মক্কার কাফিরদের ঈমান না আনার সাত কারণ

অনলাইন ডেস্ক

মক্কার কাফিরদের ঈমান না আনার সাত কারণ

পবিত্র নগরী মক্কা ছিল মহানবী (সা.)-এর জন্মভূমি। মক্কাতেই তিনি তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলো কাটিয়েছেন। এমনকি নবী জীবনের ২৩ বছরের ১৩ বছরই মক্কাবাসীকে ইসলামের পথে আহ্বান করে কাটিয়েছেন। তবু মক্কাবাসীর ছিল অনেকটা নুহ (আ.)-এর জাতির মতো। যাদের ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, ‘সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক, আমি তো আমার সম্প্রদায়কে দিন-রাত আহ্বান করেছি। কিন্তু আমার আহ্বান তাদের পলায়ন-প্রবণতাই বৃদ্ধি করেছে। আমি যখনই তাদের আহ্বান করি—যাতে আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তারা কানে আঙুল দেয়, বস্ত্রাবৃত করে নিজেদের ও জিদ করতে থাকে এবং অতিশয় ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে।’ (সুরা নুহ, আয়াত : ৫-৭)

এবং তারা তা করেছিল জেনে-বুঝে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে গ্রহণ করেছি। দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।’ (সুরা নামল, আয়াত : ১৪)

ইসলাম প্রত্যাখ্যান করার কারণ

আরব বিশ্বের খ্যাতিমান ইতিহাস গবেষক আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি মক্কাবাসীর ইসলামবিমুখতার প্রধান সাতটি কারণ নির্ণয় করেছেন। তাহলো—

১. সীমাহীন অহংকার : মানুষকে ঈমান আনতে যেসব জিনিস বাধা দেয় তার অন্যতম অহংকার। বহু মানুষ এই মন্দ স্বভাবের কারণে ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তার সূচনা হয়েছে মানবসৃষ্টির প্রথম দিন থেকে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সেজদা করো। তারা সেজদা করল; কিন্তু ইবলিস করল না। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল। সে ছিল কাফিরদের অন্তর্গত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৪)

মক্কাবাসীর অহমিকার বর্ণনা পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে, ‘এবং তারা বলে, এই কোরআন কেন নাজিল করা হলো না দুই জনপদের কোনো প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ৩১)

প্রতাপশালী দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল মক্কার ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা এবং তায়েফের উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফি। কেননা তাদের দৃষ্টিতে বিপুল বিত্ত-ভৈববের অধিকারী এই দুই ব্যক্তিই ছিল সবচেয়ে অভিজাত।

২. নেতৃত্ব হারানোর ভয় : মক্কাবাসীর ইসলাম গ্রহণে আরেকটি অন্তরায় ছিল নেতৃত্ব ও গোত্রীয় প্রভাব হারানোর ভয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য। তিনি এসেছিলেন মিথ্যা উপাস্যের বেড়ি থেকে মানুষকে মুক্ত করতে। আর মক্কার সর্দাররা এসব উপাস্য প্রতীমাদের সামনে রেখে মানুষের ওপর রাজত্ব করত। সুতরাং মক্কায় ইসলাম প্রসার লাভ করার অনিবার্য পরিণতি ছিল তাদের নেতৃত্বের পতন।

৩. আর্থিক স্বার্থ হারানোর ভয় : মক্কার তৎকালীন পরিবেশ ও অবস্থার ওপর নির্ভর করত কিছু মানুষের আর্থিক স্বার্থ। কেননা মক্কা ছিল প্রাচীনকাল থেকে আরবের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। পবিত্র কাবা ঘর ছাড়াও এখানে ছিল প্রধান প্রধান আরব দেবীর প্রতীমা। ফলে মক্কায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে এবং সেখান থেকে মূর্তি সরিয়ে ফেললে তীর্থ যাত্রীদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। তা ছাড়া এই সম্ভাবনাও ছিল যে মক্কাবাসী ইসলাম গ্রহণ করলে আরবের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা সেখানে হামলা করে বসবে।

৪. ভোগ-বিলাস বন্ধ হওয়ার ভয় : মক্কাবাসী মদ, জুয়া, বেশ্যাবৃত্তিসহ নানা ধরনের অন্যায় ও অনৈতিক ভোগ-বিলাসে ডুবে ছিল। এসব অনৈতিকতার বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর, যা তাদের ইসলামগ্রহণের পথে অন্তরায় ছিল।

৫. সুস্থ বিবেকের অভাব : মক্কাবাসী বিবেক, বুদ্ধি ও যুক্তির পথ পরিহার করে অন্ধত্বের পথ গ্রহণ করেছিল। মক্কাবাসী ছিল বহু প্রতীমা ও উপাস্যের পূজারী, যা যেকোনো সুষ্ঠু বিবেকের অধিকারীর কাছেই অযৌক্তিক মনে হবে। বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দেওয়া মক্কাবাসীকে এক আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান করা হলো, তখন তারা বলল—‘সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করছে? নিশ্চয়ই এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।’ (সুরা সাদ, আয়াত : ৫)

৬. সামাজিক কুসংস্কার : সামাজিক রীতি ও সংস্কারের কারণে মক্কার বহু মানুষ আল্লাহর পরিচয় লাভ করার পরও ইসলাম গ্রহণ করেনি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি বলুন, সাত আসমান ও মহান আরশের প্রতিপালক কে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, তোমরা কি ভয় করবে না।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৮৬-৮৭)

আরও পড়ুন


ইসলামে ব্যভিচার বা অবাধ যৌনাচারের শাস্তি

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ

এসপি অস্ত্র ছেড়ে আয় দেখি কি করতে পারিস : কাদের মির্জা (ভিডিও)

৭. প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস : প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস মক্কাবাসীর অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছিল, যা বহু বিষয়ে ছিল ইসলামের বিপরীত। ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলো। যেমন—প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস অনুসারে কোনো মানুষ আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে না। সুতরাং যখন কোনো মানুষকে নবী করে পাঠানো হলো, তারা বিস্মিত হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সত্য আসার পর মানুষকে ঈমান গ্রহণে বাধা দিয়েছে শুধু তাদের এই কথা—আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন?’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৪)

মোটকথা, মক্কাবাসী ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত নানামুখী স্বার্থ, সামাজিক রীতি, সংস্কার ও অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের কারণে নতুন জীবনব্যবস্থা ইসলাম গ্রহণে মোটেই প্রস্তুত ছিল না। অবশ্য সব নবী-রাসুলের ব্যাপারে প্রায় একই আচরণ করেছে স্বগোত্রীয়রা। আল্লাহ বলেন, ‘এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসুল এসেছে, তারা তাকে বলেছে, তুমি এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৫২)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি তারা আপনাকে অস্বীকার করে, তোমার আগে যেসব রাসুল স্পষ্ট নিদর্শন, আসমানি সহিফা এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ এসেছিল, তাদেরও তো অস্বীকার করা হয়েছিল।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৪)

news24bd.tv রিমু    

পরবর্তী খবর

আল্লাহ যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহ যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করেন

আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি যত দিন পর্যন্ত আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আমি তত দিন তোমার গুনাহ মাফ করতে থাকব, তুমি যা-ই করে থাক, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। 

হে আদম সন্তান, তোমার গুনাহ যদি আকাশের উচ্চতা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও তবু আমি তোমাকে ক্ষমা করব, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান, তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪০)

আলোচ্য হাদিসে বান্দাদের হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আশাবাদী হতে বলা হয়েছে। ঘোষণা দিয়েছেন, বান্দার গুনাহের পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন আল্লাহ বান্দাকে মাফ করে দেবেন।

দোয়া করার শিষ্টাচার : আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু শিষ্টাচার ও শর্ত রয়েছে। এসব শিষ্টাচার দোয়া কবুল হওয়ার জন্য সহায়ক। যেমন—

১. নিবিষ্ট মনে দোয়া করা : নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কবুলের দৃঢ় প্রত্যয় রেখে তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। জেনে রেখো, উদাসীন ও অমনোযোগী মনের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)

২. কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা : মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল করা হয় যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। যেমন সে বলল, আমি দোয়া করলাম কিন্তু তা কবুল হলো না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৭)

৩. আশা নিয়ে দোয়া করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে তখন এভাবে বলা উচিত নয় যে হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করেন যদি আপনার ইচ্ছা হয়। বরং বড় আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে। কেননা তিনি এমন এক সত্তা যেকোনো কিছুই দান করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮৮)

৪. অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করা : আল্লাহ অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রার্থনা করো গোপনে অশ্রুসিক্ত হয়ে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫)

৫. আল্লাহর গুণবাচক নাম নিয়ে দোয়া করা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সে নামেই ডাকবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮০)

মুমিনের কোনো দোয়া নিষ্ফল নয় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমান যখন কোনো দোয়া করে, যাতে কোনো গুনাহের কাজ অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছেদের কথা নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে এ তিনটির যেকোনো একটি দান করেন। হয়তো তাকে তার প্রার্থিত বস্তু দুনিয়াতে দান করেন বা তা তার আখিরাতের জন্য জমা রাখেন অথবা তার অনুরূপ কোনো অমঙ্গলকে তার থেকে দূরে রাখেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১১৩৩)

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

নামাজ আদায়সহ যেসব আমল আল্লাহর প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

নামাজ আদায়সহ যেসব আমল আল্লাহর প্রিয়

কিছু আমল আছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তার মধ্যে অন্যতম আমল হলো, গুরুত্বসহ সময়মতো নামাজ আদায় করা।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? ‘তিনি বলেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’

তিনি আমাকে এ কথাগুলো বলেন, যদি আমি আরো প্রশ্ন করতাম তাহলে তিনি আরো অতিরিক্ত বিষয়ে বলতেন। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৫)

এ ছাড়া যেকোনো নেক আমল ধারাবিহকতা বজায় রেখে নিয়মিত করা হলেও তা আল্লাহর প্রিয় আমলে পরিণত হয়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কী? তিনি বলেন, ‘যে আমল সদাসর্বদা নিয়মিত করা হয়। যদিও তা অল্প হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা সাধ্যের অতীত কাজ নিজের ওপর চাপিয়ে নিয়ো না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৫)

আরও পড়ুন: 


সরকারি আটায় রুটি তৈরি করা কারখানায় অভিযান চলছে

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া চলে গেলেন

মহান আল্লাহ আমাদের নিয়মিত নামাজ আদায় ও ইসলামে পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

পাকা চুল উঠানো কি জায়েজ?

অনলাইন ডেস্ক

পাকা চুল উঠানো কি জায়েজ?

চুল পাকার বয়স হওয়ার আগেই অনেকের চুল পেকে যায়। অল্প কয়েকটা চুল পাকলে সেটা রঙ না করে তুলে ফেলেন অনেকেই।  এটা করা যাবে না। কারণ পাকা চুল উঠিয়ে ফেলা মাকরুহ। এ ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুসলমানের একটি চুল পেকে গেলে আল্লাহতায়ালার তার জন্য একটি নেকি লেখেন। একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং একটি পাপ মোচন করে দেন। (নাসাঈ, মিশকাত)

অপর হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাদা চুল উঠাবে না। কারণ এগুলো কেয়ামতের দিন নূর হবে। আর যে (মুসলিম) ব্যক্তির চুল বার্ধক্যের কারণে সাদা হয় তার প্রতিটি সাদা চুলের বিপরীতে একটি করে সওয়াব লেখা হয়, একটি করে গুনাহ মাফ করা হয় এবং একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ (ইবনু হিব্বান)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা পাকা চুল-দাঁড়ি উঠাবে না। কেননা কোনো মুসলিম ইসলামের মধ্যে থেকে চুল পাকালে এটা তার জন্য কেয়ামাতের দিন উজ্জ্বল নূর (আলো) হবে। আল্লাহ তার প্রতিটি পাকা চুলের পরিবর্তে তাকে একটি নেকি দান করবেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন। (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কিয়ামতের দিন আল্লাহ যে তিন ব্যক্তির দিকে ফিরেও তাকাবেন না

অনলাইন ডেস্ক

কিয়ামতের দিন আল্লাহ যে তিন ব্যক্তির দিকে ফিরেও তাকাবেন না

কিয়ামতের বিচার হচ্ছে ফায়সালার দিন। যারা কিয়ামতের বিচারে পাস করবে আল্লাহর অনুগ্রহে তারা পবিত্র হয়ে জান্নাতে যেতে পারবেন। আর যাদের এত পাপ জমে থাকবে যে, বিচার শেষেও তাদের পাপের পাল্লা ভারি থাকবে, তাদের পরিণতি হবে জাহান্নাম।[সূরা আল-ক্বারিয়াহ] 

কিয়ামতের দিন একদল লোক থাকবেন, যাদের সাথে আল্লাহ সেদিন কোনো কথা বলবেন না। তারা যতই অনুনয়, বিনয় করুক না কেন, আল্লাহ কোনো উত্তর দেবেন না।

আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বাক্যগুলি তিনবার বললেন। আবূ যার্র বললেন, তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক! তারা কারা? হে আল্লাহর রসূল!

তিনি বললেন, (লুঙ্গি-কাপড়) পায়ের গাঁটের নীচে যে ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে লোকের কাছে দানের কথা বলে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে পণ্য বিক্রি করে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, যে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।[মুসলিম ১০৬, তিরমিযি ১২১১, নাসায়ি ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাউদ ৪০৮৭, ইবন মাজাহ ২২০৮, আহমদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমি ২৬০৫]

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আত্মীয়-স্বজনের কথা পরিবারে বললে কি সেটা গীবত হবে ?

অনলাইন ডেস্ক

সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বদ অভ্যাস হচ্ছে গীবত। এটি মারাত্মক ঘৃণিত কাজ। যে অন্যের দোষ তালাশ করে বুঝতে হবে তার অন্তর নষ্ট হয়ে গেছে।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) গীবতের পরিচয় দিয়ে বলেন- ‘গীবত হলো তোমার ভাইয়ের এমন আচরণ বর্ণনা করা, যা সে খারাপ জানে।’

গীবত করার পরিণাম- আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন- ‘তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে, তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই করে থাকো’। [সূরা হুজুরাত – ১২] অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে, গীবত করা মৃত ব্যক্তির গোশত ভক্ষণ করার শামিল।

আরও পড়ুন:


বন্দর কর্মচারীর মালিকানায় শত কোটি টাকার সম্পদ

আলোর পথে ফিরেছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

৩ হাজার কনস্টেবল নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ


আল্লাহ আমাদের সবাইকে গীবতের মতো ভয়াবহ গুনাহের কাজ থেকে দূর থাকার তাওফিক দান করুন। এখন প্রশ্ন হলো আত্মীয় স্বজনের কথা পরিবারে বললে কি সেটা গীবত হবে ? উত্তরটি জানতে ভিডিওটি দেখুন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর