বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী?

আনোয়ার সাদী

বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী?

অর্গানাইজ শব্দের অর্থ সংগঠিত হওয়া। সেজদা যখন আমাকে বললেন অর্গানাইজ হ, তখন আমি জীবনের সঙ্গে এর অর্থ মেলাতে পারি নাই। সেটা অনেক দিন আগের কথা। অনেক দিন মানে বিয়ের আগের কথা। তিনি বলছিলেন, বিয়েটা করতে হবে, তোকে এখন অর্গানাইজ হতে হবে। বিয়ের সঙ্গে অর্গানাইজ হওয়ার সম্পর্ক কী তা অনেক ভেবে বের করতে না পেরে, আমি তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, অর্গানাইজ কীভাবে হওয়া যায়? 

তিনি বললেন, নিজেকে একটু গুছিয়ে নিতে হবে। বিয়ের পর সংসারের জন্য ওভেন, ফ্রিজ এসব লাগবে। এগুলো ধীরে ধীরে গুছিয়ে নে। আমি পরদিন বিকেলে মার্কেটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে ফ্রিজ, ওভেন কিনে ফেললাম। মানে অর্গানাইজ হয়ে গেলাম। সেজদা প্রবাসী হওয়ায় আমার বিয়েতে থাকতে পারলেন না, তবে সেই ঘটনা থেকে একটা শিক্ষা সব সময় নিজের সঙ্গে নিয়ে চলছি। সেটা হলো, শব্দের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক মিলিয়ে দেখা। 

যাহোক, এখন সময়টা অন্যরকম। সবাই সবকিছু চট করে বুঝে নেয়। ঠিকঠাক অর্থটা ধরা গেলো কী না তা পরীক্ষা করা হয়তো অনেকের হয়ে উঠে না। ফলে, অনেক কাজ শেষ হয় না। সাফল্যও আসে না কারো কারো। 

ফোকাস বা ঠিক বিষয়টি বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করার কৌশল রপ্ত করাই আমার আজকের লেখার বিষয়। এই বিষয়টি ক্লাসে সারাংশ শেখানোর নামে আমাদের মাথায় ছোটবেলায় দিয়ে দেওয়া হয়। একটা প্যারাগ্রাফ পড়ে মুল কথাটি দুয়েকলাইনে বলতে পারার নাম সারাংশ। জীবনের সারাংশ বোঝার চেয়ে কারো কথার সারাংশ বুঝতে পারা কম কথা নয়।


আমির খানের পিকে ছবির শেষ দৃশ্যে যখন এলিয়েনরা আবারো পৃথিবীতে আসে, তখন তাদের গবেষণার বিষয় থাকে, মানুষের এক কথার আরেক অর্থ করার প্রবণতা। এই যেমন, কেউ যদি বলে তিনি  চিকেন পছন্দ করেন তার মানে হলো, তিনি মুরগি খেতে চান, নিজের কাছে সাজিয়ে রাখতে চান না। কারো বউ যদি বলে, ঠিক আছে বাসায় আসেন কথা হবে। তার মানে সামনে ভয়াবহ বিপদ ইত্যাদি। আমি এমন একাধিক অর্থবহন করে এমন বাক্য বা শব্দমালা নিয়ে কথা বলছি না। বলছি, স্পষ্ট একটা বর্ণনা পড়ে কেউ যেনো তার সঠিক অর্থটা বুঝতে পারে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

যাহোক, বুঝতে পারার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমার কাজ নয়। আমি বলতে চাই, কেউ যদি কিছু বুঝতে চায় তাহলে তাকে কারো কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে, কারো লেখা মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ধরা যাক, বৃষ্টি কীভাবে হয়, কারণ ও উপায় বিশ্লেষন করে কেউ একটা আর্টিকেল লিখলো বা ফেইসবুকে পোস্ট দিলো। তা পড়ে কেউ যদি কমেন্ট করে, তুমি ইদানিং বৃষ্টি নিয়ে অনেক ভাবছো, আগে এরকম ছিলে না, তাহলে ধরে নিতে হবে, পাঠক নিতান্ত অবহেলায় লেখাটি পড়েছেন, কিংবা একবারেই পড়েন নাই। 

লং স্টোরি শর্ট করি, যে প্রশ্নের জবাব শব্দ দিয়ে দেওয়া যায় তা বাক্য দিয়ে দেওয়া মানে ঘটনা বুঝতে না পারা। যে প্রশ্নের জবাব বাক্য দিয়ে দেওয়া যায় তা প্যারাগ্রাফ দিয়ে দেওয়া মানে প্রশ্ন ঠিক মতো বুঝতে না পারা। যে প্রশ্নের জবাব প্যারাগ্রাফ দিয়ে দেওয়া যায়, তার জবাব রচনা দিয়ে দেওয়া মানে, প্রশ্ন বুঝতে না পারা। 

আরও পড়ুন


আশ্রয়ণ প্রকল্প: এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি, এটা কারা করলো?

আগের স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই মাহিকে বিয়ে করেছে রাকিব

আমরা কখনো জানতামও না যে এই সম্পদ আমাদেরই ছিলো

নাশকতার মামলায় নওগাঁর পৌর মেয়র সনিসহ বিএনপির ৩ নেতা কারাগারে


 

 একটা ঘটনা বলে লেখা শেষ করি। এক সময় ঢাকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বলে বাংলায় কথা বলতে পারতেন। তিনি পরে সম্ভবত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই সিক্স এর পরিচালক হয়েছিলেন। একবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে অন্য সাংবাদিকদের মতো তাঁর সঙ্গে আমারও দেখা হয়েছিলো। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, কেউ যদি কোনো বিষয় এক পৃষ্ঠায় লিখে শেষ করতে না পারেন, তাহলে জনাব আনোয়ার চৌধুরী ধরে নেন, লেখক বিষয়টি ঠিকঠাক বুঝতে পারেন নি। 

সো, ভাই ও বোনলোক আগে বুঝেন সামনের লোকটি কী জানতে চায়, তারপর আপনার জ্ঞানের সাগরটি উপস্থাপন করুন। আজ এখানেই শেষ। সঙ্গেই থাকুন।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার

শওগাত আলী সাগর

সামাজিক মাধ্যমগুলো এখন চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ে দেশে দেশে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো এখন বিবেচিত হচ্ছে ব্যক্তি মানুষের চরিত্র হনন, ঘৃণা এবং মিথ্যা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক সেলিব্রেটিরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। মিথ্যা এবং ঘৃণার শিকার হয়ে তারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। 

টুইটার এবং ইন্সট্রাগ্রামে ফ্রান্স ফুটবলের কিংবদন্তি  থিয়েরি হেনরির ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন বুলি, ঘৃণা আর ব্যক্তিকে নির্যাতনের প্লাটফরমে পরিণত হয়েছে। বৃটেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডার বেশ কয়েকজন জাতীয় পর্যায়ের তারকা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে বলেছেন, এই মাধ্যমগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা দরকার।

শুধু সেলিব্রেটিরাই নয়, ফেসবুক, ইউটিউব এখন সাংবাদিকদের চরিত্রহানি এবং অনলাইন ভায়োলেন্সের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের জন্য এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

কানাডার সাংবাদিকদের সংগঠন দ্যা কানাডীয়ান এসোসিয়েশন অব জার্নালিষ্টস (সিএজি) সাংবাদিকদের প্রতি অনলাইন ভায়োলেন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইন শৃংখলা রক্ষী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সিএজি বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন হয়রানি থেকে  সাংবাদিকদের রক্ষার দায়িত্ব কেবল সাংবাদিকদের একার না। এর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। সংগঠনটি এই ব্যাপারে করণীয় বের করতে অটোয়ার  কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্মিলিতভাবে একটি সভার ডাক দিয়েছে।সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:

মেয়াদ-বেতন দুটোই বাড়ছে টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর

চাকরির কথা বলে তরুণীকে হোটেলে নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নূর

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

হঠাৎ পায়ের রগে টান পড়লে কী করবেন?


কানাডার বড় বড় মিডিয়া হাউজগুলো সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিকদের চরিত্র হণন, ঘৃণা এবং তাদের নিয়ে মিথ্যাচারের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে

মাহবুব-উল আলম হানিফ

বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে

আমাদের এই বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক বাঙালিদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশ রচিত হয়েছে। সব ধর্মের বাণী হচ্ছে - মানুষের কল্যাণ।

কুসংস্কার লালন করে ঘরমুখী রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করে যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইসলাম অন্তরের ধর্ম। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং ইসলামের হেফাজত কর্তা। অথচ আজ ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীরা ইসলামের নাম করে যে ভাষায় কথা বলছে, এর মধ্যে কোন শান্তির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়? এদের আচরণের মধ্যে কোন সভ্যতা খুঁজে পাওয়া যায়?

বঙ্গবন্ধু কখনো কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন নি। গোটা জাতিকে একত্রিত করে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই ‘৭১ এর ৭ ই মার্চ তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন তার অন্যতম ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কিন্তু ধর্মহীনতা নয়। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। আমাদের নবী করীম (সা:) ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তো এটা বলতে পারি না, আল্লাহপাক শুধু আমাদেরই সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআণের আলোকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা এক এবং অদ্বিতীয়।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামে কোন ‌অনাচার অবিচারের জায়গা নেই। এরা রাজাকার আলবদর বাহিনী তৈরি করেছিলো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে। নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিলো। ফতোয়া দিয়েছিলো নারীরা গণিমতের মাল। এদেরকে ভোগ করা জায়েজ। এই গোষ্ঠী কখনোই স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে নি। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানতে তাদের আপত্তি কিন্তু কায়েদে আজম মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির পিতা মানতে তাদের কোন অসুবিধা হয় নি।

আমার আলেম ভাইদেরকে বলছি, আপনাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে এই দূর্বৃত্তরা। আপনারা চোখকান খোলা রাখুন। আসল আর নকলের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে কোন নৈরাজ্য, অশান্তি কায়েম করার চেষ্টা করবেন না।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেই ফয়সালা ’৭১-এ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে যখন সংবিধান রচিত হয়, সেই সংবিধানের যে চারটি মৌলিক স্তম্ভ ছিল, তার একটি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যেতেন, তিনি এটির অর্থ যে ধর্মহীনতা নয়, তা বারবার উল্লেখ করতেন। তিনি বলতেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক থাকবে। তিনি একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন চিরকাল। যে আওয়ামী লীগ শুরু হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম দিয়ে, অচিরেই সে নাম থেকে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি; যাতে তার চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষ হয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এ লড়াই, এ বিপুল আত্মত্যাগ নিছকই একটা ভূখন্ড বা মানচিত্রের জন্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে আমরা নিজেদের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো পেতে চেয়েছিলাম, যা কতগুলো সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করবে। নাগরিকদের মাঝে সেগুলো নির্বিঘ্ন চর্চার পরিসর তৈরি করবে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নেই। সবাই মানুষ। ’ এই সত্যকে ধারণ করেই আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গেছে। পৃথিবীর বুকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহু ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, পেশা ও আদশের্র সম্ভাবনাময় এক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে একই চেতনা ধারণ করে।

সে চেতনা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা। যখন গোধূলি নামে তখন একই সঙ্গে আজানের ধ্বনি এবং শাঁখের ধ্বনি জানান দেয় যে আমরা মহান বাঙালি জাতি, আমাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই, নেই কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ। সেই জন্মলগ্ন থেকেই আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ নামে পরিচিত বিশ্বের কাছে। আজান দিলে যখন মুসলিম পুরুষরা মসজিদের দিকে যায়, তখন হিন্দু নারীরা তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালেন। ঈদের সময় যেমন হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে আনন্দ করে, তেমনি পূজা-পার্বণে সব বাঙালি মেতে উঠে মহাসুখের আনন্দভেলায়। বাঙালির পয়লা বৈশাখে নারী-পুরুষ, বিভিন্ন ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে সবাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এখানে থাকে না কোনো বৈষম্য, কোনো ভেদাভেদ। সবাই মেতে উঠে বাঙালিয়ানায়।

আরও পড়ুন


কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন জমা

নায়িকা বললেন একাকিত্বেই শান্তি!

যে কারণে নোরা ফাতেহি ও জ্যাকলিনকে ডেকে পাঠাল ইডি

নারীর শ্লীলতাহানি: কারাগারে পাঠানো হল কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জনকে


মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠী তার ইতিহাসে একটি অনন্য ও অভিনব বাস্তবতা তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য একদিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে অভিষিক্ত করে, অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর ভিতরে দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবে পাওয়া সেসব আদর্শ ও মূল্যবোধ চর্চার এক কঠোর দায় আরোপ করে এবং অবারিত সম্ভাবনার সুযোগ করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ তাই একাধারে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের সমাপ্তি এবং আরেকটি দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনা। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে আদর্শগুলো ধারণ করে আছে, তার শুরুর দিকেই আসে মুক্তি, বাঙালিত্ব, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও মানবাধিকার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। সৃষ্টিলগ্ন থেকে অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদের যে ঝান্ডা উড়িয়ে এসেছে এই দলটি, শত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পেরিয়েও সেই ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে। দলটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির দেশে পরিণত করার চেষ্টাকে কেবল রুখেই দেয়নি, অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংবিধানকেও সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এবার আসি গতকাল কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে। আমার বক্তব্য পরিষ্কার। ইসলামে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের স্থান নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। যখন আস্থার সংকট দেখা দেয়; অনিশ্চয়তা, গুজব তখন আমাদের গ্রাস করে ফেলে। সাময়িক সমাধান নয় প্রয়োজন সমস্ত আস্ফালন আর ধৃষ্টতার কড়া জবাব। আস্থা ফেরাতে হবে এবং এক্ষেত্রে সবার দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এ দেশের মাটি খুব নরম। এই ভূখন্ডের মানুষ চরম সংবেদনশীল। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে সেটার ফয়সালা ’৭১ সালেই হয়ে আছে।

লেখক: মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরেও চাকুরী পাওয়া যায় না কারণ..

মেজর (অব.) রেজাউল করিম

গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরেও চাকুরী পাওয়া যায় না কারণ..

অনেকদিন ধরেই ভাবছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট ভাই বোনদের জন্য তাদের পড়াশুনার প্রস্তুতির পাশাপাশি তাদের ভালো ক্যারিয়ার গড়ার জন্য  কিছু পরামর্শ দিয়ে কিছু লিখবো কিন্তু পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সময় ম্যানেজ করতে পারিনি। আপনাদেরকে পরামর্শ দেয়ার জন্য হয়ত আমি অতটা যোগ্য নই তবে বয়স বেশি না হলেও যেহেতু মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করেছি তাই আমার সমবয়সিদের তুলনায় আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেকটাই দীর্ঘ।

যাই হোক এবার মূল কথায় ফিরি, আমরা অনেকেই Career selection বা শুরু করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভুল করি, যেমন আমরা কম বেশি সবাই আমাদের পরিবার তথা সমাজ ব্যবস্হায় দেখে আসছি বা শুনে থাকি যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করার পরই চাকুরী নামক সোনার হরিণের দেখা মেলে।  আর তাই ঠিক সেভাবেই টাকার জন্য পরিবারের প্রতি চাপ সৃষ্টি হয় আবার পরিবার চাপ সৃষ্টি করে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার জন্য—- সকল ধ্যান-জ্ঞান থাকে  কাঙ্খিত মাস্টার্স কমপ্লিট করে পড়াশোনা শেষ করে জব পাওয়ার জন্য।  

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরেও চাকুরী পাওয়া যায় না; যার পেছনে কম বেশি অনেকগুলো কারণ আছে-আমরা সবাই তা জানি; সবগুলো না বলে ১/২ টা কারন বলি- যেমন আমাদের দেশে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন তদবীর বা দুর্নীতির পাশাপাশি চাকুরীর জন্য পর্যাপ্ত Vacancy  নেই তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অনেক কষ্টসাধ্য বা কখনও কখনও ব্যয়বহুলও বটে। এমন অনেক বিষয় আছে আমরা সবাই তা জানি তাই আমি সেই বিষয়ে যাব না তবে এর বাইরেও কিছু জায়গা আছে যার জন্য  আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতাই বেশি  দায়ী; যেমন, ধরুন আপনি কোন একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন——
এখানে লক্ষ্য করুন আমি দুজন ক্যানডিডেট নিয়ে কথা বলছি: 
একজন মি: বেলাল
দিতীয়জন মি: হেলাল

মি: বেলাল যখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র তখন থেকে তিনি রেস্টুরেন্টে,  বিভিন্ন কল সেন্টারে, কাস্টমার সার্ভিসে, ডেসিভারিম্যান বা সেলসম্যান হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজের পাশাপাশি তিনি মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেছেন এবং তার রেজাল্টও মোটামুটি ভালো। সব মিলিয়ে তার চার থেকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা।

এদিকে, মিস্টার হেলাল- তিনি সবেমাত্র এমবিএ কমপ্লিট করেছেন, তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই তবে তার রেজাল্ট অনেক ভালো ।

এখন আমরা একজন নিয়োগদাতা বা এম্প্লয়ারের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবি —-তিনি দুটো সিভি নিয়ে কিভাবে পর্যালোচনা করবেন:

১। যেহেতু মিস্টার বেলালের ঝুলিতে চাকুরীর শর্ত অনুযায়ী তার সকল সার্টিফিকেট আছে এবং তার সাথে Added advantage হিসেবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা। 
২। যেহেতু তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি কাজও করেছেন তাই তিনি কাজের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন- সময় নষ্ট করে তাকে নতুন করে অনেক কিছু শেখাতে হবে না।
৩। যেহেতু তিনি অল্প বয়স থেকেই তার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তাই নিশ্চয়ই তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন। 
৪। যেহেতু তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি জব করতেন তাই তিনি খুব সহজেই Simultaneously অনেক কাজ করতে পারবেন; অনেক কিছু ম্যানেজ করতেও  পারবেন এবং তার ম্যানেজিং ক্ষমতা অনেক বেশি হবে।
৫। যেহেতু তিনি ছোট-বড় সব কাজ করেছেন তাই তাকে দিয়ে যেকোনো কাজ করানো যাবে তাই তিনি কোন কাজকেই অবহেলা করবেন না।

অপরদিকে মিস্টার হেলালের মাস্টার্স এর রেজাল্টসহ সকল পরীক্ষার রেজাল্ট অনেক ভালো হলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই তাই তাকে কাজ করানোর চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যাকে পেয়েছি তাকে নিয়োগ দিলে সময় ও অর্থ (বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেয়কে বুঝানো হয়েছে) দুটোই বাঁচবে এবং কাজের মানও ভালো হবে ।

ধরেন এতকিছুর পরেও মিস্টার হেলালকে তার রেজাল্ট বিবেচনা করে Job offer দেয়া হলো- তাই নিয়োগদাতা তাদের Offer Letter-এ উল্লেখ করে দিয়েছে-“যেহেতু আপনার কোন অভিজ্ঞতা নেই, তাই আপনাকে নয় মাস ফিল্ডে কাজ করতে হবে এবং সার্বিক performance পর্যালাচনা করার পরে আপনার জব স্হায়ী করা হবে।”

Offer letter পেয়ে আপনি ভাবলেন আপনি যেহেতু একজন গ্রাজুয়েট এবং  আপনার রেজাল্টও ভালো তাই উক্ত পজিশনে এমন শর্ত সাপেক্ষে কাজ করা আপনার জন্য কিছুটা বিব্রতকর -তাই পরিশেষে আপনি জবটি আপনার জন্য উপযুক্ত মনে না করার কারনে জবটি প্রত্যাখ্যান করলেন। 

আশা করি কি বুঝাতে চেয়েছি তা আপনারা খুব সহজেই Relate করতে পেরেছেন এবং বুঝতেও পেরেছেন।

মনে রাখবেন, অনার্সে পড়ুয়া একজন ছাত্র ইচ্ছে করলেই অনেক ধরনের কাজে যোগ দিতে পারে, যে বয়সে তার কোন কাজেকেই ছোট মনে করা উচিত নয়! এমন অনেক কাজ আছে যা তার ব্যক্তিত্বে আঘাত হানবে না বা যা করতে সে লজ্জাও পাবেন না! তবে যখন কোন ছাত্র অনার্স পাশ করে তার ব্যক্তিত্বে একটু ভিন্নরকম মাত্র যোগ হয়, গ্রাজুয়েট হওয়ার সুবাধে অনেক কাজ করতেই একটু সংকোচবোধ হতে পারে এবং তা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি আপনি মাস্টার্স পাশ করে থাকেন সেক্ষেত্রে তো সীমাবদ্ধতা আরো অনেকগুন বেশি বেড়ে যাবে- তাই না? 

এই বয়সটাই হচ্ছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জনের বয়স, অধিক পরিশ্রম করার বয়স, ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর বয়স, দরকার হয় ভুল করতে করতেই শিখবেন- কাজ শেখার ক্ষেত্রে কেউ বোকা দিলেও অপমানবোধ হবে না;যেমন আমি যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দেই তখন বয়স অতি কম হওয়ার কারনে কোন সিনিয়র কিছু শেখাতে যেয়ে বোকা দিলেও তা সহজেই গ্রহন করতাম, তাদের ব্যবহার আত্মসম্মানে আঘাত করতো না।

আরও পড়ুন:


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইপিএল নিয়ে জুয়া, ৩ জনের সাজা

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বোমা হামলা মামলার রায় আজ

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্প

যুবলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও ফাঁস! মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি


 

ইচ্ছে করলেই সব বয়সে সকল শিক্ষা গ্রহন করার সুযোগ থাকে না, যেমন: সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে যা শিক্ষা দেয়া হয় তার কিছু অংশ শর্ট কোর্সগুলোতে দেয়া হয়- সব কিছু নয় কারন শর্ট কোর্সের ক্যাডেটরা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেই যোগদান করার কারনে তাদের বয়স একটু বেশি থাকে তাই এমন অনেক ধরনের প্রশিক্ষন আছে যা গ্রহন করার জন্য তারা শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। আপনি ১৭ বছরের একজন মানুষকে যা বলতে পারবেন, যেভাবে ট্রিট করতে পারবেন, যেভাবে বকা দিতে পারবেন, যেভাবে সাজা দিতে পারবেন; তা কি ৩০ বছর বয়সের কারো সাথে করতে পারবেন ? বা উক্ত ব্যক্তিই কি পারবে তা গ্রহন করতে ? মোটেও না।

যোগ্যতা অর্জন করা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ব্যাপার তবে  শুধু যোগ্যতা অর্জন করাকেই একমাত্র অবলম্বন ভাবলে চলবে না -সময় ও সুযোগেরও সদ্ব্যবহার জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং সময়মত প্রয়োগ করতে হবে; যেমন-আমাদের সমাজ ব্যবস্হায় অতি যোগ্য একটি মেয়েকে বিয়ে দিতে গেলেও Sometimes her over qualifications turns into a disqualification due to lack of Mismatch.

তাই আমাদের উচিত সময় ও বয়সের সঠিক  ও সদ্ব্যবহার করা। একটা প্রবাদ আছে- “Strike the Iron while it is hot!”

লেখক মেজর (অব.) রেজাউল করিম।নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)
news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ধরার মত কিছুই পায়নি, লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিলো ফখরুদ্দিন সরকার

মারুফ কামাল খান

ধরার মত কিছুই পায়নি, লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিলো ফখরুদ্দিন সরকার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল

যদি কিছু মনে না করেন, আজ একটু নিজের গল্প করি। আমি তখন প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত বাড়িগুলোর একটায় থাকতাম। শেরে বাংলা নগরের গণভবন কমপ্লেক্সের ওই বাড়িগুলোকে এসটিএমসি বলা হতো। তবে কেন এসটিএমসি, এই এসটিএমসি মানে কী তা' আমি জানতাম না। এখনো জানিনা। ঐ কমপ্লেক্সে এসটিএমসি-১ থেকে শুরু করে এসটিএমসি-১২ পর্যন্ত সাকুল্যে ১২টি বাড়ি আছে। ঢুকতেই সামনের সারিতে প্রথম যে ডুপ্লেক্স বাড়িটা পড়ে, ওটাতেই আমি সপরিবারে বাস করতাম।

আমি এর আগে যে ভাড়া বাসায় থাকতাম সেটা ছিল বেশ দূরে। সেখান থেকে আসা যাওয়া করতে অনেক সময় লাগতো। জরুরি প্রয়োজনে ডাকলে হুট করে আসতে পারতাম না। তাই আমার নামে বরাদ্দ বাড়িতে দ্রুত ওঠার নির্দেশনা দেয়া হলো। আমি ইতঃস্তত করছিলাম কারণ, এ বাড়ির জন্য মানানসই ফার্নিচার আমার নাই। আর এতো বড় বড় দরোজা-জানালায় পর্দা টানাতে বহু টাকা লাগে। সে সমস্যা সুরাহা করলেন দু'জন সাংবাদিক। আমার স্নেহভাজন টুলুর ফার্নিচারের দোকান আছে। টুলু দ্রুত দু'টি বড় খাট, ডাইনিং টেবিল, সোফা বানিয়ে দিলো। দীর্ঘ কিস্তিতে যার দাম পরিশোধযোগ্য। আমাদের গ্রেট জাহাঙ্গীর ভাই বললেন, আমার বাসায় দরোজা-জানালার একগাদা পর্দা পড়ে আছে। তেমন ব্যবহারই হয়নি। তিনি বিনে পয়সায় আমাকে   অনেকগুলো পর্দা দিয়ে দিলেন। তাতে আমার কাজ মোটামুটি হয়ে গেলো।

চাকরির শর্ত ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য আমার নামে একটা মোটরযান বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আমি সেটা সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যবহার করতাম। সরকারী ছুটির দিনগুলোতে ড্রাইভারকে ছুটি দিতাম। আমাদের লেভেলের কর্মকর্তাদের জন্য সার্বক্ষণিক গাড়ি এবং বাসায় ফ্রি টেলিফোন বরাদ্দ থাকলেও বরাদ্দ তেল ও ফোন বিলের একটা লিমিট ছিল। এটা অনেকে না জানায় দেদার তেল পোড়াতেন। দেশে-বিদেশে এন্তার ফোন কল করতেন প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে।

পরে এক-এগারো ঘটলে অনেকেই ধরা খেয়েছেন মূলত তিনটি কারণে। বাড়তি তেল পোড়ানো, বাড়তি টেলিফোন বিল এবং বিদ্যুৎ বিল না দেয়ার কারণে। গণভবন কমপ্লেক্সে বিদ্যুতের ডাবল লাইন ভিভিআইপি সংযোগ আছে। সেখানে বিদ্যুৎ যায়ও না, বিলের জন্য লাইনও কাটেনা। তাই অনেকে গা করে মাসিক বিদ্যুৎ বিল শোধ না করে পরে ধরা খেয়েছিলেন।

আমি এসব ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতাম। এবং সরকারের মেয়াদ ফুরাবার দু'মাস আগেই খোঁজ-খবর করে সব সরকারি পাওনা চুকিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে নির্দাবি সনদ লিখে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর অফিস ছাড়ার পরেও কেউ কেউ সরকারি গাড়ি বুঝিয়ে না দিয়ে রেখে দেন এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। তারা বলতেন, মাত্র ক'দিনের জন্য আর গাড়ি কেন জমা দেব? আবার তো আমরাই ক্ষমতায় ফিরছি! আমার মধ্যে অবশ্য এতো কনফিডেন্স ছিল না। সব সময় ভয়ে থাকতাম, পরে বদনাম হয়, এমন কিছু যাতে না করি।

পরবর্তীকালে এক-এগারো এলেও আল্লাহ্'র রহমতে দুর্নীতিবাজ  বা চোর-বাটপার বলে চিহ্নিত করতে পারেনি। অঢেল সুযোগ থাকলেও অন্যায় কোনো সুবিধা নিইনি কিংবা তদবির করে বিত্ত-বেসাত গড়ার দিকে নজর দিইনি। চোখের সামনে বাসের হ্যান্ডেলে ঝুলে চলাফেরা করা লোকেরা আঙুল ফুলে কলাগাছ, বটগাছ হয়েছে। প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছে, আমার নাকে-মুখে ধুলো ছিটিয়ে কোটি টাকার গাড়ি হাঁকিয়ে তারা চলে যায়। কেউ কেউ দেশান্তরী হয়ে দিব্যি আয়েশে কাটাচ্ছে বিলাসী জীবন।আর আমি দারিদ্রের সেই প্রবল অহঙ্কার নিয়ে কাউকে দু'-পয়সার পাত্তা না দিয়ে এখনো নিজের রাজত্বের বাদশাহ্ হয়ে দেদীপ্যমান রয়েছি সগৌরবে। অভাবে-অনটনে, নুনে-ভাতে জীবনের দিন তো প্রায় পেরিয়েই গেলো।

আমার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ না থাকলেও এক-এগারোর পর আমার ভূমিকার কারণে ফখরুদ্দীন ও মঈনুদ্দিনের অফিস খুব ক্ষিপ্ত ছিল। হুকুম হয়েছিল, আমার সব কিছু তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখে কোনো দুর্বলতা বের করতে। ধরার মতন কিছুই খুঁজে না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। পরে তাদের পক্ষ থেকে আমার সার্ভিস চেয়ে আমাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কিছু লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া হয়। তারা বলেছিলেন, আপনি যাদেরকে সমর্থন করেন এবং যাদের জন্য ঝুঁকি নেন, তারা আপনার কী মূল্যায়ন করেছে? কোনো দিনই করবেনা। আমরা আপনার উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে চাই, আপনাকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে চাই। 
বলেছিলাম, বিনিময়ে কিছু পাবার আশায় তো কাউকে সমর্থন করিনা আমি। ঝুঁকি নিই আমার অন্তর্গত বিশ্বাস ও আদর্শের কারণে, কোনো ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যের কারণে নয়। আমার সেই অবস্থানে আজো অটল থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসে থাকতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রিক্সা করে কাছের মোহাম্মদপুর টাউন হল বা কৃষি মার্কেটে গিয়ে কাঁচাবাজার সারতাম। টিভিতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মাঝে মধ্যে আমাকে দেখা যেতো বলে লোকেরা অনেকেই চিনে ফেলতো যে, আমি সরকারের লোক। তখন কিন্তু সরকারের নিন্দা বা সমালোচনায় কোনো রাখ-ঢাক বা ভয়-ডরের বালাই ছিল না। বরং আমাকে দেখে যারা চিনতো তারা আরো বেশি বেশি করে নিন্দা ও সমালোচনা করতো। এই সমালোচকদের মধ্যে থাকতো দোকানি এবং যারা বাজার করতে আসতো তারা।

একটা কথা শুনতে কান পচে গিয়েছিল যে, হাওয়া ভবনের সিন্ডিকেট সবকিছুতে কমিশন খায়, চান্দা নেয়, আর তাই জিনিসপত্রের দাম শুধু বেড়েই যাচ্ছে।

সেটা সম্ভবতঃ ২০০৫ সালের মাঝামাঝি। একদিন বাজারে গিয়ে দেখি হুলুস্থূল কাণ্ড! তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের গনগনে আগুন সবার মধ্যে। ব্যাপার কী? চালের কেজি ১৬ টাকা হয়ে গেছে। মানুষ কেমনে বাঁচে? আগে ছিল সাড়ে ১৫, একদিনে কেজি প্রতি ৫০ পয়সা বেড়ে গেছে, মণপ্রতি কুড়ি টাকা। নেতাগোছের একজন আঙুল উঁচিয়ে বক্তৃতার ঢংয়ে কথা বলছেন। সবাই শুনছে আর সায় দিচ্ছে। আমাকে দেখে তার জোস যেন আরো বেড়ে গেলো। আরে ভাই, শুধু চাউল নাকি? কোনটার দাম বাড়ে নাই? মাছে আগুন। গরুর গোস্তের কেজি একশোর বেশি। ব্রয়লার মুরগিগুলান ৭০টাকা, আটা ২২ টাকা, চিনি ২৭ টাকা, সয়াবিন তেল ৪৮ টাকা, পেঁয়াজ ১২ টাকা, মসুর ডাল ৪২, আলু ৬ টাকা, ডিমের হালি ১৫ টাকা। সব হাওয়া ভবনের কেরামতি। সিএনজিতে চড়বেন? উঠলেই ২০ টাকা। হবেনা? সিএনজি প্রতি তারেক জিয়া নিছে পঞ্চাশ হাজার করে ঘুষ।

রোজই এসব শুনি। সেদিন কী মনে হলো, একটু এগিয়ে গিয়ে তার পিঠে হাত রেখে বললাম, ভালো বক্তৃতা করেন তো। তবে ভাই এই যে প্রচার করছেন, এরজন্য কোনো পয়সা পান? এগুলোর কোনো প্রমাণ আছে?
ভদ্রলোক একটু হতচকিত হয়েই আবার নিজেকে সামলে নিলেন। বললেন, প্রমান কিসের? আমরা গরীব লোক, বাজারে এলেই প্রমান পাই। আর এই ছোট্ট দেশে কোনো কিছু কি গোপন থাকে?


আরও পড়ুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইপিএল নিয়ে জুয়া, ৩ জনের সাজা

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বোমা হামলা মামলার রায় আজ

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্প

যুবলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও ফাঁস! মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি


আমাকে একটু ডিফেন্সিভ অবস্থানে ঠেলে দেয়ার উদ্দেশ্যে বললেন, স্যার, আপনাদের তো কোনো সমস্যা নাই। সরকারি লোক, টিভিতে দেখি। টাকার অভাব নাই। কিন্তু আমরা তো বাঁচিনা।
জিজ্ঞেস করলাম, কী করেন আপনি ভাই?

এবার ভদ্রলোক সত্যিই বিব্রত হলেন। কী আর করবো, আমরা আম পাব্লিক। আচ্ছা আসি, কাজ আছে।
পরিচয় জানতে চাওয়ায় দ্রুত সটকে পড়লেন। এতোক্ষণ যে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি মজমা জমিয়েছিলেন সেই দোকানি হেসে বললেন, ভালো করেছেন স্যার। সে নেতা, যুবলীগের ওয়ার্ড কমিটিতে আছে।

আমি এদের প্রচার দক্ষতা ও ডেডিকেশন দেখে সেদিন বিষ্মিত হয়েছিলাম। একটা রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের ওয়ার্ড লেভেলের একজন কর্মী, তার এ শ্রম ও প্রচারণা কোনো নেতা দেখছে না, এর জন্য সে কোনো কৃতিত্ব পাবেনা, সংগঠনে তার পদোন্নতিও হবেনা, সেলফি তুলে এসব তৎপরতার ফেসবুকে প্রচার করার অবকাশও তখন ছিল না। তবু সবখানে সারাক্ষণ এরা এভাবেই প্রচার চালিয়েছে।

এখনো বাজারে যাই। দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে বাড়ছে। কোনোটার দাম দ্বিগুণ থেকে দশগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ঘাড় গুঁজে লোকে সাধ্য মতো কিনছে। কোথাও কোনো আওয়াজ নেই, ক্ষোভ নেই, প্রতিবাদ নেই, গুঞ্জন পর্যন্ত নেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত 

পরবর্তী খবর

অপরাধীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

অপরাধীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মানব কঙ্কালসহ এক ব্যক্তি ধরা পরার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আবার নতুন করে ভয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অবশ্য আমাদের দেশে অবৈধভাবে মানব কঙ্কালের ব্যবসা হয় বলে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল।
 
বলা হচ্ছিল অবৈধ মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে মানুষের কঙ্কাল অর্থাৎ হাড়-গোড় যোগাড় করে তা বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। এমনও অভিযোগ আছে মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা মানুষের কঙ্কাল যোগাড় করে তা দেশের বাহিরেও পাচার করে থাকে। 
 
আমরা জানি আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মানুষের কঙ্কালসহ কঙ্কাল ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে থাকে। তারপর ধৃত মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনঃরায় কঙ্কাল ব্যবসায় লেগে যায়। বিভিন্ন সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বক্তব্য থেকে জানা যায়, মূলত কঙ্কাল ব্যবসায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা জড়িত হয়ে পড়ে এবং এক সময় আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে কেউ কেউ ধরা পড়লেও, মূল অপরাধীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে কিংবা পর্দার অন্তরালে। 
 
আবার এমন অভিযোগও করা হয়ে থাকে যে, এই কঙ্কাল ব্যবসায় অনেক সময় ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্ররাও জড়িত হয়ে পড়ে। এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী অবৈধ কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা গোপনে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে আনে। আবার এমন কথাও বলা হয় যে, হাসপাতালে বেওয়ারিশ হিসাবে পড়ে থাকা লাশগুলিকে কোন না কোন অবৈধ পন্থায় মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অসাধু ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। 
 
অবৈধ মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীরা রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে হাড় আলাদা করে নেয়। তারপর সেই মানব কঙ্কাল অবৈধ ভাবে মোটা অংকের বিনিময়ে ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। 
 
যেহেতু মানব কঙ্কাল সংগ্রহের অর্থাৎ কেনা-বেচার কোন সু-নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, তাই ডাক্তারী পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাধ্য হয়ে অবৈধ মানব কঙ্কাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের পড়াশুনার স্বার্থে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হয়। আবার অনেক সময় এমনও হয় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন পড়তে আসা মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীরা মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে থাকে। 
 
ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য মানব কঙ্কালের অবশ্যই প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কোন বিকল্প থাকে না। যদিও আজকাল কৃত্রিম কঙ্কালের কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন চিকিৎসা শাস্ত্রে জ্ঞান আহরণ করতে হলে মানুষের কঙ্কালই প্রয়োজন পড়ে। কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা কঙ্কাল দ্বারা শিক্ষার বিষয়টি পরিপূর্ণ হয় না। 
 
যারা চিকিৎসা শাস্ত্রে স্নাতক করেন কিংবা ডাক্তারি পেশা শুরু করেন, তাদের কাছে মানুষের কঙ্কালই প্রয়োজন। এ বিষয়ে অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের ভাষ্য হচ্ছে আসল কঙ্কালের মত কৃত্রিম কঙ্কাল বানানো সম্ভব নয়। কৃত্রিম কঙ্কালে অনেক সময় ভুল থাকে। অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষকের মতে আসল কঙ্কালে হয়তো একটা গর্ত আছে, একটা নার্ভ চলে গেছে, একটা গ্রুপ আছে। কিন্তু কৃত্রিম কঙ্কালে হয়তো এটা আসে নাই। 
 
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন, অ্যানাটমি আর্টিফিশিয়াল বা মডেল কঙ্কাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে নার্সিং কিংবা হোমিওপ্যাথির মত বিষয় গুলোতে। বলা হয়ে থাকে আজকাল কৃত্রিম কঙ্কালও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকেই জেনে থাকি। সবকিছুতেই যেমন বির্তক আছে তেমনি করে কৃত্রিম কঙ্কাল ব্যবহার করা নিয়েও বির্তক আছে। ফরেনসিক বিভাগের অনেক জ্ঞানী ও বিজ্ঞজনদের মতে পৃথিবীর অনেক জায়গায়ই আজকাল কৃত্রিম কঙ্কাল ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এসব কঙ্কাল ফরেনসিক বিভাগের অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ভালো মানেরও হয়ে থাকে।
 
আমাদের মধ্যে অনেক কিছুর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অপরাধীরা অপরাধের পথ খুঁজে বেড়ায়। দেখা যায় অনেক সময় আইনের দুর্বলতার জন্য অপরাধীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। সেখানে যথাযথ কর্তৃপক্ষেরও কিছু করার থাকে না। 
 
অনেকেই বলে থাকেন আমাদের এখানে কঙ্কাল বেচাকেনার কোন নীতিমালা নেই। অথচ আমরা যদি আমাদের সন্তানদের ডাক্তার বানাতে চাই, তাহলে তার অর্থাৎ আমাদের সন্তানদের মানব কঙ্কাল প্রয়োজন পড়বেই। আরো সহজভাবে পরিষ্কার করে বলতে গেলে বলতে হবে ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদেরকে বৈধ কিংবা অবৈধ ভাবে যেকোন ভাবেই হোক তাদের পড়াশুনার স্বার্থে মানুষের কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হবেই। 
 
ছাত্রছাত্রীরা বৈধভাবে না অবৈধভাবে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করছে তা তারা অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী বুঝে উঠতে পারছে না। দেশের আইন বিশেষজ্ঞের মতে কবরস্থান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করা চরম অনৈতিক কাজ হলেও আমাদের দেশের আইনের মাঝে এ অপরাধের সুস্পষ্ট কোন বিচার বা শাস্তির নির্দেশনা নেই। যার ফলে অপরাধীরা আইন শৃংঙ্খলা বাহীনির হাতে ধরা পরলেও অপরাধীদের কিছু হয়না। 
 
অপরাধীরা আইনের মারপ্যাচে মুক্তি পেয়ে পুনঃরায় মানব কঙ্কালের অবৈধ ব্যবসায় লেগে যায়। দেশের বিজ্ঞজনরা মনে করেন কঙ্কাল কেনাবেচা, এর সংরক্ষণ, সেই সঙ্গে দেহদান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন। যদি সরকার কঙ্কাল কেনা বেচা, এর সংরক্ষণ ও দেহদানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে পারে, তাহলেই সম্ভব হতে পারে অবৈধ কঙ্কাল ব্যবসা বন্ধ করা।
 
ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের মতে অ্যানাটমি বিষয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে কঙ্কালের ব্যবহার হয়ে থাকে। এক ছাত্রীর মতে যতই আপনাকে পড়ানো হোক না কেন হাতে ধরে দেখানোর আগ পর্যন্ত বুঝা সম্ভব না। 
 
আমরা সকলেই এটা জানি যে, দেহদান ছাড়া বৈধ ভাবে কঙ্কাল সংগ্রহের তেমন সুযোগ নেই। এ কথাতো সবাই বলবেন যেখানে বৈধতার সুযোগ থাকে না, সেখানে বৈধ প্রয়োজনের তাগিদে মানুষকে বাধ্য হতে হয় বাঁকা পথ ধরতে। আর এই সুযোগটাই নেয় অপরাধী চক্রের লোকজন।
 
আগেই বলা হয়েছে আমাদের দেশে ডাক্তারী পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও গবেষনার জন্য মানব কঙ্কালের প্রয়োজন হলেও, এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তাই যারা মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে থাকেন, তারা এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে দুটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। এরমধ্যে একটি প্রস্তাব হল মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে কঙ্কালের ব্যবহার এবং সরবরাহের পদ্ধতি নিয়ে নীতিমালা তৈরি বিষয়ক আর অন্যটি হল মেডিকেল কলেজগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সিমুলেশন ল্যাব তৈরি করা। 
 
তবে বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন এ ধরনের সিমুলেশন ল্যাব সহজ ব্যাপার নয়। তা অনেক সময়ের ব্যাপার। এতো তাড়াতাড়ি তৈরী করা যাবেনা। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মকর্তার ভাষ্যমতে এ ধরণের সিমুলেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে পাঁচ বছরের মত সময় লেগে যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সিমুলেশন ল্যাব ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশে এখনো এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ছোট্ট আকারে একটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারী পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও পড়াশুনার জন্য যেহেতু মানব কঙ্কালের প্রয়োজন, সেই ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত হবে কিংবা তাদের দায়িত্বও বলা যায় ডাক্তারী পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সহজ এবং বৈধ ভাবে মানব কঙ্কালের ব্যবহার সুনিশ্চিত করা। অপরাধীরা হয়তো বিভিন্ন ভাবে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলিয়ে যায়। 
 
কিন্তু কোমলমতি মেডিক্যালের ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক সময় আইনের মারপ্যাচে পরে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বৈধ ভাবে মানব কঙ্কাল পাবার ব্যবস্থা করে দেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও আইনের ব্যাপারে সচেতন করে তুলেন, তাহলে দেখা যাবে অপরাধীরা অর্থাৎ মানব কঙ্কাল পাচারকারী কিংবা ব্যবসায়ীরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ভুল বুঝিয়ে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা মানব কঙ্কাল ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে পারবেনা এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও সচেতন ভাবে কোন অপরাধীর নিকট থেকে মানব কঙ্কাল গ্রহণ করবে না। তখন দেখা যাবে অপরাধীরাও ডাক্তারী পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের আশেপাশে আসতে পারছে না।
 
তাই বলছিলাম, মেডিক্যালে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের মানব কঙ্কাল সংগ্রহের ব্যাপারে একটি বৈধ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিশেষ দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। দেশবাসী বিশ্বাস করে মেডিক্যালে ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন।
 
news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর