শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

মাহবুব উল আলম হানিফ


শুভ জন্মদিন ‘ছোট আপা’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা শেখ রেহানা যিনি ‘ছোট আপা’ বলে দলের নেতা কর্মীদের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সেই পরিবারের একজন শেখ রেহানা। বাংলা ও বাঙালির প্রয়োজনে তিনি নির্মোহ একজন মানুষ। 

দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনও সরাসরি রাজনীতিতে আসেননি শেখ রেহানা। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সক্রিয় রাজনীতিবিদদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। জনহিতৈষী কাজে সব সময়ই ভূমিকা রেখেছেন শেখ রেহানা। ধানমণ্ডিতে তাঁর নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দিয়েছেন দেশের কাজে। 

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে বিশ্বমানবতার কাছে প্রথম আবেদন রাখা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিশ্বমানবতার কাছে এই আর্জি পেশ করেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। 

সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর পাঠানো বাণী পাঠ করেন শেখ রেহানা। তাঁর পক্ষে বক্তব্য রাখেন তিনি। এটাই ছিল কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ রেহানার প্রথম বক্তব্য রাখা। 

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম ‘৭৫ এর কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান, আমেরিকার কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। 

পঁচাত্তরের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ রেহানার আবেগঘন বক্তব্য সে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলো। হলভর্তি প্রবাসী বাঙালি নারী-পুরুষ এবং বিদেশী রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য ও সাংবাদিকগণ পিনপতন নীরবতায় তাঁর বক্তব্য শোনেন। 

১৯৮০ সালের ১৬ই আগষ্ট পুর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে অনুষ্ঠিত পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের স্মরণে শোকসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনার পুনরায় অভিষেক হয় সক্রিয় রাজনীতিতে। ঐদিন বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। 

কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্যার টমাস উইলিয়াম এমপি কিউসি। সদস্য সচিব হন সলিসিটর অব্রে রোজ। এছাড়া কমিশনের অন্যান্য সদস্য ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সন ম‍্যাকব্রাইট, লেবার পার্টির তৎকালীন আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিইউসি এমপি। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনে শেখ রেহানা অন্যতম মুখ‍্য ভূমিকা পালন করলেও তিনি আড়ালেই থেকে যান এবং এখনো তিনি আড়ালে থেকেই শেখ হাসিনার পাশাপাশি সবক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

একজন সাধারণের মতই জীবনযাপন করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। যেন একদম সাদাসিধে আটপৌরে বাঙালি নারী। চরিত্রে কখনও আদিখ্যেতা কিংবা অহংকার মনোবৃত্তি পোষণ করেননি। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে। 

সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে। সুযোগ্য মায়ের যোগ্য উত্তরসূরি তিনি। মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। যার অনুপ্রেরণায় শেখ মুজিব হতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর এখন পর্দার অন্তরালে বড় বোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন যিনি; তিনি হলেন শেখ রেহানা, জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা। শেখ রেহানার ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই শান্তির আলোকবর্তিকা হাতে বিশ্বময় শেখ হাসিনা। 

শেখ রেহানার জীবনালেখ্য নিয়ে হয়তো বেশি কিছু জানা যায়নি, তবে জীবনের গভীরতা অনুধাবন করা যায় ব্যাপকভাবে। কারণ, তাঁর সাদামাটা জীবনচরিত এবং অতিথিপরায়ণতা সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে ঘরোয়া আলোচনায় বলেন যে, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি অচল, শেখ রেহানা ছাড়া তিনি পরিপূর্ণ নন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দুঃসময়ে, বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তিনি যেন আশা-ভরসার স্থান। 

বিশেষ করে শেখ রেহানার কথা উচ্চারণ হলে ২০০৭-এর ওয়ান ইলেভেনের কথা দৃশ্যপটে সামনে চলে আসে। সেসময় আওয়ামী লীগকে বিভক্তির হাত থেকে বাঁচাতে, শেখ হাসিনার মুক্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে শেখ রেহানাই মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে এসে পাশে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সাহস, ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

জাতির পিতার কন্যা তিনি অথচ জীবনটা তাঁর জন্য সহজ হয়নি। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সংগ্রাম করে জীবনে জয়ী হওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন তবুও হতাশ হননি। রাজনীতি সচেতন শেখ রেহানা সর্বদা আড়াল থেকেই দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়।

আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন ছোট আপা।

লেখাটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের। (মত ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

এই রাষ্ট্রদ্রোহীদের বাড়ী-ঘর চিহ্নিত করা দরকার

ড۔ সেলিম মাহমুদ

এই রাষ্ট্রদ্রোহীদের বাড়ী-ঘর চিহ্নিত করা দরকার

রাষ্ট্রদ্রোহী তাজ হাশমি, সামসুল আলম, কনক সরওয়ার সহ যে সকল কুলাঙ্গার প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ বিরোধী অশ্লীল অপপ্রচার করে যাচ্ছে, তাদের আর কোন ছাড় নয় l বিদেশে অবস্থান করার কারণে তাদের সাময়িক সময়ের জন্য আইনের আওতায় আনা না গেলেও তাদের বিরূদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন l তারা প্রতিনিয়ত আমাদের রাষ্ট্রের বিরূদ্ধে হুমকি আর অপপ্রচার করে যাচ্ছে, এই কুলাংগাররা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে ভিডিও বার্তায় হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ বিরোধী ঘৃণা আর বিষোদ্গার ছড়াচ্ছে l  কিছুক্ষণ আগে এক ভিডিও বার্তায় দেখলাম তাজ হাশমি নামে এক নরকের কীট আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিচ্ছে, পাশাপাশি রাষ্ট্র বিরোধী নানা অশ্লীল কথা বলছে l এটি দেখার পর আমি আর স্থির থাকতে পারছি না l

আমরা লক্ষ্য করছি, বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপি ও তাদের সমমনা কিছু রাষ্ট্র বিরোধী ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনবরত আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, তারা এই সরকারের পতন ঘটাবে, সরকার পতনের পর তারা আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করবে, কাউকে দেশ থেকে পালাতে দিবে না, কেও প্রাণে বাঁচবে না- ইত্যাদি ইত্যাদি l এমনকি বিস্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও এই ধরণের ইঙ্গিত দিলেন l আমার কথা পরিষ্কার l আপনারা ক্ষমতায় আসলে আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করবেন, কারণ আমরা অনেক খারাপ l আপনারা অনেকেই দেশে আছেন, আর যারা বিদেশে বসে এইগুলো বলছেন তাদের আত্মীয় স্বজনরা বাংলাদেশেই আছেন l আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা তো আপনাদের হত্যা করছি না, এমনকি হত্যার কথা বলা দূরের কথা- ঐ রকম কোন চিন্তাও করছি না, আপনাদের আত্মীয় স্বজনদের খুঁজে বের করার কথাও বলছি না l তাহলে আপনারা আমাদের হত্যার কথা কেন বলছেন ? আমরা যদি এখন আপনাদের হত্যার হুমকি দেই, বিষয়টি কেমন হবে? আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না l কিংস পার্টি বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াই জাতির পিতাকে হত্যা করে এদেশে হত্যা আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল l আপনারা তার লিগেসিই বহন করছেন l

তবে একটা কথা বলে রাখি, আমরা আপনাদের মতো কুলাঙ্গারদের যথোপযুক্ত শাস্তি দিতে প্রস্তুত আছি l আমাদের রাষ্ট্র এবং আমাদের নেত্রী জাতির পিতার কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মর্যাদা রক্ষার্থে আমরা আপনাদের মতো রাষ্ট্রবিরোধী দুষ্ট চক্রকে নির্মূল করতে যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি l আমরা বাংলাদেশে আপনাদের বাড়ী ঘর চিহ্নিত করেছি l আপনাদের আত্মীয় স্বজন কারা তাদেরকেও আমরা চিনি l নামে বেনামে আপনাদের অনেকেরই বাংলাদেশে বাড়ি-ঘর, সম্পত্তি এমনকি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে l আর আপনাদের যারা উস্কে দিচ্ছে, তাদের সকলের পরিচয়, তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিবরণ আমাদের কাছে রয়েছে l

পশ্চিমা দেশগুলোতে আমাদের মিশন গুলোকেও বলবো, রাষ্ট্রবিরোধী এই দুষ্ট চক্রটিকে আর ছাড় নয় l বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় এদের বিরূদ্ধে ডিপ্লোমেটিক চ্যানেল সহ অন্যান্য সকল রুটে ব্যবস্থা নেয়া দরকার l 

আমাদের শরীরে জাতির পিতার আদর্শের রক্ত l  পঁচাত্তুরের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় l পিতার আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে প্রতিনিয়ত সেই ব্যাথা অনুভব করি l খুনী  চক্র এবং তাদের প্রেতাত্মাদের আমরা নির্মূল করবোই ইনশাল্লাহ l এই যুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ নতুন প্রজন্ম আমাদের সাথে রয়েছে l 

লেখক: তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; প্রথম আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ইভ্যালী-পঞ্জি স্কীমস: কই এর তেলে তিমি ভাজা!

ডা. আমিনুল ইসলাম

ইভ্যালী-পঞ্জি স্কীমস: কই এর তেলে তিমি ভাজা!

ইভ্যালীর রাসেল দম্পতি যা করেছে ঠিক ১০০ বছর আগে সেটি প্রথম করে দেখিয়েছিল Charles Ponzi নামের এক প্রতারক।

১৯২০ সালে নিউ-ইংল্যান্ডে ৯০ দিনের মধ্যে ফোরটি পার্সেন্ট রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা শুরু করে Ponzi যখন পারিপার্শ্বিক সুদের হার ছিল 5% মাত্র। 

তারপর পঞ্জির বিরাট বিত্ত-বৈভব, জেলখাটাসহ আরও অনেক ইতিহাস। সেদিকে যাচ্ছি না। Ponzi র মতো করে যে প্রতারণা ব্যবসা মডেল দাঁড় করানো হয় তাকে বলে Ponzi scheme। ইভেলি ভিন্ন চেহারায় প্রায় হুবহু সেই পঞ্জি স্কিম প্রতারনাটা নকল করেছে।

সোজা বাংলায় পঞ্জি স্কীমস একটা পিরামিড আকৃতির ফন্দি যার মূল মন্ত্র হলো Robbing Peter to pay Paul অর্থাৎ পিটারের টা চুরি করে পল কে pay করা। প্রতারক প্রমোটররা যদি প্রথমদিকের বিনিয়োগকারীদের বিরাট লাভ দিয়ে চমক সৃষ্টি করে তাতে আকৃষ্ট পরের দিকের ইনভেস্টরদের টাকা মেরে দেয় তবে তা পঞ্জি স্ক্যাম এর আওতায় পড়ে। তাদের কোন টেকসই বিজনেস মডেল থাকে না, নিজেদের কোনো বৈধ বা যুক্তিসঙ্গত প্রফিটও থাকে না। তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রবাহমান টাকার উপর। সেই টাকার প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো চিটিং process টাই কলাপ্স হয়ে যায় কারণ তাদের নিজেদের কিছু থাকে না।

প্রতারক প্রোমোটারদের ধূর্ততা ও কৌশলের উপর পঞ্জি স্কীম ভিন্ন ভিন্ন ধারা ও চেহারার হতে পারে। তবে প্রত্যেকেরই মূল মোক্ষ শুরুর দিকের বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংকের লাভ দিয়ে কৌশল ও ছলচাতুরি করে পরের বিনিয়োগকারীদের বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া। লাভ দেখে বিরাট জনগোষ্ঠী বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসে। যদি ছলা-কলা করে পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা না করে তখন তার প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস পুঞ্জিভূত হতে থাকে। 

দুঃখজনকভাবে অনেকে ধরা খেলেও চুপ থাকে এজন্য যে কোম্পানির ক্ষতি হলে তার টাকা ফেরত পাবার বাকি আশাটুকুও আর থাকবে না। এর ফলে আরও বেশি দিন প্রতারক প্রমোটররা তার ধূর্ততা চালিয়ে যেতে পারে। লোকজন তাকে বোকা ও লোভী ভাববে এ জন্য অনেকে ফুঁসে উঠতে বিলম্ব করে। কেউ কেউ লজ্জায় একেবারেই চেপে যায়। অনেকেই বিনিয়োগ ফিরে পাবার ক্ষুদ্রতম আশার উপর ভিত্তি করে বরং প্রতারকের জন্য শুভকামনা বজায় রেখে প্রতারকের পক্ষে নেয় যাতে কোম্পানি টাকা শোধ করার সক্ষমতা অর্জন করে। এ-সবই পঞ্জি স্ক্যাম এর বৈশিষ্ট্যাবলী (Universal criteria) আপনি যখন কোথাও টাকা খাটাবেন তখন যে ব্যাপারগুলি মাথায় রাখবেন তার একটা ছোট বর্ণনা দিচ্ছি। 

আরও পড়ুন:


অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

ছাত্রকে যৌন হয়রানি ২৭ বছরের তরুণীর, ২০ বছরের কারাদণ্ড

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


১. অস্বাভাবিক মাত্রার লাভ, ছাড় বা রিটার্নের ঘোষণা পঞ্জি স্ক্যাম এর সবচেয়ে সুস্পষ্ট লক্ষণ।

চেহারা যাই হোক অন্য যে কোন ব্যবসার তুলনায় তারা আপনাকে বেশি লাভ বা ছাড় দিবে- এব্যাপারটা থাকবেই। "অতি লাভ বিপদজনক" কোথাও বিনিয়োগের আগে সেটা আপনাকে মন্ত্র হিসাবে মেনে নিতে হবে। সুষ্ঠু বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু আপনার লোভ। প্রতারকদের পক্ষে আপনাকে ঠকানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্রও আপনার লোভ। (শেয়ার মার্কেট দ্রষ্টব্য)

২. আপনার মনের গভীরে প্রোথিত লোভকে উস্কে দেওয়ার দারুন টেকনিক হলো লাভের গ্যারান্টি দেয়া। শতভাগ লাভ হবেই একেবারেই ফুল গ্যারান্টি, নো রিস্ক, এমন অঙ্গীকার যারা করবে খুব সম্ভবত তারা ফ্রড।

৩. পতনের আগ পর্যন্ত কোন ব্যবসা যদি স্বাভাবিক বেগ বা সময়ে সময়ে মন্থরতার পরিবর্তে ত্বরণের উপর থাকে তথা খুব দ্রুত বর্ধনশীল হয়, পরের দিন পরের সপ্তাহ আগের দিন আগের সপ্তাহকে ছাড়িয়ে যেতেই থাকে তবে ধরে নিবেন ঘাপলা ইজ দেয়ার। সবাইকে হুমড়ি খেয়ে পড়ানোর এটা একটা ট্র্যাপ।

বাজার পরিস্থিতি, নিজেদের সক্ষমতা যাই হোক তারা যদি আপনাকে লাভের অফার দিতেই থাকে, দৌড় দিন- একেবারে পেছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে।

৪. পাচ মিনিট চিন্তা করে আপনি যদি তাদের বিজনেসটা কিভাবে বা কোন মডেলের উপর চলছে বা চলবে তার কূল-কিনারা করতে না পারেন- একে গুডবাই বলুন। বিজনেস মডেলটা বুঝতে যদি বেগ পেতে হয় লাভের টাকাটা কোথায় জেনারেট হচ্ছে সেটা যদি আপনার কাছে পরিস্কার না হয় আপনি ভুলেও তার কাছে ঘেষবেন না।

৫. প্রতারক প্রমোটররা নানাবিধ জটিল মোহনীয় চাতুর্যপূর্ণ শব্দ ও বাক্য দ্বারা আপনাকে আবিষ্ট করতে নটরিয়াসলি চতুর। যেমন offshore investment program, Future Amazon, From loss to global brand, high yield investment, তারুন্যের ঝুঁকি- এসব বাক্যবাণে তারা আপনাকে মোহাবিষ্ট করে ফেলবে। তারা অন্যসব বড় ব্যবসা কিভাবে দাঁড়িয়েছে তার উদাহরণ দেবে মিথ্যা তথ্য সমেত। যাদুবিদ্যার মতো আড়ালে বড় কিছু হচ্ছে এমন একটা ইলুশান ও কনফিউশনে সবাইকে মজিয়ে রাখবে আসলে কিন্তু ভেতরে কিছুই হচ্ছে না। শুধু কই এর তেলে কই ভাজা হচ্ছে। এই smoke & mirror পঞ্জি প্রতারকদের অন্যতম টেকনিক। এ জন্য ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, never invest in a business you can not understand (যে ব্যবসাটা তুমি বুঝতে পারছো না সেখানে বিনিয়োগ করিও না)।

৬. এই পঞ্জি স্ক্যাম এর টিকে থাকার প্রাণভোমরা হলো নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। এজন্য তাদেরকে আকৃষ্ট করতে প্রয়োজন হয় নতুন নতুন ধামাকা অফার। নতুন বিনিয়োগকারী না আসলে এই প্রতারকরা পুরাতন বিনিয়োগকারীদের দায় শোধ করতে পারে না। অবশ্য দায় শোধ করাটা প্রতারকদের উদ্দেশ্যও নয়। একেবারে প্রথম পর্বের বিনিয়োগকারীদের লাভালাভের উদাহরণকে পুঁজি করে পরবর্তীদের যত বেশি সম্ভব বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করে যত বেশি সম্ভব টাকা মেরে দেয়া যায়- এটাই পঞ্জি মডেল বিজনেস। যদি এক পর্যায়ে আপনাকে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে দেয়ার শর্ত দেয়া হয় বা নতুন বিনিয়োগকারী জুটিয়ে দিতে পারলে পুরষ্কার দেয়া হবে বলা হয় বা আপনাকে পুনরায় বিনিয়োগ করলে আগের চেয়ে বেশি লাভ দেওয়া হবে এমন অফার দেয়া হয়- আপনি জাস্ট অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের চেয়েও বেশি গতিতে দৌড় দিবেন।

৭. প্রতারক প্রমোটাররা যদি কোন কৃত্রিম urgency  তৈরি করে, Once in a life time, আর মাত্র দু'দিন, রাত বারোটায় সুযোগ শেষ- এরকম তড়িঘড়ি আবহ তৈরি করে তবে ধরে নিবেন এটি সুস্থ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। একে বিবেচনা করুন red flag হিসাবে।

৮. পঞ্জি স্কীমস প্রতারকরা মূল পদগুলিতে তাদের ক্লোজ সার্কেল ও পরিবারের সদস্যদেরকে রাখে। দেখা যাবে ঘুরেফিরে নিজেরা নিজেরাই। এতে তারা নির্ভয় থাকে এবং ভাগাভাগিটা নিজেদের মধ্যেই হয়। শিয়াল কখনো নিজের ঢেড়ায় শিকার করেনা, চোর কখনো নিজের ঘরে চুরি করে না- এ হলো তাদের নিরাপত্তা কৌশল।

৯. তাদের আরেকটা পাওয়ারফুল সাইকোলজিক ট্যাকটিক হল সমাজের গণ্যমান্য, সেলিব্রিটি, নামকরা লোক ও লেখকদের সাথে এসোসিয়েশন বা জোটবদ্ধতা দেখানো। এতে করে তাদের গ্রহণযোগ্যতা, ক্রেডিবিলিটি বাড়ে, স্বল্পবুদ্ধির লোকদেরকে সহজেই সেলিব্রেটির ইমেজের ফাঁদে ফেলানো যায়। পঞ্জি মডেল স্কিমে বাংলাদেশের বাইরেও দেখা গেছে কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি যদি বাহিরে ভালো ভেতরে অসৎ হন তবে তার ইমেজ fraud দের ফেভারে কাজে লাগাতে দেন। বিনিময়ে fraud দের কাছ থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হন। একে বলে win-win সিচুয়েশন, ধরা খাবে শুধু পাবলিক। যেমন ইভ্যালির পক্ষে কথা বলা তাহসান, এহসান গ্রুপের পক্ষে ওয়াজ করা হেলিকপ্টার হুজুর ইত্যাদি।

১০. একশত বছর পিছিয়ে থাকার কারণে পঞ্জি যে কাজটা করতে পারে নাই বা পঞ্জি স্কীমস বাংলাদেশের বাইরে যে ব্যাপারটা চোখে পড়ে নাই অথচ ইভেলি করে দেখিয়েছে তা হল হাজার হাজার ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে "আমি লাভবান" প্রচার করে অন্যদের আকৃষ্ট করা ও কোন প্রতিবাদকারীর উপর অনলাইনে দলেবলে হামলে পড়া। একজন ক্ষতিগ্রস্থের কমেন্ট এর বিপরীতে যদি দশজন ফেইক ফেসবুক ইউটিউব আইডি "কই আমিতো লাভবান হলাম" প্রচার করে তাহলে মূল সত্যটা চাপা পড়তে বাধ্য। এ কাজটা ইভেলি মারাত্মক সফলতার সাথে করেছে। আমি বিশ্বের যতগুলি পঞ্জি স্ক্যাম এর উপর টুকটাক পড়েছি তার কোথাও এই টেকনিকটা চোখে পড়ে নাই। এটা পঞ্জি স্কীমে নতুন সংযোজন।

১১. পঞ্জি স্কীমে বাংলাদেশ আরেকটা নতুন ব্যাপার সংযোজন করতে পেরেছে তা হল মাওলানার ওয়াজ এর মাধ্যমে মুনাফিকির ভয় দেখিয়ে বিনিয়োগ বাড়বাড়ন্ত করা। দেশ বলদে ভর্তি বলেই শুধুমাত্র বাংলাদেশের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে পঞ্জি স্কীমে এই ইউনিক ব্যাপারটি সংযোজন করা।

আসলে হঠাৎ বড়লোক, বিরাট লাভবান করে দেওয়ার যে হাতছানি সেটা সবসময়ই প্রতারকদের হাত। আমাদেরকে সত্যিকারের কিছু পেতে হলে মাথা ও শ্রম খাটিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তবেই তা পাবার আশা করতে হবে। তা না হলে কিছুদিন পরপর ডেসটিনি, শেয়ার মার্কেট, যুবক, ইউনিপে, ইঅরেঞ্জ, এহসান গ্রুপ, ইভ্যালি এসব প্রতারক চক্র নানা নামে, নানা চেহারায়, নানা বেশে এসে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যাবে।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী?

আনোয়ার সাদী

বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী?

অর্গানাইজ শব্দের অর্থ সংগঠিত হওয়া। সেজদা যখন আমাকে বললেন অর্গানাইজ হ, তখন আমি জীবনের সঙ্গে এর অর্থ মেলাতে পারি নাই। সেটা অনেক দিন আগের কথা। অনেক দিন মানে বিয়ের আগের কথা। তিনি বলছিলেন, বিয়েটা করতে হবে, তোকে এখন অর্গানাইজ হতে হবে। বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী তা অনেক ভেবে বের করতে না পেরে, আমি তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, অর্গানাইজ কীভাবে হওয়া যায়? 

তিনি বললেন, নিজেকে একটু গুছিয়ে নিতে হবে। বিয়ের পর সংসারের জন্য ওভেন, ফ্রিজ এসব লাগবে। এগুলো ধীরে ধীরে গুছিয়ে নে। আমি পরদিন বিকেলে মার্কেটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে ফ্রিজ, ওভেন কিনে ফেললাম। মানে অর্গানাইজ হয়ে গেলাম। সেজদা প্রবাসী হওয়ায় আমার বিয়েতে থাকতে পারলেন না, তবে সেই ঘটনা থেকে একটা শিক্ষা সব সময় নিজের সঙ্গে নিয়ে চলছি। সেটা হলো, শব্দের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক মিলিয়ে দেখা। 

যাহোক, এখন সময়টা অন্যরকম। সবাই সবকিছু চট করে বুঝে নেয়। ঠিকঠাক অর্থটা ধরা গেলো কী না তা পরীক্ষা করা হয়তো অনেকের হয়ে উঠে না। ফলে, অনেক কাজ শেষ হয় না। সাফল্যও আসে না কারো কারো। 

ফোকাস বা ঠিক বিষয়টি বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করার কৌশল রপ্ত করাই আমার আজকের লেখার বিষয়। এই বিষয়টি ক্লাসে সারাংশ শেখানোর নামে আমাদের মাথায় ছোটবেলায় দিয়ে দেওয়া হয়। একটা প্যারাগ্রাফ পড়ে মুল কথাটি দুয়েকলাইনে বলতে পারার নাম সারাংশ। জীবনের সারাংশ বোঝার চেয়ে কারো কথার সারাংশ বুঝতে পারা কম কথা নয়।


আমির খানের পিকে ছবির শেষ দৃশ্যে যখন এলিয়েনরা আবারো পৃথিবীতে আসে, তখন তাদের গবেষণার বিষয় থাকে, মানুষের এক কথার আরেক অর্থ করার প্রবণতা। এই যেমন, কেউ যদি বলে তিনি  চিকেন পছন্দ করেন তার মানে হলো, তিনি মুরগি খেতে চান, নিজের কাছে সাজিয়ে রাখতে চান না। কারো বউ যদি বলে, ঠিক আছে বাসায় আসেন কথা হবে। তার মানে সামনে ভয়াবহ বিপদ ইত্যাদি। আমি এমন একাধিক অর্থবহন করে এমন বাক্য বা শব্দমালা নিয়ে কথা বলছি না। বলছি, স্পষ্ট একটা বর্ণনা পড়ে কেউ যেনো তার সঠিক অর্থটা বুঝতে পারে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

যাহোক, বুঝতে পারার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমার কাজ নয়। আমি বলতে চাই, কেউ যদি কিছু বুঝতে চায় তাহলে তাকে কারো কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে, কারো লেখা মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ধরা যাক, বৃষ্টি কীভাবে হয়, কারণ ও উপায় বিশ্লেষন করে কেউ একটা আর্টিকেল লিখলো বা ফেইসবুকে পোস্ট দিলো। তা পড়ে কেউ যদি কমেন্ট করে, তুমি ইদানিং বৃষ্টি নিয়ে অনেক ভাবছো, আগে এরকম ছিলে না, তাহলে ধরে নিতে হবে, পাঠক নিতান্ত অবহেলায় লেখাটি পড়েছেন, কিংবা একবারেই পড়েন নাই। 

লং স্টোরি শর্ট করি, যে প্রশ্নের জবাব শব্দ দিয়ে দেওয়া যায় তা বাক্য দিয়ে দেওয়া মানে ঘটনা বুঝতে না পারা। যে প্রশ্নের জবাব বাক্য দিয়ে দেওয়া যায় তা প্যারাগ্রাফ দিয়ে দেওয়া মানে প্রশ্ন ঠিক মতো বুঝতে না পারা। যে প্রশ্নের জবাব প্যারাগ্রাফ দিয়ে দেওয়া যায়, তার জবাব রচনা দিয়ে দেওয়া মানে, প্রশ্ন বুঝতে না পারা। 

আরও পড়ুন


আশ্রয়ণ প্রকল্প: এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করলো?

আগের স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই মাহিকে বিয়ে করেছে রাকিব

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

নাশকতার মামলায় নওগাঁর পৌর মেয়র সনিসহ বিএনপির ৩ নেতা কারাগারে


 

 একটা ঘটনা বলে লেখা শেষ করি। এক সময় ঢাকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বলে বাংলায় কথা বলতে পারতেন। তিনি পরে সম্ভবত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই সিক্স এর পরিচালক হয়েছিলেন। একবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে অন্য সাংবাদিকদের মতো তাঁর সঙ্গে আমারও দেখা হয়েছিলো। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, কেউ যদি কোনো বিষয় এক পৃষ্ঠায় লিখে শেষ করতে না পারেন, তাহলে জনাব আনোয়ার চৌধুরী ধরে নেন, লেখক বিষয়টি ঠিকঠাক বুঝতে পারেন নি। 

সো, ভাই ও বোনলোক আগে বুঝেন সামনের লোকটি কী জানতে চায়, তারপর আপনার জ্ঞানের সাগরটি উপস্থাপন করুন। আজ এখানেই শেষ। সঙ্গেই থাকুন।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি?

ড. নাজনীন আহমেদ

সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি?

আমরা প্রায়ই বলি, সন্তানকে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি। কেউ কেউ জীবনের সর্বস্ব দিয়ে সুন্দর একটা ফ্ল্যাট কিনে বলি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য করছি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা আমাদের সন্তানকে ভালবাসি? যদি তাই বাসতাম তাহলে সবচেয়ে প্রথম আমরা যা করতাম তা হল, খাল-বিল, নদী- জলাশয়, আকাশ-বাতাস অর্থাৎ প্রকৃতির সম্পদ ও শক্তি নিজেরা ধ্বংস না করে সন্তান যেন তার জীবনে এই প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যকর সম্পদের ব্যবহারের সুযোগ পায়, সেই চেষ্টা করতাম।

আমাদের জীবদ্দশায় এগুলো ধ্বংস করে ওদের জন্য বিভীষিকাময় এক ভবিষ্যৎ রেখে যেতাম না ।

সন্তানকে ভালবাসলে প্রতিদিন হাড়ি-পাতিল-কাপড় ধোয়া, গোসল করা ইত্যাদির সময় পানির ব্যবহারে যাতে অপচয় না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক হতাম;  অহেতুক বিদ্যুতের ব্যবহার করতাম না; সামান্য গরমে এসি না চালিয়ে ভাবতাম আমার সন্তানের জন্য পরিবেশকে এরূপ দূষণ করা থেকে বিরত থাকলাম। 

সন্তানকে যদি সত্যিই ভালোবাসি তাহলে আসুন, পরিবেশের কথা ভাবি, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার কথা ভাবি। যারা ধনী আছেন তারা আগামী ১৪ পুরুষের জন্য অর্থ সঞ্চিত না রেখে ধরিত্রীকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য গবেষণায় দান করলে সত্যিকার অর্থেই পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব আছে । গৃহ থেকেই শুরু হোক সেই পদক্ষেপগুলো।

লেখক-  ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পড়ার ঘাটতি কী সত্যিই কটিয়ে ওঠা যায়?

আনোয়ার সাদী

পড়ার ঘাটতি কী সত্যিই কটিয়ে ওঠা যায়?

কোনো এক বৃষ্টিমুখর দিনে রুকন ক্লাসমেট থেকে বড় ভাই হয়ে গিয়েছিলো। অটো প্রমোশন নিয়ে সে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হয়ে যায়। আমরা একই ক্লাসের অন্যরা ফাইভ থেকে সিক্সে ভর্তি হই। জীবনের নিয়মে জীবিকার দরকার ও হিসাব-নিকাশ হয়তো সে আমাদের আগে বুঝে যায়, তাই অতো বছরের পর বছর না পড়ে, সে আয় করতে শেখে কোনো এক কোম্পানিতে, আমরা থেকে যাই পড়ার জগতে।

পড়ার জগতের একটা ধারাবহিকতা আছে। প্রথম শ্রেণির পড়ার ওপর ভর করে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে যাই। ফলে, প্রথম শ্রেণির সব পড়া আয়ত্বে না এলে দাঁড়ানো হয় টলমল পায়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান যাকে সারা জীবনের ক্ষতি মনে করেন।

তিনি মনে করেন, একটা ক্লাস না পড়লে, মানে সে ক্লাসের পড়া ঠিক মতো আয়ত্বে না এলে পরের ক্লাসের পড়ারও ভিত্তি থাকে না। রোকনের সে সমস্যা হয়েছিলো কী না, আমি জানি না। এতো বছর পর এখন আর তা জানার কোনো সুযোগ নাই। তবে করোনায় দীর্ঘ ১৮ মাস স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা কিংবা বিভাগীয় শহরের বড় বড় স্কুলগুলোতে অবশ্য সিলেবাস এগিয়েছে ঠিকঠাক মতো। তবে, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই গতিতে পড়া এগিয়ে নিতে পারেনি বলেই আমরা জানি। ফলে, এখন ক্লাস খোলার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া যাবে তা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে। আসলেই কী পড়ার ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়া যায়?
অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, ক্লাসের সময় বাড়িয়ে দেওয়াকে সাধারণত ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু আমাদের সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পড়তে হয়। ভালো ফলাফলের রহস্যও লুকিয়ে আছে প্রতিদিন পড়ার ভেতরেই।

আচ্ছা, আপনাদের ক্লাসে রুল এক হতো কার? সাধারণত কোন শিক্ষকের ছেলে বা মেয়ে ক্লাসে প্রথম হতো, এটা আমাদের সময়ের হিসাব। আমরা অনেক চেষ্টা করে কোনো কোনো ক্লাসে শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদেরকে পড়ায় হারিয়ে প্রথম হয়ে যেতাম। তখন আমাদের মনে হতো, স্যারের ছেলে-মেয়েকে ইচ্ছে করে প্রথম বানানো হয়। অনেক অভিমান হতো আমাদের। পরে জেনেছি, বিষয়টা আসলে এরকম কিছু না। স্যারদের বাসায় ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে বসে। স্যারের কাছে পড়তে আসা ব্যাচের সঙ্গেও তাদের ছেলে মেয়েরা বসে যায়। ফলে, পড়ার জগতে তাদের একটা ভালো অবস্থান থাকে। মফস্বল থেকে আসা শিক্ষকদের ছেলে-মেয়েদের ক্যারিয়ার গ্রাফ বিবেচনা করলে এই তথ্যের সত্যতা মিলবে।

এখন পড়ার ধারাবাহিকতা যদি না থাকে তাহলে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, কঠিন। এখন এর দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবকদের। তাদেরকে প্রতিদিন অন্তত সন্তানের সঙ্গে বই নিয়ে বসতে হবে। ব্যস্ততার এই যুগে এটি অনেকের জন্যই কঠিন। আমরা অভিভাবকরা সন্তানদের সব পড়ার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে আরামে নিজের জীবন গড়তে থাকি। এটা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: 


রাসেলের বাসায় র‌্যাবের অভিযান চলছে

স্ত্রী হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুর পলাতক

চীনে ১০ কি.মি. গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হানা

দুবলার চর থেকে খুলনা কাঁকড়া পরিবহনে বাধা নেই: হাইকোর্ট


নটরডেম কলেজের ছাত্ররা পড়াটা বোঝে বেশি। এমন একটা কথা আমদের সময়ে চালু ছিলো। বলা হতো, তারা ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি টিকে যায়। এর কারণ হিসেবে বন্ধুরা বলতো, সেখানে পুরো বই পড়ানো হয়, পৃষ্ঠা বাই পৃষ্ঠা। আমিও একই কথা বলতে চাই, সাজেশন করে না পড়িয়ে, পুরো বই পড়ানো জীবনের জন্য কাজের হবে।

আপনার নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, যারা টিউশনি করে, তারা পড়ায় ভালো হয়। ঘুরিয়ে বললে, অনেক কীর্তিমানই -- ছাত্র জীবনে টিউশনি করতেন বলে দাবি করেন। এটা কীভাবে মেধা বিকাশে সহযোগিতা করে তা ভাবা দরকার। পড়াতে গিয়ে নিচের ক্লাসের পড়া রিভাইজ হয়ে যায় টিউটরের। ফলে, তার নিজের ভিত্তি শক্ত হয়।

যাহোক, মহামারী কোনো স্বাভাবিক সময় নয়। এই সময়ে বেঁচে ও সুস্থ্য থাকাকেই সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। পুরো জীবনের তুলনায় ১৮ মাস খুব একটা বড় সময় নয়। তবে এই সময়ে কারো পড়ার ঘাটতি হয়ে থাকলেও তা দূর করার জন্য সচেতন হওয়ার দরকার আছে। এই কথাটি অভিভাবকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই আর্টিকেল লিখলাম। সবাই ভালো থাকবেন।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর