যেসব কারণে প্রাণঘাতী হতে পারে ডেঙ্গু

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে প্রাণঘাতী হতে পারে ডেঙ্গু

করোনা মহামারির মধ্যে হানা দিয়েছে ডেঙ্গুও। ঢাকা শহরে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গুকে অবহেলা করা যাবে না। বরং এ বিষয়ে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। লিখেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ

বুঝবেন কিভাবে?
জ্বর মানেই ডেঙ্গু নয়। কিন্তু কারো ডেঙ্গু হয়েছে কি না, এটা শনাক্ত হয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। যেমন—

এনএস১ অ্যান্টিজেন : কারো ডেঙ্গু হলে সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার তিন দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাস রক্তে পজিটিভ থাকে। এ জন্য জ্বর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পরীক্ষা করালে ভালো। তবে সংক্রমণের পর সাধারণত এক থেকে তিন দিনের মধ্যেও এর ফলাফল পাওয়া যায়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই সেটা নেগেটিভ হয়ে যায়। তখন ওই ভাইরাসের উপস্থিতি রক্তে থাকে না। এ জন্য চতুর্থ দিন বা পঞ্চম দিন এনএস১ পরীক্ষা করালে কোনো লাভ হয় না।

আইজিএম : জ্বর হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে পরীক্ষাটি করাতে হয়। আইজিএম পজিটিভ থাকা মানে বোঝায়, একুইট ইনফেকশন হয়েছে বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

পিসিআর : জ্বর হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় এই পরীক্ষা করাতে হয়।

আইজিজি : যেকোনো সময় করা যায়। আইজিজি হলো আগে রোগীর কখনো ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তার পরীক্ষা।

সিবিসি : এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের হিমোগ্লোবিন, প্লাটিলেট, হেমাটোক্রিট (রক্তের ঘনত্ব বোঝার জন্য) ইত্যাদি জানা যায়।

উপরোক্ত পরীক্ষাগুলোতে পজিটিভ পাওয়া ব্যক্তির ডেঙ্গু হয়েছে বলে ধরা হয়। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলাকালীন সিবিসিসহ আরো নানা পরীক্ষা করা হয়।

ডেঙ্গু হলে যা করবেন
♦ ডেঙ্গু ভাইরাস কারো দেহে ঢোকার পর দেহের প্রায় সব সিস্টেমকে আক্রমণ করে। তাই কারো ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এর নির্ধারিত কোনো চিকিৎসা নেই। কিন্তু সাপোর্টিভ চিকিৎসা ও সঠিক পরিচর্যা করলে জ্বর ভালো হয়ে যায় এবং ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়।

♦ ডেঙ্গু ধরা পড়লে ভয় বা টেনশনের কিছু নেই। তবে কোনো ধরনের চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে। এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল প্রটোকল বা গাইডলাইন রয়েছে।

♦ যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো, যাঁদের অন্য কোনো জটিল রোগ নেই—তাঁরা সাধারণত বিশ্রাম নিলে, ঠিকমতো পানি পান করলে, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া আর কোনো ওষুধ সেবন না করলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যান। 

♦ এই সময় কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ওষুধও ব্যবহার করা যাবে না। বমি করলে আইভি ফ্লুইড দিতে হবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।

♦ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড় দিয়ে অন্য একজন সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তাঁরও ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য ডেঙ্গুতে কেউ আক্রান্ত হলে ৯-১০ দিন পর্যন্ত মশারি টানিয়ে তাঁকে আলাদা করে রাখুন।

♦ ডেঙ্গুর সময় তরল, নরম ও সহজপাচ্য খাবার খান।

কখন হাসপাতালে?
♦ কারো শুধু জ্বর আছে, পাতলা পায়খানা নেই, বমি নেই, মুখে খেতে পারছে—এ রকম হলে হাসপাতালে ভর্তি না হলেও চলবে। বাসায় রেখেই তখন তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

♦ জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি হলে, অর্থাৎ বিভিন্ন ওয়ার্নিং সাইন দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়।

♦ শিশু, গর্ভবতী, বয়স্ক ব্যক্তি, কিডনি, হৃদরোগীদের ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

♦ কারো কো-ইনফেকশন অর্থাৎ ডেঙ্গু ও টাইফয়েড একই সঙ্গে হয়েছে এমনটি হলে টাইফয়েডের চিকিৎসা করা যাবে। গুরুত্ব দিতে হবে প্রচুর তরল যেন দেহে ঢোকে সে বিষয়টির দিকে। এ জন্য বেশি করে পানি, ডাবের পানি, শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন, স্যুপজাতীয় তরল ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।

♦ গর্ভবতী নারী, হার্টের রোগী, এনকেফালাইটিস ইত্যাদি রোগীর ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসার দরকার হয়।

প্লাটিলেট সংক্রান্ত তথ্য
♦ মানুষের দেহে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা হলো দেড় লাখ থেকে চার লাখ। রক্তক্ষরণ বন্ধে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গুতে বেশির ভাগ রোগীর প্লাটিলেট কমে যায়, তবে সবার নয়। আবার প্লাটিলেট কমে গেলেই প্লাটিলেট দিতে হবে—এমন ধারণাও সঠিক নয়।

♦ ডেঙ্গু বা অন্য কোনো ভাইরাস ইনফেকশনে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেও শরীর থেকে আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয়। প্রথম কয়েক দিন কম প্লাটিলেট নিয়েও রোগী যদি টিকে থাকেন, পরবর্তী সময়ে দেহ থেকেই আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয় এবং ঘাটতি পূরণ হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে যান।

♦ যদি কারো প্লাটিলেট ৫০ হাজারের মধ্যে থাকে, তাহলে টেনশনের কোনো কারণ নেই। তবে ৫০ হাজারের নিচে প্লাটিলেট নেমে গেলে তখন হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে। প্লাটিলেট ২০ হাজারে নেমে এলেও কিন্তু রক্তক্ষরণ হয় না। ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে প্রয়োজনে প্লাটিলেট দেওয়া যায়।

♦ যদি দেখা যায়, কেউ রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়েছেন, দ্রুত প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাচ্ছে, চামড়ায় রক্তবিন্দুর পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে, মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাচ্ছে, দাঁতের গোড়া বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে, খাদ্যনালি থেকে রক্ত পড়ছে, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্তদানের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

যখন জটিলতা বাড়ে
♦ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, জ্বরের সঙ্গে প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম এবং রক্তে হেমাটোক্রিট (রক্তের পরিমাণের সঙ্গে লোহিত কণিকার পরিমাণের অনুপাত) ২০ শতাংশ কমবেশি হলে সেটা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। এর সঙ্গে রক্তবমি, রক্তনালি লিকের (প্লাজমা লিকেজ) উপসর্গ যেমন প্রোটিন কমা, পেটে বা ফুসফুসে পানি জমার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

♦ ডেঙ্গু থেকে মারাত্মক সমস্যা হলো প্লাজমা লিকেজ, ডিআইসি, মায়োকার্ডিটিস, রক্তপাত, তরল জমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, কোনো অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।

♦ ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা সেরোটাইপ রয়েছে। কেউ একবার একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে তার আরো তিনবার ডেঙ্গু হতে পারে এবং পরবর্তী পর্যায়ে তীব্র ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হতে পারে। তাই বলা হয়, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

কিছু সাধারণ তথ্য
♦ শুধু এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। সাধারণ অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না।

♦ মানুষ থেকে মানুষে বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ডেঙ্গু ছড়ায় না। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মশা এড়িয়ে চলা উচিত।

♦ ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে স্থায়ীভাবে থাকে না। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে একসময় ওই ভাইরাস শরীর থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যায়। কিন্তু ভাইরাসের জন্য যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেটা চিরকাল সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়।

♦ অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই এই জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই জ্বরের কোনো ভ্যাকসিন বা টিকাও নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা এমনিতেই সেরে যায়।

সেরে ওঠার পর করণীয়
ডেঙ্গুর পর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ফিরে পেতে একটু (মাসখানেক) সময় লাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সময়কে Convalescent period বলে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, শ্বাসরোগ বা অন্য কোনো রোগীর স্বাভাবিক হতে আরো বেশি সময় লাগতে পারে। এই সময় কিছু করণীয় হলো—

♦ হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রোগীর যদি কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না থাকে, কিছু ভাইটাল সাইন—বিশেষ করে তাঁর যদি রক্তচাপ ঠিক থাকে, ইউরিন আউটপুট ঠিক থাকে, রোগী যদি মুখে খেতে পারেন তখন হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিতে পারেন।

♦ ডেঙ্গু হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায়। এ জন্য ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও দুর্বল, অবসাদগ্রস্ততা, মাথা ঘোরা, চলাফেরায় কিছু ভারসাম্যহীনতা থাকে; গভীর ও নিবিড়ভাবে কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন না। এ জন্য কমপক্ষে কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামে থেকে এরপর আস্তে আস্তে নিয়মিত কাজে যোগ দিন।

♦ এই সময় কোনো ধরনের ব্যায়াম করবেন না। যাঁদের জিমে যাওয়ার অভ্যাস আছে, তাঁরা ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর কিছুদিন জিম থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে এক বা দুই মাস অপেক্ষা করুন।

♦ রাতে নিবিড় নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এই সময় পারতপক্ষে রাত ১০টার পর জেগে থাকবেন না। রাতের বেলায় ক্ষতিপূরণকারী কিছু হরমোন যেমন : ACTH, steroid, growth hormone ইত্যাদি শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। ভালো ঘুমানোয় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যায়।  

আরও পড়ুন:


পুলিশের নামে ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খোলায় গ্রেফতার ২

আবারও সিঁদুর মাথায় নুসরাত, সঙ্গে ছিলেন যশ

ঢাকার যেসব এলাকায় মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ থাকবে আজ

বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনায় কমেছে সংক্রমণ ও মৃত্যু


♦ দিনের বেলায়, বিশেষ করে দুপুরে খাওয়ার পর ঘণ্টাখানেক ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

♦ এই সময়ে কোনো মানসিক চাপ নেবেন না। মেজাজ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। মন সতেজ ও ফুরফুরে রাখুন।

♦ জ্বর চলে যাওয়ার পরের সময়টাকে ‘ক্রিটিক্যাল ফেইস’ বা ঝুঁকিপূর্ণ সময় ধরা হয়। ডেঙ্গুতে মারাত্মক সমস্যা হওয়ার সময় আসলে এটাই। এ সময় প্লাটিলেট কাউন্ট কমে যেতে পারে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে, রক্তক্ষরণসহ আরো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়টাতেও সচেতন থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

♦ কিছুদিন পর রক্তের সিবিসি করে হিমোগ্লোবিন, প্লাটিলেট দেখান চিকিৎসককে। এ ছাড়া ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে কি না, রোগী পানিশূন্যতায় ভুগছে কি না, রক্তের হেমাটোক্রিট কেমন ইত্যাদিও দেখা উচিত। অন্যান্য রোগ থাকলে সেগুলোরও যথাযথ চিকিৎসা নিন।

 

 

পরবর্তী খবর

ঘরোয়া উপায়ে কমবে পেট ব্যথা

অনলাইন ডেস্ক

ঘরোয়া উপায়ে কমবে পেট ব্যথা

পেটে ব্যথা একটি প্রচলিত সমস্যা। সংক্রমণ, প্রদাহ, অন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় পেটে ব্যথা হয়। কিন্তু পেট ব্যথার সে অর্থে কোনো সমাধান নেই। পেটের ভেতর গোলমালগুলো বন্ধ হয়ে গেলে পেট ব্যথা কমে যায়। অনেক সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি খেলে পেটের সব বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায় শরীরে থেকে। তাতে পেটে ব্যথা থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। কিন্তু এমন কিছু উপায় যদি পাওয়া যায়, যাতে পেটের যন্ত্রণা থেকে খানিক মুক্তি পাওয়া যাবে, তা হলে আর ক্ষতি কী? তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক পেট ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়...

আদা
আদা চা খেতে পারেন বমি ভাব আর পেটে ব্যথা কমাতে। শরীরের সব রকম প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে আদা। রান্না করা, কাঁচা বা চায়ে দেওয়া, যেমনভাবে ইচ্ছা খেতে পারেন আদা

ক্যামোমিল
বদহজম, বমি ভাব, ডায়েরিয়া, পেটে ব্যথা-একগুচ্ছ অসুখে দারুণ কাজে দেয় ক্যামোমিল। ক্যামোমিল ভেষজের গুণ নিয়ে খুব বেশি গবেষণা এখনো পর্যন্ত না হলেও এর নানা রকম উপকারিতার কথা অনেকেই মানেন। তাই পেট ব্যথায় ক্যামোমিল চায়ের ওপর ভরসা করতেই পারেন।

পিপারমেন্ট
আরেক ভেষজ চা পিপারমেন্টও দারুণ কাজে দেয় পেটে ব্যথার সময়ে। যাদের ইরিটেবিল বাওয়েল সিন্ড্রোম রয়েছে, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়া, বদহজম ও পেট ব্যথার মতো নানা উপসর্গ লেগেই থাকে। সেগুলো কমাতে সাহায্য করে পিপারমেন্ট।

কাঁচকলা
কাঁচকলা সিদ্ধ করে খেলে তা পেটে ব্যথা এবং পেটের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। কাঁচকলায় রয়েছে ভিটামিন বি৬, ফোলেট এবং পটাশিয়াম। শরীরে কোনো পেশিতে টান লাগলে, ব্যথা হলে বা ক্র্যাম্প হলে তা কমাতে সাহায্য করে এটি।

দই
শরীরে ডিসবায়োসিস হলে, মানে পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে গন্ডগোল হলেও পেট ব্যথা হতে পারে। তাই দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খেলে তা এই ভারসাম্য বজায় রেখে পেটে ব্যথা কম করতে পারে। এই কারণেই পেটের সমস্যা হলে দই ভাত বা দই চিরের মতো খাবার খেতে বলেন অনেকেই।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পেটের গ্যাস দূর করবে যেসব খাবার

অনলাইন ডেস্ক

পেটের গ্যাস দূর  করবে যেসব খাবার

পেটে গ্যাসের সমস্যা নেই এমন লোক খুবই কম। দিন দিন মানুষের মধ্যে বাড়ছে এই সমস্যা। পেটে গ্যাস জমলে অর্থাৎ এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ পাওয়া আজ কঠিন-ই বটে! ছোট-বড় সব বয়সের  মানুষের মাঝেই এই সমস্যাটি এখন প্রকট। অনিয়মিত খাবার গ্রহণ ও উল্টাপাল্টা খাবার খাওয়ার কারণেই তাদেরকে এ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে কিছু ঘরোয় উপায় আছে যেগুলো প্রয়োগ করলে গ্যাস, বুক জ্বালা থেকে সহজেই বাঁচা যায়। পেট থেকে গ্যাস দূর করে এমন কিছু খাবারের নাম জেনে নিন-

দই: দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।
পেঁপে: পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে।

কলা: কলা খেলে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও কলার স্যালুবল ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। সারাদিনে অন্তত দুটো কলা খান। পেট পরিষ্কার রাখতে কলার জুড়ি মেলা ভার।

শসা: শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।

আরও পড়ুন:

মা কালী সেজে জনগণকে তাক লাগালেন রিখিয়া

আরিয়ানের জামিন শুনানি আজ, টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব


 

কমলা: কমলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আদা: আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

যে কারণে খাবেন কামরাঙা

অনলাইন ডেস্ক

যে কারণে খাবেন কামরাঙা

পুষ্টিগুণে ভরপুর কামরাঙা ফলটির উপকারিতার কথা জেনে নিন। 

ভিটামিন এ, ভিটামিন সি-র মতো নানা উপকারী উপাদান রয়েছে কামরাঙায়। প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় আছে ৫০ কিলো ক্যালোরি খাদ্য শক্তি, ০.৫ গ্রাম প্রোটিন, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ৫.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এছারাও কামরাঙ্গায় পাওয়া যায় কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় ৬.১ মি.গ্রাম ভিটামিন সি, ০.৪ গ্রাম খনিজ, ১.২০ মি. গ্রাম আয়রন এবং ১১ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

১. আঁশযুক্ত ফল হওয়ায় কামরাঙ্গা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের প্রতিকারক হিসেবে কাজ করে।

২. খাবারের হজম ঠিক রাখতেও উপকারী কামরাঙ্গা। সেই সাথে খাবারের রুচি বাড়ায় কামরাঙ্গা।

৩. এই ফল শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছারাও এতে কিছু পরিমাণে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৪.ডায়াবেটিস রোগীরা কামরাঙ্গা খেলে উপকার পাবেন।

৫. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে কামরাঙ্গা।

আরও পড়ুন:


বিয়েতে মাংস বেশি খেয়েছে, নববধূকে তালাক!

নুরের রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ আজ

মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

কুমিল্লার ঘটনায় পেছনের কারিগরদের খোঁজা হচ্ছে


উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতাও রয়েছে কামরাঙ্গার। ভুলেও খালি পেটে কামরাঙ্গা খাবেন না। এতে বিপুল পরিমাণে অক্সালিক অ্যাসিড রয়েছে যা  কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এজন্য কামরাঙ্গা খালি পেটে খাওয়া যাবে না। কারণ তাতে অক্সালিক অ্যাসিড সরাসরি গিয়ে প্রভাব ফেলে কিডনিতে।

news24bd.tv রিমু   

 

পরবর্তী খবর

সকালে সিদ্ধ ডিম কী দুপুরে ভালো থাকে?

অনলাইন ডেস্ক

সকালে সিদ্ধ ডিম কী দুপুরে ভালো থাকে?

অনেকেই সিদ্ধ ডিম খেতে পছন্দ করেন। এটি সবকিছুর সঙ্গেই খাওয়া যায়। অনেকে আবার অফিসের টিফিনেও ডিমসিদ্ধ নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু সকালে সিদ্ধ করা ডিম কি দুপুর পর্যন্ত ভালো থাকে?

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সিদ্ধ করা ডিম ফ্রিজে প্রায় এক সপ্তাহ ভালো থাকে। কিন্তু ডিম ফ্রিজে রাখা না হলে ডিম সিদ্ধ করার অন্তত দুই ঘণ্টার মধ্যে ডিম খেয়ে ফেলা উচিত। কারণ সিদ্ধ ডিম খুব তাড়াতাড়িই নষ্ট হয়ে যায়। 

এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা বরাবরই টাটকা খাবার খেতে পরামর্শ দেন। আর ডিমও এর বাইরে নয়।

আরও পড়ুন:

১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো তুরস্ক

হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে কোকোর স্ত্রী

পুকুরে না, সেই গদা পাওয়া গেল বাড়ির ভেতরে!

ভারতের বিপক্ষে 'রণকৌশল' ফাঁস করলেন শাহিন আফ্রিদি


আর সিদ্ধ ডিম সংরক্ষণ করতে চাইলে সবার আগে তাপমাত্রার দিকটা খেয়াল রাখা উচিত। কারণ ডিম সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্র হওয়া প্রয়োজন। এই তাপমাত্রায় ডিম খোসাসহ ফ্রিজে রেখে দিলে সপ্তাহখানেক ভালো থাকবে। কোনভাবেই খোসা ছাড়ানো সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখা যাবে না।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে সকালে কলা খাবেন

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে সকালে কলা খাবেন

কলা খাওয়ার যে উপকারিতা তা নিচে তুলে ধরা হলো।

১) মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমে : শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

২) শরীর বিষ মুক্ত হয় : শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই ফলটিতে আছে প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

৩) ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : কলার শরীরে পটাশিয়াম ছাড়াও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে যে ওজনও কমে, সে কথা কার না আজানা বলুন! ফাইবার কনস্টিপেশনের মতো রোগ সারাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪) অ্যানিমিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমে : কলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে লহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্য়াবলেটের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার মিলতে পারে।

৫) হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে কলার ভেতরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। তাই পুজার পর থেকে যদি পেটটা ঠিক না যায়, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৬) ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : কলায় উপস্থিত পটাশিয়াম শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে নিয়মিত কলা খেলে দেহে নুনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

আরও পড়ুন:


ইকবালকে নিয়ে পুলিশের অভিযান, যা পাওয়া গেছে!

আগামীকাল নুরের দলের আত্মপ্রকাশ

পাকিস্তানি সমর্থকদের ওপর ভারতীয় সমর্থকদের হামলা, আহত ২

তিন মাসে মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ!


৭) পুষ্টির ঘাটতি দূর হয় : শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এইসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হল আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাঁধে শরীরে। এমন পরিস্থিতি কলা কিন্তু দারুন কাজে আসতে পারে। এই ফলটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফলেটের মতো উপাদান, যা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮) ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় : কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একাদিক যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার অন্দরে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলার খোসায় থাকা উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিডও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সূত্র: ইন্টারনেট 

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর