এই হয়রানির শেষ কোথায়?

ওয়ালি উল্লাহ

এই হয়রানির শেষ কোথায়?

ওয়ালি উল্লাহ

ক্যাম্পাস থেকে রিক্সায় গুলিস্তান আসছিলাম, কর্মস্থলে ফিরতে হবে, তাই তাড়া ছিলো। জিপিও থেকে সামনে বাইতুল মোকাররম বরাবর আসতেই কেউ একজন রিক্সার পাশে টাকা চেয়ে দৌড়াচ্ছে। 

ভাবলাম ভিক্ষুক। তাকাতেই দেখি একটা উষ্কখুষ্ক চেহারার লোক, পলিথিনভর্তি মলমূত্র হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছে আর টাকা চাচ্ছে।

প্রথমে বলে, ৫০ টাকা দে, আমি দ্রুত দিয়ে দিলাম। পরে বলে আরো ৫০ টাকা দে, তাও দিলাম।

পরে বলে আরো ১০০ টাকা দে, নইলে এই পলিথিন গায়ে মারবো। আরো ১০০ দিলাম।

পরে বলে, আরো ১০০ লাগবো, বাধ্য হয়ে আরো ১০০ টাকা দিলাম।

আরও পড়ুন:


সপ্তাহে কতদিন ক্লাসের পরিকল্পনা সরকারের, জানালেন শিক্ষা উপমন্ত্রী

পাসপোর্ট অফিসে দালালদের নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা

১০ হাজার 'ভুয়া' মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল

নভেম্বর-ডিসেম্বরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে নন অনেকেই


রিক্সাওয়ালার মামার জন্য কষ্ট লাগলো, গর্বও হলো। উনি এত কষ্ট করে উপার্জন করলেন ৭০ টাকা, আর নেশাখোর এক মিনিটেই একপ্রকার ছিনতাই করলো ৩০০ টাকা।

এই যে ঢাকার রাস্তাঘাটে, ক্যাম্পাসে এত এত ভাসমান মানুষ! এদের অধিকাংশই নেশাগ্রস্ত, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

এদের হাত থেকে কি নিস্তার নেই??

লেখাটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ওয়ালি উল্লাহর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পুরনো দিন গেছে, পুরনো লোকেরাও কবরে

মুম রহমান

পুরনো দিন গেছে, পুরনো লোকেরাও কবরে

বাসার সামনে একটা বিরাট আম গাছ, নারকেল গাছ। এখানে পাখি বসতো। বাসা বানাতো। মূল সড়কের শেষ বাড়িটা আমাদের। অপার সুখে শান্তিতে ছিলাম। আব্বা চলে গেলো। পাশের বাড়ির আঙ্কেল, আন্টিও চলে গেলো দুনিয়া থেকে। পাশের বাড়ির বিরাট চারতলাটিও ভাঙা শুরু হলো। রাস্তার ওপারে বাসার মুখোমুখি চারতলা দুটোও ভাঙা হয়ে গেছে। এখন সেখানে অট্টালিকা উঠছে। ঢাকা শহরে জমির দাম কোটি কোটি টাকা। সেই জমিতে চারতলা পুরনো বাড়ি মানায়? বিশেষত আগের দিনের ডিজাইনের। যারা বানিয়েছেন তারাও তো নেই।

অতএব বিদায় পুরনো স্মৃতি। নতুন করে সাততলা, আটতলা আর দশতলা উঠবে। ঠিক পাশে আর মুখোমুখি কাজ চলছে সারা দিনরাত। হ্যাঁ, সারাদিন রাত। দিনে বিশাল দালানটি ভাঙে, রাতে ট্রাক এসে এইসব ভাঙা টুকরা নিয়ে যায়। অন্যপাশে ট্রাক আসে ইট, রড নিয়ে। ধুমধাম শব্দে জব্দ থাকি সারাদিন রাত।

আরও পড়ুন: 


রাসেলের বাসায় র‌্যাবের অভিযান চলছে

স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

চীনে ১০ কি.মি. গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হানা

দুবলার চর থেকে খুলনা কাঁকড়া পরিবহনে বাধা নেই: হাইকোর্ট


মাথার ভেতরে সারাদিন রাত হাতুড়ি, গ্রিল কাটার, সিমেন্ট মিক্সার নানা রকম মেশিনের শব্দ। টনটন তরে মাথা ব্যথা করে। মনে হয় বাসা ছেড়ে পালাই। কোনো কোনো রাতে শব্দে মনে হয় পাগল হয়ে যাবো।

একরাতে ৯৯৯ এ ফোন দিলাম। ফোন দিতে চাইনি। কে যাবে ঝামেলায় জড়াতে। যারা এ সব দালানকোঠা বানায় মানে ডেভলাপাররা তারা বড় প্রভাবশালী। তবু না-থাকতে পেরে ভোর চারটায়  ৯৯৯ এ ফোন দিলাম। তারা সদয় হয়ে স্থানীয় থানার ডিউটি অফিসারের ফোন নাম্বার দিলো। কল করলাম, কেউ ধরলো না। সবাই তো আমার মতো ভোররাত নাগাদ জেগে থাকতে বাধ্য নয়। শব্দ দূষণের মতো তুচ্ছ জিনিস নিয়ে কেইবা ভাবে।

আরেকরাতে ২টার দিতে পূর্বের সেই নাম্বারে ফোন দিলাম। এবার ডিউটি অফিসারের দয়া হলো। তিনি টহল পুলিশকে আমার নাম্বার দিলেন। টহল পুলিশ চলে এলো পাঁচমিনিটে। ধমক দিয়ে কাজ বন্ধ করলো। ট্রাক চলে গেলো। আমি আইনের শাসন দেখে তৃপ্ত মনে শুতে গেলাম। পাঁচ মিনিটের মাথায় আবার বিকট শব্দ! আমি বারান্দায় এসে দেখি ট্রাক ফিরে এসেছে। পূর্ণোদ্যমে ভাঙা ইট, শুড়কি, ঢালাইয়ের চাপড় ধুমধাম ফেলা হচ্ছে। টহল পুলিশের নাম্বারে ফোন দিয়ে বললাম, ভাই, আপনারা চোখের আড়াল হতেই তো তারা আবারুরু করেছে। টহল পুলিশ বললেন, বেশিক্ষণ চলবে না। ওদের একটু কাজ জমে আছে। তাড়াতাড়ি করে সরে যাবে। ওরা তাড়াতাড়ি ভোর পার করেই চলে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ। শুতে গেলাম। ঘড়িতে পাঁচটা বাজে। শুতে না শুতেই উঠে পড়লাম। দেয়াল, মেঝে ভাঙার শব্দ, আমার দালানটাও কেঁপে উঠছে। ওরা আমার মতো ফাঁকিবাজ নয়, ঠিক সকাল আটটায় কাজ শুরু করেছে। দিনরাত কাজ না করলে তো উন্নতি হয় না। আমার যেমন হয়নি।

কিন্তু আমি বোধহয় উন্নতির বিরুদ্ধে। আমি বোধহয় স্বাভাবিক নই। চলতি হাওয়ার নই। স্মার্ট নই। আমার ভালো লাগে না এই বাড়িগুলো ভাঙন দেখতে। কতো স্মৃতি এখানে। একসাথে এসব বাড়ির মানুষগুলো আমরা বড় হয়েছি। আমাদের বাড়িটাও ভেঙে ফেলবে। এতো এতো আধুনিক ফ্লাটের পাশে আমাদের ছোট্ট বাড়িটাকে বড় বেমানান লাগছে সবার। আমি বাদে সবাই চায় এ বাড়িটাও আধুনিক হোক।

ভাবছি, আমিও আধুনিক হয়ে যাবো। উন্নয়নের রসগোল্লা খাবো। চোখ, কান, মন বন্ধ রাখতে শিখবো। এই দেশে থেকে শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, বাড়ি নির্মাণ আইনকানুন ইত্যাদিকে বুড়ো আঙুল দেখাতে শিখে যাবো। বেঁচে থাকলে আমিও নির্বিকার জীবন বেছে নেবো। সে জীবনে একটা আমগাছ, একটা নারকেল গাছ, ছোট্ট বারান্দার কী মূল্যই বা আছে! আধুনিক মানুষের জীবন চলুক পার স্কয়ার ফিটের হিসেবে। এখন তো আর সামনের বাড়ি বা পাশের বাড়ি থেকে ইফতারি, হালুয়া, গোস্ত, রুটি আসে না। ও সব পুরনো দিন গেছে। পুরনো লোকেরাও কবরে।

নতুনরা পার স্কয়ারে কতো হাজার পাওয়া যাবে, গ্যােজ সহ ফ্ল্যাট কতো তাই নিয়ে ভাবছে। আমি ভাবছি আমার বাবা, পাশের বাড়ির কাকারা এতো উন্নয়নের ব্রেকিং নিউজ কী কবরে শুয়ে শুনতে পাচ্ছেন!

এ এলাকাটা পানিতে ডোবা ছিলো। বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আসতাম। এখানে জমি কেনায় আমার বাবাকে অনেকেই বেকুব বলতো। আব্বা, তুমি বেকুব ছিলে বলেই ঢাকা শহরে নিজের বাড়িতে বাস করতে পারছি। আর জাতি বুদ্ধিমান বলেই নিজের বাড়িতে আমি বিশ্রাম নিতে পারছি না, দুপুরে, রাতে, বিকেল।

নাদের আলি, আর কতো দালান উঠলে আমাদের উন্নতির শেষ হবে?

লেখাটি মুম রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

রেফারেন্সের পাওয়ার!

পারমিতা হিম

রেফারেন্সের পাওয়ার!

খুব সুন্দর, দেখতে দামি জামা পরে, চুলে শ্যাম্পু করে, ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে, ভালো করে সেজেগুজে, আমার সবচেয়ে দামি ব্যাগ, ঘড়ি আর জুতা (যার কোনোটাই আমার কেনা নয়-অবশ্যই) নিয়ে বের হচ্ছি, বুয়া আমার দিকে হাঁ করে চেয়ে আছে।

শেষে আর থাকতেই পারল না, বলেই ফেলল— আপা, আপনি কই যান? কারো বিয়ে নাকি? বলে আবার চুপ মেরে গেল। কারণ বান্ধবীর বিয়েতে আমি যে একটা সোয়েটার পরে চলে গেছিলাম সেইটা উনার নিজের চোখে দেখা। যেহেতু ওই ব্যাপারটা তার একদম ভালো লাগে নাই তাই উনি ওইটা ভুলতেও পারেন না। 

আমি উনার ভুল ভাঙায়ে দিলাম। বললাম, সরকারি অফিসে যাবো তো, এজন্য ভালো জামা কাপড় পরে যাচ্ছি। না হলে তো পাত্তাই দিবে না। সঙ্গে একটা ফ্রি টিপস দিয়ে দিলাম— কখনো ব্যাংক, পোস্ট অফিস, পাসপোর্ট অফিস কিংবা যে কোনো সার্ভিস সেক্টরের অফিসে যাওয়ার আগে আপনার সবচেয়ে দামি জামা কাপড় পরে যাবেন।

উনি বললেন, আমি ব্যাংকে যাব কী জন্যে? আমি তো পড়ালেখাই জানি না! আমি পড়ালেখা জানি, তাতে কোনো লাভ হয় না। আমি চাই যে কোনো কাজ যেটা বাংলাদেশে বৈধ, সেটা বৈধভাবে করতে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে, কিংবা মামা চাচার পরিচয় দিয়ে কোনো কাজ করা— এইটা আমাকে একটা মানসিক নিপীড়নের মধ্যে ফেলে।

কিন্তু কোনো কাজ আমাদের দেশে সোজাভাবে করা যায় না। ভার্সিটির সার্টিফিকেটের জন্য ৯ বছর ঘুরলাম। কত হাইকোর্ট দেখলাম। তারপর রেফারেন্সে একদিনের মাথায় সার্টিফিকেট পাইছি। কোনো হল-ডিপার্টমেন্ট-রেজিস্ট্রার বিল্ডিং গমন ছাড়াই। পাসপোর্ট অফিসেও তাই। যে ই-পাসপোর্ট করাই যাবে না, টাইম স্লট খালি নাই ওয়েবসাইটে, সেটাও হয়ে গেল কিছু ছাড়াই— রেফারেন্সে। 

আমার বান্ধবীর কথা শুনেন। সে সচিবের ছেলের বউ। সে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স করছে বাড়ির ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে। ড্রাইভিং এর ড না জানলেও সে লাইসেন্স পেয়ে গেছে, কারণটা আর নাইবা বললাম। 

বান্ধবী পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না আমার নিজের বোনের পাসপোর্ট ৩ বার সংশোধন করতে হইছে। ওর নাম সুচিস্মিতা তিথি। বারবার পাসপোর্টে নাম আসে সুস্মিতা তিথি। নাম সংশোধন করা চাট্টিখানি ব্যাপার? তার উপর রেফারেন্স ছাড়া! তৃতীয়বার সংশোধনের লাইনে দাঁড়ানো আমরা দুই বোন। কাউন্টারে আমি ইচ্ছা করে ওর পিছনে দাঁড়ালাম। বললাম, তুমি কথা বল। ও কাউন্টারের লোককে বলল, আমার নাম আবারও ভুল আসছে। নাম হবে সুচিস্মিতা, লেখা হইছে সুস্মিতা। আপনারা এতবার একই ভুল করেন কেন? 

আরও পড়ুন


আশ্রয়ণ প্রকল্প: এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করলো?

আগের স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই মাহিকে বিয়ে করেছে রাকিব

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

নাশকতার মামলায় নওগাঁর পৌর মেয়র সনিসহ বিএনপির ৩ নেতা কারাগারে


লোকটা ওকে এমন ধমক দিল! বলল, এগুলা আবার কী নাম! মানুষের নাম সুস্মিতাই না হয়, সুচিস্মিতা আবার মানুষের নাম হয় নাকি? এগুলা আবার কী নাম? আমার ছোটবোন তো একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এবার আমি সামনে গিয়ে বললাম, আপনার নাম আকরাম কেন, মানুষের নাম মফিজই না হয়, আপনার নাম মফিজ কেন না, আকরাম আবার কেমন নাম? (তার নেমপ্লেটে নাম লেখা ছিল আকরাম)।

লাইনের লোকসব হাহা করে হাসতে শুরু করল। আমার ধমকে সে লোক লবণ পড়া কেঁচোর মত গুটায়ে গেল। সে হয়ত ভাবছিল আমি ওকে ধমক দিচ্ছি মানে আমি কোনো কেউকেটা। তাই আর ঘাটায়নি। ক্ষমতা কাঠামো থেকে দূরের লোকদের কী পরিমাণ হেনস্তা এরা করে সেটা ক্ষমতাবানদের জন্য অকল্পনীয়।

শুধু সরকারি কেন, যে কোনো সার্ভিস সেক্টরে কাজ করা লোকজন এখনো স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা, কী কী কাগজ লাগবে সেটা একবারে জানানো আর কাজ শেষে থ্যাংকু বলা— এগুলি একেবারেই শেখে নাই। 

একটা ৫০ বছর বয়সী দেশ, এত ধনী, এত রেস্টুরেন্ট, এত বিল্ডিং, এত গাড়ি অথচ সার্ভিস এখনো এরকম— খুবই দুঃখজনক।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

শান্তা আনোয়ার

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

বাংলাদেশে কত অপূর্ব সম্পদ ছিলো সেটা আমরা তো ভুলেই বসে আছি। এমনকি আমরা অনেকেই কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো। কয়েকদিন আগে আমি লাল কলার বিষয়টা লিখেছিলাম যার নামটা ঢাকা রেড। লাল কলা খেয়েছি দেখেছি অথচ আমরা জানতামই না এটার নাম ঢাকা রেড।

আজকে লিখছি রংপুর লাইমের কথা। আমাদের রংপুর অঞ্চলে এই বিশেষ জাতের লেবু জন্মাতো। উজ্জ্বল কমলা রঙের এই লেবু আসলে লেবু আর ম্যান্ডারিনের ক্রস।

কমলার মতো খুব সহজেই খোসা ছড়ানো যায় এবং কোয়া খোলা যায়। কিন্তু এটার রস স্বাদে তীব্র টক এবং একটা বন্য ফুলের সুবাস আছে। এই স্বাদ আর বন্য ফুলের সুবাসের জন্য এই ফলে বৃটিশদের চোখে পড়ে। এই গাছের বীজ নিয়ে সারা দুনিয়াতেই ছড়িয়ে দেয়া হয়। অনেক রান্নায় রংপুর লাইম ব্যবহার করা হয় বিশেষ স্বাদ আর গন্ধ আনতে। একটা জিনে রংপুর লাইম ব্যবহার করা হয় জন্য সেই জিনের নামই দেয়া হয়েছে রংপুর তানকোয়ারি।

বৃটিশরা অকৃতজ্ঞ না, রংপুরের নামটা রেখেছে নইলে আমরা হয়তো কখনোই জানতাম না এই ফলটা ছিলো একান্তই আমাদের।

news24bd.tv এসএম

আরও পড়ুন


নাশকতার মামলায় নওগাঁর পৌর মেয়র সনিসহ বিএনপির ৩ নেতা কারাগারে

ওহরাহ হজ করতে গেলেন ৭ টাইগার ক্রিকেটার

‘কুইক রেন্টাল’ বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও ৫ বছর চালাতে সংসদে বিল পাস

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


 

পরবর্তী খবর

থামেন; শেক্সপিয়ারকে শেখ জুবায়ের বানায়েন না

আলী আজম

থামেন; শেক্সপিয়ারকে শেখ জুবায়ের বানায়েন না

মুফতি কাজী ইব্রাহিম গাদ্দাফির বরাতে বলেছেন, বিখ্যাত ব্রিটিশ নাট্যকার ও সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ার একজন আরব, তার আসল নাম শেখ জুবায়ের। এটাকে কি মিথ্যাচার বলা যাবে? প্রচলিত কন্সপিরেসিকে থিওরি যাচাই না করেই বহু মানুষের কাছে প্রচার করা বিষয়ে আপনার কী মতামত?

একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়- মুফতি ইব্রাহিম বলছেন, শেক্সপিয়ারের আসল নাম শেখ জুবায়ের। তিনি আরবের লোক’। ভিডিওতে মুফতি ইব্রাহিমকে দেখা যায় একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করছেন। এ বিষয়ে মুফতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি সম্ভবত ১০-১২ বছর আগের। আমি মাহফিলে যে বক্তব্য দিয়েছি, সেটি বলেছিলেন লিবিয়ার গাদ্দাফি।

আরও পড়ুন: 


সরকারি আটায় রুটি তৈরি করা কারখানায় অভিযান চলছে

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া চলে গেলেন

ঘাস সংগ্রহ করতে নাগর নদী পার হচ্ছিল মৃত দুই নারী

নীলফামারীতে বিমান কোস্টার সার্ভিস উদ্বোধন


উনি বলেছিলেন, আরবের যেসব পরিবার হিজরত করেছিল তাদেরই বংশধর শেক্‌সপিয়ার। কথাটি আমি প্রথম গাদ্দাফির বক্তব্যেই শুনেছি।

তিনি বলেন, ইংরেজদের নামের পরিবর্তনের ধারায় শেক্সপিয়ার নামটিও পরিবর্তন হয়েছে। যেমনটা পরিবর্তন হয়েছে ইসহাক থেকে আইজাক, ইবনে সিনা, এবেসিনা, ইউসুফ থেকে যোশেফ।

এখন কথা হলো এযুগে এসেও যদি যাচাই-বাছাই না করে অন্য কারও মতামত অন্ধভাবে বিশ্বাস করে বসা আপনার অভ্যাস হয়ে থাকে, তাহলে আপনার শিক্ষা-দীক্ষাই তো সম্পূর্ণ ব্যর্থই। সে অর্থে যদি আপনাকে অশিক্ষিত বলাটাও ভুল হবে না। সেটা আপনি ওয়াজ শুনেই বিশ্বাস করুন আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পড়েই করুন, যেখান থেকেই হোক। পিয়ার-রিভিউড পেপার তো আর পড়ছেন না যে বিশ্বাস করবেন।

এখানে একটা কথা উল্লেক করি , ইংল্যান্ডের বাসিন্দা থমাস শেক্সপিয়ারের ছেলে জন শেক্সপিয়ার, জন শেক্সপিয়ারের ছেলে রিচার্ড শেক্সপিয়ার, রিচার্ড শেক্সপিয়ারের ছেলে আবার আরেক জন শেক্সপিয়ার সেই জন শেক্সপিয়ারের ছেলে ছিল উইলিয়াম শেক্সপিয়ার।

গাদ্দাফি কিংবা আরও যেই বলুক, শেক্সপিয়ার আরবের কি না, শেখ জুবাইর তার নাম কিনা, এগুলো সবই কনস্পিরেসি (ষড়যন্ত্র তত্ত্ব) থিওরি। আমরা অতীত রেকর্ড থেকে জানি মুফতি কাজী ইব্রাহিম কোট করে বা না করে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে থাকেন।

মুফতি ইব্রাহীম তো নিজে নিজে বলেন না, অমুক জায়গার ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তমুক জায়গার ‘আজগুবি আলাপ’, এগুলো সংগ্রহ করে ওয়াজে উল্লেখ করেন। কিন্তু তিনি কি এটা যোগ করে দেন যে, এগুলো কেবলই প্রলাপ এবং প্রমাণিত সত্য নয়? এটা কি বলে দেন যে, এগুলো বিশ্বাস করবেন না?

এই ইন্টারনেটের যুগে আজগুবি তত্ত্ব জানা যেমন সহজ, সেগুলোর রিফিউটেশন জানাও সহজ। ইচ্ছা থাকলে দুটোই জানা যায়। আর ইচ্ছা না থাকলে, কেবল একটি। তবে প্রথমটিতে ট্রাফিক বেশি।

সদিচ্ছা থাকলে রিফিউটেশন দেবেন। ভক্তদের অন্ধভক্তি আর প্রতিবাদের অভাবই মানুষকে ভুলদিকে নিয়ে যায়।

শেক্সপিয়ারকে আরব প্রমাণ করলে তাতে ইসলামের কী উপকার হবে জানি না। মুফতি ইব্রাহীম যদি একইভাবে একথা লিখতেন, তাহলে এটাকে মিথ্যাচার বলা যেত না। কিন্তু তিনি যে পন্থায় কথাগুলো বলেছেন আর ছড়াচ্ছেন সেটা হলো সজ্ঞানে। তার ভক্তকূলকে এই আধুনিক তথ্যের ‍যুগে ভুল শেখানো।

লেখক- আলী আজম (সাংবাদিক)

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

স্কুলে গেলেও শিক্ষার্থীর ইউটিউব লাগবে

আনোয়ার সাদী

স্কুলে গেলেও শিক্ষার্থীর ইউটিউব লাগবে

ডিভাইজ মানে ল্যাপটপ, মোবাইল ও ট্যাব নিয়ে অভিভাবকদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। করোনা আসার আগে অভিভাবকরা সন্তানের ডিভাইজ আসক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। করোনা আসার পর এই ডিভাইজের কিছুটা কার্যকর ব্যবহার অভিভাবকরা শিখতে পারলেন। সন্তানরা আরো বেশি করে ডিভাইজে ডুবে গেলো। স্কুল খোলা রেখেও বোধ হয় এসব ডিভাইজের জগৎ থেকে আমরা আর বের হতে পারব না। কেন পারব না তা বলতেই এই লেখা।

ডাক্তার দেখানো থেকে বাজার করা, শহরের মানুষের মোবাইল ফোন দারুন সব সমাধান দিয়ে দিচ্ছে। মহামারীর কারণে যারা ভিড় এড়াতে চেয়েছেন, তারাই এসব ডিভাইজের সহায়তা নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি অবশ্য আলাদা। তাদেরকে অনলাইনে ক্লাস করতে হয়েছে ফোন অথবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে। ফলে, কেজি ও নার্সারির অনেক শিক্ষার্থীর এখন নিজস্ব ল্যাপটপ আছে। ফেইসবুকে বাবা কিংবা মায়ের একাউন্ট ব্যবহার করে অনেকের পারিবারিক গ্রুপ আছে, যেখানে কেজি কিংবা প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নানা, মামা, চাচাদেরকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করে, নিয়মিত। সকালে ঘুম থেকে জেগে সবাইকে বার্তা দেয় শুভ সকাল, রাতে শুভরাত্রি।

শিক্ষকরাও অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে নতুন নতুন শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেছেন। এসব উপকরণের মধ্যে ইউটিউব বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকে পা্ওয়ার পয়েন্টে পড়া তৈরি করে উপস্থাপন করেছেন। জি, পাওয়ার পয়েন্ট এখন আর কর্পোরেট এক্সিকিউটিভদের দখলে নেই, এটা অনেক আগেই শিক্ষা উপকরণ হয়ে গেছে।

আগে কালো বোর্ডে সাদা চক বা সাদা বোর্ড রঙিন মার্কার --শিক্ষার্থীদের জগতে বইয়ের মতো মনলোভা ছিলো। এখন ইউটিউবে মোশন তাদের জন্য শেখার কাজটি সহজ করে দিয়েছে। এই রঙিন দুনিয়াকে পাশ কাটিয়ে শুধু বই ও চক ডাস্টারের দুনিয়ার ফিরে গেলে, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারাবে, সন্দেহ নেই। ফলে, ক্লাসরুমেও তাদেরকে ডিভাইজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। শহরের স্কুলগুলো সে ব্যবস্থা করলেও, গ্রামের স্কুলগুলো কতোটা পারবে, সংশয় আছে। তবে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এখন শিক্ষার্থী যদি ডিভাইজ ছাড়া শেখার সময়ে মনোযোগ হারায় তাহলে শিক্ষককে বিরক্ত হওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে শিক্ষকের বিরক্তি প্রকাশ শিক্ষার্থীর মাঝে পড়ার বিষয়ে অনীহা তৈরি করতে পারে। আর একবার শিশুর পাঠে অনীহা তৈরি হলে তা ফিরিয়ে আনা কতোটা কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কে বুঝবে?

ফলে, স্কুল খুললেও ইন্টারনেট ভিত্তিক পড়ালেখা বরং অনেক বেশি আবেদন এরইমাঝে তৈরি করেছে বলে মনে করা যায়। সত্যি আমাদের শিক্ষকদের ওপর দিয়ে বেশ ভালোই ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য ভালোবাসা রইল।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর