বিয়েট্রিস: দান্তের স্বপ্ন প্রেম ও প্রত্যাশার একক দেবী

অনলাইন ডেস্ক

বিয়েট্রিস: দান্তের স্বপ্ন প্রেম ও প্রত্যাশার একক দেবী

“সে মুহূর্ত থেকেই ভালোবাসা আমার আত্মাকে পুরোপুরি অধীনস্থ করে নিয়েছিলো”। এই লাইনটা বলেছিলেন দান্তে আলগিয়েরি, যার  নামের সঙ্গে আরো একটি নাম আরো একটি স্বত্তা আজো কিংবদন্তি হয়ে আছে - তাঁকে উদ্দেশ্য করে। তিনি ছিলেন দান্তের স্বপ্ন প্রেম ভালবাসা প্রত্যাশা ও কবিতার একক দেবী- বিয়েট্রিস।

বিয়েট্রিস ছিলেন দান্তের ভালোবাসা জগতের এক দেবীর নাম। যার প্রেমে পরবর্তী ন'বছর দান্তে বুঁদ হয়ে ছিলেন। কিন্তু তাকে তিনি কখনোই ভালোবাসার কথা বলতে পারেননি।  এমনকি দান্তের সাথে প্রথম দেখার পর তাদের মাঝে প্রথম কথা হয় ন'বছর পর। বলছিলাম মধ্যযুগের ইতালিয়ান কবি ও দার্শনিক দান্তের কথা, যার পুরো নাম দুরান্তে দেইলি আলিগিয়েরি।

বারো বছর বয়সে তাদের পারিবারিক বন্ধুর মেয়ে জেমা দিনাতিকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু তিনি প্রেমে পড়েছিলেন বিয়েট্রিসের। মুহূর্তের দেখায় প্রেমে পড়েন তিনি। ফ্লোরেন্সে বিয়েট্রিসের পরিবার ছিল বিশাল ক্ষমতাশালী। শহরের অন্যতম প্রভাবশালী সিমন ডি বার্ডির সঙ্গে বিয়েট্রিসের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছরের মাথায় বিয়েট্রিস মারা যান। 

মানস প্রেমিকার মৃত্যুর ধাক্কা তাকে লেখা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল অনেকদিন। কিন্তু প্রেমিকা বিয়াট্রিসকে তার লেখায় সারা জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন দান্তে। তার দু'টো প্রধান বই লা ভিটা নুইয়াভা (দ্য নিউ লাইফ) এবং দ্য ডিভাইন কমেডি দুটো লেখারই প্রধান চরিত্র হয়ে উঠে এসেছে বিয়েট্রিস। 

বিয়েট্রিসের মৃত্যর পরে তিনি দর্শন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। বিয়েট্রিসের রূপ, তার অভিব্যক্তি, অনুভূতি সবই উঠে এসেছে দান্তের লেখায়। কাব্যে তার আধ্যাত্মিক প্রেমকে ফুলের পাপড়ির মতোন স্তরে স্তরে বিকশিত করেছেন তিনি।

১২৬৫ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে দান্তের জন্ম। ( দান্তের জন্মের সঠিক তারিখ বা সময়কাল নিয়ে সংশয় আছে) জন্মের কিছুদিন পরেই তার মা মারা যান।তার পরিবার তেমন একটা বিত্তশালী না হলেও অভিজাত হিসেবে বেশ ভাল পরিচিতি ছিল। ব্রুনেত্তো লাতিনি'র কাছে তিনি ক্ল্যাসিক্যাল লিবারেল আর্টস শেখেন, এরই মধ্যে ল্যাটিন এবং গ্রিক ভাষাও ছিল। 

তিনি তার বই দ্য ডিভাইন কমেডি'র জন্য বিশ্ব খ্যাত হন, যা তিনি স্থানীয় ভেনেশিয়ান কথ্য ভাষায় লিখেছিলেন। এই বইটি  তিন খন্ডে বিভক্ত এবং এই বইয়ে তিনি তাঁর প্রেম চার্চ এবং সমসাময়িক বিখ্যাত ঘটনা এবং ব্যক্তিবর্গের প্রতি ব্যাঙ্গাত্মক বিদ্রূপই উল্লেখযোগ্য ভাবে স্থান পেয়েছে! 

ভিভাইন কমেডিতে নরকের বর্ননা কত ভয়াবহভাবে দেয়া হয়েছে তাঁর বইটা পড়েই কেবল তা অনুধাবন করা সম্ভব। মূলত, দান্তের এই বই প্রকাশ হবার পর পরই খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে ওই যুগে ব্যাপকভাবে চার্চে যাবার আকুলতা দেখা যায়।

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


'ডিভাইন কমেডি' রচনার পর তিনি খুব বেশি দিন বাঁচেননি। ১৩২০ সালে তাকে ভেরোনা শহরে যেতে হয়েছিল পদার্থবিদ্যার ওপর একটি বক্তৃতা প্রদানের জন্য। ভেরোনা থেকে রাভেন্নায় তিনি ফিরেছিলেন। শেষ দুই বছর তিনি রাভেন্নাতেই ছিলেন। রাভেন্নাতেই তার মৃত্যু হয়। ১৩২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখ  এই কিংবদন্তি কবির মৃত্যু হয়।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

আমাদের সময় কখন ফুরিয়ে আসে কেউ জানে না

এস এম রেজাউল করিম

আমাদের সময় কখন ফুরিয়ে আসে কেউ জানে না

অস্তগামী সূর্যের মতো এমন মুহূর্ত আমাদের জীবনেও নেমে আসে, কিন্তু আমাদের জীবন সায়াহ্ন নেমে আসা দৃশ্য মান হয়না। প্রখর রৌদ্রতাপ ছেড়ে ক্রমান্বয়ে স্নিগ্ধতা পূর্ণ মায়াবী আলোআধারির আবেশ‌ দিয়ে বিলিন হয়ে গেলে স্থান করে নেয় নিকষ অন্ধকার। 

হয়তো কঠোর রৌদ্রতাপের সূর্যও বুঝতে পারে বিদায় লগন, কিন্তু বুঝিনা আমরা, কখন হয়ে যাবো বিলিন। আমাদের সময় কখন ফুরিয়ে আসে তা কেউ জানেনা। 

তাই যদি সৎ কর্মের মধ্য থেকে কিছু স্নিগ্ধতা রেখে যেতে পারি, সেটাই হয়তো আঁধারের মাঝে একঝলক আলোর বিচ্ছুরণ হয়ে রইবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

লেখক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আরও পড়ুন:

স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মন্দিরে ১৭ লাখ রুপির স্বর্ণ দান


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বেয়াদব বলি, বোলার বলি আর ব্যাটসম্যান; আসে তার নাম

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

বেয়াদব বলি, বোলার বলি আর ব্যাটসম্যান; আসে তার নাম

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

সব দোষ সরকারের ( সৌম্য), লিটন সাহেব তো এক্কেরে প্রতিভা। আয়নাম্যানও গেছেগা।

আমি তো বলই, আছেই আমাদের একজন।
 
বেয়াদব বলি, বোলার বলি আর ব্যাটসম্যান । আসে সেই।
 
যেইদিন সে খেলে ঠিক ঠাক , সেদিন জেতার চান্স থাকে। মানে সে ব্যাট করে রান করে আবার বল করে উইকেট নেয়। দুটাই করা লাগবে। একটা করলেও হবে না। দুটা না করলে টিম জেতে না সাধারণত। 
আয়নাম্যান তো ৩ বলে ২ রানও নেয়না জেতার জন্য মাঝে মাঝে।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

২২ রিপোর্টারের ডিআরইউ পুরস্কার ও আমার প্রশ্ন

শওগাত আলী সাগর

২২ রিপোর্টারের ডিআরইউ পুরস্কার ও আমার প্রশ্ন

শওগাত আলী সাগর

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ২২ জন রিপোর্টারকে ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। একটি জুরি বোর্ড রিপোর্টারদের রিপোর্ট যাচাই বাছাই করে এই ২২টি রিপোর্টকে সেরা হিসেবে বিবেচনা করেছে। 

রিপোর্টার্স ইউনিটি এই সেরা রিপোর্টারদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করেছে। প্রথমে আমি এই সেরা রিপোর্টারদের অভিনন্দন জানাই।

যারা পুরস্কারের জন্য রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন-সেগুলো নিশ্চয়ই রিপোর্টই ছিলো এবং একজন রিপোর্টার তার রিপোর্টটিকে পুরস্কার পাওয়ার উপযোগি রিপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের চেয়ে ভালো রিপোর্ট থাকায় তারা পুরস্কার পাননি- তার মানে এই না- তাদের রিপোর্টগুলো সেরা রিপোর্টের কাতারভূক্ত রিপোর্ট নয়। জমা হওয়া রিপোর্টের সংখ্যা অবশ্য আমি জানতে পারিনি। 

পুরস্কারের সংবাদটি আমার মনে কয়েকটি প্রশ্ন তৈরি করেছে- সেগুলো একটু শেয়ার করতে চাই। এই যে আমরা সারা বছর ঢাকার সাংবাদিকতার সমালোচনা করি, দেশে কোনো সাংবাদিকতা নাই, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এখন আর হয় না, সম্ভব না বলে হা হুতাশ করি- তারা কী এই ২২টি রিপোর্টের খবর রাখি! 

রাখলে আমরা কী এই ২২টি রিপোর্টকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বা নিদেনপক্ষে সাংবাদিকতা হিসেবে স্বীকার করি! আমরা কী এই ২২ টি রিপোর্টের কোনা একটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছি, বলেছি- দেখো- এর নাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা!


আরও পড়ুন: 

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে টাইগার শিবিরে বড় দুটি দুঃসংবাদ

১০ মিনিটের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নানা সংকট আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। সেগুলো পাশ কাটিয়ে অন্তত ২২জন রিপোর্টার তো ২২টি রিপোর্ট তৈরি করতে পেরেছেন- যেগুলোকে পুরস্কৃত করা যায়, যেগুলো পুরস্কৃত পায়। বাংলাদেশের এই সাংবাদিকতার চেষ্টাটাও কম কি!

লেখাটি শওগাত আলী সাগর -এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জাস্টিন ট্রুডো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীকে

শওগাত আলী সাগর

জাস্টিন ট্রুডো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীকে

যে কোনো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় হচ্ছে অর্থ, পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়। নারীবাদী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীর উপর। 

কানাডার ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে খ্যাত ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রী এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অনিতা আনন্দ। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক নারী ম্যালেনি জুলি। 

কানাডার অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা আর  বহিঃর্বিশ্বে কানাডাকে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ তিন নারীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

লেখাটি শওগাত আলী সাগর -এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

তরুণদের দল নিয়ে এখনই উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম

মারুফ কামাল খান সোহেল

তরুণদের দল নিয়ে এখনই উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর সদ্যসাবেক ছাত্রনেতারা তরুণদের এক রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন নির্যাতীত সেক্টর কমান্ডারকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত সেই জাসদ হঠকারি পথ ধরে অনেক ঘটনার জন্ম দিলেও রাজনীতিতে সফল কিংবা বিজয়ী হতে পারে নি।

আজ একই ধারায় তরুণদের  আরেকটি দল জন্ম নিলো। এদেরকে নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা কিংবা উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম।

তাদের ব্যাপারে আমার কৌতুহল আছে, তবে প্রত্যাশা কিংবা বিদ্বেষ নেই কোনো। আর ভবিষ্যদ্বাণীও তুলে রাখছি ভবিষ্যতের জন্যই।

তবে এরা জাতিসংঘের তদারকি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে যে বক্তব্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সে বক্তব্যে তারা কতোটা অটল থাকতে পারে সেটাই প্রথম দেখার বিষয়।

লেখাটি মারুফ কামাল খান সোহেলের-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর