নুসরাতকে দিয়ে বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের ফের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক


নুসরাতকে দিয়ে বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের ফের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা

ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের বৃহত্তর শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে ঘায়েল করতে ব্যর্থ হয়ে এবার নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ওরফে বিচ্ছু সামশু এবং তার ছেলে নাজমুল করিম শারুন চৌধুরী। তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবার আটজনকে আসামি করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মামলাটি করেন মোসারাত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।

তবে সূত্র জানায়, এ মামলার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন সামশু-শারুন সিন্ডিকেট। বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের অপকর্মের বিপক্ষে যারাই সোচ্চার হন, তাদের দমনে সামনে আনা হয় ‘মুনিয়া ইস্যু’। আর, ঘুরেফিরে মুনিয়ার বোন নুসরাতই তাদের মূল অস্ত্র বা ‘দাবার গুটি’। গতকালের এ মামলায় এমন কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাঁরা দেশের বৃহত্তর শিল্পগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁদের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের আসামি করার মধ্য দিয়ে মূলত দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় কুঠারাঘাত করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় এমন কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে ওই ঘটনার দূরতম সম্পর্কও নেই। এ মামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

তথ্যমতে, ১৮ আগস্ট পটিয়ার যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে সামশু-শারুন সিন্ডিকেট। গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাটিও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত হিংসা, আক্রোশ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গতকাল দায়ের করা মামলায় নুসরাতের আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে ব্যারিস্টার এম সারোয়ারের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ও অপপ্রচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। মুনিয়া ইস্যু নিয়ে তারা এর আগেও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলেন।

জানা গেছে, বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি করোনা ভ্যাকসিন চুরি, ইয়াবা ব্যবসার গোমর ফাঁস, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, ব্যাংকার মোর্শেদ হত্যাসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন গণমাধ্যম। আর সে কারণে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনার দিনই গুলশান থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরার এমডিকে আসামি করে মামলা করেছিলেন মুনিয়ার বোন নুসরাত। ওই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেন গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান। তদন্তের ধাপে ধাপে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। শেষ পর্যন্ত মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলা থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির নাম প্রত্যাহার করে ১৯ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২২ জুলাই ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত। শুনানি শেষে ১৮ আগস্ট আদালত এ মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডিকে অব্যাহতি দেয়। পাশাপাশি পুলিশের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দাখিল করা নুসরাতের নারাজি আবেদনও খারিজ করে আদালত।

তবে অনুসন্ধান বলছে, মুনিয়ার মৃত্যুরহস্যে শারুন চৌধুরীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমনকি শারুনের বিরুদ্ধে মুনিয়াকে হত্যার অভিযোগও উঠেছিল। বিচ্ছু সামশু এবং তার ছেলের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিলেই নেমে আসে ভয়ংকর নির্যাতন। প্রতিশোধ নিতে শারুন চৌধুরী এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন যে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের বান্ধবী মুনিয়াকে হত্যা করেন। আর নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মুনিয়ার বোন নুসরাতকে কোটি টাকা দিয়ে বশ করে সাজানো মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালান।

এদিকে মুনিয়াকে হত্যার অভিযোগে আদালতে শারুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করেছিলেন মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। কিন্তু নুসরাতের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা চলমান থাকায় আদালত তখন সবুজের আবেদনটি স্থগিত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে সবুজের মামলার আবেদনটি স্থগিত রাখা হয়েছে, সেখানে নুসরাতের আরেকটি মামলা নিয়ে মাতামাতির বিষয়টি রহস্যজনক। অথচ চাইলে এখন সবুজের মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করা যেত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন এ মামলায় স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছাড়াও নিরপরাধ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন শারুন চৌধুরীর সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিম। মুনিয়ার সঙ্গে শারুনের পরকীয়ার জের ধরে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে এসেছিলেন। শারুনের নানা অপকর্মের সাক্ষী এই মিমকেও তাই নতুন মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি প্রথম মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে সত্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে নিরাপরাধ বাড়িওয়ালা দম্পতিকেও।

অন্যদিকে নুসরাতের নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে গত মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকেও। তাকে এ মামলায় আসামি করার কারণ হিসেবে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর রিমান্ডে শারুন চৌধুরী সম্পর্কে পিয়াসা স্পর্শকাতর অনেক তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন, যার কিছু অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়ায় বিপাকে পড়ে যান শারুন। সেই ক্ষোভ থেকে নুসরাতের এই সাজানো মামলায় পিয়াসাকেও আসামি করিয়েছেন শারুন চৌধুরী।

পুলিশকে সত্য বলায় দুই বাড়িমালিকও চক্ষুশূল : আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা তদন্তের একপর্যায়ে মুনিয়ার বাড়িওয়ালার জবানবন্দি নিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। সে সময় ওই বাড়ির মালিক শারমিন ও তাঁর স্বামী ইব্রাহীম আহাম্মদ রিপন গুলশান থানা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, মুনিয়ার বাসা ভাড়ার সঙ্গে আনভীরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। নুসরাত এবং তার স্বামী মিজানুর রহমান নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে সত্য তথ্য দেওয়ায় বাড়ির মালিকরাও শারুন সিন্ডিকেটের চক্ষুশূলে পরিণত হন। ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলায় তাঁদের দুজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মুনিয়ার ভাইয়ের মামলা অন্ধকারে : এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুর ছয় দিনের মাথায় ২ মে শারুনকে আসামি করে ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যা মামলার আবেদন (নম্বর ১০২১/২০২১) করেন নিহতের ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়া আবেদনটি গ্রহণ করলেও মুনিয়ার বোনের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্ত চলায় নতুন আবেদনের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন।

ওই আবেদনে সবুজ দাবি করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে শারুনের ব্যবসায়িক দ্ধন্ধ ছিল। এ কারণে মুনিয়ার মাধ্যমে আনভীরের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করেন শারুন। কিন্তু এতে অসম্মতি জানালে মুনিয়ার ওপর শারুন ক্ষিপ্ত হন। এর প্রতিশোধ নিতে শারুনই সহযোগীদের নিয়ে মুনিয়াকে হত্যা করেন।

সবুজের দাবি, তাঁর বোন মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছেন শারুন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা। ঘটনার দিন শারুন তাঁর বোন মুনিয়ার ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ঢুকে অজ্ঞাতনামাদের সাহায্য নিয়ে হত্যা করেন। পরে তাঁর বোনের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে কৌশলে বাসা থেকে বের হন। সবুজের দাবি, তাঁর বোন নুসরাত জাহান আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করার আগে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। নুসরাত প্রকৃত ঘটনা জানেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

গোমর ফাঁস করায় পিয়াসাও আসামি : ১ আগস্ট অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকসহ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা নামে কথিত এক মডেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় মরিয়ম আক্তার মৌ নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের রিমান্ডে নিলে যেন ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসা’র মতো ঘটনা ঘটে। পিয়াসার জবানবন্দিতে উঠে আসে বিভিন্ন রাঘব-বোয়ালের অনেক কুকীর্তির কথা। সেই রাঘব-বোয়ালদের অন্যতম শারুন চৌধুরী। রিমান্ডে পিয়াসা খুলে দেন নারী কেলেঙ্কারিসহ শারুন-সামশুলের অন্ধকার জীবনের নানা অধ্যায়। পিয়াসার সেই জবানবন্দি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পিয়াসার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শারুন। তাই পিয়াসাকে ঘায়েল করতে নুসরাতের নতুন মামলায় কৌশলে তাকেও আসামি করা হয়।

সাবেক স্ত্রীকেও ফাঁসাতে চান শারুন : অনেক সুখের স্বপ্ন নিয়ে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন সাইফা রহমান মিম। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন না যেতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় তাঁর। মাদকসেবী ও অর্থলোভী স্বামীর হাতে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। নির্যাতনের পেছনে ছিল মুনিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামী শারুনের পরকীয়া। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে শারুনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন সাইফা রহমান মিম। এর পরও মিম মুখবুজে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। একপর্যায়ে শারুন যখন তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেন তখন আর চুপ থাকেননি মিম। শারুন ও শ্বশুর সামশুল হক চৌধুরী ওরফে বিচ্ছু সামশুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নির্যাতন সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শারুনকে তালাক দেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, সাইফা মিমের একমাত্র শিশুকন্যাকেও জোর করে আটকে রাখেন ভয়ংকর শারুন চৌধুরী। এ ঘটনায় মিম আদালতে ৩০৬, ৩০৭, ৩২৭, ৩৪০ ও ৩৭৭ ধারায় একটি মামলার আবেদন করেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।

এ বিষয়ে মিম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘শারুনের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে আমি কয়েক দফা সুইসাইড করার চেষ্টা করি। মোসারাত জাহান মুনিয়াসহ বহু নারীর সঙ্গে শারুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। মুনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কথা বললে সে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি আমাকে ও আমার মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। তার সঙ্গে সব সময় পিস্তল থাকে। ওই পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখায়।’

মিম আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তাদের নির্যাতনের কাছে হার মানতে হয়। মুনিয়ার পরকীয়ার কারণেই আমাকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। এমনকি আমার শিশুকন্যাকেও আমার বুক থেকে কেড়ে নিয়েছে। একটিবার দেখতেও দেয় না। এখন প্রতিশোধ নিতে সেই শারুনের বান্ধবী মুনিয়ার বড় বোন বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে। কিন্তু আমি যে মামলা শারুনের বিরুদ্ধে করতে চেয়েছিলাম, শারুন সিন্ডিকেটের অদৃশ্য হাতের ইশারায় মামলাটি আমলে নেওয়া হয়নি।’

সুত্র:  বাংলাদেশ প্রতিদিন

 news24bd.tv/এএ  

পরবর্তী খবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়লে কঠোর ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়লে কঠোর ব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের মনিটর করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


সম্প্রতি দেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কতিপয় ব্যক্তি, গোষ্ঠী উদ্দেশ্য প্রণোদিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চক্রান্তকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট কিংবা বিভিন্ন তথ্য বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামরুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যে কোনো মাধ্যমে গুজব/বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং অযাচাইকৃত সংবাদ বিশ্বাস না করতে সকলের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাদেশে আ.লীগের সমাবেশ কাল

অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাদেশে আ.লীগের সমাবেশ কাল

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সারাদেশে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 

আজ সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলায় ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ আয়োজন করবে। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলের সব নেতাকর্মীকে দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতা প্রতিরোধের নির্দেশ দেন।

যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যখন মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিক সে সময়ে একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সরকার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে এবং বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


সরকার পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং এই ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, এস. এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুজ্জামানের পাটানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কিছু ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চক্রান্তকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা বিভিন্ন তথ্য বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের মনিটর করছে ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ যে কোনো মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং যাচাই ছাড়া সংবাদে বিশ্বাস না করতে সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সার্বিক সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা: পরিকল্পনা মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা: পরিকল্পনা মন্ত্রী

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা।

তিনি বলেন, শিশুরা সবার কাছে আদরের। অথচ আমরা এমন একটা জাতি যে শিশু শেখ রাসেলকে হত্যা করলাম। এই নিষ্ঠুরতা মেনে নেওয়া যায় না।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ১৯৮৮ সালে আমি চট্টগ্রামের ডিসি ছিলাম। ডিসি থাকার সময় শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলাম। এই সংবাদ চট্টগ্রামের পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণ ও দৈনিক আজাদীতে বড় করে ছাপা হয়। এরপরে আমাকে রাতারাতি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়। আমার স্ত্রীকে চট্টগ্রামে রেখে একা ঢাকায় চলে আসি। ঐ সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। আমি তো রাজনীতিবিদ নই, আমলা হয়ে কেন এমন কথা বললাম- তার জবাব চাওয়া হয়। কেবিনেট সচিব আমাকে বলে, তুমি কি নেতা হয়ে গেছো?

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


তিনি আরও বলেন, শেখ রাসেল আমার চেয়ে ২০-২৫ বছরের ছোট। এক অদম্য প্রাণ। রাসেল আমাদের জন্য অনেক অবদান রাখতে পারতো অথচ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এটা অনেক লজ্জার ও ঘৃণার।

সভায় বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ড. বিনায়েক সেন প্রমুখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

শেখ রাসেলকে আঁকলো ছোট্ট সোনামনিরা

অনলাইন ডেস্ক

দেড় বছর বয়‌সে মা‌য়ের কো‌লে চড়ে কারাবন্দী বাবার সঙ্গে দেখা কর‌তে যেত ছোট্ট রা‌সেল। শিক্ষ‌কের মু‌খে সেই গল্প শু‌নেছিল এমসিপিএস (মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ)-এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আরীষা। পরে সেই ঘটনাকেই রং তু‌লির আঁচ‌ড়ে সে রূপ দিয়েছে ছোট্ট ক্যানভাসে।

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা রহমান প্রগতির ক্যানভাসে আছে আরেক গল্প। শেখ রাসেল ভালোবাসতো ফড়িংয়ের পেছনে ছুটতে। তাই বন-জঙ্গল ছিল তার ভীষণ পছন্দের। সেজন্য জন্মদিন উপলক্ষে বাবার কাঁধে চড়ে ঘুরতে বেরিয়েছে সে। আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে দিনটি উদযাপন করেছে সুন্দর এক ফুল বাগানে।

শহীদ শেখ রাসেলকে নিয়ে এমন অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনা রং তু‌লির আঁচ‌ড়ে রঙিন হয়ে ওঠে শিশুদের ক্যানভাসে। সেই ক্যানভাসে অংশ নেয় লাল-নীল-হলুদ-সবুজ অসংখ্য রং।

আজ সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় এভাবেই শহীদ শেখ রাসেলের নানা স্মৃতি রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন ছোট্ট সোনামনিরা।

আরও পড়ুন:


ফতুল্লায় সুজন ফকির হত্যাকাণ্ডে দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

মন্দিরে হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

প্রেম করে বিয়ে করায় ৪ নাতি ও ২ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

বড় ভাই শেখ জামালের মতো সেনা অফিসার হতে চাইতো শেখ রাসেল: প্রধানমন্ত্রী


আঁকিয়েদের সবার বয়স ১১ বছরের কম হলেও তাদের আঁকা চিত্রকর্মে যেন ফুটে ওঠে বাংলাদেশের ইতিহাস।

এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ক্লাবের মাঠটি মুখর ছিল শিশুদের পদচারণায়। সবার হাতে ছিল রং-তুলি আর স্কেচবোর্ড। ‘শহীদ শেখ রাসেল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২১’ এ অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হয় প্রায় দুইশ’ খুঁদে প্রতিযোগী।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শেখ রাসেলের জীবনের নানা মুহূর্ত ফুটে ওঠে শিশুদের রং তুলিতে। বিচারকদের মন জয় করে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজ জামান। দ্বিতীয় হন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা ভৌমিক ও তৃতীয় হয়েছেন নারায়ন আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়সী সাহা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। তিনি খুঁদে চিত্রকরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আগত অতিথি ও শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন। এরপর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও নঈম নিজাম, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাবলু, পরিচালক (ক্রীড়া) সালেহ জামান সেলিম প্রমুখ। 

প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পেয়েছে এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা ও তৃতীয় পুরস্কার ছিল ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। প্রতিযোগীদের মধ্যে ২৭ জনকে শুভেচ্ছা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। অংশগ্রহণকারী সকলকেই সার্টিফিকেট ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘শেখ রাসেলকে নিয়ে যা আঁকতে ভালো লাগে’। দেড় ঘণ্টার প্রতিযোগিতায় শিশুরা মনের মাধুরি মিশিয়ে রঙ-তুলিতে নিজের মতো করে আঁকেন শেখ রাসেলের জীবনের নানা মুহূর্ত। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারক ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন, সহকারী বিচারক ছিলেন শহীদ আনোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষক শেখ ফারহানা টুম্পা এবং তরুণ শিল্পী ও কালের কণ্ঠের কার্টুনিস্ট প্রসূন হালদার।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু বলেন, শহীদ শেখ রাসেল নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কাছে এক ভালোবাসার নাম। শেখ রাসেলের এই ছোট্ট জীবন আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয়।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিষয়ে অভিভাবকরা বলেন, করোনার কারণে শিশুরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দী ছিল। তারা মানসিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই সময়ে। সকল ধরনের আয়োজন বন্ধ থাকায় কোথাও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না তাদের। শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শিশুরা খুব আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। এমন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তারা।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর