সূরা বাকারা: আয়াত ৫৭-৬০, ফিলিস্তিনে যাওয়ার নিদের্শ ও অবমাননা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৫৭-৬০, ফিলিস্তিনে যাওয়ার নিদের্শ ও অবমাননা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৫৭ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৫৭ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ (57)

"(হে বনী ইসরাইল!) আমি তোমাদের ওপর মেঘ দ্বারা ছায়া দান করেছিলাম এবং তোমাদের জন্য মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করেছিলাম। আর বলেছিলাম তোমাদের যে জীবিকা দান করলাম সেই পবিত্র বস্তু হতে খাও। তারা (আমার নির্দেশ অমান্য করে) আমার কোন অনিষ্ট করেনি বরং নিজেদেরই অনিষ্ট করেছিল।" (২:৫৭)

মহান আল্লাহ ফেরাউনের কবল থেকে বনী ইসরাইলকে রক্ষা করার পর তাদেরকে ফিলিস্তিনে যাবার নিদের্শ দেন। কিন্তু সেখানে অত্যাচারীদের শাসন ব্যবস্থা বিরাজ করছে এই অজুহাত দেখিয়ে ইহুদীরা সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। ফলে আল্লাহর ক্রোধ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। অর্থাৎ তাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে এল এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা সিনাই উপত্যকায় ভবঘুরের মত ও অস্থির হয়ে ঘুরে বেড়াল। এই দীর্ঘ সময়ে অবশ্য তাদের অনেকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হলো এবং মহান আল্লাহ পুনরায় তাদের ওপর দয়া করলেন। আর ওই দয়া ও অনুগ্রহের কথাই এ আয়াতে বলা হয়েছে। ওই তপ্ত ও শুষ্ক মরুভূমির ওপর ছায়াদান ছাড়াও আল্লাহ তাদেরকে সেখানে দু'ধরনের খাবার দিচ্ছিলেন। প্রথম ধরনের খাবার ছিল মধু জাতীয় এক ধরনের খাবার যা গাছের রস থেকে তৈরি হতো। এ খাবারকে বলা হতো মান্না। আর সালওয়া অর্থাৎ দ্বিতীয় ধরনের খাবার ছিল কবুতর জাতীয় এক ধরনের পাখি।

এরপরের আয়াতে অর্থাৎ ৫৮নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ (58

"স্মরণ কর যখন তোমাদের বলেছিলাম এই শহর অর্থাৎ বায়তুল মোকাদ্দাসে প্রবেশ কর এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছে স্বাচ্ছন্দে আহার কর। দরজার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় নত শিরে প্রবেশ কর এবং বল আমরা আমাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাই। তাহলে আমি তোমাদের ক্ষমা করব এবং অচিরেই ভালো লোকদেরকে অতিরিক্ত দান করব।" (২:৫৮)

ইহুদীরা সিনাই উপত্যকায় ৪০ বছর ধরে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়ায়। এরপর তাদের পাপ ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ তা'লা তাদেরকে বায়তুল মোকাদ্দাস শহরে প্রবেশের নির্দেশ দিলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার জন্য 'হেত্বাতুন' শব্দটি বার বার উচ্চারণ করতে বললেন। এই শব্দের অর্থ হলো, আমাদের পাপ বা গোনাহগুলো মুছে ফেল ও আমাদেরকে ক্ষমা কর। এই আয়াত থেকে এটাও বোঝা গেল যে, পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের সময় বিশেষ সম্মান বা ভক্তি প্রদর্শন জরুরী। আর প্রার্থনা এবং ক্ষমা প্রার্থনার বাক্য ও রীতিও আল্লাহর কাছ থেকে শিখতে হবে। পরবর্তী আয়াতে ইহুদীদের পক্ষ থেকে কুৎসিত পন্থায় আল্লাহর আদেশ অমান্যের কথা বলা হয়েছে।

সুরা বাকারা’র ৫৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,

فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ (59)

"কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তারা তাদের যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল। তাই অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি প্রেরণ করলাম যেহেতু তারা সত্য ত্যাগ করেছিল।" (২:৫৯)

অপরাধী ইহুদীদের অনেকে বিদ্রুপের ছলে হেত্বাতু অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমরা ভুল করেছি বা ক্ষমা করে দাও" বলার পরিবর্তে হেনত্বাতু শব্দটি উচ্চারণ করেছিল, যার অর্থ হলো গম। আল্লাহর নির্দেশকে এভাবে খেলাচ্ছলে গ্রহণ করায় তাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে এবং তাদের মধ্যে প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতে এটা স্পষ্ট যে, শুধু আদেশ অমান্যকারী ওপরই এই রোগ বা শাস্তি নেমে এসেছিল, সবার ওপর নয়। এই আয়াত থেকে এটা বোঝা যায়, যে সমাজের মানুষ সত্য থেকে পলায়নের চেষ্টা করে বা সত্যকে অমান্য করে কিংবা এ ব্যাপারে ঔদ্ধত্য দেখায়, সেই সমাজের ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এরপর ৬০নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ (60

"যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল। আমি বললাম, তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত কর। ফলে তা থেকে ১২টি ঝর্ণা প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ ঘাট অর্থাৎ পানস্থান জেনে নিল। তাদেরকে বললাম, আল্লাহর জীবিকা থেকে খাও ও পান কর এবং পৃথিবীতে শান্তি ভঙ্গ করে বেড়িও না।" (২:৬০)

যদিও হযরত মূসা (আ.) বনী ইসরাইলের কাছে প্রেরিত নবী বা পয়গম্বর ছিলেন এবং তার মূল দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঐশী পথ-প্রদর্শকরা মানুষের পার্থিব কল্যাণ ও পার্থিব সমস্যা নিয়েও চিন্তা করেন। তাই হযরত মূসা (আঃ) তার জাতির জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহ হযরত মূসা (আঃ)-এর দোয়া কবুল করেন এবং অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে তাদেরকে পানি দান করেন। এজন্যে তিনি হযরত মূসা (আ.)কে তার সেই লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করতে বলেন, যে লাঠির আঘাতে তিনি নীল দরিয়ায় শুকনো পথ সৃষ্টি করেছিলেন। এভাবে আল্লাহ তাদের এটাও বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, তার নবী যেকোন কাজ করতে সক্ষম। বনী ইসরাইল বা ইসরাইলের বংশধরদের মধ্যে ১২টি গোত্র বা গোষ্ঠী ছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের জন্য ১২টি ঝর্ণা বা প্রস্রবন সৃষ্টি হলো, যাতে প্রত্যেক গোত্র আলাদাভাবে পানি পেতে পারে এবং পানির সংকট দেখা না দেয়। এভাবে আল্লাহ একদিকে মান্না ও সালওয়া খাবার পাঠিয়ে এবং অন্যদিকে যথেষ্ট পানির ব্যবস্থা করে ইহুদী জাতির কল্যাণের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যাতে তারা পাপাচার, নৈরাজ্য ও হঠকারিতা থেকে দূরে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন


হুইপ সামশুল ধ্বংস করেছেন পটিয়া আ.লীগের একতা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

তালেবান সরকার নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নুসরাতকে গ্রেফতার করলে খুলবে ষড়যন্ত্রের জট


সূরা বাকারা’র ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০ নম্বর আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে-

১. আল্লাহ মানুষের জীবিকা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। তাই বলে পশুর মত যে কোন পন্থায় পেট ভরানোর চিন্তাতেই ব্যস্ত থাকা উচিত নয়। তাই মানুষ হিসাবে আমাদেরকে হালাল রিযিকের সন্ধান করতে হবে। যেমনটি সূরা বাকারাহ'র ৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-'তোমাদেরকে যে জীবিকা দান করলাম সেই পবিত্র বস্তু হতে খাও।'

২. আল্লাহ ক্ষমাশীল। কিন্তু তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা হতে হবে আন্তরিকভাবে। অন্তর থেকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে মৌখিকভাবেও ক্ষমা স্বীকার করতে হবে। যেমন সূরা বাকারাহ'র ৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-নত শিরে প্রবেশ কর এবং বল আমরা ক্ষমা চাই।

৩. আল্লাহর ইবাদত বা নির্দেশ যথাযথভাবে বা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করতে হবে। তা না হলে তা পূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না বরং তা হবে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবমাননা ও ঐদ্ধত্য বা হঠকারিতা প্রকাশ।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ। তার নির্দেশনায় কেউ কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তার দেখানো পথেই লুকায়িত কল্যাণ ও মুক্তি। সবার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যবহার ছিল মানবিক। হাদিসে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

মানুষের জীবন পরিচালনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর কথা-বার্তা ধরনেও রয়েছে শিক্ষা। তিনি কি ভাবে, কোন ভঙ্গিতে কথা বলতেন! তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কেরামে বর্ণনা থেকে যা পাওয়া যায়। তাহলো-

১. স্পষ্ট ও ধীর স্থির কথা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে কথা বলতেন, যা শুনে সবাই তার কথাগুলো আত্মস্থ করতে পারতেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের মতো এমন তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না; এক নাগাড়ে কথা বলে যেতেন না। বরং তিনি স্পষ্ট ও ধীর-স্থিরভাবে কথা বলতেন। তার বৈঠকে যারা উপস্থিত থাকতো; সবাই তার কথাগুলো মুখস্থ করে ফেলতো।’ (তিরমিজি)

২. সহজ ও নরম

বিশ্বনবীর কথাগুলো ছিল এত সহজ ও নরম যে, সবার কাছে তার কথাগুলো বোধগম্য ছিল এবং সহজেই শ্রোতারা তা বুঝতে পারতেন। কথা বলার সময় উম্মতের প্রতি এতো খেয়াল রাখতেন যে, কে কতটুকু কথা বুঝতে সক্ষম; সে অনুসারেই তিনি কথা বলতেন। তার কথা বলার ধরন কখনও শ্রোতাদের বুঝ শক্তির সীমা অতিক্রম করেনি। সহজ ও নরম কথা বলার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল ছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার পদ্ধতি ছিল ধীর-স্থির; যারাই তার কথা শুনতো সবাই তা বুঝতে পারতো।’ (আবু দাউদ)

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে ভয়ে ভয়ে কথা বলতে লাগলো; এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ভয় করো না; কেননা আমি কোনো রাজা-বাদশাহ নই। আমি তো এক নারীর সন্তান; যিনি শুকনো মাংস খেয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ)

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

সাইবার আগ্রাসন থামছেই না

সুতার বাড়তি দামে বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা


৩. বার বার কথা বলা

কথা বলায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন বিনয়ী, উদার ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। তার কথা বুঝার সুবিধার্থ তিনি একটি কথা তিনি বার বলতেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (কোনো) কথাকে ভালভাবে বুঝার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথাকে তিন বার করে পুনরাবৃত্তি করতেন।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার ধরনও মুমিন মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মানুষের সঙ্গে নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলতেন। ব্যবহারেও তিনি কোমল ছিলেন। তাই কোনো মুসলিমের কথা বলার ধরন যেন এমন না হয় যে, কথা শুনেই যেন কারো মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয়। কথা যেন এত কঠিন না হয় যে, বুঝতে কষ্ট হয়। কথা যেন এমন না হয় যে, তাতে অস্পষ্ট ও অভদ্রতা প্রকাশ পায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরন অনুযায়ী কথা-বার্তা বিনিময় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ১২৮ থেকে ১৩৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ১২৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (128)

"(হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ.) বলেছেন) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত সৃষ্টি কর। আমাদেরকে ইবাদতের নিয়ম পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের ওপর ক্ষমা পরবশ হও৷ তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (২:১২৮)

হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সকল নির্দেশ নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন। এটাই তাঁর সাফল্যের মূল কারণ। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলো তিনি আল্লাহর নির্দেশের কারণে নিজের সন্তান ইসমাইলকে জবাই করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আর এই একই লক্ষ্যে হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, শুধু তিনি নিজেই নন, তাঁর সন্তান ইসমাইল ও তাঁর বংশধররাও যেন ঐশী বিধানের অনুগত হয়। কারণ সমস্ত পূর্ণতা হলো আল্লাহর দাসত্বের মধ্যে এবং তাঁর একক সত্ত্বার এবাদতের মধ্যে। অবশ্য ইবাদত বা আরাধনা হতে হবে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, সব ধরনের কুসংস্কার ও বেদআত বা কু-প্রথা থেকে মুক্ত হয়ে। আর এ জন্যেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছেন যে, হে খোদা! তোমার ইবাদতের পন্থা তুমি আমাদেরকে শিখিয়ে দাও, যাতে তুমি যেভাবে চাও সেভাবে তোমার ইবাদত করতে পারি।

সূরা বাকারাহ'র ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (129)

"হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াত তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।" (২:১২৯)

একদিকে বংশধরদের জন্য চিন্তা ও আন্তরিকতা এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ চিন্তার কারণে ইব্রাহীম (আ.) তাঁর দোয়ায় নিজের জন্য আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার আগে ভবিষ্যৎ বংশধরদের মুক্তি ও সৌভাগ্যের জন্য দোয়া করলেন। যেহেতু সৌভাগ্য আল্লাহর পথ-নির্দেশনা ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়, সেহেতু ইব্রাহীম (আ.) মানুষের জন্য একজন ঐশী পথ-নির্দেশক বা পয়গাম্বর পাঠানোর আবেদন জানান, যাতে করে তিনি তাদেরকে শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটান ৷

এরপর ১৩০ ও ১৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآَخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ (130) إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ (131)

"বোকা বা নির্বোধ ছাড়া আর কে ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ থেকে বিমুখ হবে ! নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (২:১৩০)

"তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, আত্মসমর্পণ কর তখন তিনি বলেছিলেন, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে আত্ম-সমর্পণ করলাম।"(২:১৩১)

এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ.)কে আল্লাহর মনোনীত একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে তাঁর ধর্ম ও আদর্শ অন্য সকল মানুষের জন্য আদর্শ হতে পারে। এটা কি নির্বুদ্ধিতা নয় যে, এমন একটি পবিত্র ও বিশুদ্ধ ধর্মকে ছেড়ে দিয়ে মানুষ শির্ক ও কুফরীর মত গোমরাহীর দিকে ছুটবে? অথচ এ ধর্ম হচ্ছে মানুষের প্রকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইব্রাহীম (আ.)-এর ধর্ম এত গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামের নবী গর্ব করে বলেছেন, তাঁর পথ হলো ইব্রাহীমেরই পথ, যে ইব্রাহীম যুক্তি দিয়ে কাফের বা অবিশ্বাসীদের নির্বাক করেছিলেন এবং সাহসিকতার মাধ্যমে একাই সমস্ত মূর্তিকে কুঠার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রেও চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে মক্কার উত্তপ্ত মরুতে পরিত্যাগ করেন এবং নিজের তরুণ সন্তানকে কোরবানী দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। এসবের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, তার অন্তর স্ত্রী ও সন্তানের জন্য অন্ধ ছিল না বরং তার অন্তর ছিল শুধু আল্লাহর জন্য নিবেদিত। এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহ এ ধরনের মানুষকে যোগ্যতা দিয়ে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে অন্যদের নবী ও নেতা হিসাবে নিযুক্ত করেছেন ৷ তাই ইব্রাহীম (আ.)এর পথ থেকে দূরে থাকা নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু নয় ৷

এরপর ১৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (132)

"ইব্রাহীম ও ইয়াকুব এ সম্পর্কে তাদের পুত্রদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, হে পুত্রগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলমান না হয়ে অন্য কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো না ৷" (২:১৩২)

একজন আন্তরিক ও দয়ালু পিতা শুধু সন্তানের বৈষয়িক স্বার্থ রক্ষারই চিন্তা করেন না বরং সন্তানদের চিন্তাধারার সুস্থতা ও বিচ্যূতিহীনতার দিকেই তিনি বেশী লক্ষ্য রাখেন। মৃত্যুর সময় আল্লাহর মনোনিত ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদেরকে শুধু পার্থিব ধন-সম্পদ বন্টনের ব্যাপারেই ওসিয়ত করেননি, একইসঙ্গে তৌহিদ ও ইবাদতের ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন


কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

সাইবার আগ্রাসন থামছেই না

সুতার বাড়তি দামে বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা

কুমিল্লায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী নিহত, আহত ১৫


এরপরের আয়াত অর্থাৎ ১৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন-

أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آَبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (133)

"ইয়াকুবের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে এল, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন তার পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে? তারা তখন বলেছিল-আমরা আপনার ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের যে একক প্রভু রয়েছেন-তাঁরই উপাসনা করব এবং আমরা তারই নিকট আত্মসমর্পণকারী ৷" (২:১৩৩)

একদল ইহুদী মনে করে, ইয়াকুব মৃত্যুর সময় তাঁর সন্তানদেরকে তৎকালীন ইহুদী ধর্মের যে বিশ্বাস তা গ্রহণের সুপারিশ করেছিলেন। আল্লাহ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তোমরা কি ইয়াকুবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলে যে এমন দাবি করছ? বরং সে তার সন্তানদেরকে এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল এবং তার সন্তানরা ওয়াদা করেছিল যে তারা শুধু এক আল্লাহরই ইবাদত বা দাসত্ব করবে। তৌহিদের অন্যতম যুক্তি হলো সব নবীই এক খোদার কথা বলেছেন এবং ইব্রাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকের খোদা ছিল একই ৷ যদি অন্য কোন খোদার অস্তিত্ব থাকতো, তাহলে তারাও মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য নবী পাঠাতেন ও নিজেকে মানুষের মধ্যে পরিচিত করতেন ৷

আলোচিত আয়াতগুলোর কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় -

১. মানুষ শুধু আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করবে। কারণ আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর কাছে নিজেকে সপে দেয়ার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

২. দোয়া করার সময় শুধু নিজের বৈষয়িক দিকের কথা চিন্তা না করে বরং সন্তান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সৌভাগ্যের জন্যও দোয়া করা উচিত।

৩. অশিক্ষিত ব্যক্তিই নির্বোধ নয় বরং নির্বোধ সেই যে জ্ঞান-বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

অপচয়কারীর শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক


অপচয়কারীর শাস্তি

অপচয়কে আরবিতে বলে ‘ইসরাফ’। বৈধ কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করাকে অপচয় বলা হয়। অপচয় করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। বরং আল্লাহ তায়ালা অপচয় করতে নিষেধ করেছেন।

অপচয় ছাড়া পানাহার বা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে কোনো অপরাধ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা আল আ’রাফ : ৩১)।

অপব্যয় না করার জন্য মহাগ্রন্থ আল কুরআনে বারংবার সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও অপচয় করলে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। কারণ অপব্যায়কারীদের আল্লাহ তায়ালা অপছন্দ করেন। এ বিষয়ে কুরআনের কয়েকটি আয়াত এখানে উল্লেখ করা হলে-

১. নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা বনী ঈসরাইল, আয়াত ২৬)

২. তিনিই হলেন যিনি বাগানগুলো উৎপন্ন করেন মাচা দেওয়া এবং মাচা ছাড়া এবং খেজুর গাছ ও বিভিন্ন রকমের ফসল, জলপাই ও ডালিম একই রকম। খাও এর ফলগুলো থেকে যখন তাতে ফল ধরে, এবং এর প্রাপ্য অংশ দাও ফসল কাটার দিনে, এবং অপচয় করো না, নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা আন’আম : ১৪১)

৩. তারা শুধু এ কথাই বলেছিল, ‘আমাদের প্রভু, ক্ষমা করুণ আমাদের গুনাহগুলো এবং আমাদের বিষয়গুলোতে আমাদের বাড়াবাড়িগুলো, এবং দৃঢ় করে দিন আমাদের পাগুলোকে, এবং আমাদের সাহায্য করুন বিশ্বাসহীন দলের বিরুদ্ধে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৪৭ )

৪. ইয়াতিমদের পরীক্ষা কর যখন তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছায়। তখন যদি তাদের মাঝে পরিপক্বতা উপলব্ধি কর, তাদের সম্পদ তাদের দিয়ে দাও এবং তা খেয়ো না বিলাসিতা করে ও দ্রুততার সাথে পাছে তারা (বয়সে) বড় হয়ে যায়। আর যে স্বচ্ছল, সে সংযমী হোক, এবং যে দরিদ্র, সে তা থেকে খেতে পারে সম্মানজনকভাবে এবং যখন তোমরা তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও, তাদের ওপর সাক্ষী রাখ, এবং আল্লাহ হিসাবরক্ষক হিসাবে যথেষ্ট। (সূরা নিসা : ৬)

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


৫. এজন্যই আমরা ইসরাঈলের সন্তানদের জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম, কেউ যদি একটি সত্তাকে হত্যা করে, [মানুষ হত্যার অপরাধী ছাড়া] অথবা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী [ছাড়া], তা হলো এমন যেন সে সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করলো। আর যে-ই একটি জীবন বাঁচায়- তা হলো এমন যেন সে সমস্ত মানবজাতিকে রক্ষা করলো। নিঃসন্দেহে আমাদের রাসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো এনেছিল, এরপরও তাদের মধ্যে অনেকেই পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করে। (সূরা মা-ইদাহ : ৩২)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া নিচে তুলে ধরা হল... 

উচ্চারণ: রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন। (সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৪৭) 

বাংলা অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহ এবং কোন কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা কর। আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।

আরও পড়ুন:


মোবাইলে টুজি সচল, থ্রিজি ও ফোরজির জন্য নেটিজেনদের আক্ষেপ

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)


মহান আল্লাহ তা'আলা যেন মুসলিম জাতিকে কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ দান করেন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

মদিনার মুসলিমরা যেভাবে ভাই ভাই হয়ে যায়

আতাউর রহমান খসরু

মদিনার মুসলিমরা যেভাবে ভাই ভাই হয়ে যায়

মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের আগে ও পরে বিপুলসংখ্যক সাহাবি মদিনায় হিজরত করেন। তাঁদের আগমনে মদিনার কৃষিনির্ভর সমাজ ও অর্থনীতিতে সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিচক্ষণতায় তা উত্তরণ করা সম্ভব হয়। মদিনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় হিজরতের পাঁচ মাস পর তিনি মক্কার নিঃস্ব মুহাজির ও মদিনার আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করেন। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) লেখেন, ‘নবী (সা.) আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর ঘরে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন। সে সময় ৯০ জন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। অর্ধেক মুহাজির ও অর্ধেক আনসার। ভ্রাতৃবন্ধনের মূলকথা ছিল তারা পরস্পরের দুঃখে দুখী এবং সুখে সুখী হবে। মৃত্যুর পর নিকটাত্মীয়দের পরিবর্তে পরস্পরের সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে। উত্তরাধিকারী হওয়ার নিয়ম বদরের যুদ্ধ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এরপর কোরআনের আয়াতের (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭৫) মাধ্যমে উত্তরাধিকারের বিধান রহিত করা হয়।’ (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৯৪; সিরাতে মোস্তফা : ৪২০)

এটা কোনো মৌখিক সম্পর্ক ছিল না; বরং সার্বিক বিবেচনায় একটি সফল ও ফলপ্রসূ বন্ধন। আনসাররা সব কিছুতে মুহাজিরদের প্রাধান্য দিতেন। সাআদ ইবনে রাবি (রা.) তাঁর মুহাজির ভাই আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-কে বলেন, দেখো! এই আমাদের ধন-সম্পদ। এর অর্ধেক তোমার। যেটা খুশি গ্রহণ কোরো। আমার দুজন স্ত্রী। এদের মধ্যে তোমার কাকে পছন্দ, বোলো। আমি তাকে তালাক দিই এবং তোমার সঙ্গে বিয়ে দিই। মুহাজিররাও আত্মমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব রক্ষা করেই চলতেন। ফলে আনসার ভাইয়ের উত্তরে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বললেন, আল্লাহ তোমার ঘরে-বাইরে ও বিষয়সম্পদে বরকত দান করুন। দয়া করে তুমি আমাকে বাজারের রাস্তাটা দেখিয়ে দাও। ওখানে আমি আমার ভাগ্য পরীক্ষা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৮১; নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ২০৫)

পবিত্র কোরআনে আনসারিদের এই আত্মত্যাগের প্রশংসায় ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের জন্যও, মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এই নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে। তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। আর তারা (আনসার) তাদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৯)

মদিনায় আসার পর মুহাজির সাহাবিরাও তাদের ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট হন, জীবন-জীবিকার সংগ্রামে আনসারিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন এবং স্বাবলম্বী হন। যেমন—আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, আপনাদের বাজার কোথায়? তারা তাঁকে বনু কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন। যখন ঘরে ফিরলেন তখন কিছু পনির ও কিছু ঘি সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। এরপর প্রতিদিন সকালবেলা বাজারে যেতে লাগলেন। একদিন নবী (সা.)-এর কাছে এমন অবস্থায় এলেন যে তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন ছিল। নবী (সা.) বললেন, ব্যাপার কী! তিনি (রা.) বললেন, আমি বিয়ে করেছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৮০)

এই ভ্রাতৃ-বন্ধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমাম গাজালি (রহ.) লেখেন, ‘জাহেলি যুগের রীতি-নীতির অবসান ঘটানো, ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বর্ণ, গোত্র ও আঞ্চলিকতার পার্থক্য মিটিয়ে দেওয়াই ছিল এই ভ্রাতৃ-বন্ধনের উদ্দেশ্য।’ (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৯৫)

আরও পড়ুন:


মোবাইলে টুজি সচল, থ্রিজি ও ফোরজির জন্য নেটিজেনদের আক্ষেপ

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)


তবে ইসলামের ইতিহাসে এটাই প্রথম ভাতৃ-বন্ধন ছিল না। হিজরতের আগে নবীজি (সা.) মক্কার মুসলিমদের মধ্যেও ভাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ কয়েকটি ভ্রাতৃ-যুগল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবু বকর ও ওমর (রা.), হামজা ও জায়িদ ইবনে হারিসা (রা.), উসমান ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)। (সিরাতে মোস্তফা : ১/৪২০)

ভ্রাতৃ-সম্পর্ক মুসলিম জাতিসত্তা গঠনে এবং আগামী দিনের বিশ্ব নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেননা এর মাধ্যমে তারা সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস, অভিন্ন লক্ষ্য ও কর্মসূচিতে আবদ্ধ হয়েছিল। একই সঙ্গে পার্থিব জীবনের মোহ ও পূর্ববর্তী বিদ্বেষ-দূরত্ব দূর করতে সক্ষম হয়েছিল।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর