সূরা বাকারা: আয়াত ৭৫-৭৯, আল্লাহর বাণী শোনা ও ইহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৭৫-৭৯, আল্লাহর বাণী শোনা ও ইহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৭৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (75

‘‘(হে মুসলমানগণ!) তোমরা কি আশা কর যে, তারা (ইহুদীরা) তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; এরপর বুঝে-শুনে তা বিকৃত করত এবং তারা তা অবগত ছিল।’’(২:৭৫)

ইসলাম আবির্ভাবের পর আশা করা হয়েছিল যে, ইহুদীরা অন্যদের আগে ইসলাম গ্রহণ করবে। কারণ তারা মুশরিকদের মত ছিল না বরং তাদের কাছে ছিল আসমানী কিতাব। তারা তাদের ওই গ্রন্থ থেকে ইসলামের নবীর বৈশিষ্ট্য জেনে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা কার্যত মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাথে জোটবদ্ধ হয়। তাই এ আয়াতে আল্লাহ পাক মহানবী (সা.) ও মুসলমানদেরকে সহানুভূতি জানিয়ে বলেছেন যে, ইহুদীরা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এতে নিজেদের ঈমান ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া ঠিক নয়। ইহুদী সম্প্রদায় সহজেই ঐশি ধর্ম গ্রহণ করবে এমন আশা করা অনুচিত। কারণ এরা হলো তাদেরই বংশধর যারা হযরত মূসার সাথে তুর পাহাড়ে গিয়ে আল্লাহর বাণী শুনেছে এবং তার বিধান উপলব্ধি করতে পেরেছে। কিন্তু তারপরও তারা তা অবলীলায় বিকৃত করেছে এবং ঐশি ধর্মের বিরুদ্ধাচারণে লিপ্ত হয়েছে।

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়-প্রত্যেক সম্প্রদায়ের পণ্ডিত ব্যক্তিরা সত্যকে বিকৃত করে গোটা জাতিকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ধরনের পণ্ডিত ব্যক্তিরা সত্যকে জেনেও এমনভাবে তা তুলে ধরে যাতে জনগণ বিভ্রান্তিতে পড়ে।

এরপর ৭৬ ও ৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آَمَنُوا قَالُوا آَمَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالُوا أَتُحَدِّثُونَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ (76) أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ (77

‘‘যখন তারা মুসলমানদের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, আল্লাহ তোমাদেরকে (ইসলামের নবীর বৈশিষ্ট সম্পর্কে) যে ধারণা দিয়েছেন তা কি তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) বলে দিয়েছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে আল্লাহর সামনে (কেয়ামতের দিন) তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?’’ (২:৭৬)

‘‘তারা কি জানে না যে, যা তারা গোপন রাখে কিংবা প্রকাশ করে নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তা জানেন?’’ (২:৭৭)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে অনেক ইহুদী মুসলমানদেরকে দেখলে বলতো, তোমাদের পয়গম্বরের নিদর্শনগুলো আমাদের তাওরাত গ্রন্থের ভবিষ্যদ্বানীর সাথে মিলে যাওয়ায় আমরাও তোমাদের ধর্মের ওপর ঈমান আনব। কিন্তু যখন তারা অন্যান্য ইহুদীদের সাথে মিলিত হত, তখন তারা শেষ নবীর নিদর্শনগুলো মুসলমানদেরকে বলে দেয়ার জন্যে পরস্পরকে তিরস্কার করতো এবং তারা বলতো মুসলমানরা এ বিষয়কে কেয়ামতের সময় তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। ইহুদী পণ্ডিতরা সত্যকে বিকৃত করায় বর্তমানেও অনেক লোক ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসরণ করছে।

এরপর ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ (78

"ইহুদীদের মধ্যে এমন অনেক অশিক্ষিত লোক আছে যারা আল্লাহর গ্রন্থকে কল্পনা বা মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া অন্য কিছু মনে করে না এবং শুধু নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তারা অনুমান বা কল্পনা ছাড়া অন্য কিছু জানে না।" (২:৭৮)

এই আয়াতে বনী ইসরাইলের অন্য একটি দলের কথা বলা হয়েছে, যারা ছিল তাওরাত গ্রন্থ বিকৃতকারী পণ্ডিতদের বিপরীতে সাধারণ অশিক্ষিত ইহুদী। এরা তাওরাত গ্রন্থ সম্পর্কে কোন খবর রাখতো না এবং নিজেদের খেয়াল-খুশী মত জীবন যাপন করত। তারা মনে করতো, তাওরাত গ্রন্থে ইহুদী জাতিকে উন্নত জাতি বলে ধারণা দেয়া হয়েছে এবং তারা আল্লাহর প্রিয়পাত্র। আর পরকালে শুধু মাত্র ইহুদীরাই মুক্তি বা পরিত্রাণ পাবে এবং তারা নরক বা জাহান্নামে যাবে না, যদি তাদেরকে শাস্তি দেয়াও হয় তবে তা কয়েক দিনের বেশী স্থায়ী হবে না। এ ধরনের ভুল ধারণা অন্যান্য ঐশী ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এইসব শুধুমাত্র অশিক্ষা ও ঐশী গ্রন্থ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল। কারণ কোন ঐশী ধর্মেই এ ধরনের অবাস্তব কথা বলা হয়নি।

আরও পড়ুন


মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনামের কুশপুত্তলিকা দাহ হিন্দু মহাজোটের

দুই হাসপাতাল ঘুরে গুলশান থানায় রাসেল

প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া : উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি ‘দুই দিন’


এ সূরার ৭৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ (79

"সুতরাং তাদের জন্য আফসোস, যারা স্বহস্তে গ্রন্থ রচনা করে ও সামান্য মূল্য পাবার আশায় বলে যে, তা আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। আক্ষেপ, তাদের হাত যা রচনা করেছে এবং আক্ষেপ যা তারা উপার্জন করেছে।" (২:৭৯)

ইতিহাসে সব সময়ই অনেক পণ্ডিত ধর্মকে নিজেদের পার্থিব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করেছে, এখনো অনেকে তা করছে। দোকানদার বা ব্যবসায়ীরা যেমন পণ্য বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে, তেমনি অনেক অর্থলোভী ধর্মের মুখোশ পরে ধর্মকে বিক্রি করে সম্পদশালী হচ্ছে। মানুষকে খুশী করার জন্য অথবা শাসকদের কাছ থেকে উঁচু মর্যাদা বা পদ পাবার জন্য কিংবা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য আল্লাহর বিধানের নামে অনেকে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পবিত্র কোরআন কঠোর ভাষায়-আক্ষেপ শব্দের পুনরাবৃত্তি করে এর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

এই পর্বের আলোচিত আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে -

১. সব মানুষ বিশ্বাসী হবে বা ঈমান আনবে এমনটি আশা করা ভাল, কিন্তু এটাও সত্য যে,বহু মানুষ সত্যকে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই তাদের অবিশ্বাস যেন আমাদের বিশ্বাসের মধ্যে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

২. মন গড়া ধর্ম তৈরি ও ধর্ম বিক্রি করা হলো দুর্নীতি পরায়ণ পণ্ডিতদের কাজ। তাই কোন ব্ক্তব্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সাবধান হতে হবে। এ ধরনের পণ্ডিতরা ধর্মের মুখোশ পরে থাকলেও জনগণকে সাবধান হতে হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সুরা লাহাবের অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা লাহাবের অর্থ ও উচ্চারণ

সুরা লাহাব পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ এবং সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওয্‌যা। সে ছিল আবদুল মোত্তালিবের অন্যতম সন্তান। 

গৌরবর্ণের কারণে তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। কোরআন পাক তার আসল নাম বর্জন করেছে। কারণ সেটা মুশরিকসুলভ। এছাড়া ‘আবু লাহাব’ ডাক নামের মধ্যে জাহান্নামের সাথে বেশ মিলও রয়েছে। 

সে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) - এর কট্টর শত্রু ও ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিল এবং রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে কষ্ট দেয়ার প্রয়াস পেত। তিনি যখন মানুষকে ঈমানের দাওয়াত দিতেন, তখন সে সাথে সাথে যেয়ে তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করত।

আরবি:

 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
١  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
٢ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
٣ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
٤ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
٥ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ 

উচ্চারণ:

‘বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রাহীম’

ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিউ ওয়া তাব্বা. মা আগনা- 'আনহু মা-লুহু ওয়ামা- কাসাব. ছাইয়াছলা-না-রানযা-তা লাহাবিউ ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা- লাতাল হাত্বোয়াব. ফীজী দিহা- হাবলুম মিম মাসাদ।

বাংলায় অনুবাদ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
২. কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪. এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করে,
৫. তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

কাসেম শরীফ

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

উসামা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সা.) মদিনার সুউচ্চ এক অট্টালিকার ওপর আরোহণ করে বলেন, ‘আমি যা কিছু দেখি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের ঘরের ভেতরে বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগ নিপতিত হওয়ার স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭১৩৭)

ব্যাখ্যা : এটা নবী করিম (সা.)-এর বিশেষ মুজিজা। তিনি অদূর ভবিষ্যতে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে এ পৃথিবীতে কী ধরনের, কত ধরনের ফিতনা আসবে তা প্রত্যক্ষ করে ওই কথা বলেছেন।

হাদিসের মূল কথা হলো, কিয়ামতের আগে বৃষ্টির মতো বিস্তৃত পরিসরে ফিতনা ও বিপদাপদ মুসলমানদের গ্রাস করবে, যার লক্ষণ ইতিমধ্যে পৃথিবীতে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশে দেশে কারণে-অকারণে মুসলমানরা নির্যাতিত, নিপতিত হচ্ছে। এবং বহু মুসলিম একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঘোরাফেরা করছে। এ ধরনের ইঙ্গিতও রাসুল (সা.) দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অচিরেই এমন ফিতনার আত্মপ্রকাশ ঘটবে, যার ফলে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি থেকে উত্তম থাকবে। আর দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি থেকে উত্তম থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি থেকে ভালো থাকবে। যে ব্যক্তি ওই ফিতনায় জড়িয়ে পড়বে তাকে সে ফিতনা ধ্বংস করে দেবে। আর যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল পাবে, সেটা দিয়ে তার আশ্রয় নেওয়া উচিত।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭১৩৯)

আরও পড়ুন


ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)


মূলত এই দুই হাদিসে আত্ম-কলহের দিকেও ইঙ্গিত আছে। রাসুল (সা.) বলে গেছেন, মুসলমানরা পার্থিব ও অপার্থিব বহু বিপদে পতিত হবে। তবে প্রথম হাদিসে মদিনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, মদিনায় উসমান (রা.)-কে হত্যা করা হয়। এবং এর পর থেকে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

ক্ষমা ও রহমতের জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবেন... 

উচ্চারণ:  রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আর আমার প্রতি রহম কর, তুমিই তো উত্তম দয়ালু। 

মহান আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুমিনকে ক্ষমা ও রহমত দান করুন। আমিন। 

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ওজুর মাকরূহ ও ভঙ্গের কারণ

অনলাইন ডেস্ক

ওজুর মাকরূহ ও ভঙ্গের কারণ

ওজু মানে হলো- পবিত্রতা অর্জন। নামাজ পড়ার জন্য ওজু আবশ্যক। ওজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওজু শর্ত। ওজুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন।

ওজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।

ইতোপূর্বে ওজুর ফরজ, সুন্নাত, আহকাম ও তারতিব তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ওজু মাকরূহ হয় এবং ভঙ্গ হয়ে যায়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। যা জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-

ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ:

যে সব কারণে ওজু ভঙ্গ হয় বা নষ্ট হয় তা হলো-

ক. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

খ. দেহের কোনো অংশ থেকে রক্ত, পুঁজ বের হয়ে যদি পবিত্র হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ গড়িয়ে পড়ে।

গ. মুখ ভর্তি বমি অর্থাৎ বেশি পরিমাণে বমি হলে।

ঘ. নাক দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে।

ঙ. ঘুমানো- চিৎ হয়ে; কাত হয়ে; হেলান দিয়ে কিংবা কোনো কিছুর সঙ্গে ঠেস দিয়ে ঘুমালে যা সরিয়ে ফেললে ঘুমন্ত ব্যক্তি পড়ে যাবে।

চ. অজ্ঞান হওয়ার পর; এমন অজ্ঞান যাতে বোধ শক্তি লোপ পায়।

ছ. অপ্রকৃতিস্থতা। যা ঘুম বা নিদ্রার চেয়েও প্রবল।

জ. রুকু-সাজদা বিশিষ্ট নামাজে অট্ট হাসি; তবে জানাজা নামাজে, তিলাওয়াতে সিজদায় এবং নামাজের বাইরে হাসলে অযু নষ্ট হবে না।

ঝ. পিছনের রাস্তা দিয়ে অর্থাৎ পায়খানার রাস্তা দিয়ে কীট বের হলে পবিত্রতা অর্জন তথা অযু করতে হবে।

ঞ. ফোঁড়া বা ফোস্কার চামড়া তুলে ফেলার কারণে যদি পানি বা পুঁজ বের হয়ে  ফোঁড়া বা ফোস্কার মুখ অতিক্রম করে তাহলে পবিত্র নষ্ট হবে।

ট. পুরুষ ও মহিলার গুপ্তাঙ্গ কোনো অন্তরায় ব্যতিত একত্রিত হলে; বীর্যপাত হোক আর না হোক ওজু নষ্ট হবে।

আরও পড়ুন:


‘পবিত্র কোরআন অবমাননার’ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার পিছনে কোন রাজনৈতিক বংশের জোর ছিল না: মোদি

ক্যামেরার সামনেই বিরাট-আনুশকার কথা কাটাকাটি!

সরকারের মদদেই পূজা মণ্ডপে কোরআন অবমাননা: ফখরুল


ওজুর মাকরূহসমূহ:

ক. প্রয়োজনের বেশি পানি ব্যয় করা।

খ. প্রয়োজনের চেয়ে কম পানি ব্যয় করা।

গ. মুখমণ্ডলে এমনভাবে পানি নিক্ষেপ করা যে, পানির ছিঁটা অন্যত্র পড়ে।

ঘ. ওজুর সময় অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা বলা।

ঙ. ওজুর সময় বিনা ওজরে অন্যের সাহায্য নেয়া।

চ. নতুন পানি নিয়ে তিনবার মোথা মাসেহ করা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ। তার নির্দেশনায় কেউ কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তার দেখানো পথেই লুকায়িত কল্যাণ ও মুক্তি। সবার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যবহার ছিল মানবিক। হাদিসে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

মানুষের জীবন পরিচালনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর কথা-বার্তা ধরনেও রয়েছে শিক্ষা। তিনি কি ভাবে, কোন ভঙ্গিতে কথা বলতেন! তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কেরামে বর্ণনা থেকে যা পাওয়া যায়। তাহলো-

১. স্পষ্ট ও ধীর স্থির কথা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে কথা বলতেন, যা শুনে সবাই তার কথাগুলো আত্মস্থ করতে পারতেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের মতো এমন তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না; এক নাগাড়ে কথা বলে যেতেন না। বরং তিনি স্পষ্ট ও ধীর-স্থিরভাবে কথা বলতেন। তার বৈঠকে যারা উপস্থিত থাকতো; সবাই তার কথাগুলো মুখস্থ করে ফেলতো।’ (তিরমিজি)

২. সহজ ও নরম

বিশ্বনবীর কথাগুলো ছিল এত সহজ ও নরম যে, সবার কাছে তার কথাগুলো বোধগম্য ছিল এবং সহজেই শ্রোতারা তা বুঝতে পারতেন। কথা বলার সময় উম্মতের প্রতি এতো খেয়াল রাখতেন যে, কে কতটুকু কথা বুঝতে সক্ষম; সে অনুসারেই তিনি কথা বলতেন। তার কথা বলার ধরন কখনও শ্রোতাদের বুঝ শক্তির সীমা অতিক্রম করেনি। সহজ ও নরম কথা বলার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল ছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার পদ্ধতি ছিল ধীর-স্থির; যারাই তার কথা শুনতো সবাই তা বুঝতে পারতো।’ (আবু দাউদ)

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে ভয়ে ভয়ে কথা বলতে লাগলো; এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ভয় করো না; কেননা আমি কোনো রাজা-বাদশাহ নই। আমি তো এক নারীর সন্তান; যিনি শুকনো মাংস খেয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ)

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

সাইবার আগ্রাসন থামছেই না

সুতার বাড়তি দামে বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা


৩. বার বার কথা বলা

কথা বলায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন বিনয়ী, উদার ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। তার কথা বুঝার সুবিধার্থ তিনি একটি কথা তিনি বার বলতেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (কোনো) কথাকে ভালভাবে বুঝার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথাকে তিন বার করে পুনরাবৃত্তি করতেন।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার ধরনও মুমিন মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মানুষের সঙ্গে নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলতেন। ব্যবহারেও তিনি কোমল ছিলেন। তাই কোনো মুসলিমের কথা বলার ধরন যেন এমন না হয় যে, কথা শুনেই যেন কারো মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয়। কথা যেন এত কঠিন না হয় যে, বুঝতে কষ্ট হয়। কথা যেন এমন না হয় যে, তাতে অস্পষ্ট ও অভদ্রতা প্রকাশ পায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরন অনুযায়ী কথা-বার্তা বিনিময় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর