লণ্ডনের সিলোটি ড্রাইভার

পারমিতা হিম

লণ্ডনের সিলোটি ড্রাইভার

পারমিতা হিম

লণ্ডনের প্রথম দিন না বলে বলা উচিত প্রথম প্রহর।প্রথম প্রহরেই সাধারণত আজব ঘটনা ঘটে না। কিন্তু এটা যেহেতু আমি, কিছু না কিছু তো ঘটবেই! সেদিন ঝকঝকে এক দুপুরে আমি প্লেন থেকে নামলাম হিথ্রো বিমানবন্দরে। সেখান থেকে বের হলাম। তারপর সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত হয়ে গেলাম। 

আমি লন্ডনে যাচ্ছি বিবিসির ট্রেনিং এর জন্য। ওরা বলছে ওরা উবার এর পয়সা দিবে না। এয়ারপোর্ট থেকে যেন টিউবে (লণ্ডনের পাতাল রেল) চড়ে হোটেলের কাছে চলে যাই। আমি আগে থেকেই জানি আমি সেরকম যাব না। কারণ ফ্রান্সের মেট্রোতে চড়ে আমার যথেষ্ট শিক্ষা হয়ে গেছে। এগুলোর সিসে্টম এমন জটিল যে দীর্ঘ ভ্রমণ করে এসে, সঙ্গে দুইখান লাগেজ নিয়ে হোটেলের পথ ভুল করে নিজেকে শারীরিক কষ্ট দেয়ার কোনো মানে হয় না। তার উপর আমার আবার দয়ার শরীর। সে কোনো কষ্টই সহ্য করতে পারে না!

আমি ট্যাক্সি/ ভাড়া গাড়ির খোঁজে এদিক ওদিক তাকালাম। কাউন্টার আছে লোক নাই। একদম বাংলাদেশের এয়ারপোর্টের মত অবস্থা। কিছুতেই কিছু বুঝি না। অবশেষে একটা গাড়ি আঁকা কাউন্টারে একজনকে দেখা গেল। 

আমি তাকে গিয়ে বললাম আমি একটা গাড়ি নিতে চাই। 

কাউন্টারের লোক আমাকে বলল, ড্রাইভিং লাইসেন্স দাও। 

আমি তো অবাক! গাড়ি ভাড়া নিতে কেন ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে?

সে বলল, ওমা, তুমি গাড়ি যে চালাতে পারো তার প্রমাণ লাগবে না?

আমি বুঝলাম সে আমাকে একটা আস্ত গাড়ি ভাড়া দিবে। ড্রাইভার দিবে না। 

আমি ওকে বললাম, ভাই রে আমি তো আসলে একটা ড্রাইভার সহ গাড়ি মানে ট্যাক্সি চাচ্ছি। 

ও বলল, সেটা তো ভেতরে পাবে না। বাইরে চলে যাও। সেখানে দেখবে ট্যাক্সি-উবার সব দাঁড়ায়ে আছে। 

আমি ভেতর থেকেই বাইরে উঁকি দিচ্ছি এমন সময় এক বুড়ো ভদ্রলোক আমাকে বলল, ওয়ান্ট অ্যা ট্যাক্সি?

আমি বললাম, ইয়েস।

সে বলল, কাম উইথ মি। 

আমি ওর পিছে পিছে গেলাম বটে কিন্তু আমার কমলাপুর রেলস্টেশনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন  মন তো আর মানতে চায় না! 

সে আমাকে নিয়ে তার মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতে উঠাল। বলল, সে এইমাত্র ইন্ডিয়ান যাত্রী নিয়ে এয়ারপোর্টে আসছে আর যাবার যাত্রীও ইন্ডিয়ান পেয়ে গেল। 

আমি তাকে বললাম, আমি ইন্ডিয়ান না। বাংলাদেশী। 

ওমা এবার সে তো খাঁটি  সিলোটি বাংলায় আমাকে বলল, আরে আমিও তো বেংগলি। 

তারপরে তার প্রশ্ন তো আর শেষ হয় না। আমি কে, বাড়ি কোথায়, কেন এলাম, কয়দিন থাকব, দেশের অবস্থা কী, শেখ হাসিনার ক্যান্সার নাকি যক্ষ্মা, সিলেটের ভাঙা রাস্তা কেন ঠিক হয় না, পদ্মা সেতু হইতে আর কয় বছর লাগবে—এমন কোনো টপিক নাই যেটা সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে নাই। 

আমার ভালোই লাগতেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে নেমে হোটেল পর্যন্ত যাওয়াটাই একটু টেনশনের। এরপরে আস্তে আস্তে পথঘাট, সিস্টেম বুঝে ফেলা যায়। প্রথমেই একজন বাংলাদেশী পেয়ে গেলাম। হোটেল পর্যন্ত যাওয়া নিয়ে টেনশন নাই আর। 

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে কখন লণ্ডনে আসছে, কেন আসছে, কত বছর থাকল, কই থাকে, কয়জন ছেলেমেয়ে—এইসব। 

সে বলল, তার বাবা লণ্ডনে আসছে আগে। তার জন্ম সিলেটে। ১৬ বছর বয়সে বাবার সাথে ইংল্যান্ড চলে আসে। আর ফিরে যায় নাই। দেশে বিয়ে করছিল। বউকে সে পরে নিয়ে আসছে। বাচ্চাগুলি এখানেই হইছে। 

এইসব বলতে গিয়ে ইংল্যান্ডের রানীর খুব প্রশংসা করল সে। বলল ভাগ্যিস রানী বুদ্ধি করে মাইগ্রেন্ট শ্রমিকদের পরিবারসহ আনার অনুমতি দিছিল। আমি মনে মনে হাসলাম। ব্রিটিশরা মাইগ্রেন্ট শ্রমিকদের পরিবার ব্রিটেনে আনতে দিছে যাতে শ্রমিকদের আয়ের অর্থ বিদেশে মানে শ্রমিকদের নিজেদের দেশে না যায়। ব্রিটেনের পয়সা ব্রিটেনেই থাকে। 

কথাটা ভদ্রলোককে বলতে গিয়েও বললাম না। বয়স্ক লোক। তার দুনিয়ায় থাকে। রাজা রানীর প্রতি অযথা ভক্তি বোধ করে। আমার কী দরকার তার চিন্তার সাজানো সংসারে মই নিয়ে ঢুকার।

উনি আমাকে বললেন, সিলেটের সবচেয়ে দামি জায়গায় তার ডুপ্লেক্স বাড়ি আছে। সেই বাড়ি এত পয়সা খরচ করে বানানো আর এত চোখ ধাঁধাঁনো সুন্দর যে সেটা নিয়ে বাংলাদেশের টেলিভিশনে রিপোর্ট হইছে। 

এটা শুনে আমি একটু কৌতূহলী হয়ে উঠলাম। বললাম, সেখানে কে থাকে?

উনি বললেন, কেউ না। একজন কেয়ারটেকার আছে। সে দেখাশোনা করে। তাকে প্রতি মাসে বেতন দেয়া হয়। 

আমি বললাম, আপনারা দেশে যান?

উনি বললেন, না আসলে অনেক বছর ধরেই যাওয়া হয় না। দেশে যাওয়া অনেক ঝামেলা। তাছাড়া দেশের যা অবস্থা, যেতে ইচ্ছাও করে না। 

আমি বললাম, তাহলে এত টাকা খরচ করে দেশে বাড়ি বানালেন কেন? টিভি রিপোর্টের জন্য?
 
উনি বললেন, না, ভাবছিলাম বুড়া হইলে বিবিরে নিয়া দেশে চলে যাব। সেখানে থাকব। বুড়া হইলে আর পরের দেশে থাকতে চাই নাই। নিজের দেশে থাকব ভাবছিলাম কিন্তু এখন তো আর থাকা যাইবো বলে মনে হয় না। 

আমি বললাম, কেন?

উনি বলল, ছেলেরা যেতে চায় না। ওরা এদেশে বড় হইছে তো। ওরা দুনিয়ার প্যাঁচপুচ বুঝে না। ২ নম্বরি কী জিনিস জানে না। ওরা কোনোদিন বাংলাদেশে টিকতে পারবে না। 

আমি বললাম, বাংলাদেশে কি সবাই দুর্নীতি করেই টিকে আছে? কোনো ভালো লোক নাই?

উনি বলল, না নাই। তুমি তো থাকো ওখানে তুমিই বল। আমার ছেলেরা জানে না চুরি কাকে বলে। মানুষকে কিভাবে ঠকাতে হয় এগুলি ওরা শিখে নাই। ওরা অন্যভাবে বড় হইছে। ওদের পক্ষে খারাপ কাজ করা, মিথ্যা বলা সম্ভব না। ওরা জানে না কিভাবে চালাকি করে বেঁচে থাকতে হয়। এদেশটা অন্যরকম। আমাদের দেশের মত না। 

ব্রিটিশরা চালাকি জানে না? মানুষকে কিভাবে ঠকাতে হয় জানে না? চুরি জানে না? ব্রিটিশদের ইতিহাস জেনেশুনে, ব্রিটিশদের চুরিচামারি-শয়তানির অন্যতম পীঠস্থান ভারতবর্ষের একজন হয়ে আমাকে এইসব কথা শুনতে হবে? 

অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করলেও আমি কিছুই বললাম না। ওই যে বুড়া মানুষের সাদা চামড়া প্রীতিতে দাগ দিয়ে তার রাতের ঘুম হারাম করতে ইচ্ছা করল না। বাকি পুরোটা সময় উনি বকবক করে গেলেন বাংলাদেশের মানুষ কত খারাপ আর উনার ছেলে দুইজন এদেশে বড় হয়েছে বলে কতটা ধোঁয়া তুলসিপাতা।

অক্সফোর্ড স্ট্রিটে আমার হোটেলের সামনে নেমে গেলাম। লাগেজ নামাতে নামাতে আমার মাথায় আসল দুইটা কথা। 

১. আমাকে অফিস থেকে একটা সিম দেয়া হইছে। সেটা রিচার্জ করতে হবে। 
২. আমাকে বলা হইছে যেন টিউবের পাস/টিকিট কিনে ফেলি। যে কোনো জায়গায় যেতে সুবিধা হবে। 

তখন সন্ধ্যা হবে হবে আর পরদিন সকালেই অফিস ধরতে হবে। আমি ভাবলাম আমার এ কাজগুলি কিভাবে করব সেটা এই বাংলাদেশি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করি। 

উনি আমাকে বললেন, টিউবের টিকিট কেটে পয়সা নষ্ট করার কোনো দরকার নাই। টিকিট লাগে না। 

আমি তো অবাক! বললাম, লাগে না মানে? আমাকে তো অফিস থেকে পয়সা দিছে কেনার জন্য! 

উনি বলল, টিউবের গেটগুলি অনেক বড়। আর এক টিকিটে খোলাও থাকে অনেকক্ষণ। তুমি চিকনাচাকনা মানুষ, অন্য কেউ যখন টিকিট স্ক্যান করবে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াবা, আর ওর টিকিটে গেইট খুলে গেলে এক দৌড়ে ওর পিছে পিছে ঢুকে যাবা। কোনো পয়সাই লাগবে না।অফিসের টাকা দিয়ে তুমি নিজের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যেও। 

আমি বললাম, পুলিশ ধরলে?

উনি বলল, পুলিশ সাধারণত ধরে না। ধরলে বলে দিবা তুমি এইদেশে নতুন। তাই টিকিট কাটার নিয়ম জানো না। 

বলে উনি উনার মার্সিডিজ বেঞ্জ নিয়ে সরসর করে চলে গেলেন। আমি কিছুক্ষণ সেখানে গাধার মত দাঁড়ায়ে থাকলাম। ঠাহর করার চেষ্টা করলাম লণ্ডনের প্রথম প্রহরে আসলে আমার সাথে এইটা কী ঘটে গেল!

আমি কিন্তু পরে টাকা দিয়ে টিউবের পাস কিনে নিছিলাম। বাংলাদেশে বড় হইছি তো! 

লেখাটি সাংবাদিক পারমিতা হিম-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

হৃদয় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারলেই হলো!

রাখী নাহিদ

হৃদয় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারলেই হলো!

এই দফায় নিউ ইয়র্ক আসার চৌদ্দদিন অর্থাৎ দুই সপ্তাহ হলো। এরমধ্যে কর্মজীবনের বয়স বারোদিন। পিজ্জা স্টোর, ট্র্যাভেল এজেন্সি থেকে এবার কার্ডিওলজিস্ট এর ক্লিনিক। চাকরী হবার পর বড় বোনকে ফোন দিয়ে উত্তেজিত হয়ে বললাম। সকলের দোয়ায় পিজা মেকার, ট্র্যাভেল এজেন্ট এর দায়িত্ব সফল ভাবে সম্পন্ন করে এবার আমি কম্পাউন্ডারির চাকরী পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ..…

আমার ধারণা ছিল কর্মস্থলে গিয়ে দেখব, দুই রুমের অন্ধকার চেম্বারে মলিন চেহারার কোন ডাক্তার সাহেব বসে আছেন। আমার দায়িত্ব হবে চিৎকার করে নাম ধরে ডেকে ডেকে রোগীদের ডাক্তারের রুমে ঢুকানো আর মাঝে মাঝে ডাক্তার সাহেবকে চা কফি বানিয়ে খাওয়ানো।

কিন্তু পরেরদিন কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখি হুলুস্থুল ব্যপার। আমাদের ডাক্তার সাহেব যেন তেন ডাক্তার না। উনার কম্পাউন্ডার হবার জন্যও আমার দুই চারটা ডিগ্রী নিতে হবে। আর উনার চেম্বারও তথাকথিত দুই রুমের চেম্বার না, রীতিমত মাল্টি কালচারড একটা বিজনেস অরগানাইজেশন।

ডাক্তার সাহেব স্বয়ং এবং আমার সহকর্মীদের ৯০ ভাগই বিদেশী। আমাকে যে কাজ শেখায় সে স্প্যানিশ। বাকীদের মধ্যে চাইনিজ, কালো, আলবেনিয়ান আছে। খুঁজলে আরো দুই এক জাত পাওয়া যাবে বলে আমার ধারণা। এখানে ডাক্তার সাহেবের এসিস্ট্যান্টরাও এত ব্যস্ত যে এখনো সবার সাথে পরিচিত হবারই সুযোগ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন


ভাসানটেকে ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধ দখলে, যানজট নিত্যসঙ্গী

ই-ভ্যালির প্রতারণায় আস্থা সংকটে গোটা ই-কমার্স খাত

বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান: প্রধানমন্ত্রী

অসময়ে বাণিজ্যিকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ, লাভের আশায় কৃষক


যাই হোক, খুব মজা পাচ্ছি কাজ করে। কারণ আমি কাজের ব্যপারে সর্বভুক ধরনের মানুষ। পৃথিবীর যাবতীয় কাজ করতে আমার ভালো লাগে, নতুন জিনিস শিখতে ভালো লাগে। আর হৃদয় জিনিসটাও বরাবরই আমার পছন্দের বিষয়।

হোক সেটা হৃদয় নিয়ে কাব্যলেখা অথবা কার্ডিওলজী। হৃদয় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারলেই হলো। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ক্যারিয়ার গ্রোথ দেখে আমি খুবই আশাবাদী। গ্রাফ উপরের দিকে যাচ্ছে।

এভাবে উন্নতি হতে থাকলে আমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা। বড় হয়ে আমি অবশ্যই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার একটা কিছু হব.......।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আইআইটি’র মতো একটা প্রতিষ্ঠানও আমরা গড়ে তুলতে পারিনি আজও

রউফুল আলম


আইআইটি’র মতো একটা প্রতিষ্ঠানও আমরা গড়ে তুলতে পারিনি আজও

রউফুল আলম

ভারতের বেস্ট আইআইটি (IIT) প্রতিষ্ঠান হলো, আইআইটি-মাদ্রাজ। এই প্রতিষ্ঠানটির চলমান বাজেট প্রায় এক হাজার কোটি রুপি। অর্থাৎ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। আর চলিত বছর বাংলাদেশের সকল পাবলিক ইউনিভার্সিটির গবেষণার জন্য বরাদ্ধ ছিলো মাত্র একশো কোটি টাকা। 

ভারতের আইআইটি থেকে প্রতি বছর বিশ্বমানের গবেষণাপত্র বের হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৈর হয় বিশ্বমানের পিএইচডি। আইআইটি’র মতো একটা প্রতিষ্ঠানও আমরা গড়ে তুলতে পারিনি আজো। 

শিক্ষা ও গবেষণায় ভারত বহুদূর এগিয়ে গেছে। চলমান কালের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তি তৈরি করতে তারা সক্ষম। ভারতের হাজার হাজার লোক যে বাংলাদেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে, তার কারণ এটাই। কারণ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় চায় অধিক দক্ষ লোক। এ কারণেই আমেরিকার মতো দেশে চীন, ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে। 

দেশের উচ্চশিক্ষাকে যদি বিশ্বমানের করার চেষ্টা না করা হয়, তাহলে ভারত, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা এইসব দেশের অধিকসংখ‍্যক মানুষ আমাদের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করবে। এটা আপনি ইমিগ্রেশন আইন দিয়ে বন্ধ করতে পারবেন না। এটাই গ্লোবালাইজেশন। 

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে স্কুলগুলোতে এই নির্বাচনের আয়োজন

শওগাত আলী সাগর

গণতন্ত্রের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে স্কুলগুলোতে এই নির্বাচনের আয়োজন

বড়রা যখন ভোট দেয়, পুরো কানাডার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তখন আলাদাভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। সেই ভোটে শিক্ষার্থীরা প্রার্থী হয়, দলের প্লাটফর্ম নিয়ে প্রচারণা চালায়, নিজদের মধ্যে বিতর্ক করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

বড়দের নির্বাচনে যেমন লিবারেল পার্টি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেয়েছে, শিক্ষার্থীরাও ১১৭টি আসন দিয়ে লিবারেল পার্টিকে সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে ক্ষমতায় রেখেছে। বড়দের নির্বাচনে অবশ্য লিবারেল পার্টি আসন পেয়েছে ১৫৮টি। 

বড়দের কাছে কনজারভেটিভ পার্টি দ্বিতীয় প্রধান দল হলেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে এনডিপি হচ্ছে দ্বিতীয় পছন্দের দল। ফলে শিক্ষার্থীরা ১০৭টি আসন দিয়ে এনডিপিকে অফিসিয়াল বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

লোহাগড়ায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

বিচারের কাঠগড়ায় অং সান সুচি

‘বিসমিল্লাহ’র ফজিলত


৯১টি আসন পেয়ে কনজারভেটিভ তৃতীয় প্রধান দলের স্বীকৃতি পেয়েছে নতুন প্রজন্মের সন্তানদের কাছে। বড়দের কাছে অবশ্য কনজারভেটিভ পার্টিই অফিসিয়াল বিরোধী দল। 

স্কুল পর্যায়ে গণতন্ত্রের হাতে কলমে শিক্ষা দিতে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্কুলগুলোয় এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ভোটে নয় আসন যাদের বেশি থাকে, তারাই সরকার গঠন করেন

শওগাত আলী সাগর

ভোটে নয় আসন যাদের বেশি থাকে, তারাই সরকার গঠন করেন

হাড্ডা হাড্ডি লড়াই’- এমন একটা চিত্র সামনে নিয়ে কানাডীয়ানরা আজ ভোট দিতে  শুরু করেছেন। সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে শুরু হওয়া ভোট  চলবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগে জাস্টিন ট্রুডোর হুট করে ঘোষনা দেয়া এই নির্বাচনে জনমত জরীপ বলছে  লিবারেল আর কনজারভেটিভের সমর্থন ৩১.৭ বনাম ৩২ শতাংশ । কিন্তু  আসন ভিত্তিক পর্যালোচনায় পরিস্থিতিটা ভিন্ন। 

কানাডায় ভোট নয়, আসন যাদের বেশি থাকে, তারাই সরকার গঠন করেন।সেই বিবেচনায় লিবারেলের ফিরে আসার পূর্বাভাস দিচ্ছে জনমত জরীপ। 

Vox Pop Lab এর সর্বশেষ জনমত জরীপে দেখা যাচ্ছে জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি  আজকের নির্বাচনে ১৩৫ থেকে ১৬২ টি আসন পাবে। কনজারভেটিভের ১১৫ থেকে ১৩৪ টি আসন পা্ওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাকি আসনগুলো এনডিপি এবং ব্লক কুইবেকোর মধ্যে ভাগাভাগি হবে। সে ক্ষেত্রে  এনডিপি ৩১ থেকে ৪৬টি এবং ব্লক কুইবেকো ২০ থেকে ৩১টি এবং গ্রীণ পার্টি ২টি আসন পেতে পারে। 
আসনভিত্তিক এই পূর্বাভাসে  লিবারেল পার্টির  ‘ওয়ার্কিং মেজরিটি’ থেকে   ৮টি আসন কম থাকে।

কিন্তু জনমত জরীপ পরিচালনা কারী সংস্থা Vox Pop Lab জরীপের তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা করে নিজেদের উপসংহার টানছে এইভাবে- আজকের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি ১৫০, কনজারভেটিভ ১২৪, এনডিপি ৩৬, ব্লক কেইবেকো  ২৫ এবং গ্রীণ পার্টি ২টি আাসন পাবে। 
জনমত জরীপের এই পূর্বাভাস আসলে  ঠিক হয় কী না সেটি জানার জন্য আমাদের সারাটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আশি শতাংশ মানুষ সুযোগ পেলে দেশ ছাড়তে চাইবে

রউফুল আলম

আশি শতাংশ মানুষ সুযোগ পেলে দেশ ছাড়তে চাইবে

দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা দেশে থাকতে চায় না। দীর্ঘদিন কাজ করে অর্থ-কড়ি হলে বিদেশে পাড়ি জমায়।

সরকারী কর্মকর্তারা সুযোগ পেলে দেশ ছেড়ে চলে যায়। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষকরা সুযোগ পেলে দেশ ছেড়ে চলে যায়। অনেক শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন‍্য গিয়ে ফিরে না। ফিরতে চায় না। ডাক্তাররা দেশ ছেড়ে চলে যায়। বুয়েটের প্রায় ষাটভাগ ইঞ্জিনিয়ার দেশে থাকে না। 

আমার জানামতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সরকারি আমলা—প্রতিটা পেশাজীবীর মানুষ দেশ ছাড়তে চায়। আমার পরিচিত বহু পেশাজীবী মানুষদের একটাই কথা—সুযোগ পেলেই দেশ ছাড়বে। সময় হলে দেশ ছাড়বে। 

কেউ বলে সন্তানের ভবিষ‍্যতের জন‍্য। কেউ বলে শেষ বয়সে একটু শান্তির জন‍্য। কেউ বলে পরিবার-পরিজনের জন‍্য। কেউ বলে সততার সাথে বাঁচার জন‍্য। কেউ বলে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন‍্য। কেউ বলে যোগ‍্যতার সুবিচার পাওয়ার জন‍্য। কেউ বলে উচ্চশিক্ষার জন‍্য। কেউ বলে সৎভাবে উপার্জন করে বাঁচার জন‍্য। কেউ বলে ধর্মীয় রোষানল থেকে মুক্তির জন্য। 

আপনি যদি আপনার চারপাশের মানুষদের নিয়েই একটা জরিপ করেন, দেখবেন আশি শতাংশ মানুষ সুযোগ পেলে দেশ ছাড়তে চাইবে। 
তাহলে পঞ্চাশ বছরে আমরা কেমন সমাজ তৈরি করলাম—যেখান থেকে সবাই পালাতে চায়! মানুষের ভিতর একটা উর্ধ্বশ্বাস! একটা দীর্ঘশ্বাস। পালিয়ে বেড়ানোর এক নিরন্তর চেষ্টা —কেন? 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর