ইভ্যালী-পঞ্জি স্কীমস: কই এর তেলে তিমি ভাজা!

ডা. আমিনুল ইসলাম

ইভ্যালী-পঞ্জি স্কীমস: কই এর তেলে তিমি ভাজা!

ইভ্যালীর রাসেল দম্পতি যা করেছে ঠিক ১০০ বছর আগে সেটি প্রথম করে দেখিয়েছিল Charles Ponzi নামের এক প্রতারক।

১৯২০ সালে নিউ-ইংল্যান্ডে ৯০ দিনের মধ্যে ফোরটি পার্সেন্ট রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা শুরু করে Ponzi যখন পারিপার্শ্বিক সুদের হার ছিল 5% মাত্র। 

তারপর পঞ্জির বিরাট বিত্ত-বৈভব, জেলখাটাসহ আরও অনেক ইতিহাস। সেদিকে যাচ্ছি না। Ponzi র মতো করে যে প্রতারণা ব্যবসা মডেল দাঁড় করানো হয় তাকে বলে Ponzi scheme। ইভেলি ভিন্ন চেহারায় প্রায় হুবহু সেই পঞ্জি স্কিম প্রতারনাটা নকল করেছে।

সোজা বাংলায় পঞ্জি স্কীমস একটা পিরামিড আকৃতির ফন্দি যার মূল মন্ত্র হলো Robbing Peter to pay Paul অর্থাৎ পিটারের টা চুরি করে পল কে pay করা। প্রতারক প্রমোটররা যদি প্রথমদিকের বিনিয়োগকারীদের বিরাট লাভ দিয়ে চমক সৃষ্টি করে তাতে আকৃষ্ট পরের দিকের ইনভেস্টরদের টাকা মেরে দেয় তবে তা পঞ্জি স্ক্যাম এর আওতায় পড়ে। তাদের কোন টেকসই বিজনেস মডেল থাকে না, নিজেদের কোনো বৈধ বা যুক্তিসঙ্গত প্রফিটও থাকে না। তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রবাহমান টাকার উপর। সেই টাকার প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো চিটিং process টাই কলাপ্স হয়ে যায় কারণ তাদের নিজেদের কিছু থাকে না।

প্রতারক প্রোমোটারদের ধূর্ততা ও কৌশলের উপর পঞ্জি স্কীম ভিন্ন ভিন্ন ধারা ও চেহারার হতে পারে। তবে প্রত্যেকেরই মূল মোক্ষ শুরুর দিকের বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংকের লাভ দিয়ে কৌশল ও ছলচাতুরি করে পরের বিনিয়োগকারীদের বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া। লাভ দেখে বিরাট জনগোষ্ঠী বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসে। যদি ছলা-কলা করে পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা না করে তখন তার প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস পুঞ্জিভূত হতে থাকে। 

দুঃখজনকভাবে অনেকে ধরা খেলেও চুপ থাকে এজন্য যে কোম্পানির ক্ষতি হলে তার টাকা ফেরত পাবার বাকি আশাটুকুও আর থাকবে না। এর ফলে আরও বেশি দিন প্রতারক প্রমোটররা তার ধূর্ততা চালিয়ে যেতে পারে। লোকজন তাকে বোকা ও লোভী ভাববে এ জন্য অনেকে ফুঁসে উঠতে বিলম্ব করে। কেউ কেউ লজ্জায় একেবারেই চেপে যায়। অনেকেই বিনিয়োগ ফিরে পাবার ক্ষুদ্রতম আশার উপর ভিত্তি করে বরং প্রতারকের জন্য শুভকামনা বজায় রেখে প্রতারকের পক্ষে নেয় যাতে কোম্পানি টাকা শোধ করার সক্ষমতা অর্জন করে। এ-সবই পঞ্জি স্ক্যাম এর বৈশিষ্ট্যাবলী (Universal criteria) আপনি যখন কোথাও টাকা খাটাবেন তখন যে ব্যাপারগুলি মাথায় রাখবেন তার একটা ছোট বর্ণনা দিচ্ছি। 

আরও পড়ুন:


অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

ছাত্রকে যৌন হয়রানি ২৭ বছরের তরুণীর, ২০ বছরের কারাদণ্ড

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


১. অস্বাভাবিক মাত্রার লাভ, ছাড় বা রিটার্নের ঘোষণা পঞ্জি স্ক্যাম এর সবচেয়ে সুস্পষ্ট লক্ষণ।

চেহারা যাই হোক অন্য যে কোন ব্যবসার তুলনায় তারা আপনাকে বেশি লাভ বা ছাড় দিবে- এব্যাপারটা থাকবেই। "অতি লাভ বিপদজনক" কোথাও বিনিয়োগের আগে সেটা আপনাকে মন্ত্র হিসাবে মেনে নিতে হবে। সুষ্ঠু বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু আপনার লোভ। প্রতারকদের পক্ষে আপনাকে ঠকানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্রও আপনার লোভ। (শেয়ার মার্কেট দ্রষ্টব্য)

২. আপনার মনের গভীরে প্রোথিত লোভকে উস্কে দেওয়ার দারুন টেকনিক হলো লাভের গ্যারান্টি দেয়া। শতভাগ লাভ হবেই একেবারেই ফুল গ্যারান্টি, নো রিস্ক, এমন অঙ্গীকার যারা করবে খুব সম্ভবত তারা ফ্রড।

৩. পতনের আগ পর্যন্ত কোন ব্যবসা যদি স্বাভাবিক বেগ বা সময়ে সময়ে মন্থরতার পরিবর্তে ত্বরণের উপর থাকে তথা খুব দ্রুত বর্ধনশীল হয়, পরের দিন পরের সপ্তাহ আগের দিন আগের সপ্তাহকে ছাড়িয়ে যেতেই থাকে তবে ধরে নিবেন ঘাপলা ইজ দেয়ার। সবাইকে হুমড়ি খেয়ে পড়ানোর এটা একটা ট্র্যাপ।

বাজার পরিস্থিতি, নিজেদের সক্ষমতা যাই হোক তারা যদি আপনাকে লাভের অফার দিতেই থাকে, দৌড় দিন- একেবারে পেছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে।

৪. পাচ মিনিট চিন্তা করে আপনি যদি তাদের বিজনেসটা কিভাবে বা কোন মডেলের উপর চলছে বা চলবে তার কূল-কিনারা করতে না পারেন- একে গুডবাই বলুন। বিজনেস মডেলটা বুঝতে যদি বেগ পেতে হয় লাভের টাকাটা কোথায় জেনারেট হচ্ছে সেটা যদি আপনার কাছে পরিস্কার না হয় আপনি ভুলেও তার কাছে ঘেষবেন না।

৫. প্রতারক প্রমোটররা নানাবিধ জটিল মোহনীয় চাতুর্যপূর্ণ শব্দ ও বাক্য দ্বারা আপনাকে আবিষ্ট করতে নটরিয়াসলি চতুর। যেমন offshore investment program, Future Amazon, From loss to global brand, high yield investment, তারুন্যের ঝুঁকি- এসব বাক্যবাণে তারা আপনাকে মোহাবিষ্ট করে ফেলবে। তারা অন্যসব বড় ব্যবসা কিভাবে দাঁড়িয়েছে তার উদাহরণ দেবে মিথ্যা তথ্য সমেত। যাদুবিদ্যার মতো আড়ালে বড় কিছু হচ্ছে এমন একটা ইলুশান ও কনফিউশনে সবাইকে মজিয়ে রাখবে আসলে কিন্তু ভেতরে কিছুই হচ্ছে না। শুধু কই এর তেলে কই ভাজা হচ্ছে। এই smoke & mirror পঞ্জি প্রতারকদের অন্যতম টেকনিক। এ জন্য ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, never invest in a business you can not understand (যে ব্যবসাটা তুমি বুঝতে পারছো না সেখানে বিনিয়োগ করিও না)।

৬. এই পঞ্জি স্ক্যাম এর টিকে থাকার প্রাণভোমরা হলো নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। এজন্য তাদেরকে আকৃষ্ট করতে প্রয়োজন হয় নতুন নতুন ধামাকা অফার। নতুন বিনিয়োগকারী না আসলে এই প্রতারকরা পুরাতন বিনিয়োগকারীদের দায় শোধ করতে পারে না। অবশ্য দায় শোধ করাটা প্রতারকদের উদ্দেশ্যও নয়। একেবারে প্রথম পর্বের বিনিয়োগকারীদের লাভালাভের উদাহরণকে পুঁজি করে পরবর্তীদের যত বেশি সম্ভব বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করে যত বেশি সম্ভব টাকা মেরে দেয়া যায়- এটাই পঞ্জি মডেল বিজনেস। যদি এক পর্যায়ে আপনাকে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে দেয়ার শর্ত দেয়া হয় বা নতুন বিনিয়োগকারী জুটিয়ে দিতে পারলে পুরষ্কার দেয়া হবে বলা হয় বা আপনাকে পুনরায় বিনিয়োগ করলে আগের চেয়ে বেশি লাভ দেওয়া হবে এমন অফার দেয়া হয়- আপনি জাস্ট অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের চেয়েও বেশি গতিতে দৌড় দিবেন।

৭. প্রতারক প্রমোটাররা যদি কোন কৃত্রিম urgency  তৈরি করে, Once in a life time, আর মাত্র দু'দিন, রাত বারোটায় সুযোগ শেষ- এরকম তড়িঘড়ি আবহ তৈরি করে তবে ধরে নিবেন এটি সুস্থ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। একে বিবেচনা করুন red flag হিসাবে।

৮. পঞ্জি স্কীমস প্রতারকরা মূল পদগুলিতে তাদের ক্লোজ সার্কেল ও পরিবারের সদস্যদেরকে রাখে। দেখা যাবে ঘুরেফিরে নিজেরা নিজেরাই। এতে তারা নির্ভয় থাকে এবং ভাগাভাগিটা নিজেদের মধ্যেই হয়। শিয়াল কখনো নিজের ঢেড়ায় শিকার করেনা, চোর কখনো নিজের ঘরে চুরি করে না- এ হলো তাদের নিরাপত্তা কৌশল।

৯. তাদের আরেকটা পাওয়ারফুল সাইকোলজিক ট্যাকটিক হল সমাজের গণ্যমান্য, সেলিব্রিটি, নামকরা লোক ও লেখকদের সাথে এসোসিয়েশন বা জোটবদ্ধতা দেখানো। এতে করে তাদের গ্রহণযোগ্যতা, ক্রেডিবিলিটি বাড়ে, স্বল্পবুদ্ধির লোকদেরকে সহজেই সেলিব্রেটির ইমেজের ফাঁদে ফেলানো যায়। পঞ্জি মডেল স্কিমে বাংলাদেশের বাইরেও দেখা গেছে কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি যদি বাহিরে ভালো ভেতরে অসৎ হন তবে তার ইমেজ fraud দের ফেভারে কাজে লাগাতে দেন। বিনিময়ে fraud দের কাছ থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হন। একে বলে win-win সিচুয়েশন, ধরা খাবে শুধু পাবলিক। যেমন ইভ্যালির পক্ষে কথা বলা তাহসান, এহসান গ্রুপের পক্ষে ওয়াজ করা হেলিকপ্টার হুজুর ইত্যাদি।

১০. একশত বছর পিছিয়ে থাকার কারণে পঞ্জি যে কাজটা করতে পারে নাই বা পঞ্জি স্কীমস বাংলাদেশের বাইরে যে ব্যাপারটা চোখে পড়ে নাই অথচ ইভেলি করে দেখিয়েছে তা হল হাজার হাজার ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে "আমি লাভবান" প্রচার করে অন্যদের আকৃষ্ট করা ও কোন প্রতিবাদকারীর উপর অনলাইনে দলেবলে হামলে পড়া। একজন ক্ষতিগ্রস্থের কমেন্ট এর বিপরীতে যদি দশজন ফেইক ফেসবুক ইউটিউব আইডি "কই আমিতো লাভবান হলাম" প্রচার করে তাহলে মূল সত্যটা চাপা পড়তে বাধ্য। এ কাজটা ইভেলি মারাত্মক সফলতার সাথে করেছে। আমি বিশ্বের যতগুলি পঞ্জি স্ক্যাম এর উপর টুকটাক পড়েছি তার কোথাও এই টেকনিকটা চোখে পড়ে নাই। এটা পঞ্জি স্কীমে নতুন সংযোজন।

১১. পঞ্জি স্কীমে বাংলাদেশ আরেকটা নতুন ব্যাপার সংযোজন করতে পেরেছে তা হল মাওলানার ওয়াজ এর মাধ্যমে মুনাফিকির ভয় দেখিয়ে বিনিয়োগ বাড়বাড়ন্ত করা। দেশ বলদে ভর্তি বলেই শুধুমাত্র বাংলাদেশের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে পঞ্জি স্কীমে এই ইউনিক ব্যাপারটি সংযোজন করা।

আসলে হঠাৎ বড়লোক, বিরাট লাভবান করে দেওয়ার যে হাতছানি সেটা সবসময়ই প্রতারকদের হাত। আমাদেরকে সত্যিকারের কিছু পেতে হলে মাথা ও শ্রম খাটিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তবেই তা পাবার আশা করতে হবে। তা না হলে কিছুদিন পরপর ডেসটিনি, শেয়ার মার্কেট, যুবক, ইউনিপে, ইঅরেঞ্জ, এহসান গ্রুপ, ইভ্যালি এসব প্রতারক চক্র নানা নামে, নানা চেহারায়, নানা বেশে এসে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যাবে।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিশেষ একধরণের কর্মকান্ড,  যা উদ্ভট ও অর্থহীন। বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন ' ইডিয়ট শো'। 

কেউ হয়ত হাপুস হুপুস করে খাচ্ছে। শুধুই খাচ্ছে। আর কিছুনা। হাজারে হাজারে লোক সেই দৃশ্য দেখছে। লাইক দিচ্ছে, লাভ দিচ্ছে, রাগের চিহ্ন দিচ্ছে, হা হা দিচ্ছে। মন্তব্য করছে। কেউ কেউ মন্তব্যে ভালবাসা জানাচ্ছে,  কেউ ট্রল করছে,  কেউ ঝেড়ে গালি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ধরা হচ্ছে একটি সংখ্যা। দেড় হাজার মন্তব্য, বা পঁচিশ হাজার রিয়েকশন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইডিয়ট শো এর অভাব নেই। 

 কেউ গান করবার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু গান ভয়ানক বেসুরো। সেটাও দেখছে লাখ লাখ মানুষ। অভিনয় করার চেষ্টা করছে কেউ। কিন্তু কিছুই হচ্ছেনা৷ একটা হাসির খোরাক পেয়ে সবাই হাসির নামে উপহাস ছুড়ে দিচ্ছে৷ তাই সই।
 
হাসির উপাদান উধাও হয়ে গেছে। হাসির নাটক নেই, হাসির গান নেই।  কিন্তু প্রচুর হাস্যকর গান, নাটক ও নাচ হচ্ছে। 
 যেটা ঠিক ঠাক হচ্ছে সেটা দেখছেনা তেমন কেউ। কারণ সেটা নিয়ে সে হাসাহাসি করতে পারছেনা। সুস্থ বিনোদনের চর্চা না থাকায় মানুষ আসলে ভুলে গেছে বিনোদন কি? এই হাসাহাসিটাই বিনোদন বলে ধরে নিয়েছে। আর হাসি নিন্দার খোরাক হয়েও যার রিয়েকশনের পাল্লা ভারি সে হয়ে যাচ্ছে সেলিব্রিটি।  

সম্ভবত ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়া জিনিসটা নতুন বলে মানুষের মধ্যে একটা দিশেহারা ভাব দেখা যাচ্ছে৷ ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা " এই প্রচারযন্ত্র লইয়া আমি কি করিব?"

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না!

অনলাইন ডেস্ক

গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না!

বাংলাদেশের ক্রিকেটঃ প্রাসঙ্গিক আলোচনা 

১. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা নিয়ে অনেক কথা অনেকে বললেও আমি মনে করি সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো তামিম ইকবালের অভিষেকের পর থেকে গত দেড় দশকে আরেকজন ওপেনার তৈরি করতে না পারা!

 
ইমরুল কায়েস, জহুরুল ইসলাম অমি, আনামুল বিজয়, নাজিমুদ্দিন, সৌম্য, লিটন কেউই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। বয়সভিত্তিক দল কিংবা লিগগুলো খুঁজেও গত দুই বছর ধরে ফর্মহীন দুইজনকে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আনতে হলো কেবল পাইপলাইনে খেলোয়াড় না থাকায়!
 
দিনের পর দিন একটা পদ আটকে রেখে ও গণমাধ্যমের সামনে লম্বা লম্বা কথা বলে সফল সভাপতি হওয়া যায় না! এটা যদি পাপন সাহেব বুঝতেন! 

২. আমার ধারণা আমাদের কোচিং প্যানেলের বড় ব্যর্থতা হলো খেলোয়াড়দের স্কিলের ঘাটতি এখনো রয়ে যাওয়া। ভারত পাকিস্তান ম্যাচ দেখলে বুঝবেন বাবর- রিজোয়ান কিংবা কোহলি-জাদেজা প্রতিটা দুই রানকে তিন রান বানিয়েছেন, এক রানেরগুলো ফিল্ডার একটু দূরে থাকলেই কিংবা ফাম্বল হলেই দুই রান বানিয়েছেন। আমাদের ব্যাটসম্যানদের রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট খুবই স্লো। প্রতি ম্যাচে পনেরো রান কম হচ্ছে এজন্য। এটাই পিছিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

নিজের মেয়েকে হত্যা করতে গুগল সার্চ!

মা কালী সেজে জনগণকে তাক লাগালেন রিখিয়া

আরিয়ানের জামিন শুনানি আজ, টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব

৩. রিকি পন্টিং অবসর নেয়ার আগে থেকেই আমরা জানতাম পরের ক্যাপ্টেন মাইকেল ক্লার্ক হবেন। ভিরাট কোহলি টি টুয়েন্টির ক্যাপ্টেন্সি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার আগে থেকেই জানি নেক্সট ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। এদিকে আমরা এখনো জানি না রিয়াদ, তামিম কিংবা মুমিনুলের পর আমাদের অধিনায়ক কে? এই যে নেতা তৈরি করতে না পারা এটাও ব্যর্থতা! 
৪. আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে নেই প্রফেশনালিজম। প্রেস কনফারেন্সে কীভাবে কথা বলতে হয় এটাও জানে না। 

পাকিস্তানের সাথে দশ উইকেটে হারার পর ভিরাট কোহলির প্রেস কনফারেন্স পারফরম্যান্স অন্তত দেখতে পারে! 
এভাবেই একটা জাতির স্বপ্নের ক্রিকেট মরে যাচ্ছে। আফসোস হয়! ভীষণ আফসোস!

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

মারুফ কামাল খান

খাদ্যের দাম বাড়লেই আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল

ভাতের খোঁটা: আমাদের কালচারে খাওয়ার খোঁটা দেওয়াটা খুব অশোভন। বরং যারা একটু বেশি খেতে পারে ও ভোজনরসিক তাদেরকে এদেশে 'খানেওয়ালা' বলে কৃতিত্ব দেয়া হয়। আগে খাওয়ার বড় বড় মজলিসে এই খানেওয়ালাদের প্রতিযোগিতাও একটা আমোদের ব্যাপার ছিল।

যা হোক, ওগুলো হারানো দিনের পুরনো কথা। এখন এই হা-ভাতের কালে খাদ্যের দাম বাড়লেই সরকারি লোকেরা আমাদেরকে ভাতের খোঁটা দেন। কেউ প্রেসক্রিপশান দেন ভুট্টা খান। কারো ফতোয়া আলু খান। কেউ বলে খাদ্যাভ্যাস পাল্টান, ভাতের ওপর চাপ কমান। এবারে খোঁটা শুনছি, আমরা খুব বেশি খাদক। রাক্ষসের মতন গোগ্রাসে ভাত খাই। আমাদের ভাত খাবার পরিমাণ নাকি অন্য দেশের লোকের তুলনায় ডাবল। তাই সমাধান, হচ্ছে ভাত খাবার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। অন্য আরো যে সব দেশে ভাত মূল খাদ্য, তারা ভাতের পাশাপাশি রুটি, ডাল, ছাতু, চিপস, সব্জি,  মাছ, গোস্ত, ডিম, দুধ, পনির, মাখন, ঘোল, ঘি ও আরো অনেক খাদ্য ও পানীয় গ্রহন করে। সে সাধ্য আমাদের দেশে খুব কম লোকেরই আছে। কাজেই শাক-পাতা, নুন-মরিচ, আলু, শুটকি, গুঁড়ামাছ ও পানি ছাড়া আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকের ভাতের সাথে আর তেমন কিছু জোটে না। আমি নিজে গাঁয়ের চাষীদের শুধু নুন-মরিচ দিয়ে পান্তা বা পানিভাত এবং শীতকালে কড়কড়া বা বাসিভাত শুকনা মরিচ ও শুটকি মাছ পোড়া দিয়ে খেতে দেখেছি। তাই গড়পড়তা অন্য দেশের তুলনায় এ দেশের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশিই।

কিন্তু তাই বলে কত বেশি? দ্বিগুণ নিশ্চয়ই নয়। এটা একেবারেই ভুয়া তথ্য। ভাত প্রধান খাদ্য মূলতঃ এশীয় দেশগুলোতে। ফাও, ইরি, রাইসপিডিয়ার তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের লোক গড়ে বছরে মাথাপিছু ভাত খায় ১৭০ কেজি চালের। তাতে রোজ একজন ৪ থেকে সাড়ে চারশ' গ্রাম ভাত খায়। শহরের লোকের তুলনায় গ্রামের লোক এবং ধনীর চেয়ে গরীবের ভাত খাবার পরিমাণ একটু বেশি। বার্মা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের লোকের ভাত খাবার পরিমাণ আমাদের কাছাকাছি। তারাও গড়ে তিন থেকে চারশ' গ্রাম চালের ভাত খায় রোজ।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার জেরে অবরুদ্ধ রাখা শিক্ষকদের মুক্তি মিললো

এক সময় ওসব দেশের লোকেরা আমাদের চেয়ে বেশি ভাত খেতো। এখন ক্রমে কমে আসছ। ভাতের সাথে অন্যান্য বিকল্প খাদ্য গ্রহনের সুযোগ তাদের বাড়ছে বলে ভাত খাবার পরিমাণ কমছে। আমাদের দেশে  অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের দাম কমুক, সহজলভ্য হোক - কাউকে বলতে হবে না। ফতোয়া, উপদেশ, প্রেসক্রিপশন, পরামর্শ, খোঁটা, ভাষণ, শাহী ফরমান কোনো কিছুর প্রয়োজন হবেনা। এমনিতেই লোকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেবে নিজে থেকেই।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

গোয়েবলস আজকে বেঁচে থাকলে লজ্জা পেত

আমি সম্প্রতি আমার পারিবারিক একজন শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকা এবং ব্রিটেন মিলে প্রায় ৫ সপ্তাহ থেকে দেশে ফিরেছি। এই সময় আমি কতগুলো জিনিস বিদেশে থাকার সময় লক্ষ্য করেছি। সেই বিষয়গুলি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ করে সৈয়দ বোরহান কবীর অনেক লেখা লিখেছেন। কিন্তু আমি নিজে আমার নিজস্ব অনুভূতিতে প্রথম আমি আমেরিকার কথায় আসি, যদি আমেরিকায় না যেতাম তাহলে অতটা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম না। সবাই জানে, বিশেষ করে যারা বাংলা ইনসাইডারের নিয়মিত পাঠক তারা ভালোভাবেই জানেন যে, আমেরিকাতে, কানাডাতে এবং ইউরোপে -এই তিনটি জায়গায়ই এবং ইউকেতে লন্ডনে বসে তারা এখন সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঠিক বললেও এটা ভাসা ভাসা বলা হয়। আসলে তাদের টার্গেট হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। যার জন্য আজকে গোয়েবলসীয় যদি আজকে হিটলারের সেই মন্ত্রী বেঁচে থাকতো আজকে সে লজ্জা পেত। কেননা তার গোয়েবলসীয় সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে এমনভাবে প্রচার করত যে লোকে ওই মিথ্যাটাকে বিশ্বাস করত। কিন্তু এরা সোজাসুজি মিথ্যাটাকেই খুব সুন্দরভাবে পরিবেশনা করে এবং ক্রমাগতভাবে জনগণকে বারবার জানাচ্ছে। যাদেরকে দিয়েই করানো হচ্ছে, এদের দেখলাম যে কাজের দিক থেকে মোটামুটি ভালো ভাবে। কেননা তাদের যে টিম, তারা ভালো একটা টিম করে নিয়েছে এবং এই টিমে যারা স্ক্রিপ্ট লিখে দেওয়া, এরা যাতে ঠিকমত টাকাপয়সা পায় সেটার ব্যবস্থা করা এবং তারা ঠিকমতো পরিবেশন করলো কিনা।

প্রত্যেকটা জিনিস বোঝা যায় যে এটা একটা নির্দিষ্ট ছক এঁকে করা হচ্ছে, একটা রোডম্যাপ একে করা হচ্ছে এবং এই রোডম্যাপের টার্গেট জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং টার্গেট হচ্ছে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত। তাদের এই কাজটি তারা তাদের দৃষ্টি থেকে আমি দেখলাম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করছে। আর আমাদের অনেকেই আমেরিকায় আছে। আর তাদের দুর্দিনের সময় নেত্রীর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্যে অনেক অবদান আছে এবং এটা ঠিক। এরমধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকেও এরা ভালো অবস্থানে আছে। অনেকে এসে যে বাংলাদেশে পাওয়ার প্লান্ট এনেছে আমি সেগুলার উদাহরণ আনতে চাই না। কারণ এমনিতেও তাদের অনেক টাকা। কিন্তু দুঃখজনক হলো যেভাবে নেত্রীকে আক্রমণ করা হচ্ছে, আমাদের এত লোক থাকা সত্ত্বেও তারা বড় বড় কথা বলে কিন্তু আমেরিকাতে সেইভাবে একটা অর্গানাইজড ওয়েতে এর উত্তর দেয়ার জন্য সামান্য কোন প্রচেষ্টা আমার চোখে পড়েনি। বুঝতে হবে যে, যারা বিদেশে থাকে যতই আমরা বলিনা কেন এরা মিথ্যা হলেও তাদের কিছু কিছু লোক এই মিথ্যাকে কিন্তু বিশ্বাস করে। তাদের সংখ্যা হয়তো বেশি না, কিন্তু এই তাদের মিথ্যাকে যে বিশ্বাস করে তাদের আত্মীয়-স্বজন ঢাকা, বাংলাদেশে আছে। তারা বাংলাদেশেও আসে। সুতরাং কিছু লোক হলেও তারা কিন্তু আস্তে আস্তে অন্তত এটাকে প্রচারের ফলে একটা কনফিউশনে পড়ে যায়। অথচ এজন্য আমরা একটা ছক এঁকে এবং কিছু লোককে ভালো করে দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজনে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে সবাই মিলে এটাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওইখান থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, নাহলে আমাদের এমনিতেই আমি নিজেই বিশ্বাস করি যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেল অত্যন্ত দুর্বল। এখানে মন্ত্রী হলেও প্রচারের ব্যাপারে আমাদের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ যথেষ্ট সক্রিয় এবং তার সাথে আরও কয়েকজন আছেন। তাছাড়া মোটামুটি অনেকেই রাজনীতি বেশ ভালো বুঝেন, অনেকের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত ভালো। অথচ তারা সেইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তিপূর্ণভাবে দিয়ে কোন বক্তব্য দেন না, এমনকি যারা মন্ত্রী বা দলের লোক যেরকম বাহাউদ্দিন নাছিম, নানক এরা অন্তত বাংলা ইনসাইডারে মাঝে মাঝে লেখে। এই যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সব যায়গায় মন্ত্রী এবং দলের যারা তাদের তো ভালো লিখতে পারে। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে অনেক লোককে আওয়ামী লীগে নেত্রী স্থান দিয়েছেন এবং আমি বিশ্বাস করি যে উনি দিয়েছেন যে তারা লেখাপড়া জানা এবং এরা আওয়ামী লীগের দুর্দিনেও অবদান রাখবে। কিন্তু এই সময় যারা আমাদের কমিউনিস্ট ভাইরা আওয়ামী লীগে এসে এখনো কমিউনিস্টের গন্ধ হয়তো শরীর থেকে সরাতে পারেননি তাদের আমি সেরকম কোন কাজকর্ম অন্তত আমার কোন চোখে পড়ছে না। যারা এরকম আর্টিকেল লেখতো তাদের ভাবখানা এই যে নেত্রীর যেন একাই দায়িত্ব, তিনিই সবকিছু করবেন। তিনি দায়িত্ব এবং সবকিছু করতেছেন কিন্তু তাকে তো সাহায্য করার জন্যে আমাদের সকলের সামান্য সামান্য হলেও অবদান রাখা প্রয়োজন। সেটা রাখা হচ্ছে না।

সুতরাং আমি প্রথম যেটা আমেরিকার ব্যাপারে বললাম এটা ব্রিটেনের ব্যাপারে, কানাডার ব্যাপারে, সবজায়গার ব্যাপারেই সত্য যে আজকাল আরেকটা কথা এর সাথে বলে ফেলি যে সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুব পাওয়ারফুল। এই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যেই আওয়ামী লীগের আলাদা একটা সেল করা দরকার। এসব সেল লোককে জানিয়ে বিভিন্ন প্রকাশ করে কমিটি করে দরকার নাই। নেত্রী নিজেই কাউকে দায়িত্ব দিবেন। সেই যারা যারা এসব ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং পারবে তাদের মোটামুটি ফুল টাইম দায়িত্ব হবে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার উপর লক্ষ রাখা। আরেকটি গ্রুপ থাকতে হবে যারা পত্রিকার উপরে। এখানে কিন্তু শুধু লক্ষ রাখলে হবে না। সাথে সাথে তার উত্তরটাও দিতে হবে। যেমন- টকশো হাজার বলি না কেন যতই বলিনা, টকশোতে বড় বড় কথা চলবেই। ইলেকশন পর্যন্ত  চলবে, পরেও চলবে। এর উত্তর হচ্ছে আমাদেরও কিছু লোক সেখানে গিয়ে যেমন অনেকে অংশগ্রহণ করে তারা বেশ ভালো বলে। আমাদের আওয়ামী লীগের যারা যারাই টকশোতে গিয়ে অংশগ্রহণ করে আমি প্রায় সবারটাই শুনি এবং আমি মনে করি তাদের ক্ষমতার মধ্যে যথেষ্ট অবদান রাখে এতে কোন সন্দেহ নাই। এখন অনেক মিডিয়াকে আমি দেখেছি যে, টেলিভিশন মিডিয়ার কথায় আসি। নেত্রী নিজের হাতে যাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন তারা আলোচনায় এমনসব ব্যক্তিদের আনেন তারা কিছু থাকবেন নিরপেক্ষভাবে যারা সুশীল সমাজ হয়ে যান, আর কিছু কায়দা করে নেত্রীর বিরুদ্ধে বলেন। এখানে যে একটা আমাদের লোকজন যারা এটা ভালো করে বলতে পারবে এবং আছে তাদেরকে কিন্তু তারা অনেক মিডিয়াতে ডাকেন না। তারা নতুন নতুন বিজ্ঞ সমাজ গড়ে তুলছেন। যেমন- প্রথম আলো এদেশে সবাইকে বিজ্ঞ বানিয়েছেন, তারাই সুশীল সমাজ হয়েছে, ঠিক একই পন্থা কিছু কিছু মিডিয়া গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আবার নতুন টেলিভিশন চ্যানেলও অনুমতি পাচ্ছে। সত্যিকারে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি খুব সাধারণ মানুষ, আমি বুঝিনা, আমার বুদ্ধিতে কুলায় না যে এসব এভাবে কেন হচ্ছে। এত বড় দল, এত বিজ্ঞ লোক অথচ একটি কাজ রোডম্যাপ অনুযায়ী কেন হবে না। না হওয়ার তো কোন কারণ নেই।

আরও পড়ুন:

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য

আগামী মাসেই ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে আসছেন ট্রাম্প

পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে গদা নিয়ে যায় ইকবাল

মানবদেহে প্রতিস্থাপিত হল শূকরের কিডনী


আর আমি যদি আমেরিকায় গিয়ে না দেখতাম এবং সাধারণ মুদি দোকান আলাপ করেছি। যদিও আমেরিকাতে আমাদের চেয়ে অবস্থা খারাপ তবুও সেখানে তারা মাস্কও কেউ পরে না, না পরেই ঘুরে বেড়ায়। যদিও আমি যে কয়দিন ছিলাম, যে কাজে গিয়েছিলাম মাস্ক পরে সে কাজে যেতে হয়েছে। সব যায়গায় আলাপ করে দেখেছি যে সাধারণ লোকজনের ভিতরে কিছু কিন্তু ইনফ্লুয়েন্স হচ্ছে। এটা যদি অস্বীকার করেন আমার মনে হয় তিনি জিনিসটাকে গভীরভাবে দেখতেছে না। সুতরাং এই যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং এর সাথে ইউটিউব সব মিলিয়ে তারা যে একটা সাইবার যুদ্ধ আমদের বিরুদ্ধে শুরু করেছে এর বিরুদ্ধে আমদের অবিলম্বে আমাদের যারা এই জিনিসটা ভালো করে বুঝেন এবং করতে পারেন তাদেরকে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সকলে শুধুমাত্র নেত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সবাই তো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষমতা আছে। অনেকগুলো বাঁশের কঞ্চি যদি একসাথে বাঁধা যায় তাহলে একটা বাঁশের চেয়ে সেটি শক্তিশালী হয়। তো সেই শক্তি আমাদের আছে। আমি নাম বললে দুঃখ পাবেন কারণ, তারা আমার কাছে যথেষ্ট বিজ্ঞ, এখন মন্ত্রণালয় চালান, যারা অনেকদিনের মন্ত্রী। প্রত্যেক পত্রিকা খুললেই পাবেন ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগ বা নেত্রীর পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সরাসরি বলতে শুনিনি। এটা আমি প্রমাণ দিয়ে বলতে পারবো। প্রমাণ দেয়া লাগবে না, কারণ আপনারা সকলে বিজ্ঞরা, এটা সকলেই জানেন, এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। সুতরাং আমার মনে হয় যে আমাদের এই জিনিসটির প্রতি খুব লক্ষ দেওয়া প্রয়োজন। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি

এ সময় এসে নারীরা নিজের আত্মবিশ্বাস, যোগ্যতা আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘর সামলে তাই বাইরে বেরোতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় আর এখন নতুন যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই যেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।

যেমন নারীর একা চলাচলে নিরাপত্তার অভাব। আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নারীরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও চাকুরীক্ষেত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার আগেই এখনো গুটিয়ে যায় অনেকেই শুধুমাত্র নিরাপত্তার কথা ভেবে। অনিরাপদ বলতে শুধুমাত্র যৌন হয়রানিকেই আমরা অভিহিত করতে পারি না, বরং যৌন হয়রানি মূলক ইঙ্গিত, ইভটিজিং, অশালীন মন্তব্য, তার উন্নতি নিয়ে কটুবাক্য এসব কিছুই নারীর জন্য অনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

এরকম নানা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজেকে কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকেন আর কেউ কেউ এসবের শিকার হয়েও চক্ষুলজ্জা, সমাজের অপ্রত্যাশিত দৃষ্টিভঙ্গি অথবা আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় চুপ করে যায়।

আর নতুন মাত্রা নিয়ে যোগ হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো নারীর পোস্ট কারও মতের সাথে ভিন্ন হলেই আপনারা নেতিবাচক এবং আপত্তিজনক কমেন্টের বন্যা বইয়ে দেন। হ্যাঁ, এটা পুরুষদেরই বলছি। এবং তাদেরকেই যারা এগুলোর সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত।

কারণ একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগ করা হয়, কোনো নারী কি যেকোনো পুরুষের পোস্টে গালি বা অসম্মানজনক কোনো কথা বলে? সেটা যতই মতের অমিল হোক না কেন। বড়জোড় একটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলে অথবা এড়িয়ে যায়। ব্যতিক্রম থাকলে সেটা খুবই সামান্য।

অনেকে আবার ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে শুধুমাত্র এসব বলার জন্য বা লেখার জন্যই! এসব করার আগে নিজেদের সাধুবাদ নিয়ে প্রশ্ন জাগে না মনে? নিজে সাধু না হলে অন্যকে অসাধু বলা তো দূর, বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে? কিন্তু এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তো নিত্য ঘটনা হতে পারে না। নারীর নিরাপত্তায় কঠোর আইন রয়েছে।

সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদে আছে, "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা থাকবে।"

সংবিধানের ২৯ (৩) অনুচ্ছেদে আছে, "কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারীপুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মের নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।"

আরও পড়ুন


লক্ষ্মীপুরে খোঁজ মিলছে না দুই কিশোরীর

আশুগঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় দুই চালকল শ্রমিক নিহত

তিস্তার সব গেট খুলে দেওয়ায় বড় বন্যার আশঙ্কা

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা


১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন পাস করা হয়। এ আইন পাসের পর নারী নির্যাতন কিছুটা বন্ধ হয়। পরে আইনটি বাতিলক্রমে ২০০০ সালে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন প্রণয়ন করা হয়।

অর্থাৎ সংবিধানের ও আইনের প্রতি সম্পুর্ণ বিশ্বস্ত থাকলে কোনও ক্ষেত্রে নারীর প্রতি কোনও রকম অবমাননাকর আচরণ, বৈষম্য বা বৈষম্যমূলক কোনও আচরণ করার সুযোগ নেই। এমনকি, নারী উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় কোনও উদ্যোগ নিলেও তা সংবিধান সমর্থন করে, কিন্তু এসব আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক নারী বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। 

নারী অধিকার মানবাধিকার থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়। মানবাধিকারের প্রতিটি বিষয়েই নারী অধিকার ও নিরাপত্তাকে জোর দেওয়া হয়। সেই সাথে নারীদের জন্য আছে রয়েছে কিছু অধিকার যা একান্তভাবে নারীকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শেখায়। নারী অধিকার এমন একটি বিষয় যা সব বয়সের নারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

কিছু বিশেষায়িত অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাতে। বিশেষায়িত অধিকারগুলো আইন, কিছু আঞ্চলিক সংস্কৃতি, শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জাতি, বর্ণ ও রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এ অধিকারগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ ও রীতি দ্বারা সিদ্ধ হতে পারে।

তবে, যেভাবেই আমরা দেখে থাকি না কেন, নারীর এই অধিকারগুলো তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রস্ফুটিত করে তোলে, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আর নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে নয়। যতবার রুখবেন তার চেয়ে কয়েকগুণ অদম্য হয়ে সামনে দাঁড়াবে। তাই সময় থাকতে চেপে যাওয়া বোধহয় ভালো। নিজে শোধরান, পারলে অন্যকেও শোধরানোর সুযোগ এবং সুপরামর্শ দিন।

এমি জান্নাত (সাংবাদিক)

লেখাটি ফেসবুক থেকে নেওয়া (মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর