যে পাঁচটি জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়ায়ই দিয়ে থাকেন

অনলাইন ডেস্ক

যে পাঁচটি জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়ায়ই দিয়ে থাকেন

পাপ করলে তার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। সবারই জানা উচিত যে পাপের অবশ্যই একটা শাস্তি আছে। যদিও আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল। ক্ষমা করা হলো তাঁর দয়া, আর শাস্তি দেওয়া হলো তাঁর আদল বা ন্যায়বিচার। আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো পাপের শাস্তি দুনিয়ায়ও দিয়ে থাকেন। আবার কোনো কোনো পাপের শাস্তি দিতে পরকালের জন্য বিলম্ব করেন। পাঁচটি জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায়ই দিয়ে থাকেন।  

মহানবী (সা.) বলেছেন—১. কোনো জাতি অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে আল্লাহ তাআলা শত্রুদের তাদের ওপর চাপিয়ে দেন। ২. আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ছাড়া বিচার ফায়সালা করা হলে তাদের মধ্যে দারিদ্র্য বিস্তারলাভ করে। ৩. কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার বিস্তারলাভ করলে তাদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। ৪. কোনো জাতি পরিমাপে ও ওজনে কম দিলে তাদের ফসলহানি ঘটে এবং দুর্ভিক্ষ তাদের পাকড়াও করে। ৫. আর কোনো জাতি জাকাত দিতে অস্বীকার করলে, তাদের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয় (বাজজার, মুয়াত্তা)।

অঙ্গীকার পূর্ণ করা: অঙ্গীকার পূর্ণ করা মুমিনের অন্যতম গুণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ প্রসঙ্গে অনেক গুরুত্ব বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। অবশ্যই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩৪)।

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করো।’ (সুরা : মায়েদা : ১)। অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হারাম এবং মুনাফেকি। 

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি দোষ যায় মধ্যে থাকবে সে পরিপূর্ণ মুনাফিক। আর যার মধ্যে এসবের একটি দোষ থাকবে, তার মধ্যে মুনাফেকির একটি উপাদান থাকবে, যতক্ষণ সে তা বর্জন না করে, কথা বললে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে, অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে এবং ঝগড়া করলে সীমা ছাড়িয়ে ফেলে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।

কোরআন অনুযায়ী বিচার না করা : কোরআন অনুযায়ী বিচার করা আবশ্যক। কোরআনবর্জিত বিচারকার্য করা মুনাফেকি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী যারা বিচার করে না তারা কাফির।’ (সুরা : মায়েদা : ৪৪)।

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে না, তারা জালিম।’ (সুরা : মায়েদা : ৪৫)। যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা ফাসিক (সুরা : মায়েদা : ৪৭)।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে বিচারক আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।’ (হাকেম)। হজরত ফুজাইল ইবন ইয়াজ বলেন, ‘একজন বিচারপতির উচিত এক দিন বিচারকার্য পরিচালনা করা, আর এক দিন নিজের জন্য কান্নাকাটি করা।’

ব্যভিচার করা: ব্যভিচার করা মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। তা একটি অশ্লীল কাজ এবং খারাপ পন্থা।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩২)। ব্যভিচারের শাস্তিও মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘(অবিবাহিত) ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারী উভয়কে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা : আন নূর ২)

আর বিবাহিত হলে তাদের শাস্তি হলো, কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, বিচার দিবসে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হলো ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী দরিদ্র। হজরত ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। অথচ তিনি প্রত্যেক প্রাণীর স্রষ্টা। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কী? তিনি বললেন, তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে আহার করবে—এ আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা। আমি আবার আরজ করলাম, তারপর কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

পরিমাপ ও ওজনে কম দেওয়া: পরিমাপ ও ওজনে কম দেওয়া করিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়, আর যখন লোকদের মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।’ (সুরা: আত-তাফফিফ ১-৬)। আরো ইরশাদ করেন, মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। এটা উত্তম, এর পরিণাম শুভ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩৫)। অন্যত্র ইরশাদ করেন, সোজা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো। মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না’ (সুরা : শুয়ারা : ১৮২-১৮৩)। আরো ইরশাদ করেন, ন্যায়ের সঙ্গে ওজন ও মাপ পূর্ণ করো (সুরা : আনআম : ১৫২)। হজরত শুয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা মাপ ও ওজনে পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যাদি কম দিয়ো না। (সুরা : আরাফ : ৮৫)

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৪৪-৪৭, কর্ম দিয়ে মানুষকে সৎ কাজের আহ্বান

আবারো আসছে নিম্নমানের বিটুমিন, পরীক্ষা ছাড়া ছাড় নয়

স্কুল খুলে দিতে শিশুদের টিকা দেয়ার বিষয়ে শিঘ্রই সিদ্ধান্ত হবে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্কুল খোলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত (ভিডিও)


 

যাকাত না দেওয়া: জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি এবং আর্থিক ইবাদত। কোরআন মজিদে যত স্থানে নামাজ কায়েম করার কথা রয়েছে, সেখানে জাকাত দাও—এ কথাও রয়েছে। স্বীয় সম্পদকে পবিত্র করার উত্তম পন্থা হলো জাকাত প্রদান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর নামাজ কায়েম করো, জাকাত দান করো এবং নামাজে অবনত হও তাদের সঙ্গে যারা অবনত হয়।’ (সুরা : বাকারা : ৪৩)। আরো ইরশাদ করেন, আপনি তাদের সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করেন, যা দ্বারা পবিত্র এবং পরিশোধিত করবেন। (সুরা : তওবা : ১০৩)।

মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের জাকাত আদায় করো। আল্লামা শামি বলেছেন, জাকাত প্রদানের দ্বারা সম্পদে বরকত হয়। (রদ্দুল মুহতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা : ১)।

ইয়া রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা! আমাদের উক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায়

অনলাইন ডেস্ক

মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায়

ঈমানদার ব্যক্তিরা যে তিন উপায়ে প্রশান্তি অনুভব করতে পারেন জেনে নিন...    

১. উত্তমভাবে নামাজ আদায় করা :  রাসুল (সা.) বলতেন, ‘হে বিলাল, (আজানের মাধ্যমে) নামাজ কায়েম করো। আমরা নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৫-৪৯৮৬)।

২. কোরআন তিলাওয়াত করা : রাসুল (সা.) কোরআন পাঠের মাধ্যমে প্রশান্তি অনুভব করতেন। তিনি এভাবে দোয়া করতেন—‘আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা আন তাজ-আলাল কুরআ-না রাবিআ ক্বালবি, ওয়া নূরা সদরি, ওয়া জালা-আ হুযনি ওয়া যাহা-বা হাম্মি।’
অর্থ : হে আল্লাহ, তোমার কাছে চাই, যেন তুমি কোরআনকে করে দাও আমার হৃদয়ের বসন্ত (আগ্রহ-ভালোবাসা); আমার বক্ষের জন্য আলো; আমার দুশ্চিন্তার নির্বাসন এবং আমার পেরেশানি দূরকারী। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৩৭১২; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস : ১৯৯)

আরও পড়ুন


নগরে এসছে শরৎকাল

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


৩. আল্লাহর জিকির করা : আল্লাহর জিকির মুমিনের অন্তরকে প্রশান্ত করে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘...জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই শুধু হৃদয়গুলো স্থির-প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)।

মহান আল্লাহ সকলকে মনে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

পরকালে আল্লাহ যেভাবে মৃতদের জীবিত করবেন

মাইমুনা আক্তার

পরকালে আল্লাহ যেভাবে মৃতদের জীবিত করবেন

ঈমানের অন্যতম শর্ত হলো, পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ মৃত্যুর পর আমাদের আবার পুনরুত্থিত করবেন। যদি কেউ তা অস্বীকার করে, তবে তার ঈমান থাকবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি এটাকে সৃষ্টি করবেন পুনর্বার; এটা তাঁর জন্য অতি সহজ।’ (সুরা : আর রুম, আয়াত : ২৭)

মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশক্তিমান। কোনো কিছুই তাঁর সাধ্যের বাইরে নেই। প্রশ্ন হতে পারে মানুষের মৃত্যুর পর তো তাঁর শরীর পচে যায়, হাড়গোড় নষ্ট হয়ে যায়, কেউ আবার ছাই হয়ে সমুদ্রে মিশে কিংবা বাতাসে মিশে যায়, এদের মহান আল্লাহ কিভাবে পুনরুত্থিত করবেন! এ প্রশ্নের জবাবে মহান আল্লাহ বলেন, মানুষ কি মনে করে যে আমি তার হাড়গুলো একত্র করতে পারব না? হ্যাঁ, অবশ্যই আমি তা পারব; বরং আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত আবারও যথাযথভাবে ঠিক করতে সক্ষম। (সুরা : কিয়ামাহ, আয়াত : ৩-৪)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আঙুলের ছাপসহ যথাযথভাবে পুনরুত্থিত করবেন। আঙুলের ছাপ মানবদেহের এমন গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম অংশ যে এই অংশ দিয়ে মানুষের আইডেন্টিটি যাচাই করা হয়। ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট আবিষ্কার করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার আঙুলের ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে। প্রত্যেক মানুষকে শনাক্ত করার জন্য তার আঙুলের ছাপই যথেষ্ট। এ ছাড়া মানুষের আঙুলের ছাপ থেকে বিভিন্ন আণবিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার জীবনযাত্রা সম্পর্কে, তার বসবাসরত পরিবেশ সম্পর্কে, তার কাজ, খাওয়ার অভ্যাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে সেগুলোও জানতে পারা যায়।

মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর আশা পূরণের জন্যও মৃতকে জীবিত করে দেখিয়েছিলেন। যেন তার হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং পরকালের ব্যাপারে মানবজাতির বিশ্বাস দৃঢ়তর হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন ইবরাহিম বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে দেখান, কিভাবে আপনি মৃতদের জীবিত করেন। তিনি বলেন, তুমি কি বিশ্বাস করনি?’ সে বলল, ‘অবশ্যই (বিশ্বাস করি); কিন্তু আমার অন্তর যাতে প্রশান্ত হয়।’ তিনি বলেন, ‘তাহলে তুমি চারটি পাখি নাও। তারপর সেগুলোকে তোমার প্রতি পোষ মানাও। অতঃপর প্রতিটি পাহাড়ে সেগুলোর টুকরা অংশ রেখে আসো। তারপর সেগুলোকে ডাকো, সেগুলো দৌড়ে আসবে তোমার কাছে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬০)

কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, ইবরাহিম (আ.) চারটি পাখিকে এমনভাবে পোষ মানান যে সেগুলোকে ডাকলেই তাঁর কাছে চলে আসত, এবং তিনি প্রত্যেকটিকে ভালোভাবে চিনতেন। এরপর আল্লাহর আদেশে পাখিগুলোকে জবাই করে সেগুলোর হাড়-মাংস, পাখা ইত্যাদিকে কিমায় পরিণত করে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে নিজের পছন্দমতো কয়েকটি পাহাড়ে একেকটি ভাগ রেখে আসেন। তারপর তাদের যখন ডাকলেন, সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের সঙ্গে হাড়, পাখার সঙ্গে পাখা, গোশতের সঙ্গে গোশত, রক্তের সঙ্গে রক্ত মিলে পূর্বের রূপ ধারণ করে এবং তাঁর কাছে উড়ে এসে উপস্থিত হয়। (তাফসিরে কুরতুবি)

রাসুল (সা.)-এর যুগে মুনাফিকরা পুনরুত্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি দেখে না যে আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী। আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে? বলুন, তাতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ৭৭-৭৯)

আরও পড়ুন


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নগরে এসছে শরৎকাল

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


উল্লিখিত আয়াতগুলো একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। ঘটনাটি এই যে আস ইবনে ওয়ায়েল মক্কা উপত্যকা থেকে একটি পুরনো হাড় কুড়িয়ে তাকে স্বহস্তে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলল, এই যে হাড়টি চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থায় দেখছেন, আল্লাহ তাআলা একেও জীবিত করবেন কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা তোমাকে মৃত্যু দেবেন, পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং জাহান্নামে দাখিল করবেন।’ (মুস্তাদরাক : ২/৪২৯)

 

পরবর্তী খবর

সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকার দোয়া

সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে কেনা যায়। আর সেজন্য আমরা আমাদের রবের কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করবো। সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকার দোয়া রয়েছে। আসুন সেটি জেনে নেই:

আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি (আরবি :)—

اَللَّهُمَّ عَافِنِىْ فِىْ بَدَنِى - اَللَّهُمَّ عَافِنِىْ فِىْ سَمْعِىْ - اَللَّهُمَّ عَافِنىِ فِىْ بَصَرِىْ – لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণেন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস :  ৫০৯০)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কেমন হবে জান্নাতের প্রাসাদ!

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

কেমন হবে জান্নাতের প্রাসাদ!

পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর ঈমানদার বান্দাদের জান্নাত দানের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে দুঃখ-কষ্ট বলতে কিছু থাকবে না। যেখানকার নিয়ামতগুলো কল্পনার চেয়েও কোটি গুণ সুন্দর। যা হবে মুমিনের স্থায়ী সুখের ঠিকানা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহর, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতে পবিত্র বাসগৃহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)

সুবহানাল্লাহ! উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের জান্নাতে বাসগৃহ দানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই বাসগৃহগুলো কিসের তৈরি হবে, তা জানতে মুমিনের হৃদয় ব্যাকুল হওয়াই স্বাভাবিক। সেই ব্যাকুলতা থেকেই হয়তো আনাস (রা.) প্রিয় নবী (সা.)-কে জান্নাতের বাসগৃহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। প্রিয় নবী (সা.)-ও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তাঁর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যেখানে তিনি জান্নাতের প্রাসাদে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট, কঙ্কর ইত্যাদির বর্ণনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কী হলো যে আমরা আপনার কাছে থাকা অবস্থায় আমাদের অন্তর খুবই নরম হয়ে যায়, আমরা দুনিয়ার প্রতি উদাসীন হয়ে যাই এবং নিজেদের পরকালবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে থাকি। তারপর আপনার কাছ থেকে সরে গিয়ে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে পার্থিব কাজে জড়িয়ে পড়ি এবং সন্তানাদির সুগন্ধি পেতে থাকি, তখন আমাদের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা যে অবস্থায় আমার কাছ থেকে বেরিয়ে যাও, সব সময় যদি সেই অবস্থায় থাকতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বাড়িতে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত। আর তোমরা অপরাধ না করলে আল্লাহ নতুন প্রাণী সৃষ্টি করতেন, যাতে তারা অপরাধ করে আর তিনি তাদের ক্ষমা করেন।’ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কী দিয়ে প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে? তিনি বলেন, ‘পানি দিয়ে।’ আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, কী দিয়ে জান্নাত তৈরি করা হয়েছে? তিনি বলেন, ‘সোনা-রুপার ইট দিয়ে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ (চুন-সুরকি-সিমেন্ট) সুগন্ধি মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার ও মাটি হলো জাফরান। জান্নাতে প্রবেশকারী লোক অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কোনো দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সে অনন্তকাল এতে অবস্থান করবে আর মৃত্যুবরণ করবে না। না তার পরনের পোশাক পুরনো হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (অনন্তযৌবনা হবে)।’

তিনি পুনরায় বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, রোজাদারের ইফতারের সময়কালীন দোয়া এবং মজলুমের দোয়া। আল্লাহ তাআলা একে (মজলুমের দোয়া) মেঘমালার ওপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জত ও সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫২৬)। এ ছাড়া বিভিন্ন হাদিসে জান্নাতিদের মণি-মুক্তার তাঁবু দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে। 

আরও পড়ুন


সোমালিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৮

ট্রেনে ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় আটক ৫

আবদুল গাফফার চৌধুরী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

কুমিরের পেট থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধার!


মহান আল্লাহ সবাইকে জান্নাতের সুমহান মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

পরবর্তী খবর

ঈমানি মৃত্যু লাভে যে দোয়া পড়বেন!

অনলাইন ডেস্ক

ঈমানি মৃত্যু লাভে যে দোয়া পড়বেন!

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় এমন একটি দোয়া পড়তেন, যে দোয়ায় রয়েছে সব কাজের শেষে ভালো ও সুন্দর ফলাফল লাভের আবেদন।

মুমিন মুসলমানের অন্তরের চুড়ান্ত চাওয়া-পাওয়া হলো ভালো ও উত্তম মৃত্যু লাভ করা। আর প্রত্যেকের উচিত ভালো ও সুন্দর ঈমানি মৃত্যু কামনা করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালো ও সুন্দর মৃত্যুর জন্য কখনো এ দোয়া করতে ভুলতেন না। আর তাহলো-

اَللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِيْ الْأُمُورِ كُلِّهَا، وَأجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرَةِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহসিন আক্বিবাতানা ফিল উমুরি কুল্লিহা ওয়া আঝিরনা মিন খিযয়িদ দুনইয়া ওয়া আজাবিল আখিরাহ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের সব কাজের শেষ ফল সুন্দর করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখুন।’ (মুসনাদে আহমদ)

এ দোয়াটি অনেক ব্যাপক। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্দর ও উত্তম তথা ঈমানি মৃত্যু লাভের জন্য এ দেয়াটি সব সময় পড়তেন।

সুতরাং মুমিন ব্যক্তি সব সময় এ দোয়া পড়লে শুধু উত্তম ঈমানি মৃত্যুই নয়, বরং সব কাজের শেষই হবে তার জন্য উত্তম ও কল্যাণকর।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি কাজের শেষ ফল সুন্দর করতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়ার বরকতে ঈমানি মৃত্যু দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর