একসময়ের এতো প্রতাপশালী এক প্রেসিডেন্টের কী করুণ পরিণতি!

শান্তা আনোয়ার

একসময়ের এতো প্রতাপশালী এক প্রেসিডেন্টের কী করুণ পরিণতি!

শান্তা আনোয়ার

১৯৩৭ সালের ২৮ এপ্রিল আল-আওজা নামক শহরের এক মেষপালক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইরাকের একসময়ের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, প্রবল প্রতাপশালী শাসক, যিনি শক্ত হাতে দেশ শাসন করছেন পুরো চার দশক ধরে, যার নামের সাথে ইরাকের সমৃদ্ধি ও ধ্বংস দুটো ইতিহাসই মিশে আছে... তিনি হচ্ছেন সাদ্দাম হোসেন। পুরো নাম সাদ্দাম হোসেন আব্দুল মজিদ আল তিকরিতি। 

'সাদ্দাম’ নাম রেখেছিলো তাঁর মা। তিনি যখন মাত্র ছয় মাস বয়সী ছিলেন তখন তার পিতা পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের এই দুর্বিপাকের কারণে দশ বছর বয়সে সাদ্দাম তার চাচার বাড়ি বাগদাদে চলে যান। 

১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই ইরাকের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাদ্দাম হোসেন  ক্ষমতায় আরোহণ করেন। চার দশক কঠোর হাতে দেশ শাসনের পর ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত হন। 

স্কুল জীবনের গন্ডি পেরোতেই তিনি বাথ পার্টির সাথে পরিচিত হন। সেখানে যুক্ত হওয়ার পর তিনি বাথিজম মতাদর্শের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং ১৯৫৭ সালে দলের সক্রিয় সদস্য হন। বাথিজম হচ্ছে আরব জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদী একটি মিশ্র চেতনা। যার প্রধান লক্ষ্য ছিল বিপ্লবী সরকারের অধীনে একটি অবিভক্ত আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

প্রথমে সাদ্দাম হোসেন জেনারেল আহমেদ হাসান আল বকরের উপ রাষ্ট্রপতি হিসাবে ছিলেন। সেই সময় সাদ্দাম দৃঢ়ভাবে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটান। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেন। ইরাকের রাষ্ট্রপতি ও বাথ পার্টির প্রধান হিসেবে সাদ্দাম হোসেন একদলীয় শাসনের মাধ্যমে আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম নিরপেক্ষ ও আধুনিক ইরাক গড়ে তুলতে প্রয়াস নেন। এসময়ই সাদ্দাম ইরানের সাথে ৯ বছরের যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন । 

ইরাক-ইরান যুদ্ধের পরে ১৯৯১ এ সাদ্দাম কুয়েত দখল করে উপসাগরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। সাদ্দাম তার মতে ইরাকের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধের সকল পক্ষকে নির্মুল করার উদ্যোগ নেন। এই বিরুদ্ধ পক্ষে ছিল উপজাতীয় ও ধর্মীয় গোত্রগুলো যারা স্বাধীনতা দাবি করছিল। যেমন, ইরাকি শিয়া মুসলমান, কুর্দি, ইরাকি তুর্কি জনগন। 

২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে কতিপয় আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। তারা এই যুক্তি দেখিয়ে আক্রমণ করে যে, সাদ্দাম ব্যাপক ধ্বংসাত্বক জীবানু অস্ত্র তৈরি করছেন।  যদিও যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এমন কোন অস্ত্রের হদিস পাওয়া যায় নাই ।

১৩ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান সেনাদের কাছে ধরা পড়েন। পরবর্তিতে আমেরিকা ইরাকি সরকারের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের বিচার করে। সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইরাকি সময় সকাল ৬.০৬ মিনিটে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর হয়।

২০০৪ সালের জুন মাসে সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকি অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয় বিচারের জন্য। আগের বছর ডিসেম্বর মাসে মার্কিন বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। 

জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সৈন্য। ওই ১২ জন আমেরিকান সৈন্য সাদ্দামের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষ মুহূর্ত অবধি তাঁরাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গে।

সাদ্দাম হোসেনের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত আমেরিকান সেনারাই তাঁকে একদিন জানিয়েছিলেন যে তাঁর ভাই মারা গেছেন। যে সেনাসদস্য খবরটা দিয়েছিলেন, সাদ্দাম তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, "আজ থেকে তুমিই আমার ভাই।"

আরেকজন প্রহরীকে তিনি বলেছিলেন, "যদি আমার সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাই, তাহলে তোমার ছেলের কলেজে পড়তে যা খরচ লাগবে, সব আমি দিতে রাজী।"

এক রাতে বছর কুড়ি বয়সের সেনা প্রহরী ডসন বাজে মাপে কাটা একটা স্যুট পড়ে ঘুরছিল। জানা গেল যে ডসনকে ওই স্যুটটা সাদ্দাম উপহার হিসাবে দিয়েছেন।
বার্ডেনওয়ার্পারের কথায়, "বেশ কয়েকদিন আমরা সবাই ডসনকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম ওই স্যুটটার জন্য। ওটা পড়ে ও এমন ভাবে হাঁটাচলা করত, যেন মনে হতো কোনও ফ্যাশন শো'য়ে ক্যাটওয়াক করছে ডসন।"

সাদ্দাম আর তাঁর প্রহরীদের মধ্যে বন্ধুত্ব বেশ ভালো হয়ে উঠছিল, যদিও তাদের ওপরে কড়া নির্দেশ ছিল যে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও যেন কেউ না করে।

মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে 'সুপার টুয়েলভ' বলে ডাকা হতো।

আরও পড়ুন:


বাংলাদেশে যারা গান শেখে, তাদের কোনো স্বপ্ন আছে কী?

তারকারা সবাইকে আনন্দে রাখেন, কিন্তু তাদের অনেকের জীবন কষ্টে ভরপুর

রাতের রাজা বা কোনো জ্বিনকে আটক করা যাবে না


তাঁদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, 'দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড' নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে 'নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তাঁর আমেরিকান প্রহরী - ইতিহাস যে কথা বলেনি'। 

বইটি জুড়ে রয়েছে সাদ্দাম হোসেনকে তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা। বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাঁদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল।

একসময়ের এতো প্রতাপশালী এক প্রেসিডেন্টের কী করুণ পরিণতি!!

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

রাউফুল আলম

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেওয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।

প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

আরও পড়ুন:


ফতুল্লায় সুজন ফকির হত্যাকাণ্ডে দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

মন্দিরে হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

প্রেম করে বিয়ে করায় ৪ নাতি ও ২ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

বড় ভাই শেখ জামালের মতো সেনা অফিসার হতে চাইতো শেখ রাসেল: প্রধানমন্ত্রী


বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোনো সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণির নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণির নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি।

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোনোপ্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

মুসলিম পরিবারে জন্ম আমার। ছোটবেলায় হুজুর রেখে সিপারা, আমপারা, কুরআন পড়িয়েছেন মা-বাবা। ‘আলিফ বে তে’ পড়ার সময় ‘আঈন’ এবং ‘গাঈন’ অথবা ‘কাফ’ এবং ‘ক্বাফ’ এর উচ্চারণ নিয়ে একটু হিমশিম খেলেও বারবার পড়তে পড়তে শিখে গেলাম। 

স্কুলেও ‘ইসলাম শিক্ষা’ নামক একটি বিষয় ছিল। সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের সেই ক্লাস বাধ্যতামূলক না থাকলেও দু’একজন বন্ধু সেই ক্লাসও করতো। কখনও তাকে আলাদা চোখে দেখতে শেখাননি আমাদের শিক্ষকেরা। তাই ‘সাহা, চক্রবর্তী কিংবা সেন’ কে ‘আহমেদ, রহমান কিংবা হোসেন’ এর সাথে পার্থক্য করিনি কখনও। 

নাচ শিখতাম শুক্লা সরকারের কাছে। আমি মুসলিম বলে আমার এই নৃত্য গুরু নিজ কন্যাদের চেয়ে এক বিন্দু আলাদা করে দেখেননি কোনোদিন। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ই পেয়েছি!

শিল্পী হিসেবে সেই শৈশব থেকেই নাচ গান করেছি ঈদের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজার উৎসবেও। আমার সনাতন বন্ধুটিকে যেমন ঈদের সেমাই খেতে আমার বাড়িতে ডেকেছি তেমনি আমিও গিয়েছি নাড়ু খেতে। বাক্সো ভরে নিয়েও এসেছি তার মা’কে বলে। 
কোনোদিন কোনো সাম্প্রদায়িক চিন্তা মাথায় তো আসেনি! সত্যি বলতে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটিই বোঝার দরকার হয়নি আমাদের কখনও। 

কিন্তু আজ এ কোন বাংলাদেশে আছি আমরা! কি শিখাচ্ছি আমাদের সন্তানদের!! কোন বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের হাতে!!!

যে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ‘ঈদ মুবারক’ লিখলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেন কিন্তু একজন মুসলিম ‘শুভ বিজয়া’ লিখলেই তার গুষ্টি উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন শত শত মানুষ! যে বাংলাদেশে অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের কোনো স্বাধীনতা নেই!!

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’


যে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবে ভেঙে দেয়া হয় তাদের দেবী মূর্তি, লুটপাট করা হয় হিন্দুদের দোকানপাট, রাতের আঁধারে পুড়িয়ে দেয়া হয় হিন্দু জেলেপল্লী আর কিছুই করতে পারিনা আমরা!!!

না… আমার সন্তানদের আমি এই বাংলাদেশ দিয়ে যেতে চাই না। আমি সেই আগের বাংলাদেশ চাই। কি করবো, কিভাবে হবে জানিনা- কিন্তু করতে হবে… কিছু একটা করতে-ই হবে…

লেখাটি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

রউফুল আল

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।
প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোন সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি। 

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোন প্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না। 

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী।

তিনি লিখেছেন, এ মুহূর্তে করণীয় হলো ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।

তার স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:-

এখন আমরা কি করতে পারি? 
ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।  

তবে সবচেয়ে বেশী দরকার যেটা সেটা হচ্ছে, প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা। হিন্দু বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে জানানো, তুমি একা নও! এখন তাকে একা বোধ না করতে দেয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ! এই সময় এক জগতবিধ্বংসী ক্ষোভ-অভিমান চেপে বসে। তার হাতটা চেপে ধরে বলি চলেন, ইউ আর নট অ্যালোন। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে সংখ্যালঘু। কেউ রাজনৈতিক সংখ্যালঘু, কেউ সামাজিক সংখ্যালঘু, কেউ অর্থনৈতিক সংখ্যালঘু। ফলে দুর্বলের বেদনা, মজলুমের জ্বালাতো আমাদের না বোঝার কথা না! আল্লাহ যেনো আমাদেরকে সকল প্রকার মজলুমের বেদনা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করেন। 

অন্য দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানকে অত্যাচার করলে আমাদের হৃদয় যেমন ব্যথিত হয়, নিজের দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বা অন্য কেউ অত্যাচারিত হলেও আমাদের হৃদয় যেনো সেটা একই ভাবে উপলব্ধি করতে পারে, আল্লাহ যেনো আমাদের এই তৌফিক দান করেন।

লেখাটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

মারুফ কামাল খান

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

(ছবি বাঁ-দিক থেকে) বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), মারুফ কামাল খান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে তাঁর বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও কৌশল নিয়েও আছে নানা ভিন্নমত। রাজনীতির মানুষদের সাথে দ্বিমত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো মানুষ ফেরেশতা নয়। 

ভুল, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বাইরে নয় কেউই। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্যাভিসারী মুক্তিযুদ্ধে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে তাঁর ভূমিকাই বোধ করি তাঁর বাকি জীবনের আর সব কিছুই ছাপিয়ে যায়। একটা মানুষ একজীবনে দেশের জন্য, জাতির জন্য এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারে?

আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধে বাঘা সিদ্দিকী নামে পরিচিত হয়েছিলেন দেশজুড়ে শুধু নয়; আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের সুবাদে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছিল তাঁর সাহস ও বীরত্বের গাথা। কেন্দ্রীয় কমান্ড এবং ব্রিগেড ও সেক্টরের বাইরে নিজের নামে এক বিশাল যোদ্ধৃবাহিনী গড়ে তিনি লড়েছেন। 

বাংলাদেশের বিজয়ের ইতিহাস থেকে কাদেরিয়া বাহিনীর নাম তো কেউ কখনো মুছতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাইরে তিনি জীবিত অবস্থায় 'বীরউত্তম' খেতাবে ভূষিত একমাত্র বেসামরিক অধিনায়ক।

সময় কাউকে ক্ষমা করেনা। বয়স হয়েছে এককালের অসম সাহসী এই দুর্ধর্ষ বীরযোদ্ধারও। শুনলাম তিনি গুরুতর অসুস্থ। এমন একজন জাতীয় বীরের অসুস্থতা নিয়ে সংবাদ-মাধ্যমে তোলপাড় করা খবর নেই। তাঁর রোগের ও চিকিৎসার বিবরণ সম্বলিত নিয়মিত 'হেলথ বুলেটিন' প্রচার হওয়া উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় প্রচার-মাধ্যমে। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


অথচ তার কিছুই নেই। বরং ঘটনাচক্রে সরকারি পদ-পদবিতে আসীন অর্বাচীনদের বচনও এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই হোক তাঁর উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এই রাষ্ট্রেরই কর্তব্য। যে রাষ্ট্র স্থাপনের যুদ্ধে তিনি নিজের জীবন ও যৌবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁর আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘ পরমায়ুর জন্য আল্লাহ্'র কাছে জানাই আন্তরিক মিনতি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর