গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

মেজর (অব.) রেজা উল করিম

গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয় হওয়ার একটি উপায়

গত ১০ বছরে ফেসবুক ব্যবহারের কল্যাণে একটা বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি-- তা হল, সম্পর্ক গড়ার অন্যতম মাধ্যম কর্ম নয় প্রশংসা। এছাড়াও জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম ক্ষমতা বা কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকা। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচলিত এই নীতি আমি অনুসরণ করতে পছন্দ করি না। 

অনেক ঊর্ধ্বতন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে, তাদের কেউ কেউ কখনো খুব ভালো পজিশনে থাকেন আবার কখনো পদচ্যুত হন অথবা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে চান। এদের অনেকেই আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে। 

তারা কি কখনো খেয়াল করেছেন, তারা যখন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে অন্যত্র বদলি হন পদচ্যুত হন তখন কতজন মানুষ তাদের খোঁজ খবর নেন? ওই প্রভাবশালীরা ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিলে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। প্রশংসা পাওয়ার সময় তারা কী ভাবেন, মৌমাছিগুলো কোথায় ছিল ? হঠাৎ করে কেন এতো ভালোবাসা ?

বড় কোনো পোস্ট বা ছবি নয়, শুধু "হ্যালো" কথাটি লিখলেও- 
অনেক প্রশংসাবাণী ঝরতে থাকে, যেমন- 
—-‘হলো' বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, 
—আপনার অসাধারণ হ্যালোর মধ্যে মধু আছে, 
——আপনাকে স্বাগতম, 
—-আপনি অনেক বড় হৃদয়ের তাই আমাদেরকে হ্যালো বলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। 
আবার ধরুন, একটা ছবি পোস্ট করা হয়েছে এবং হয়তো তার পাশে তারই স্ত্রী বসে আছে তখন দেখবেন - প্রশংসা করতে যেয়ে অনেকেই বলবে - 

—'বাহ আপনাদেরকে নায়ক নায়িকার মত লাগছে' (এতদিন কিন্তু মনে হয়নি কারণ তিনি এতদিন এই পদে ছিলেন না), 
—আপনাদেরকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, 
—সেরকম মানিয়েছে, 
—সুন্দর জুটি,
—এমন স্বর্গীয় জুটি কখনো দেখিনি, 
—অদ্ভুত সুন্দর জুটি, 
—বেহেস্ত থেকে জনাব হুর এবং হুর পরী নেমে এসেছেন, 
—খোদার আশীর্বাদপ্রাপ্ত জুটি ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু দুইদিন পরে ওই জায়গা থেকে বদলি হয়ে যখন অন্যত্র যাবেন তখন কিন্তু খোঁজ নেওয়া দূরের কথা তিনি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলে কেউ ফিরে দেখারও সময় পাবে না, একটি ফোন কলও করবে না, খুঁজে বেড়াবেও না। 

যেমন ধরুন, কোন একজন সাবেক সিনিয়র সচিব (যোগাযোগ, জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) তিনি যখন যোগাযোগ থেকে পরিকল্পনা (IMED) মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হলেন তখন অনেক মানুষ তার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি যখন যোগাযোগ সচিব তার সাথে সুসম্পর্ক থাকা অবস্থায় দেখা করিনি তবে সেখান থেকে তিনি যখন একটু দুর্বল জায়গায় চলে গেলেন, ভাবলাম তার একটু খোঁজ নেই, হয়তো তিনি কিছুটা হলেও মানসিকভাবে আহত হতে পারেন। খুব ছোট মানুষ হলেও তাকে সাহস করে বলেছিলাম-' ইনশাল্লাহ আপনি আপনার নিজ যোগ্যতায় পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবেন'। তারপরে অবশ্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বেশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন।

আমার মনে হয় তখন তার কাছে আমিই সবচেয়ে কম গিয়েছি। আর যারা অতীতে তাঁর খোঁজ নেয়নি তাঁরাই সবচেয়ে বেশি গিয়েছিল।
 
আবার যখন একবার গুঞ্জন ছড়ালো তিনি কোন এক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন তখন অনেক মানুষ তার বাসার সামনে ভিড় জমানো শুরু করলেন। আমি একদিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার গেটের সামনে গিয়ে দেখি অনেক ভিড়, তা দেখে পরে ফিরে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি চেয়ারম্যান হলেন না তখন আমি আবার গিয়েছিলাম এবং দেখি সে মানুষগুলো কেউ নেই।
 
আরেকটি ঘটনা বলি, কোন একজন প্রভাবশালী জেনারেল, তার নাম বললে আপনারা সবাই চিনবেন, যার কথা মোটামুটি সবাই বলতো যে তিনি হয়তো পরবর্তী সেনাপ্রধান হবেন। আমার সাথে তার সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার সাথে অনেক কথা হতো। এমন হয়েছে যে, তিনি একদিন আক্ষেপ করে বলছিলেন- 'দেখো আমি কিছুই জানি না অথচ মানুষ আমাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছে'! তখন আমি তাকে বললাম-'স্যার এরা আজ ঝড়ে বক মারছে-যদি লেগে যায় থিওরির প্রয়োগ, এবং আপনি যদি সেনাপ্রধান না হন তখন দেখবেন এরা কেউ আপনার খোঁজ নিবে না। কিছুদিন আগে অনেকটা মজা করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- 'স্যার ওই মানুষগুলো কি আপনাকে এখন ফোন করে?'
তিনি উত্তর দিলেন- 'করবে কেন?  আমিতো তা হতে পারিনি। '

আমার অতি প্রিয় একজন অফিসার (মৃত) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ যিনি RAB- এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। তাকে আমি এতোটাই ভালোবাসি যার মৃত্যুর পরও প্রতিটা মুহূর্তে তাকে মনে করি এবং তিনি হচ্ছেন একমাত্র অফিসার যার মৃত্যুর পরে আমি তার জন্য নফল নামাজ আদায় করেছি। তার মৃত্যুর পরে সাতদিন পর্যন্ত আকাশের দিকে চেয়ে নিরবে কেঁদেছি। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় যারা তাকে প্রশংসায় ভাসাতো বা যারা সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করত তাদের কাউকে দেখিনি কর্নেল আজাদকে নিয়ে একবারের জন্যও স্মৃতিচারণ করতে। 

আমি আরো তিনজন ব্যক্তির কথা এখানে উদাহরণ সহকারে বলি- এক সময় RAB-এর লিগাল মিডিয়া উয়িং এর ডাইরেক্টর Mufti Mahmud Khan ছিলেন এবং গোয়েন্দা শাখার ডারেকটার কর্নেল Mahabub Alam এবং তারপরে সরোয়ার বিন কাসিম ছিলেন এরা তিনজনই অতি চমৎকার অফিসার। আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অসম্ভব ভালো ছিল এবং এখনো আছে।
 
কিন্তু তারা যখন উক্ত পদে বহাল ছিলেন তাদের প্রতি মানুষের প্রশংসা দেখে মাঝে মাঝে ভাবতাম আমি কি বোধহয় প্রশংসা না করে অপরাধ করছি!
 
আসলে আমি মনে করি- যদি প্রশংসা করতে হয় তবে সব সময় করব শুধু এখন করবো কেন? কিন্তু দেখেন সেই মানুষগুলোই জায়গা ছেড়ে যখন অন্যত্র চলে গেলেন তখন হয়তো আমার মত অতি অল্প সংখ্যক মানুষ আছেন যারা এখনও নিঃস্বার্থভাবে তাদের খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদের সেই সময় কিন্তু প্রশংসা করিনি তবে এখন খোঁজ নেই আর তাছাড়া যারা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতেন তারা কেউ কিন্তু খোঁজ নেয় না।

তবে একটু ব্যতিক্রমও আছে, যেমন- কেউ যদি বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা পদ পজিশন পেয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু উল্টোটাও হতে পারে! আবার কেউ যদি পদ/রাজনীতি থেকে অবসরে যান বা দল থেকে বহিষ্কার হন তাহলে তার নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। 

তাই বলছি, প্রকৃত বন্ধুদেরকে চেনার চেষ্টা করুন। আর যদি চাটুকারদের প্রশংসায় গা ভাসিয়ে দেন একসময় আফসোস করবেন এবং মনোরোগে আক্রান্ত হবেন, নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হবে, হিসাব মেলাতে পারবেন না- আপনার জীবন টাই ক্ষণস্থায়ী, আপনার চেয়ার, পদ,পজিশন তার চেয়েও বেশি ক্ষণস্থায়ী। জীবনের শুরু থেকে অদ্যাবধি সকল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেসব সৈনিক/কর্মচারী/কর্মকর্তা আমার অধীনে চাকরিরত ছিল বা এখনও যারা আছে তারা জানে আমি কি তাদের পাশে বেশি ছিলাম নাকি সিনিয়রদের বেশি তোষামোদ করার চেষ্টা করতাম। আর তাই তার সুফল এখন ভোগ করছি-বিপদ আপদে অনেক মানুষকেই পাই!

সবাই যা করে আমি তা করবো না- কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি স্রোতের বিপরীত দিকে চলতে অভ্যস্ত। আমার মনে আছে ছোটবেলায় যখন আমার সমবয়সী খেলার সাথীদের নিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী তে ঝাঁপ দিতাম তখন অধিকাংশ ছেলেই একটি কলা গাছ নিয়ে স্রোতের অনুকূলে ভাসতে চাইতো আর আমি স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কেটে দেখতে চাইতাম-আমার সাঁতারের জোর বেশি নাকি নদীর স্রোতের শক্তি বেশি? কে কাকে পরাজিত করতে পারে? কখনো নদীর স্রোত কে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতাম আবার কখনো পেছনে চলে যেতাম, তখন একটু রেস্ট নিয়ে আবার চেষ্টা করতাম। এই দক্ষতাটা তখন খুব কাজে লেগেছিল যখন অ্যাডভান্স কমান্ডো কোর্স করতে গিয়েছিলাম। এখনো মনে পড়ে যখন অ্যাডভান্সড কমান্ডো কোর্সের ( ACC-17) সময় 1000 মিটার সুইমিং করি তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জিয়া স্যার (তৎকালীন মেজর বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার), তার মন মত performance দেখানো অনেক কঠিন কাজ ছিল, তিনি সহজে কাউকে very good বা খুব ভালো হয়েছে বলতেন না কিন্তু সেদিন তার মুখে সেই অমুল্য শব্দ দুটি শুনে ছিলাম। শৈশবের সেই দক্ষতার কারণে খুব সহজেই সেই প্রশিক্ষন পর্বটা শেষ করতে পেরেছিলাম। 

যখনই কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ জনপ্রিয়  হওয়ার প্লাটফর্ম হয় তখনই সেখান থেকে ভালো ফল আশা করা যায় না কারন জনপ্রিয়তার আড়ালে তেলবাজরা সরব হয়ে কাজের গৌরব নষ্ট করে । মানুষকে অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য প্রশংসা করুন; চাটুকারিতা বা তেলবাজির জন্য নয়। কারন প্রথমটা কাউকে উপরে উঠতে সহায়তা করবে আর দিতীয়টা তাকে নিচে নামাতে বা ধ্বংস করতে সহায়তা করবে।

মেজর (অব.) রেজাউল করিম, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন


লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে মরিয়ম নওয়াজের ছেলের বিয়ে

বারবার রিমান্ডে পরীমণি: ক্ষমা চাইলেন দুই বিচারক

বছর না ঘুরতেই অন্তঃসত্ত্বা কাজল!

বাণিজ্য মেলা হবে এবার নতুন স্থানে, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিশেষ একধরণের কর্মকান্ড,  যা উদ্ভট ও অর্থহীন। বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন ' ইডিয়ট শো'। 

কেউ হয়ত হাপুস হুপুস করে খাচ্ছে। শুধুই খাচ্ছে। আর কিছুনা। হাজারে হাজারে লোক সেই দৃশ্য দেখছে। লাইক দিচ্ছে, লাভ দিচ্ছে, রাগের চিহ্ন দিচ্ছে, হা হা দিচ্ছে। মন্তব্য করছে। কেউ কেউ মন্তব্যে ভালবাসা জানাচ্ছে,  কেউ ট্রল করছে,  কেউ ঝেড়ে গালি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ধরা হচ্ছে একটি সংখ্যা। দেড় হাজার মন্তব্য, বা পঁচিশ হাজার রিয়েকশন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই। 

 কেউ গান করবার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু গান ভয়ানক বেসুরো। সেটাও দেখছে লাখ লাখ মানুষ। অভিনয় করার চেষ্টা করছে কেউ। কিন্তু কিছুই হচ্ছেনা৷ একটা হাসির খোরাক পেয়ে সবাই হাসির নামে উপহাস ছুড়ে দিচ্ছে৷ তাই সই।
 
হাসির উপাদান উধাও হয়ে গেছে। হাসির নাটক নেই, হাসির গান নেই।  কিন্তু প্রচুর হাস্যকর গান, নাটক ও নাচ হচ্ছে। 
 যেটা ঠিক ঠাক হচ্ছে সেটা দেখছেনা তেমন কেউ। কারণ সেটা নিয়ে সে হাসাহাসি করতে পারছেনা। সুস্থ বিনোদনের চর্চা না থাকায় মানুষ আসলে ভুলে গেছে বিনোদন কি? এই হাসাহাসিটাই বিনোদন বলে ধরে নিয়েছে। আর হাসি নিন্দার খোরাক হয়েও যার রিয়েকশনের পাল্লা ভারি সে হয়ে যাচ্ছে সেলিব্রিটি।  

সম্ভবত ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়া জিনিসটা নতুন বলে মানুষের মধ্যে একটা দিশেহারা ভাব দেখা যাচ্ছে৷ ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা " এই প্রচারযন্ত্র লইয়া আমি কি করিব?"

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না!

অনলাইন ডেস্ক

গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না!

বাংলাদেশের ক্রিকেটঃ প্রাসঙ্গিক আলোচনা 

১. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা নিয়ে অনেক কথা অনেকে বললেও আমি মনে করি সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো তামিম ইকবালের অভিষেকের পর থেকে গত দেড় দশকে আরেকজন ওপেনার তৈরি করতে না পারা!

 
ইমরুল কায়েস, জহুরুল ইসলাম অমি, আনামুল বিজয়, নাজিমুদ্দিন, সৌম্য, লিটন কেউই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। বয়সভিত্তিক দল কিংবা লিগগুলো খুঁজেও গত দুই বছর ধরে ফর্মহীন দুইজনকে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আনতে হলো কেবল পাইপলাইনে খেলোয়াড় না থাকায়!
 
দিনের পর দিন একটা পদ আটকে রেখে ও গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না! এটা যদি পাপন সাহেব বুঝতেন! 

২. আমার ধারণা আমাদের কোচিং প্যানেলের বড় ব্যর্থতা হলো খেলোয়াড়দের স্কিলের ঘাটতি এখনো রয়ে যাওয়া। ভারত পাকিস্তান ম্যাচ দেখলে বুঝবেন বাবর- রিজোয়ান কিংবা কোহলি-জাদেজা প্রতিটা দুই রানকে তিন রান বানিয়েছেন, এক রানেরগুলো ফিল্ডার একটু দূরে থাকলেই কিংবা ফাম্বল হলেই দুই রান বানিয়েছেন। আমাদের ব্যাটসম্যানদের রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট খুবই স্লো। প্রতি ম্যাচে পনেরো রান কম হচ্ছে এজন্য। এটাই পিছিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

নিজের মেয়েকে হত্যা করতে গুগল সার্চ!

মা কালী সেজে জনগণকে তাক লাগালেন রিখিয়া

আরিয়ানের জামিন শুনানি আজ, টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব

৩. রিকি পন্টিং অবসর নেয়ার আগে থেকেই আমরা জানতাম পরের ক্যাপ্টেন মাইকেল ক্লার্ক হবেন। ভিরাট কোহলি টি টুয়েন্টির ক্যাপ্টেন্সি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার আগে থেকেই জানি নেক্সট ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। এদিকে আমরা এখনো জানি না রিয়াদ, তামিম কিংবা মুমিনুলের পর আমাদের অধিনায়ক কে? এই যে নেতা তৈরি করতে না পারা এটাও ব্যর্থতা! 
৪. আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে নেই প্রফেশনালিজম। প্রেস কনফারেন্সে কীভাবে কথা বলতে হয় এটাও জানে না। 

পাকিস্তানের সাথে দশ উইকেটে হারার পর ভিরাট কোহলির প্রেস কনফারেন্স পারফরম্যান্স অন্তত দেখতে পারে! 
এভাবেই একটা জাতির স্বপ্নের ক্রিকেট মরে যাচ্ছে। আফসোস হয়! ভীষণ আফসোস!

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

মারুফ কামাল খান

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল

ভাতের খোঁটা: আমাদের কালচারে খাওয়ার খোঁটা দেওয়াটা খুব অশোভন। বরং যারা একটু বেশি খেতে পারে ও ভোজনরসিক তাদেরকে এদেশে 'খানেওয়ালা' বলে কৃতিত্ব দেয়া হয়। আগে খাওয়ার বড় বড় মজলিসে এই খানেওয়ালাদের প্রতিযোগিতাও একটা আমোদের ব্যাপার ছিল।

যা হোক, ওগুলো হারানো দিনের পুরনো কথা। এখন এই হা-ভাতের কালে খাদ্যের দাম বাড়লেই সরকারি লোকেরা আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন। কেউ প্রেসক্রিপশান দেন ভুট্টা খান। কারো ফতোয়া আলু খান। কেউ বলে খাদ্যাভ্যাস পাল্টান, ভাতের ওপর চাপ কমান। এবারে খোঁটা শুনছি, আমরা খুব বেশি খাদক। রাক্ষসের মতন গোগ্রাসে ভাত খাই। আমাদের ভাত খাবার পরিমাণ নাকি অন্য দেশের লোকের তুলনায় ডাবল। তাই সমাধান, হচ্ছে ভাত খাবার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। অন্য আরো যে সব দেশে ভাত মূল খাদ্য, তারা ভাতের পাশাপাশি রুটি, ডাল, ছাতু, চিপস, সব্জি,  মাছ, গোস্ত, ডিম, দুধ, পনির, মাখন, ঘোল, ঘি ও আরো অনেক খাদ্য ও পানীয় গ্রহন করে। সে সাধ্য আমাদের দেশে খুব কম লোকেরই আছে। কাজেই শাক-পাতা, নুন-মরিচ, আলু, শুটকি, গুঁড়ামাছ ও পানি ছাড়া আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকের ভাতের সাথে আর তেমন কিছু জোটে না। আমি নিজে গাঁয়ের চাষীদের শুধু নুন-মরিচ দিয়ে পান্তা বা পানিভাত এবং শীতকালে কড়কড়া বা বাসিভাত শুকনা মরিচ ও শুটকি মাছ পোড়া দিয়ে খেতে দেখেছি। তাই গড়পড়তা অন্য দেশের তুলনায় এ দেশের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশিই।

কিন্তু তাই বলে কত বেশি? দ্বিগুণ নিশ্চয়ই নয়। এটা একেবারেই ভুয়া তথ্য। ভাত প্রধান খাদ্য মূলতঃ এশীয় দেশগুলোতে। ফাও, ইরি, রাইসপিডিয়ার তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের লোক গড়ে বছরে মাথাপিছু ভাত খায় ১৭০ কেজি চালের। তাতে রোজ একজন ৪ থেকে সাড়ে চারশ' গ্রাম ভাত খায়। শহরের লোকের তুলনায় গ্রামের লোক এবং ধনীর চেয়ে গরীবের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশি। বার্মা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ আমাদের কাছাকাছি। তারাও গড়ে তিন থেকে চারশ' গ্রাম চালের ভাত খায় রোজ।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার জেরে অবরুদ্ধ রাখা শিক্ষকদের মুক্তি মিললো

এক সময় ওসব দেশের লোকেরা আমাদের চেয়ে বেশি ভাত খেতো। এখন ক্রমে কমে আসছ। ভাতের সাথে অন্যান্য বিকল্প খাদ্য গ্রহনের সুযোগ তাদের বাড়ছে বলে ভাত খাবার পরিমাণ কমছে। আমাদের দেশে  অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের দাম কমুক, সহজলভ্য হোক - কাউকে বলতে হবে না। ফতোয়া, উপদেশ, প্রেসক্রিপশন, পরামর্শ, খোঁটা, ভাষণ, শাহী ফরমান কোনো কিছুর প্রয়োজন হবেনা। এমনিতেই লোকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেবে নিজে থেকেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

আমি সম্প্রতি আমার পারিবারিক একজন শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকা এবং ব্রিটেন মিলে প্রায় ৫ সপ্তাহ থেকে দেশে ফিরেছি। এই সময় আমি কতগুলো জিনিস বিদেশে থাকার সময় লক্ষ্য করেছি। সেই বিষয়গুলি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ করে সৈয়দ বোরহান কবীর অনেক লেখা লিখেছেন। কিন্তু আমি নিজে আমার নিজস্ব অনুভূতিতে প্রথম আমি আমেরিকার কথায় আসি, যদি আমেরিকায় না যেতাম তাহলে অতটা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম না। সবাই জানে, বিশেষ করে যারা বাংলা ইনসাইডারের নিয়মিত পাঠক তারা ভালোভাবেই জানেন যে, আমেরিকাতে, কানাডাতে এবং ইউরোপে -এই তিনটি জায়গায়ই এবং ইউকেতে লন্ডনে বসে তারা এখন সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঠিক বললেও এটা ভাসা ভাসা বলা হয়। আসলে তাদের টার্গেট হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। যার জন্য আজকে গোয়েবলসীয় যদি আজকে হিটলারের সেই মন্ত্রী বেঁচে থাকতো আজকে সে লজ্জা পেত। কেননা তার গোয়েবলসীয় সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে এমনভাবে প্রচার করত যে লোকে ওই মিথ্যাটাকে বিশ্বাস করত। কিন্তু এরা সোজাসুজি মিথ্যাটাকেই খুব সুন্দরভাবে পরিবেশনা করে এবং ক্রমাগতভাবে জনগণকে বারবার জানাচ্ছে। যাদেরকে দিয়েই করানো হচ্ছে, এদের দেখলাম যে কাজের দিক থেকে মোটামুটি ভালো ভাবে। কেননা তাদের যে টিম, তারা ভালো একটা টিম করে নিয়েছে এবং এই টিমে যারা স্ক্রিপ্ট লিখে দেওয়া, এরা যাতে ঠিকমত টাকাপয়সা পায় সেটার ব্যবস্থা করা এবং তারা ঠিকমতো পরিবেশন করলো কিনা।

প্রত্যেকটা জিনিস বোঝা যায় যে এটা একটা নির্দিষ্ট ছক এঁকে করা হচ্ছে, একটা রোডম্যাপ একে করা হচ্ছে এবং এই রোডম্যাপের টার্গেট জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং টার্গেট হচ্ছে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত। তাদের এই কাজটি তারা তাদের দৃষ্টি থেকে আমি দেখলাম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করছে। আর আমাদের অনেকেই আমেরিকায় আছে। আর তাদের দুর্দিনের সময় নেত্রীর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্যে অনেক অবদান আছে এবং এটা ঠিক। এরমধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকেও এরা ভালো অবস্থানে আছে। অনেকে এসে যে বাংলাদেশে পাওয়ার প্লান্ট এনেছে আমি সেগুলার উদাহরণ আনতে চাই না। কারণ এমনিতেও তাদের অনেক টাকা। কিন্তু দুঃখজনক হলো যেভাবে নেত্রীকে আক্রমণ করা হচ্ছে, আমাদের এত লোক থাকা সত্ত্বেও তারা বড় বড় কথা বলে কিন্তু আমেরিকাতে সেইভাবে একটা অর্গানাইজড ওয়েতে এর উত্তর দেয়ার জন্য সামান্য কোন প্রচেষ্টা আমার চোখে পড়েনি। বুঝতে হবে যে, যারা বিদেশে থাকে যতই আমরা বলিনা কেন এরা মিথ্যা হলেও তাদের কিছু কিছু লোক এই মিথ্যাকে কিন্তু বিশ্বাস করে। তাদের সংখ্যা হয়তো বেশি না, কিন্তু এই তাদের মিথ্যাকে যে বিশ্বাস করে তাদের আত্মীয়-স্বজন ঢাকা, বাংলাদেশে আছে। তারা বাংলাদেশেও আসে। সুতরাং কিছু লোক হলেও তারা কিন্তু আস্তে আস্তে অন্তত এটাকে প্রচারের ফলে একটা কনফিউশনে পড়ে যায়। অথচ এজন্য আমরা একটা ছক এঁকে এবং কিছু লোককে ভালো করে দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজনে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে সবাই মিলে এটাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওইখান থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, নাহলে আমাদের এমনিতেই আমি নিজেই বিশ্বাস করি যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেল অত্যন্ত দুর্বল। এখানে মন্ত্রী হলেও প্রচারের ব্যাপারে আমাদের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ যথেষ্ট সক্রিয় এবং তার সাথে আরও কয়েকজন আছেন। তাছাড়া মোটামুটি অনেকেই রাজনীতি বেশ ভালো বুঝেন, অনেকের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ভালো। অথচ তারা সেইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তিপূর্ণভাবে দিয়ে কোন বক্তব্য দেন না, এমনকি যারা মন্ত্রী বা দলের লোক যেরকম বাহাউদ্দিন নাছিম, নানক এরা অন্তত বাংলা ইনসাইডারে মাঝে মাঝে লেখে। এই যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সব যায়গায় মন্ত্রী এবং দলের যারা তাদের তো ভালো লিখতে পারে। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে অনেক লোককে আওয়ামী লীগে নেত্রী স্থান দিয়েছেন এবং আমি বিশ্বাস করি যে উনি দিয়েছেন যে তারা লেখাপড়া জানা এবং এরা আওয়ামী লীগের দুর্দিনেও অবদান রাখবে। কিন্তু এই সময় যারা আমাদের কমিউনিস্ট ভাইরা আওয়ামী লীগে এসে এখনো কমিউনিস্টের গন্ধ হয়তো শরীর থেকে সরাতে পারেননি তাদের আমি সেরকম কোন কাজকর্ম অন্তত আমার কোন চোখে পড়ছে না। যারা এরকম আর্টিকেল লেখতো তাদের ভাবখানা এই যে নেত্রীর যেন একাই দায়িত্ব, তিনিই সবকিছু করবেন। তিনি দায়িত্ব এবং সবকিছু করতেছেন কিন্তু তাকে তো সাহায্য করার জন্যে আমাদের সকলের সামান্য সামান্য হলেও অবদান রাখা প্রয়োজন। সেটা রাখা হচ্ছে না।

সুতরাং আমি প্রথম যেটা আমেরিকার ব্যাপারে বললাম এটা ব্রিটেনের ব্যাপারে, কানাডার ব্যাপারে, সবজায়গার ব্যাপারেই সত্য যে আজকাল আরেকটা কথা এর সাথে বলে ফেলি যে সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব পাওয়ারফুল। এই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যেই আওয়ামী লীগের আলাদা একটা সেল করা দরকার। এসব সেল লোককে জানিয়ে বিভিন্ন প্রকাশ করে কমিটি করে দরকার নাই। নেত্রী নিজেই কাউকে দায়িত্ব দিবেন। সেই যারা যারা এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং পারবে তাদের মোটামুটি ফুল টাইম দায়িত্ব হবে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার উপর লক্ষ রাখা। আরেকটি গ্রুপ থাকতে হবে যারা পত্রিকার উপরে। এখানে কিন্তু শুধু লক্ষ রাখলে হবে না। সাথে সাথে তার উত্তরটাও দিতে হবে। যেমন- টকশো হাজার বলি না কেন যতই বলিনা, টকশোতে বড় বড় কথা চলবেই। ইলেকশন পর্যন্ত  চলবে, পরেও চলবে। এর উত্তর হচ্ছে আমাদেরও কিছু লোক সেখানে গিয়ে যেমন অনেকে অংশগ্রহণ করে তারা বেশ ভালো বলে। আমাদের আওয়ামী লীগের যারা যারাই টকশোতে গিয়ে অংশগ্রহণ করে আমি প্রায় সবারটাই শুনি এবং আমি মনে করি তাদের ক্ষমতার মধ্যে যথেষ্ট অবদান রাখে এতে কোন সন্দেহ নাই। এখন অনেক মিডিয়াকে আমি দেখেছি যে, টেলিভিশন মিডিয়ার কথায় আসি। নেত্রী নিজের হাতে যাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন তারা আলোচনায় এমনসব ব্যক্তিদের আনেন তারা কিছু থাকবেন নিরপেক্ষভাবে যারা সুশীল সমাজ হয়ে যান, আর কিছু কায়দা করে নেত্রীর বিরুদ্ধে বলেন। এখানে যে একটা আমাদের লোকজন যারা এটা ভালো করে বলতে পারবে এবং আছে তাদেরকে কিন্তু তারা অনেক মিডিয়াতে ডাকেন না। তারা নতুন নতুন বিজ্ঞ সমাজ গড়ে তুলছেন। যেমন- প্রথম আলো এদেশে সবাইকে বিজ্ঞ বানিয়েছেন, তারাই সুশীল সমাজ হয়েছে, ঠিক একই পন্থা কিছু কিছু মিডিয়া গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আবার নতুন টেলিভিশন চ্যানেলও অনুমতি পাচ্ছে। সত্যিকারে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি খুব সাধারণ মানুষ, আমি বুঝিনা, আমার বুদ্ধিতে কুলায় না যে এসব এভাবে কেন হচ্ছে। এত বড় দল, এত বিজ্ঞ লোক অথচ একটি কাজ রোডম্যাপ অনুযায়ী কেন হবে না। না হওয়ার তো কোন কারণ নেই।

আরও পড়ুন:

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য

আগামী মাসেই ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে আসছেন ট্রাম্প

পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে গদা নিয়ে যায় ইকবাল

মানবদেহে প্রতিস্থাপিত হল শূকরের কিডনী


আর আমি যদি আমেরিকায় গিয়ে না দেখতাম এবং সাধারণ মুদি দোকান আলাপ করেছি। যদিও আমেরিকাতে আমাদের চেয়ে অবস্থা খারাপ তবুও সেখানে তারা মাস্কও কেউ পরে না, না পরেই ঘুরে বেড়ায়। যদিও আমি যে কয়দিন ছিলাম, যে কাজে গিয়েছিলাম মাস্ক পরে সে কাজে যেতে হয়েছে। সব যায়গায় আলাপ করে দেখেছি যে সাধারণ লোকজনের ভিতরে কিছু কিন্তু ইনফ্লুয়েন্স হচ্ছে। এটা যদি অস্বীকার করেন আমার মনে হয় তিনি জিনিসটাকে গভীরভাবে দেখতেছে না। সুতরাং এই যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং এর সাথে ইউটিউব সব মিলিয়ে তারা যে একটা সাইবার যুদ্ধ আমদের বিরুদ্ধে শুরু করেছে এর বিরুদ্ধে আমদের অবিলম্বে আমাদের যারা এই জিনিসটা ভালো করে বুঝেন এবং করতে পারেন তাদেরকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলে শুধুমাত্র নেত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সবাই তো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষমতা আছে। অনেকগুলো বাঁশের কঞ্চি যদি একসাথে বাঁধা যায় তাহলে একটা বাঁশের চেয়ে সেটি শক্তিশালী হয়। তো সেই শক্তি আমাদের আছে। আমি নাম বললে দুঃখ পাবেন কারণ, তারা আমার কাছে যথেষ্ট বিজ্ঞ, এখন মন্ত্রণালয় চালান, যারা অনেকদিনের মন্ত্রী। প্রত্যেক পত্রিকা খুললেই পাবেন ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগ বা নেত্রীর পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সরাসরি বলতে শুনিনি। এটা আমি প্রমাণ দিয়ে বলতে পারবো। প্রমাণ দেয়া লাগবে না, কারণ আপনারা সকলে বিজ্ঞরা, এটা সকলেই জানেন, এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। সুতরাং আমার মনে হয় যে আমাদের এই জিনিসটির প্রতি খুব লক্ষ দেওয়া প্রয়োজন। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

এ সময় এসে নারীরা নিজের আত্মবিশ্বাস, যোগ্যতা আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘর সামলে তাই বাইরে বেরোতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় আর এখন নতুন যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই যেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।

যেমন নারীর একা চলাচলে নিরাপত্তার অভাব। আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নারীরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও চাকুরীক্ষেত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার আগেই এখনো গুটিয়ে যায় অনেকেই শুধুমাত্র নিরাপত্তার কথা ভেবে। অনিরাপদ বলতে শুধুমাত্র যৌন হয়রানিকেই আমরা অভিহিত করতে পারি না, বরং যৌন হয়রানি মূলক ইঙ্গিত, ইভটিজিং, অশালীন মন্তব্য, তার উন্নতি নিয়ে কটুবাক্য এসব কিছুই নারীর জন্য অনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

এরকম নানা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজেকে কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকেন আর কেউ কেউ এসবের শিকার হয়েও চক্ষুলজ্জা, সমাজের অপ্রত্যাশিত দৃষ্টিভঙ্গি অথবা আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় চুপ করে যায়।

আর নতুন মাত্রা নিয়ে যোগ হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো নারীর পোস্ট কারও মতের সাথে ভিন্ন হলেই আপনারা নেতিবাচক এবং আপত্তিজনক কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেন। হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি। এবং তাদেরকেই যারা এগুলোর সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত।

কারণ একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগ করা হয়, কোনো নারী কি যেকোনো পুরুষের পোস্টে গালি বা অসম্মানজনক কোনো কথা বলে? সেটা যতই মতের অমিল হোক না কেন। বড়জোড় একটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলে অথবা এড়িয়ে যায়। ব্যতিক্রম থাকলে সেটা খুবই সামান্য।

অনেকে আবার ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে শুধুমাত্র এসব বলার জন্য বা লেখার জন্যই! এসব করার আগে নিজেদের সাধুবাদ নিয়ে প্রশ্ন জাগে না মনে? নিজে সাধু না হলে অন্যকে অসাধু বলা তো দূর, বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে? কিন্তু এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তো নিত্য ঘটনা হতে পারে না। নারীর নিরাপত্তায় কঠোর আইন রয়েছে।

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে আছে, "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা থাকবে।"

সংবিধানের ২৯ (৩) অনুচ্ছেদে আছে, "কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারীপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।"

আরও পড়ুন


লক্ষ্মীপুরে খোঁজ মিলছে না দুই কিশোরীর

আশুগঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় দুই চালকল শ্রমিক নিহত

তিস্তার সব গেট খুলে দেওয়ায় বড় বন্যার আশঙ্কা

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা


১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন পাস করা হয়। এ আইন পাসের পর নারী নির্যাতন কিছুটা বন্ধ হয়। পরে আইনটি বাতিলক্রমে ২০০০ সালে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন প্রণয়ন করা হয়।

অর্থাৎ সংবিধানের ও আইনের প্রতি সম্পুর্ণ বিশ্বস্ত থাকলে কোনও ক্ষেত্রে নারীর প্রতি কোনও রকম অবমাননাকর আচরণ, বৈষম্য বা বৈষম্যমূলক কোনও আচরণ করার সুযোগ নেই। এমনকি, নারী উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় কোনও উদ্যোগ নিলেও তা সংবিধান সমর্থন করে, কিন্তু এসব আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক নারী বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। 

নারী অধিকার মানবাধিকার থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। মানবাধিকারের প্রতিটি বিষয়েই নারী অধিকার ও নিরাপত্তাকে জোর দেওয়া হয়। সেই সাথে নারীদের জন্য আছে রয়েছে কিছু অধিকার যা একান্তভাবে নারীকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখায়। নারী অধিকার এমন একটি বিষয় যা সব বয়সের নারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

কিছু বিশেষায়িত অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাতে। বিশেষায়িত অধিকারগুলো আইন, কিছু আঞ্চলিক সংস্কৃতি, শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জাতি, বর্ণ ও রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এ অধিকারগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ ও রীতি দ্বারা সিদ্ধ হতে পারে।

তবে, যেভাবেই আমরা দেখে থাকি না কেন, নারীর এই অধিকারগুলো তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রস্ফুটিত করে তোলে, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আর নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে নয়। যতবার রুখবেন তার চেয়ে কয়েকগুণ অদম্য হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই সময় থাকতে চেপে যাওয়া বোধহয় ভালো। নিজে শোধরান, পারলে অন্যকেও শোধরানোর সুযোগ এবং সুপরামর্শ দিন।

এমি জান্নাত (সাংবাদিক)

লেখাটি ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর