অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে, ঠিক কিনা?

মুম রহমান


অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে, ঠিক কিনা?

মুম রহমান

শেকসপিয়রের রোমিও জুলিয়েটের কথা মনে আছে? মনে না থাকলেও অসুবিধা নাই। এ কাহিনী নিয়ে শত শত নাটক, সিনেমা, গল্প হয়েছে। 

বিবাদমান দুই পরিবারের সন্তান রোমিও জুলিয়েটের করুণ মৃত্যুই তাদের প্রেমের পরিণতি। কিন্তু এই পরিণতির জন্য অল্প বয়মের আবেগ আর তাড়াহুড়াই দায়ী। ফ্রায়ার লরেন্স কিন্তু রোমিওকে বলেছিলো, 'ধীরে আর বুদ্ধি করে চলো। যারা দ্রুত দৌঁড়ায় তারা হোচট খায়।' 

আকস্মিক তীব্র প্রেম, তাড়াহুড়ায় সিদ্ধান্ত নেয়া এইসবই রোমিও জুলিয়েটের করুণ পরিণতি টেনে এনেছে। ভালোবাসা বা ঘৃণা যতো তীব্রই হোক তাকে সামাল দিতে হবে ধীরে সুস্থে। নইলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। 

আদতে বড়বড় দুর্ঘটনা হয় তাড়াহুড়ার কারণেই। আপনি হয়তো জানেন, আপনি খুব দক্ষ চালক, কিন্তু রাস্তা পার হতে যাওয়া গরু, ছাগলটা তো আর ট্রাফিকস আইনও জানে না, আপনাকেও চেনে না। 

ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে একটা আন্তর্জাতিক নিয়ম হলো, এমন গতিতে গাড়ি চালানো যে চাইলে মুহূর্তে ব্রেক কষা যায়। কাজেই উদ্দাম গতিতে চললে হয়তো আপনি আগেই যাবেন, তবে একেবারে পরে পারেও যেতে পারেন সবার আগেই। অতএব মুম বলছে, ধীরে চলো বন্ধু। পরপারে আগে যাওয়ার চেয়ে ধীরেসুস্থ্যে ঘরে ফেরা ভালো। 

আমাদের অনুজ গল্পকার মোজাফফরের একটা গল্প আছে, 'শেষ মাথাটি কাটা পড়ার আগে'।  ভীষণ প্রাসঙ্গিক অথচ স্যুরিয়াল এই গল্প আমরা দেখি চারিদিকে মাথাহীন মানুষের অনাচার। আমার খুব প্রিয় একটা গল্পের বই রবার্ট ওলেন বাটলারের 'সেভারেন্স'। 

সেভারেন্স মানে হলো পৃথকীকরণ, বিভাজন, আলগা করা, বিচ্ছিন্ন করে। বলা হয়ে থাকে একজন মানুষের মাথা কেটে ফেললেও সে দেড় মিনিট পর্যন্ত সচেতন থাকে। মানুষের তার আবেগের চূড়ান্ত সীমায় মিনিটে ১৬০টা শব্দে বলতে পারে। সেই হিসাব থেকে ওলেন বাটলার গুণে গুণে ২৪০ শব্দে ৬২টা গল্প লিখেছেন। 

পুলিৎজার জয়ী এই লেখকের গল্পগুলো আমি যতোবার পড়েছি ততোবার শিউড়ে উঠেছি। শুধু নানা বিখ্যাত মানুষ নয় তিনি মাথাকাটা মুরগির গল্পও বলেছেন। আমি চারপাশের তাড়াহুড়া করা, উদ্দাম ছুটে চলা মানুষগুলোকে দেখলেও শিওড়ে।উঠি। মনে হয় যেন একদল মুরগীর মাথাকেটে পফেলেছে আর তারা মৃত্যুর আগে শেষ দৌঁড়ে ব্যস্ত! 

আসলে আমাদের মাথাটা ঘাড়েই আছে। তাকে যদি ব্যবহার করি, বুঝতে পারবো, সেই কচ্ছপ আর খরগোসের গল্প মান্ধাত্তা আমলের হলেও উন্নত আর সুশিক্ষিত দেশের মানুষেরা কিন্তু এখন ধীর আর সরল জীবনেই ফিরছে বা ফিরতে চাইছে। সত্যিকার ভ্রমণ পিপাসু কি দেখলাম, কি দেখলাম না সেই ব্যস্ততায় না থেকে একটা জায়গাকে উপভোগে মন দেয়। 

কোন রকমে ৫০০ বই পড়ার চেয়ে ধীরে সুস্থে ৫০টা বই পড়া বেশি উপকারী। দিশেহারার মতো ছোটাছুটি করলেই যে সুখ সাফল্য আসবে তা নয়। আর সুখ তো অস্থিরতায় নেই, সাফল্য তো গতিতে নেই। 

সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচটন ওজন বয়ে বেড়ানোর ঠেকা কেবল ট্রাকের। আপনি আমি কিন্তু ট্রাক নই। তবে খামাখা সড়ক দাঁপিয়ে বেড়ানোর কি দরকার? 

কম চাহিদা, কম উত্তেজনা, কম জটিলতা, কম দেনাপাওনা, কম জিনিসপত্রে তো জীবন কাটানো যায় সরলভাবে। আমার টিভি নষ্ট হয়ে গেছে আরো বছর তিনেক আগে। সেই টিভিটাও ছিলো ওয়ালটনের একটা বাক্স টিভি। ঠিক করা হয়নি, নতুন টিভি কেনাও হয়নি। 

লাভের লাভ হয়েছে ভালো কিছু দেখার আশায় প্রতিদিন ব্যর্থ আর অহেতুক সময় কাটানো থেকে বেঁচে গেছে। টিভি গেছে। ঝামেলাও গেছে। কোন কিছুই অনিবার্য নয়। আজকের জীবনযাত্রায় এসি, টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ দরকারী, কিন্তু যাদের জীবনে এ সব নিয়ে তারা কেউ মরে যায়নি। 

এগুলো কেবলই কিছু বস্তু, কাজের বা অকাজের সেটা নির্ভর করে মানুষভেদে। আমাদের দাদী নানীরা খড়ির চুলাতে বাটা মসলায় প্রতিদিনের মাছ, শাক, ভাত রাঁধতেন, তারা যে খুব অসুখী ছিলেন এমন কিন্তু মনে হয়নি কখনো। হ্যাঁ এসব পেলে আরাম হয় বটে। 

তবে নিয়মিত তাজা রান্নার শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণও বেশি। কাজেই এটা আপনার পছন্দ। কোন জীবন বেছে নিবেন। যে টিভি, মোবাইল, ডিশ ইত্যাদি আবিষ্কার করেছে, এগুলোর ব্যবসা করে সে বা তারা কিন্তু বিজ্ঞাপণ দিয়েই প্রমাণ করবে এ সব ছাড়া আপনার জীবনই বৃথা। আজ থেকে দুযুগ আগেও আমাদের জীবন দিব্যি চলেছে মোবাইল ফোন ছাড়াই। এখন মোবাইল ছাড়া একদিন তো দূরের কথা এক ঘণ্টাও পার করতে পারে না কেউ কেউ। 

আরও পড়ুন:


একবার বিদ্রোহী হলে আজীবন নৌকা থেকে বঞ্চিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই আর্জেন্টিনা

করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষে সপরিবারে বসবাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


নোমোফোবিয়া বলে একটা নতুন মানসিক রোগই হয়েছে। এ রোগটা হলো মোবাইলের অভাবে দিশেহারা, আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে যাওয়া। নোমোফোবিয়া হলো No mobile Phobia. দেখুন এমন কতো ফোবিয়া আমরা যন্ত্রের কল্যাণে পেয়ে গেছি। আমি নিজে হাতে লেখা ভুলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি কম্পিউটারে লিখছি। হঠাৎ একদিন পুরনো ডায়েরি পেয়ে নিজের হাতের লেখার প্রতি মায়া হলো। খুঁজে দেখি অন্তত গোটা বিশেক অব্যবহৃত ডায়রি আছে, নানা রকম কাগজ, খাতা রয়েছে। শুরু করলাম হাতে লেখা। সাথে বোনাস হিসাবে যোগ করলাম রঙ তুলি। কোন রকম ডিভাইস ছাড়াই লেখা আর আঁকা আমাকে অদ্ভূত মেডিটেশনের আনন্দ দিলো, দিচ্ছে। 

জীবনকে দ্রুতগতির আর আরামের করতে নানা যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয়েছে। এ সব যন্ত্র আমাদের সহকারী হতেই পারে, কিন্তু কোনভাবেই যন্ত্র নির্ভর বা যন্ত্রের দাস হয়ে গেলে বিপদ। যন্ত্রসভ্যতা আপনাকে কথিত সুবিধা দেবে, বিনিময়ে পূুঁজির রেসের ঘোড়াও বানাবে। 

সবসময় আপনাকে ইনসিকিউরিটিতে ভোগাবে। এই মনে হবে পিছিয়ে গেলাম, হেরে গেলাম। ভাইয়েরা আমার, বোনেরা তোমার, আগানোর দরকার নাই, পেছানোর দরকার নাই, নিজের জায়গা থাকো। খেলা দেখো। অন্যের দৌঁড়ঝাপ দেখার মধ্যেও সুখ আছে। ঠিক কিনা? 

লেখাটি মুম রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

রাউফুল আলম

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেওয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।

প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

আরও পড়ুন:


ফতুল্লায় সুজন ফকির হত্যাকাণ্ডে দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

মন্দিরে হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

প্রেম করে বিয়ে করায় ৪ নাতি ও ২ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

বড় ভাই শেখ জামালের মতো সেনা অফিসার হতে চাইতো শেখ রাসেল: প্রধানমন্ত্রী


বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোনো সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণির নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণির নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি।

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোনোপ্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

মুসলিম পরিবারে জন্ম আমার। ছোটবেলায় হুজুর রেখে সিপারা, আমপারা, কুরআন পড়িয়েছেন মা-বাবা। ‘আলিফ বে তে’ পড়ার সময় ‘আঈন’ এবং ‘গাঈন’ অথবা ‘কাফ’ এবং ‘ক্বাফ’ এর উচ্চারণ নিয়ে একটু হিমশিম খেলেও বারবার পড়তে পড়তে শিখে গেলাম। 

স্কুলেও ‘ইসলাম শিক্ষা’ নামক একটি বিষয় ছিল। সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের সেই ক্লাস বাধ্যতামূলক না থাকলেও দু’একজন বন্ধু সেই ক্লাসও করতো। কখনও তাকে আলাদা চোখে দেখতে শেখাননি আমাদের শিক্ষকেরা। তাই ‘সাহা, চক্রবর্তী কিংবা সেন’ কে ‘আহমেদ, রহমান কিংবা হোসেন’ এর সাথে পার্থক্য করিনি কখনও। 

নাচ শিখতাম শুক্লা সরকারের কাছে। আমি মুসলিম বলে আমার এই নৃত্য গুরু নিজ কন্যাদের চেয়ে এক বিন্দু আলাদা করে দেখেননি কোনোদিন। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ই পেয়েছি!

শিল্পী হিসেবে সেই শৈশব থেকেই নাচ গান করেছি ঈদের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজার উৎসবেও। আমার সনাতন বন্ধুটিকে যেমন ঈদের সেমাই খেতে আমার বাড়িতে ডেকেছি তেমনি আমিও গিয়েছি নাড়ু খেতে। বাক্সো ভরে নিয়েও এসেছি তার মা’কে বলে। 
কোনোদিন কোনো সাম্প্রদায়িক চিন্তা মাথায় তো আসেনি! সত্যি বলতে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটিই বোঝার দরকার হয়নি আমাদের কখনও। 

কিন্তু আজ এ কোন বাংলাদেশে আছি আমরা! কি শিখাচ্ছি আমাদের সন্তানদের!! কোন বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের হাতে!!!

যে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ‘ঈদ মুবারক’ লিখলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেন কিন্তু একজন মুসলিম ‘শুভ বিজয়া’ লিখলেই তার গুষ্টি উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন শত শত মানুষ! যে বাংলাদেশে অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের কোনো স্বাধীনতা নেই!!

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’


যে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবে ভেঙে দেয়া হয় তাদের দেবী মূর্তি, লুটপাট করা হয় হিন্দুদের দোকানপাট, রাতের আঁধারে পুড়িয়ে দেয়া হয় হিন্দু জেলেপল্লী আর কিছুই করতে পারিনা আমরা!!!

না… আমার সন্তানদের আমি এই বাংলাদেশ দিয়ে যেতে চাই না। আমি সেই আগের বাংলাদেশ চাই। কি করবো, কিভাবে হবে জানিনা- কিন্তু করতে হবে… কিছু একটা করতে-ই হবে…

লেখাটি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

রউফুল আল

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।
প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোন সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি। 

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোন প্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না। 

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী।

তিনি লিখেছেন, এ মুহূর্তে করণীয় হলো ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।

তার স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:-

এখন আমরা কি করতে পারি? 
ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।  

তবে সবচেয়ে বেশী দরকার যেটা সেটা হচ্ছে, প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা। হিন্দু বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে জানানো, তুমি একা নও! এখন তাকে একা বোধ না করতে দেয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ! এই সময় এক জগতবিধ্বংসী ক্ষোভ-অভিমান চেপে বসে। তার হাতটা চেপে ধরে বলি চলেন, ইউ আর নট অ্যালোন। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে সংখ্যালঘু। কেউ রাজনৈতিক সংখ্যালঘু, কেউ সামাজিক সংখ্যালঘু, কেউ অর্থনৈতিক সংখ্যালঘু। ফলে দুর্বলের বেদনা, মজলুমের জ্বালাতো আমাদের না বোঝার কথা না! আল্লাহ যেনো আমাদেরকে সকল প্রকার মজলুমের বেদনা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করেন। 

অন্য দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানকে অত্যাচার করলে আমাদের হৃদয় যেমন ব্যথিত হয়, নিজের দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বা অন্য কেউ অত্যাচারিত হলেও আমাদের হৃদয় যেনো সেটা একই ভাবে উপলব্ধি করতে পারে, আল্লাহ যেনো আমাদের এই তৌফিক দান করেন।

লেখাটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

মারুফ কামাল খান

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

(ছবি বাঁ-দিক থেকে) বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), মারুফ কামাল খান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে তাঁর বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও কৌশল নিয়েও আছে নানা ভিন্নমত। রাজনীতির মানুষদের সাথে দ্বিমত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো মানুষ ফেরেশতা নয়। 

ভুল, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বাইরে নয় কেউই। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্যাভিসারী মুক্তিযুদ্ধে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে তাঁর ভূমিকাই বোধ করি তাঁর বাকি জীবনের আর সব কিছুই ছাপিয়ে যায়। একটা মানুষ একজীবনে দেশের জন্য, জাতির জন্য এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারে?

আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধে বাঘা সিদ্দিকী নামে পরিচিত হয়েছিলেন দেশজুড়ে শুধু নয়; আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের সুবাদে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছিল তাঁর সাহস ও বীরত্বের গাথা। কেন্দ্রীয় কমান্ড এবং ব্রিগেড ও সেক্টরের বাইরে নিজের নামে এক বিশাল যোদ্ধৃবাহিনী গড়ে তিনি লড়েছেন। 

বাংলাদেশের বিজয়ের ইতিহাস থেকে কাদেরিয়া বাহিনীর নাম তো কেউ কখনো মুছতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাইরে তিনি জীবিত অবস্থায় 'বীরউত্তম' খেতাবে ভূষিত একমাত্র বেসামরিক অধিনায়ক।

সময় কাউকে ক্ষমা করেনা। বয়স হয়েছে এককালের অসম সাহসী এই দুর্ধর্ষ বীরযোদ্ধারও। শুনলাম তিনি গুরুতর অসুস্থ। এমন একজন জাতীয় বীরের অসুস্থতা নিয়ে সংবাদ-মাধ্যমে তোলপাড় করা খবর নেই। তাঁর রোগের ও চিকিৎসার বিবরণ সম্বলিত নিয়মিত 'হেলথ বুলেটিন' প্রচার হওয়া উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় প্রচার-মাধ্যমে। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


অথচ তার কিছুই নেই। বরং ঘটনাচক্রে সরকারি পদ-পদবিতে আসীন অর্বাচীনদের বচনও এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই হোক তাঁর উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এই রাষ্ট্রেরই কর্তব্য। যে রাষ্ট্র স্থাপনের যুদ্ধে তিনি নিজের জীবন ও যৌবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁর আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘ পরমায়ুর জন্য আল্লাহ্'র কাছে জানাই আন্তরিক মিনতি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর