সখি ভালোবাসা কারে কয়?

কানিজ মওলা

সখি ভালোবাসা কারে কয়?

কানিজ মওলা

ভালোবাসা নিয়ে আমি আগেও অনেক বার লিখেছি। ভালোবাসার কোনো সংঙ্গা নেই, কোনো সীমারেখা নেই রূপ রস গন্ধ, বর্ণ কোনটাই নেই। সবটাই অনুভবের ব্যাপার।

তবুও নেই নেই করেও ভালোবাসার অনেক রূপ। সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা, মায়ের জন্য সন্তানের ভালোবাসা, প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা,বন্ধুর জন্য বন্ধুর ভালোবাসা, শিক্ষকের জন্য ছাত্রের ভালোবাসা। জীবনের জন্য ভালোবাসা, প্রকৃতির জন্য  ভালোবাসা,সবই আছে, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে। 

আজকে আমি যে ভালোবাসার গল্প শোনাব সেটা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার একটা মিশেল।
আমিতো হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। প্রায় বিশ বৎসর আগে একজন সদ্য পোস্ট গ্রাজুয়েট করা নতুন ডাক্তার জয়েন করল আমার ইউনিটে। সাবলীল ও বুদ্ধিমান ছেলে।

হলি ফ্যামিলিতে রাউন্ড দেওয়ার সময় আমি একটা নিজস্ব স্ট্যাটাইল তৈরী করেছিলাম।ঠিক সাড়ে আটটায় রাউন্ড শুরু করতাম। আমিই প্রথম good morning এবং আসসালামু আলাইকুম বলে রাউন্ড শুরু করতাম। ওপাশ থেকে অর্থ্যাৎ আমার ইউনিটের অপেহ্মমাণ ডাক্তারও সমস্বরে good morning  ম্যাডাম, ওলাইকুম আসসালা ম্যাডাম বলে উঠত, আমার খুব ভালো লাগত।

তারপর রোগী দেখা,পড়ালেখা আর হাসি খুশি দুষ্টমির মধ্যে দিয়ে রাউন্ড শেষ করতাম ২ থেকে ৩ ঘন্টা লাগিয়ে। খুব ভাল সময় কাটত। ২০১৫ সালে এপ্রিলে অবসরে গেলাম। সবাই কেদেঁ কেটে একাকার করল। গ্রুপে গ্রুপে ফেয়ার ওয়েল দিল।

যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হলো, চলে আসতে হলো আমাকে।হাসপাতালকে খুব মিস করতাম,এখনো করি। বিশেষ করে রাউন্ড শুরুর অংশটা।

সময়ের ব্যবধানে সব কিছুই সয়ে যায়।প্রথম প্রথম আমার সব ডাক্তাররা ফোন করত, মেসেজ পাঠাত। এখনো অনেকে পাঠায়। কিন্তু সেই ছেলেটা,যার কথা বলছিলাম বর্তমানে একজন নামকরা অধ্যাপক।

আরও পড়ুন:


সপ্তাহে কতদিন ক্লাসের পরিকল্পনা সরকারের, জানালেন শিক্ষা উপমন্ত্রী

পাসপোর্ট অফিসে দালালদের নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা

১০ হাজার 'ভুয়া' মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল

নভেম্বর-ডিসেম্বরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে নন অনেকেই


সে কিন্তু এখনো তার স্মৃতিতে উজ্জল রেখেছে  আমাকে। প্রতিদিন সকালে ফেসবুক খুললেই good morning  wish এবং সেই সাথে একটা সুন্দর  ছবি পাই তার কাছ থেকে। এপ্রিল ২০১৫ থেকে আজ ২০২১সেপ্টেম্বরের শুরু,বোধহয় একটা দিনও এর বাদ পড়েনি তার good morning  wish পাঠানো। 

কখনো ধূমায়িত চায়ের কাপ,কফির মগ বিভিন্ন ফুলের ছবি,পাখির ছবি, সূর্যেদয়ের  ছবি, অথবা মিষ্টি গানের চার লাইন। তার good morning wish আনন্দ চিত্তে গ্রহণ করতাম আমি প্রতিদিন। আর শুধু লাইক দিয়ে ছেড়ে দিতাম।

আজ মনে হলো তার এই দীর্ঘ সময় ধরে শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালোবাসার জন্য তাকে আমার ধন্যবাদ জানানো অবশ্যই উচিত। তাই এই লেখাটা তার জন্য উৎসর্গ করলাম। ভালো থেকো বাবু, খুব ভালো থেকো, এই রকম ই হৃদয়বান থেকো সারাজীবন।

লেখাটি  ডাক্তার কানিজ মওলার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।

সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ও কিছু কথা

আলী রিয়াজ

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ও কিছু কথা

জার্মানীতে এ্যাঙ্গেলা মার্কেল যুগের অবসান ঘটছে। রোববার সংসদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জার্মানরা তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন করছেন। ষোল বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে মার্কেল ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ালেও জার্মান রাজনীতিতে তাঁর লিগ্যাসি দীর্ঘদিন ধরেই থাকবে। 

এই ষোল বছরে জার্মানী বহু ধরণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করেছে; এর মধ্যে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট, ২০১৫ সালে ইউরো জোন সংকট, একই বছরে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে আসা শরনার্থীদের গ্রহণ করা এবং ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারী। এই সময়ে জার্মান রাজনীতিতে যে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে তাঁর অন্যতম দিক হচ্ছে, মার্কেল রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে কূটচাল নয় পলিসিকে রাখতে পেরেছেন। 

২০১৫ সালে শরনার্থী বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত খুব জনপ্রিয় ছিলো তা বলা যাবেনা। এই প্রশ্নে তাঁর কোয়ালিশনের অন্য দল লিবারেলরা ভিন্নমত পোষন করেছিলো। কিন্ত তাঁর অবস্থান ছিলো নৈতিক ও নীতিকেন্দ্রিক। এর জন্যে তাঁকে মাশুলও গুনতে হয়েছে ২০১৭ সালের নির্বাচনে, খানিকটা পশ্চাদপসারণও; কিন্ত তাঁর সিদ্ধান্ত ইউরোপের কেন্দ্রে যে কোনও ধরণের বিশৃঙ্খলা না ঘটার ব্যবস্থা করেছে। রক্ষনশীল দলের প্রতিনিধিত্ব করেও তিনি যে পরিবর্তনগুলো করেছেন সেটি একার্থে তাঁর নেতৃত্বের গুণকেই প্রকাশ করে, এমনকি তাঁর সঙ্গে একমত না হয়েও তা বলা যায়। 

কিন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় যেটি সেটি হচ্ছে ইউরোপ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যখন অস্থিতিশীলতা চলেছে মার্কেল সেখানে স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন – এই কারণে নয় যে তিনি বারবার বিজয়ী হয়েছেন, এই কারণে যে তাঁর অনুসৃত পররাষ্ট্র নীতি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। 

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্ব তিনিই দিয়েছেন, ‘লিডার অব দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ বলে যে কথাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে ব্যবহৃত হয় সেটি অন্তত এই সময়ে জার্মানীর প্রাপ্র্য। 

কিন্ত রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে মার্কেলের অনুপস্থিতির এই সূচনায় মার্কেলের নেতৃত্বের সাফল্য গাঁথা বর্ণনা আমার লক্ষ্য নয়, আমি বরঞ্চ সামনের দিকে তাকাবার তাগিদেই এই প্রসঙ্গের অবতারনা করেছি। সামনের দিনগুলোতে ইউরোপ বিশ্ব রাজনীতিতে কী ভূমিকা নেবে, মার্কেলের অবসর গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সেটাই ভাবা দরকার। 

এর কারণ তিনটি; প্রথমত বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ায় সরে গেছে অনেক আগেই, কিন্ত এখন চীন সেই ভরকেন্দ্রের নেতৃত্ব দিতে উদ্যোগী; সেইখানে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে জার্মানীর ভূমিকা কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র চীনকে সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চায়। সেটা করতে হলে তাঁর দরকার ইউরোপের সমর্থন ও সহযোগিতা। 

দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের যে মতপার্থক্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেখানে জার্মানী সেতুবন্ধন হতে পারবে কিনা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মূখে ন্যাটো এবং অন্যত্র জার্মানী ইউরোপকে একত্রে রেখেছে এবং নেতৃত্বে দিয়েছে। আগামীতে কী হবে? আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর পরাজয় এই বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে।
  
তৃতীয়ত রাশিয়া এবং জার্মানীর সম্পর্ক। ইউক্রেনের যুদ্ধে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং জার্মানিতে গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবণতি ঘটিয়েছে। কিন্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অটুট আছে। নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন তাঁর একটি অন্যতম উদাহরণ। 

রও পড়ুন:

একাধিক পদে নিয়োগ দেবে বেক্সিমকো

বিয়ের আগেই পাত্রের মাকে নিয়ে পালিয়ে গেল পাত্রীর বাবা!

বিশ্বকাপের আগে কোহলিকে স্বস্তি দিলেন অশ্বিন

ইংরেজি শেখার জন্য বিয়ে করেছিলেন শেবাগ-যুবরাজ-হরভজন!!


জার্মানীর নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের যে ইঙ্গিত এক্সিট পোলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে, যা জার্মান সময় মধ্যরাত পর্যন্ত জানা গেছে তাতে সোশ্যাল ডেমোক্রেট – এসপিডি -এগিয়ে আছে, মার্কেলের দল রক্ষনশীল সিডিইউ/সিএসিউ পিছিয়ে পড়েছে। এটা মোটেই অপ্রত্যাশিত ফল নয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে গ্রীন পার্টির সমর্থন লাগবে বলেই বোঝা যাচ্ছে। রক্ষনশীলরা এখনও আশা করছেন যে, তাঁরা একটি কোয়ালিশন সরকার করতে পারবে। সেই সম্ভাবনা কম। 

ক্ষমতায় সেই দলই যাক না কেন তাঁদের বিশ্ব রাজনীতিতে জার্মানীর ভূমিকার বিষয়গুলোকে খুব শিগগিরই মোকাবেলা করতে হবে। এ্যাঙ্গেলা মার্কেলের উত্তরসূরি কতটা তাঁর উত্তরসূরি হবেন আর কতটা নিজস্ব চিহ্ন রাখতে চাইবেন/পারবেন সেটা দেখার বিষয়। কেননা এর সঙ্গে বিশ্বের সকলের স্বার্থ এবং বৈশ্বিক রাজনীতির অনেক কিছুই নির্ভর করছে।           

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা!

মোমিনুল আজম

ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা!

দেশে এখন শরৎকাল। শরৎকালের প্রধান অনুষঙ্গ সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল। কাশফুলের সাথে অজস্র ছবি তুলে পোস্ট করা হচ্ছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে। তবে দেশে যাদের শখের বাগান তাদের কেউ বাগানে কাশফুলের গাছ রোপন করে বলে দেখিনি। অনাদর অবহেলায় বেড়ে ওঠা সৌন্দর্যের সুধা নিলেও তার কোন কদর করি না।

আমাদের এখানে কাশফুলের মতো শুভ্র সৌন্দর্যের কোন ঘাস নেই। তবুও প্রায় সব বাগানেই একগোছা ঘাসফুল লাগিয়ে থাকে বুনো সৌন্দর্যের আশায়। একটি গোলাপ গাছের প্রায় সমান দামে একগোছা ঘাসফুল কিনতে হয়।

আমাদের বাগানেও আছে কিছু ঘাসফুল। ‘জেবরা গ্রাস’ নামের এ ঘাসফুলের আদি নিবাস জাপানে। এতে সাদা ফুল ফোঁটে না, ফোঁটে সোনালি ফুল। এই শরতেও ফুঁটেছে সে ফুল। ছবি তুলতে গিয়ে ফোনের লেন্সে ধরা দিল শরতের সাদা মেঘের ভেলা।

আরও পড়ুন


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’, দেশে ভারী বৃষ্টির আভাস

অবসান ঘটতে যাচ্ছে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের

শিশু সন্তানকে জবাই করে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা


প্রকৃতি বিশ্বের সব প্রান্তে একই সৌন্দর্য বিলিয়ে যায় নি:স্বার্থভাবে।

(লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বিদ্যাসাগর ডাকা, আর আবুল চন্দ্র পিএইচডিকে পিএইচডি ডাকার মধ্যে পার্থক্য কী? কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু আমাদের অনেকেই ‌‘বিদ্যাসাগর’ শব্দটিকে বিরাট উপাধি মনে করে থাকেন। ভাবখানা এমন যে— পৃথিবীতে ‘বিদ্যাসাগর’ আছেন একজনই, এবং তিনি ‘বিদ্যার সাগর’।

মৃত মানুষকে নিয়ে বাঙালির অতিরঞ্জন নতুন নয়। ঈশ্বরচন্দ্র যেহেতু মৃত, এবং তাঁর নামের শেষে একটি বিভ্রান্তিকর ডিগ্রি যেহেতু যুক্ত হয়েছে, তাই দরিদ্র চিন্তার বাঙালি তাঁকে নিয়ে বানিয়েছে নানা কাল্পনিক গল্প। তিনি যা পড়তেন, তাই মুখস্ত হয়ে যেতো। 

এজন্য কোনো বই একবার পড়লে, তিনি তা ছিঁড়ে ফেলতেন। এরকম ফালতু গল্পে ছোট বেলায় আমিও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু বড় হয়ে দেখলাম যে— তিনি ছিলেন আপনার আমার মতোই মেধাবী। পার্থক্য শুধু পরিশ্রম, চিন্তার ধৈর্য্য, আর পড়াশোনায়।

আরও পড়ুন:


হংকংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মেয়েদের বড় জয়

তালেবান ক্ষমতায় আসায় বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত উৎফুল্ল: কৃষিমন্ত্রী

সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু

দুই ডোজ টিকা নিয়েও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করোনা শনাক্ত


যারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বিদ্যার সাগর ভেবে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তারা কি কখনো নীলকমল বিদ্যাসাগর, জীবানন্দ বিদ্যাসাগর, রাজীবলোচন বিদ্যাসাগর, প্রাণকৃষ্ণ বিদ্যাসাগর, অথবা হরানন্দ বিদ্যাসাগরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন?

আমাদের হুজুগ কি মূর্খতার সমানুপাতিক নয়?

আর ঈশ্বরচন্দ্রের জন্মদিনে তাঁর কাজ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই কেন? নিউজফিডে যতোগুলো পোস্ট দেখলাম, সবই চটুল প্রশংসার পোস্ট। মৃত মানুষের মন্দিরে পূজো দেওয়া এখন নতুন আভিজাত্য। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

আমরা অনেক তবু বদলাতে পারিনা, এখানেও কারণ মানুষ!

জুলহাস নূর

আমরা অনেক তবু বদলাতে পারিনা, এখানেও কারণ মানুষ!

হতাশা দার্শনিক ভাবেও ধরা দেয়। যেমন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বেঁচে নেই, আমরা বেঁচে আছি! আমরা, যতোসব চলতি হাওয়ার পন্থী! বিদ্যাসাগরের হাতে নির্মিত হয় বঙ্গভাষা-গদ্যের আদল, জাগে নারী অধিকার আলাপ। 

তাঁর হাতেই জাগে প্রাণ শিক্ষায়, সমাজে। আর সেই সমাজ তাঁকেই করেছে একা!

রবীন্দ্রনাথ বলতেন, ‘বিদ্যাসাগর এই বঙ্গদেশে একক ছিলেন।’ তিনি আপনার প্রাণের জোরে, কেবল আপনার বেদনার উত্তাপে একাকী আপন কাজ করিয়া গিয়াছেন।

আরো বলতেন, ‘আমাদের এই অবমানিত দেশে ঈশ্বরচন্দ্রের মতো এমন অখণ্ড পৌরুষের আদর্শ কেমন করিয়া জন্মগ্রহণ করিল, আমরা বলিতে পারি না। কাকের বাসায় কোকিলে ডিম পাড়িয়া যায়, মানব ইতিহাসের বিধাতা সেইরূপ গোপনে কৌশলে বঙ্গভূমির প্রতি বিদ্যাসাগরকে মানুষ করিবার ভার দিয়াছিলেন।’

বিদ্যাসাগর একক, কিন্তু বদলে দিয়েছেন। কারণ ঐযে মানুষ! আমরা অনেক, তবু বদলাতে পারিনা। এখানেও কারণ মানুষ!

লেখাটি সাংবাদিক জুলহাস নূর-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে, ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম

মাঝে মাঝে ভাবি। উত্তরা একটা বড় এলাকা। কিম্তু এখানে কোনও পাবলিক লাইব্রেরি নাই, শিশু একাডেমির কোনও শাখা নাই, শিল্পকলা একাডেমির কোনও কার্যক্রম নাই,  সেই রকম কোনও গ্যালারি নাই, একটা সিনেপ্লেক্স নাই, মুক্ত হাওয়া নেবার মতো, রমনা পার্কের মতো কোনও পার্ক নাই, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনও আয়োজন নাই। 

আছে কেবল মার্কেট আর মার্কেট, নতুন নতুন শপিং মল হচ্ছে, লেক দখল করে বা তথাকথিত অনুমোদনের মাধ্যমে ক্ষমতাশীলীদের নতুন এপার্টমেন্টের প্রকল্প হচ্ছে, পার্কের জায়গায় মার্কেট হচ্ছে। 

ধানক্ষেত ধ্বংস করে, জলাশয়ের উপর বহুতল তৈরি করে, যা ইচ্ছা তেমন করে একটা উপশহর তৈরি হয়তো সময়ের দাবী ছিল, কিন্তু মননের চর্চা করার কোনও আয়োজন না থাকার দায় তবে কার? আমাদের লোভ আমাদের ধ্বংস করে চলেছে। 
 
কী দারুন আয়োজন করে আমরা একটা মু্ক্তমনা, উদারনৈতিক, সহনশীল প্রজন্ম তৈরি করছি! তাইনা? 

ভবিষ্যত নিশ্চয়ই দারুন হবে আমাদের!

জুলহাস আলম, ব্যুরো চিফ, এপি।

লেখাটি জুলহাস আলম-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর