নামাজে প্রত্যেক সূরার আগেই কী ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে?
নামাজে প্রত্যেক সূরার আগেই কী ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে?

নামাজে প্রত্যেক সূরার আগেই কী ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে?

অনলাইন ডেস্ক

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ প্রত্যেক ভাল কাজের আগেই এটি পড়া সুন্নাত। সব ভালো কাজের শুরুতে বরকতের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিসমিল্লাহ বলতে বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল নামাজে সূরা ফাতেহাসহ অন্যান্য সূরার শুরুতে কী বিসমিল্লাহ বলতে হবে?

নামাজে সূরা ফাতেহার আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নাত। তবে অনেক ইসলামিক স্কলার বিসমিল্লাহকে সূরা ফাতেহার প্রথম আয়াত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

সে হিসেবে নামাজে সূরা ফাতেহা পড়লে তো বিসমিল্লাহ এমনিতেই পড়তে হবে। আর বিসমিল্লাহ যদি সূরা ফাতেহার আয়াত না-ও হয়; তবে অনেকে সূরা ফাতেহার আগে বিসমিল্লাহ পড়াকে সুন্নাত বলেছেন।

সূরা তাওবা ছাড়া কোরআনুল কারিমের প্রতিটি সূরার আগে বিসমিল্লাহ আছে। স্বাভাবিকভাবেই কোরআনুল কারিম তেলাওয়াত করার সময় সব সূরার আগেই বিসমিল্লাহ পড়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সূরার আগে বিসমিল্লাহ পড়তেন। তাছাড়া তিনি সব ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে বলেছেন। সে হিসেবে দুনিয়াতে মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ হলো ‘নামাজ’।

সুতরাং নামাজের নিয়ত বেঁধে সূরা ফাতেহার শুরুতে শুধু ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নয় বরং তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়ে প্রথমে আউজুবিল্লাহ পড়া। এরপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে সূরা ফাতেহা পড়া। এরপর পরবর্তী রাকাআতগুলোতে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা পড়ার আগেও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়া।

তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা ভুলক্রমে নামাজে সূরা ফাতিহা বা অন্য সূরা পড়ার আগে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ না পড়ে; তবে তাকে সাহু সেজদা দিতে হবে না। তবে কোনো ইসলামিক স্কলার বলেছেন, কারও যদি বিসমিল্লাহ পড়া সবসময়ের অভ্যাস হয়ে থাকে তবে ভুলে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ না পড়ে থাকলে সাহু সেজদা দেওয়া মোস্তাহাব।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৭০-৭৪, গরু জবাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকারী শনাক্ত

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ‌‘নতুন ক্লাশ রুটিন’ প্রকাশ

২০ অক্টোবরের মধ্যে খুলছে চবি, আছে শর্ত

ব্যাংক কর্মীদের চাকরি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা


আবার অনেক ইসলামিক স্কলার হাদিসের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিয়ে থাকে তাহলে সাহু সেজদা দিতে হবে না। কারণ সাহু সেজদা দিতে হয় কেউ ভুলক্রমে নামাজের কোনো কথা বা কাজ ছেড়ে দিলে। যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কেউ ভুলে যায় তাহলে সে যেন দুইটি সেজদা দেয়। ’ (মুসলিম)

সর্বোপরি কথা হলো- নামাজে সূরা ফাতেহা ও অন্যান্য সূরা পড়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নাত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের শুরুতে আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতেহা পড়ার তাওফিক দান করুন। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম