তালেবানের নেতৃত্ব যার হাতে, তার ছেলে আত্মঘাতী হামলাকারী!
তালেবানের নেতৃত্ব যার হাতে, তার ছেলে আত্মঘাতী হামলাকারী!

তালেবানের নেতৃত্ব যার হাতে, তার ছেলে আত্মঘাতী হামলাকারী!

অনলাইন ডেস্ক

 হিবাতুল্লাহ আখুনজাদা হলেন তালেবানের শীর্ষ নেতা যিনি কি না 'বিশ্বাসীদের নেতা' নামে পরিচিত। ইসলাম ধর্ম বিশেষজ্ঞ হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার অবস্থান বা তার দৈনন্দিন জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি।

ধর্মীয় ছুটির দিনে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বার্তা ছাড়া আর কোনো তথ্যই তিনি প্রকাশ্যে আনেন নি। কখনো জনসম্মুখেও দেখা যায়নি তালেবানের এই শীর্ষ নেতাকে।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নতুন সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। গত মাসে গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলেও রহস্যময় আখুনদজাদা এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি। কিন্তু তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্ব তার হাতেই: ২০১৬ সাল থেকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামরিক কর্তৃত্ব এককভাবে তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

রয়টার্সের খবর আনুযায়ী, এক বিবৃতিতে আখুনদজাদা বলেন, আমাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে আমরা গড়ে তুলব।

কট্টর এই ধর্মীয় নেতার ছেলে আবদুর রহমান ছিলেন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। তিনি তার অধিকাংশ নেতৃত্ব দিয়েছেন ছায়ার আড়ালে থেকে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনী আফগান ছাড়ার আগে শান্তি আলোচনায় হিবাতুল্লাহ আখুনদজাদা নিজে অংশ নেননি। বরং অন্যান্য নেতাদের সুযোগ করে দিয়েছেন।

বয়স থেকে শুরু করে তার সম্পর্কে মৌলিক তথ্যের সত্যতা যাচাই করা খুবই কঠিন। তবে তিনি ষাট বছর বয়সী হতে পারেন বলেন মনে করা হচ্ছে। যদিও তালেবান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি সঠিক নির্দেশনা দিতে পেরেছেন। আন্দোলনের মধ্যকার বিভক্তি দূর করে সামরিক বিজয়ে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া করতে সক্ষম হয়েছে।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর কান্দাহারের একটি ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আখুনদজাদা। তালেবান প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকের সদস্য ছিলেন তিনি। আফগান গৃহযুদ্ধের ভস্ম থেকে হেলমন্দ প্রদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তালেবান।

জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান শাসনে কঠোর শরিয়া আইনের ব্যাখ্যাদাতাদের একজন ছিলেন আখুনদজাদা। তখন তিনি দেশটির বিচার ব্যবস্থার প্রধান ছিলেন।

১১ সেপ্টেম্বরের পর আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন ও তালেবানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার পর পাকিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নেন আখুনদজাদা। সেখানের একটি মসজিদে তিনি ১৫ বছর ধরে ইসলাম প্রচার করেছেন। তার ছাত্র ও সহকর্মীরা তাকে অধ্যাবসায়ী, নিয়মানুবর্তী ও অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আরও পড়ুন:


যুদ্ধ ও সন্ত্রাসমুক্ত আফগানিস্তান দেখতে চায় ইরান: আব্দুল্লাহিয়ান

নার্স দিয়ে ডেলিভারি, দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

একবার একটু দেখেন না আমার দিকে, কী করে বেঁচে আছি: পরীমণি


২০১৪ সালে কোয়েটায় গণমিছিলে তার বক্তৃতার কথা উল্লেখ করে সাবেক এক ছাত্র বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক শক্তি নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। কখনোয়ই জিহাদ ছাড়বেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

মার্কিন ড্রোন হামলায় মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হওয়ার পর বছর পাঁচেক আগে যখন তালেবান নেতাদের বৈঠক হয়েছিল, তখন শীর্ষ নেতা হিসেবে আখুনদজাদাকে যাচাই করা হয়নি। তিনি শক্তিশালী নুরজাই উপজাতি থেকে এসেছেন। সরকারে তার আধিপত্য সৈন্যসংখ্যা দিয়ে না, পাণ্ডিত্য দিয়ে। তিনি প্রয়াত তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মৌলভী ইয়াকুব, সিরাজউদ্দিন হাক্কানির মধ্যে আপস করতে সক্ষম হয়েছেন।

যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু ২০১৭ সালের জুলাইয়ে হেলমান্দ প্রদেশে আফগান সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে গিয়ে নিয়েছেন তার ছেলে আবদুর রহমান।

news24bd.tv রিমু