ্যালেনের স্বামী মাইকেল ল্যাঞ্জভিনও একজন পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী এবং তাদের ছেলে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

ছবিটি ১৯০২ অথবা ১৯০৩ সালের। মেরি ক্যুরি মেয়ে আইরেনকে সাথে নিয়ে তাঁর স্বামী পিয়েরের সঙ্গে, সেভ্রেস অফিস অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারসের বাগানে।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন: 


নতুন সেপটিক ট্যাঙ্কে গেল দুই প্রাণ

জিয়ার ময়নাতদন্ত করেন তোফায়েল, বের করেন ২২ বুলেট: জাগপা


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না

মিল্লাত হোসেন

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না

সমাজকে বেশি বদলানো বা রাতারাতি বদলে দেয়ার চেষ্টা- ঠিক না। একে গ্রহণ-বর্জনের ধারাবাহিকতার ভেতর দিয়ে organically বিকশিত বা বিলীন হয়ে যেতে দেয়াটাই ভাল। 

এদেশে ১৯৫৬ সালে জমিদারি বিলোপ করা হলেও সমাজের শরীর ও মন থেকে সামন্তবাদ ও প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্কের সুতো ছিন্ন হয়নি, গন্ধ মুছে যায়নি আজো। 

পশ্চিমা, সমাজতান্ত্রিক, উদারনৈতিক, গ্রিন, পুঁজিবাদী ইত্যাদি সমাজের মানবাধিকার, সমতা, গণইচ্ছা, নারীবাদ, সুষম বণ্টন, ভোট, স্বচ্ছতা, সুশাসন, যুদ্ধ ও শান্তির আইন, ফেয়ার ট্রায়াল, শিশু অধিকার-এসবের হাজারো হাবিজাবি তত্ত্ব এই সমাজে সরাসরি ও আকস্মিকভাবে অনুপ্রবেশ করানোটা আখেরে বরং ক্ষতিই ডেকে আনে। 

আমরা ভুলে যাই যে, কতো হাজার যুদ্ধবিগ্রহ, কতো কোটি মানুষের প্রাণ, সম্পদের কী ভীষণ অপচয়, ঔপনিবেশিক শোষণ, জাতিগত নির্মূলাভিযান আর চরম লুঠতরাজের পরই ওসব অর্জন করেছে পশ্চিমারা। 

শোষণ-লুণ্ঠনের মাধ্যমে অর্জিত উন্নতি ও প্রাযুক্তিক ঔৎকর্ষের পাটাতনে দাঁড়িয়েও সেই পশ্চিমাদের এখনও নিজেদের জনগণকে এসব সুখশান্তির নিশ্চয়তা দিতে কতো হিমশিম খেতে হয়! 

কৃত্রিমভাবে এসব কথিত "ভাল-ভাল" জিনিস সমাজে-রাষ্ট্রে ঢোকানোর ফল ব্যাকফায়ার করে।

লেখাটি মিল্লাত হোসেন-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মিল্লাত হোসেন, বিচারক

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কীভাবে বিশ্ব পেলো সৌদী আরব

শান্তা আনোয়ার

কীভাবে বিশ্ব পেলো সৌদী আরব

আজ বৃহস্পতিবার, সৌদি আরবের ৯১ তম জাতীয় দিবস।  দিনটি মূলত সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা দিবস।

১৯০২ সালের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান আল সৌদ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তার পৈত্রিক শহর রিয়াদ দখল করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালের ২১ মে এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আরবের বিভিন্ন অংশের একত্রিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আধুনিক সৌদি আরব গঠিত হয়।

সেই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সৌদি আরবের জাতীয় দিবস হিসেবে  করা হয়।
সৌদি আরবের সম্পূর্ণ  নাম হচ্ছে, আল মামলাকাতুল আরবিয়্যাতুস সৌদিয়া ( রাজকীয় সৌদি আরব ( Kingdom of Saudi Arabia (KSA)
প্রতিষ্ঠাতা :  আবদুল আযীয বিন আবদুর রহমান।

স্বীকৃতি লাভ করে, ২০শে মে ১৯২৭ ঈসায়ি। ১৯৩২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর সব গোত্র ও প্রদেশ একত্রীকরণ করা হয়। সে জন্য প্রতি বছর ২৩শে সেপ্টেম্বরই সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। এটি হিজরি সনের প্রথম দিন।
রিয়াদ ছাড়াও সৌদি আরবে ১৩টি প্রাদেশিক প্রশাসনিক রাজধানী আছে।
সৌদি আরবে একচ্ছত্র রাজতন্ত্র চলে। বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন খাদিমুল হারামাইন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আযীয আল-সৌদ ও মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মূলত ইসলামি শরিয়া ও ইসলামি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমি মক্কা ও মদিনা উভয়টি সৌদি আরবে অবস্থিত হওয়ায় ইসলামি সংস্কৃতি খুবই শক্তিশালী। ইসলামি আইন অনুযায়ী বিচারব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

পতাকার রঙ সবুজ। এতে তাওহিদের মর্মবাণী “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল) এই কালিমা আরবিতে লেখা রয়েছে। কালিমার নিচেই একটি কোষমুক্ত তরবারি আঁকা আছে, যা দ্বারা ন্যায়বিচারকে বোঝানো হয়েছে। এ কালিমা লেখা থাকায় সৌদি আরবের পতাকা কখনো অর্ধনমিত করা হয় না। এবং সবুজ রঙ ইসলামের ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গিতবহ। আড়াআড়ি দুইটি তরবারির ওপর একটি খেজুরগাছ হলো সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক। খেজুরগাছ দ্বারা বোঝানো হয়েছে সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি।
 
ভৌগোলিক সীমারেখা : উত্তরে- জর্ডান ও ইরাক, দক্ষিণে ওমান ও ইয়ামন, পূর্বে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরব সাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর। আয়তনে প্রায় ২২,৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার বা ৮,২৯,৯৯৬ বর্গমাইল।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

অনেকেই সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

অনেকেই সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন

অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন, যেগুলোর অধিকাংশেরই উত্তর দিতে পারি না। কিছুদিন ধরে মৌলিক লেখা ফেসবুকে প্রকাশ করছি না, আগেরগুলোও সরিয়ে নিয়েছি। 

শুধু মাঝে মধ্যে মেসেঞ্জারে ঢুকে চিঠিগুলো পড়ি। উত্তর দিতেই হবে, এরকম কোনো চাপ অনুভব করি না। আর ব্যক্তিগত সমস্যা বিষয়ক কোনো প্রশ্নের উত্তর এমনিতেও দিই না, কারণ এটি আমার আগ্রহ ও এক্সপার্টাইজের বাইরে। কেবল কারও ব্যক্তিগত সমস্যায়, সামাজিক ও দার্শনিক উপাদান খুঁজে পেলে উত্তর লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। 

প্রশ্নকর্তার পরিচয় গোপন রেখে সে-উত্তর মাঝেমধ্যে ফেসবুকে প্রকাশও করি। কারণ একই প্রশ্ন, সমাজের আরও অনেক মানুষের মনে থাকতে পারে। কিন্তু কেউ যখন লিখেন, "প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন না হলে আমার মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই", তখন খুব বিপদে পড়ি। একটি অপরাধবোধ মনের ভেতর উশখুশ করতে থাকে।
 
এ চিঠিটির উত্তরে স্পেসিফিক পরামর্শ দেয়া খুব কঠিন। কিন্তু এর জবাবে কিছু কথা বলতে চাই। অন্যথায় ছেলেটি সত্যি সত্যি মৃত্যুর পথ বেছে নিলে আমি খুব অপরাধবোধে ভুগবো।

আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে শিশুদের যে-প্রক্রিয়ায় লালন-পালন করা হয়, তা বেশ ট্রমাটাইজিং। দশম শ্রেণীর একটি শিশুর কাঁধেও আমরা বিশ্বজয়ের প্রত্যাশা চাপিয়ে দিই, যা আহাম্মকি ছাড়া কিছু নয়। ছেলেটি মাধ্যমিকে রেজাল্ট খারাপ করেছে, অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত জিপিএ পায় নি। এ জন্য তার জীবনে নেমে এসেছে দুর্বিষহ যন্ত্রণা। 

এ যন্ত্রণার উৎস সমাজ ও পরিবার। সমাজ এখন মানুষের সফলতা মাপছে জিপিএ ও চাকুরি-বাকুরি দ্বারা। সমাজের এ দৃষ্টিভঙ্গী, সংক্রমিত হয়েছে পরিবারে, অথবা পরিবারের এ দৃষ্টিভঙ্গী, সংক্রমিত হয়েছে সমাজে। 

পরিবারগুলো এতো বেশি বৈষয়িক হয়ে উঠেছে যে, শিশুরা অবৈষয়িক কোনো শখই পূরণ করতে পারছে না। যে-মানুষ সারাজীবন লাড্ডু ফলিয়েছে, সে-ও তার সন্তানের কাছে লাখ টাকার চাকুরি আশা করছে। যে নিজে নানা পরীক্ষায় ফেল করেছে, সে আশা করছে তার সন্তান সব পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাবে। আমার ‘জিপিএ ফাইভ ও জুতোর ফ্যাক্টোরি’ প্রবন্ধে এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম। 

ছেলেটি ইন্টার পাশ করার পর তার বাবা-মা আর তার খরচ বহন করতে চাচ্ছে না। আমি জানি না ছেলেটির বাবা-মা কেন এ কথা বলছে। তবে এর দুটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করি। এক—  তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই। দুই— তারা চাচ্ছে, ছেলেটি যেন নিজে আয় করে স্বাবলম্বী হয়। 

আমাদের দেশে একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এরকম— কিছু পড়ালেখা করে ফেললে আর সাধারণ কোনো কাজ করা যাবে না। করতে হবে বড় বড় কাজ। কাকে বলে বড় কাজ? কৃষিকাজ কি বড় কাজ নয়? দোকান খুলে পণ্য ও সেবা বিক্রি করা, এটা কি বড় কাজ নয়? ঘুড়ি উড়ানো কি ছোট কাজ? গান গাওয়া কি ছোট কাজ? বড় কাজ কি শুধু লাখ টাকা বেতনের চাকুরি করা? ছেলেটিও সম্ভবত, সমাজের ফাঁদে পা দিয়ে এসব কাজকে ছোট কাজ জ্ঞান করছে। ছেলেটির উচিত, আর্থিক সংকট কাটাতে কোনো ‘ছোট’ কাজে লেগে পড়া। ছোট কাজ করে যখন আর্থিক সচ্ছলতা আসবে, তখন বড় কাজ শুরু করা। 

রও পড়ুন:


জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আর মানসিক যন্ত্রণা একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। অধিকাংশ যন্ত্রণাই মানুষের নিজের উদ্ভাবন। নানা বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে মানুষ যন্ত্রণায় পতিত হয়। স্টয়োক ও বুদ্দিস্ট ফিলোসোফিতে এর কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। পরিবার আমাকে ত্যাগ করেছে, সমাজ আমাকে ভালো চোখে দেখছে না, এ তুচ্ছ কল্পনাগুলো বাদ দিলে যন্ত্রণা কমে যাবে। বাবা-মার আচরণের প্রতি বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়েই ছেলেটি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে বলে মনে করি।

‘মৃত্য ছাড়া উপায় নেই’ এটি একটি নিহিলিস্ট চিন্তা। যারা নিহিলিজম চর্চা করেন, তাদের কাছে এগুলো ডালভাত, কিন্তু নিহিলিস্ট মানুষদের অধিকাংশই ভণ্ড। এরা নিজেরা মরতে চায় না, শুধু অন্যদের মরে যাওয়ায় নির্বিকার থাকতে চায়। কেউ মারা গিয়েছে, এ সংবাদে নিহিলিস্টরা বলবে— তো কী হয়েছে? মরুক! আবার নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দিলে, চিকিৎসাবিদ্যার সকল সুযোগই এরা গ্রহণ করবে। 

জীবন জিনিসটাই একটা অসুখের মতো। পৃথিবীতে কোনো সুখি মানুষ নেই। কখনো ছিল, এমনটিও মনে হয় না। সুতরাং, ছেলেটি নিজেকে অসুখী ভাববে, সেটাই স্বভাবিক। যারা বলে— আমরা সুখি মানুষ, তারা মূলত নিজেদের অসুখগুলো লুকিয়ে রাখার কৌশল আয়ত্ত করেছে। 

এ জন্য মৃত্যুকে, তার আপন গতিতে আসতে দেয়াই ভালো। তাড়াহুড়ো করে মৃত্যুর কাছে পৌঁছানোর কোনো দরকার নেই। একবার মৃত্যু হয়ে গেলে, কোনোভাবেই আর পৃথিবীতে ফেরা যাবে না। আর মৃত্যুচিন্তা বেকার ও অকর্মণ্য মানুষদেরই বেশি গ্রাস করে। কারণ এরাই সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়। কোনো কাজ না পেলে, ছেলেটির উচিত অন্তত বই পড়ার কাজ বেছে নেয়া। সবাইকে ধন্যবাদ। 

(এই লেখাটি ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের। স্যোশাল মিডিয়া পাতায় প্রকাশিত লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

আজ দিন-রাত সমান

লুৎফুন্নাহার

আজ দিন-রাত সমান

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর ব্যাতিক্রম একটি দিন, আজ সর্বত্র দিন-রাত সমান। প্রতি বছর অর্থাৎ ৩৬৫ দিনের মধ্যে পৃথিবীর দিন ও রাতের ব্যাপ্তি সমান হয়ে থাকে, এর একটি দিন হলো ২১ মার্চ এবং একটি ২৩ সেপ্টেম্বর।

ল্যাটিন ভাষায় আজকের দিনকে বলে 'ইকুইনক্স' অর্থাৎ দিন-রাত সমান।

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য উত্তর আর দক্ষিণ অয়নান্তের মাঝামাঝি ঠিক বিষুব রেখা বরাবর আলো দেবে।

আরও পড়ুন: 


চাকরিচ্যুত সংবাদিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন

জাফরুল্লাহ এরশাদের দোসর: রিজভী

গুলশান লেকে নৌকাডুবি, যাত্রীরা সাঁতরে উঠে গেল পাড়ে


আগামীকাল থেকেই সূর্যের চারদিকে আপন কক্ষপথের পৃথিবীর পরিক্রমণের কারণে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যেতে শুরু করবে।

আবহাওয়াও উত্তরা বাতাসে শীত থেকে শীতার্ত হবে, ধীরে ধীরে দীর্ঘ হবে পরবর্তী রাতগুলো।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ঝুমন দাসের জামিন, কিছু কথা

হাসান মুর্সেদী

ঝুমন দাসের জামিন, কিছু কথা

১. ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট- এর সংশোধন জরুরি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ডিজিটাল ক্রাইম ছাড়া যেনো এই আইনে কেউ হয়রানী না হয়৷ জামিন পাওয়ার অধিকার সংকুচিত করা যাবে না।

২. ফেসবুকে এবং নানা জায়গায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ হয়েছে। এটা ভালো জনমত গঠনের জন্য। ঝুমন দাস বা কোনো ভিক্টিম একা নয়, সবাই পাশে আছে- এই ম্যাসেজের জন্য এসব আনুষ্ঠানিকতা দরকার আছে।

৩. তবে এসবে জামিন হয় না। জামিন হয় আইনী প্রক্রিয়ায়। ঝুমনের জামিনের এতো দেরি হবার মূল কারণ শুরুতে আইনী প্রক্রিয়ার গলদ। এজন্য একেবারে শুরুতে ভিক্টিমকে সঠিক আইনী সহায়তা/ পরামর্শ দেবার মতো এক্টিভিজম দরকার।

৪. আইনী প্রক্রিয়ার গলদের কারণে প্রথমবার উচ্চ আদালত জামিন আবেদন ফিরিয়ে দিয়ে শুরু থেকে নতুন আবেদনের নির্দেশ দেন। এই পর্যায় থেকে বিষয়টির সাথে আমি কিছুটা জড়িয়েছিলাম। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মানুষের নাম উল্লেখ করার জন্য হাত নিশপিশ করছে, এঁরা চুপচাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আইনী প্রক্রিয়াতেই এবারের জামিন নিশ্চিত করার জন্য। আমি জানি, নামোল্লেখ তাঁরা কেউ পছন্দ করবেন না। রাষ্ট্র এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাঁরা সর্ব্বোচ্চ সহানুভূতিশীল ছিলেন।

আরও পড়ুন: 


চাকরিচ্যুত সংবাদিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন

জাফরুল্লাহ এরশাদের দোসর: রিজভী

গুলশান লেকে নৌকাডুবি, যাত্রীরা সাঁতরে উঠে গেল পাড়ে


৫. জামিন মানেই মুক্তি নয়। ঝুমনের নিরাপত্তার বিষয় আছে, আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় রয়েছে। চার্জশীট হবে, সে যেনো সসম্মানে মামলা জয় করে বের হয়ে আসতে পারে সে পর্যন্ত ঝুমনের পাশে সবাইকে থাকতে হবে।

৬. ঝুমনের মুক্তিতে আর্থিক সহায়তার নামে প্রবাসী হিন্দু কমিউনিটির পাঠানো ভালো অংকের টাকা কোনো এক ‘বিশিষ্ট হিন্দু’র মেরে দেয়ার একটা গুজব আছে, এটার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার৷  একই সাথে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের যে নেতারা আক্রমণকারী স্বাধীন মেম্বার গংয়ের প্রতি সহানুভূতিশীল এদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে।

৭. এখন পর্যন্ত একটা সাম্প্রদায়িক হামলারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় অপর মামলা অর্থ্যাৎ হামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। জনমত এবং আইনী লড়াই দুটাই পাশাপাশি জারি রাখতে হবে। অন্তত একটা ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির উদাহরণ তৈরি করতে হবে৷ পরবর্তী ঘটনার রক্ষা কবচ হবে সেটি।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর