সূরা বাকারা: আয়াত ৮০-৮৪, ইহুদীদের ধারণাকে আল্লাহর মিথ্যা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৮০-৮৪, ইহুদীদের ধারণাকে আল্লাহর মিথ্যা ঘোষণা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৮০ থেকে ৮৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারা’র ৮০ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (80)

‘‘বনী ইসরাইল বলল : দোজখের আগুন আমাদেরকে অল্প কয়েক দিন ছাড়া কখনো স্পর্শ করবে না। হে নবী! আপনি তাদের বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না। কিংবা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছো যা তোমরা জানো না।’’ (২:৮০)

গত পর্বে বলা হয়েছে, সাধারণ ইহুদীদের অনেকেরই ঐশী কিতাব সম্পর্কে কোন জ্ঞান ছিল না, অথচ তারা অযথাই ভাবতো যে, ইহুদী জাতি বুঝি শ্রেষ্ঠ জাতি এবং আল্লাহর প্রিয়। তারা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বলতো, 'ইহুদীরা কোন গুনাহ করলেও আল্লাহ অন্যদের চেয়ে তাদেরকে কম শাস্তি দেবেন এবং শুধু অল্প কয়েক দিনের জন্যে তারা শাস্তি ভোগ করবে।' এ আয়াত ইহুদীদের ওই অলীক ধারণাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, এটা আল্লাহর প্রতি তোমাদের মিথ্যা অপবাদ। কারণ তিনি শাস্তি বা পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাদের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করেন না। প্রকৃতপক্ষে বংশ ও গোত্রের ভিত্তিতে কোন রকম মর্যাদার দাবি করা কোন যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু মাত্র তাকওয়া ও সৎকাজ মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি। পরকালেও আল্লাহ মানুষকে পুরস্কৃত বা সাজা দেবেন খোদাভীরুতা ও সৎ কাজের ভিত্তিতে।

এরপরের দুই আয়াত অর্থাৎ ৮১ ও ৮২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (81) وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (82

‘‘যে পাপ কাজ করে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী, আর সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’’ (২:৮১) 

‘‘আর যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারা বেহেশতবাসী এবং সেখানেই তারা চিরদিন থাকবে।’’ (২:৮২)

ইহুদীরা দোজখে যাবে না বলে যে ধারণা করত, এর আগের আয়াতে তা উল্লেখ করে বিষয়টিকে আল্লাহর প্রতি ইহুদীদের অপবাদ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই দুই আয়াতে পরকালে আল্লাহর সাজা ও পুরস্কারের মাপকাঠির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ পাপ করলে এবং পাপের মধ্যে নিমজ্জিত হলে, তার অবস্থান যেন আগুনের মধ্যে, ফলে ওই আগুন থেকে পালানোর কোন উপায় তার নেই। আর এই শাস্তির ক্ষেত্রে ইহুদী জাতির সাথে অন্যান্য জাতির কোন পার্থক্য নেই। আর চিরস্থায়ী বেহেশতে প্রবেশের জন্য শর্ত হলো ঈমান ও সৎকাজ। শুধু ঈমান কিংবা শুধু সৎকাজের মাধ্যমে বেহেশতে যাওয়া সম্ভব নয়,বরং দু'টিই থাকতে হবে।

এবারে সূরা বাকারা’র ৮৩ নম্বর আয়াতের দিকে যাচ্ছি। এ আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآَتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ (83

‘‘স্মরণ কর যখন বনী ইসরাইলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো এবাদত করবে না। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও দরিদ্রদের প্রতি সদাচরণ করবে,মানুষের সঙ্গে সদালাপ করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। কিন্তু অল্প কিছু লোক ছাড়া তোমরা সবাই বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।’’ (২:৮৩)

এর আগে কয়েকটি আয়াতে বনী ইসরাইল আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলো, শুধু সে কথাই বলা হয়েছিল। কিন্তু অঙ্গীকারের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দেয়া হয়নি। তবে এ আয়াতে এবং এর পরের আয়াতগুলোয় বনী ইসরাইলীদের অঙ্গীকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। ইহুদীরা তাদের ওয়াদা লঙ্ঘন করায় এসব আয়াতে আল্লাহপাক তাদেরকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেন। নবীদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রেরিত নির্দেশ, মানুষের বিবেক ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের প্রকৃতির মধ্যেই সঁপে দিয়েছিলেন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও প্রবণতা। সব নবীর মূল কথা তৌহিদ ও এক আল্লাহর উপাসনা করা। অর্থাৎ মানুষের কাজ যদি আল্লাহকেন্দ্রীক হয় তবেই তা কল্যাণ বয়ে আনবে। আল্লাহর এবাদতের পর তার দ্বিতীয় নির্দেশ হলো পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করা। কারণ তাদের মাধ্যমেই আমরা জন্মলাভ করি এবং আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ আসে তাদের মাধ্যমে। বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের পাশাপাশি সমাজের দুঃস্থ বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনদেরকে সাহায্যের কথাও বলা হয়েছে। যাতে মানুষ শুধু নিজের কথা এবং পরিবারের কথাই না ভাবে এবং সমাজের প্রতিও লক্ষ্য রাখে। মানব সেবার পাশাপাশি বিশেষ উপায়ে আল্লাহর উপাসনা অর্থাৎ নামাজের কথা বলা হয়েছে। কারণ স্রষ্টার সাথে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্কের প্রয়োজন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। শুধু আচার-আচরণেই নয়,একজন খোদাভীরুকে কথা বার্তায়ও হতে হবে সুন্দর। শুধু নিজ ধর্মের ও গোত্রের লোকদের সাথেই নয় বরং মুমিন, কাফের নির্বিশেষে সবার সাথে তাকে সদালাপী হতে হবে।

আরও পড়ুন


বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেগা হাব হচ্ছে মহেশখালীর মাতারবাড়ী

ইভ্যালীর এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর

রূপগঞ্জে ৬ হাজার পরিবার পেল বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা


এরপর ৮৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন -

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ (84

‘‘সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,তোমরা কেউ কারো রক্তপাত করবে না এবং পরস্পরকে নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করবে না। এরপর তোমরা ত্রুটি স্বীকার করেছিলে এবং এ ব্যাপারে তোমরাই তার সাক্ষী।’’ (২:৮৪)

এর আগের আয়াতে আল্লাহর ৬টি নির্দেশ বর্ণনার পর এ আয়াতে আরো দু'টি নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। একটি মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং অন্যটি হলো মাতৃভূমি ও ঘর-বাড়ির ওপর মানুষের অধিকার সংক্রান্ত। একটা সমাজের ন্যূনতম প্রাথমিক চাহিদাগুলোর একটি হলো জনগণের প্রাণের নিরাপত্তা। সকল ঐশী ধর্মে প্রাণের নিরাপত্তা ও মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যেক মানুষের। সে যে জাতি, ধর্ম বা গোত্রেরই হোক না কেন কেউ মানুষের এ অধিকার হরণ করতে পারে না। তাই হত্যা করা কবিরা গুনাহ এবং দুনিয়াতে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আর পরকালের শাস্তি হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত ও প্রবৃত্তিগত ব্যাপার। তাই ধর্মও এ অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে থাকে। এজন্য মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না।

৮০ থেকে ৮৪ নম্বর আয়াতের প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হল -

১. ধর্মের দৃষ্টিতে বর্ণবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং পৃথিবীর সব মানুষ আল্লাহর কাছে সমান।

২. আল্লাহর দেয়া পুরস্কার ও শাস্তির মাপকাঠি হলো মানুষের ঈমান ও কাজ। সৎকাজ ছাড়া কেউ যদি নিছক আশা করে তাতে কোন লাভ হবে না।

৩. অনেক সময় পাপ মানুষের অস্তিত্বে এমনভাবে প্রবেশ করে যে, তার হৃদয় ও আত্মাকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে এবং তার কথা-বার্তা ও কাজ-কর্মে মন্দ ছাড়া কিছু থাকে না।

৪. মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহপাক মানুষের কাছ থেকে যেসব অঙ্গীকার নিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তওহীদ ও এক আল্লাহর উপাসনা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, দুঃস্থ লোকজন, আত্মীয়-স্বজন ও এতিমদের সাহায্য, মানুষের সাথে সদালাপ, নামাজ কায়েম, যাকাত দান, হত্যা ও রক্তপাত পরিহার এবং অন্যের ঘর-বাড়ি ও মাতৃভূমির ওপর আগ্রাসন চালানো থেকে বিরত থাকা।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

সুরা লাহাবের অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা লাহাবের অর্থ ও উচ্চারণ

সুরা লাহাব পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ এবং সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওয্‌যা। সে ছিল আবদুল মোত্তালিবের অন্যতম সন্তান। 

গৌরবর্ণের কারণে তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। কোরআন পাক তার আসল নাম বর্জন করেছে। কারণ সেটা মুশরিকসুলভ। এছাড়া ‘আবু লাহাব’ ডাক নামের মধ্যে জাহান্নামের সাথে বেশ মিলও রয়েছে। 

সে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) - এর কট্টর শত্রু ও ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিল এবং রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে কষ্ট দেয়ার প্রয়াস পেত। তিনি যখন মানুষকে ঈমানের দাওয়াত দিতেন, তখন সে সাথে সাথে যেয়ে তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করত।

আরবি:

 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
١  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
٢ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
٣ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
٤ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
٥ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ 

উচ্চারণ:

‘বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রাহীম’

ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিউ ওয়া তাব্বা. মা আগনা- 'আনহু মা-লুহু ওয়ামা- কাসাব. ছাইয়াছলা-না-রানযা-তা লাহাবিউ ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা- লাতাল হাত্বোয়াব. ফীজী দিহা- হাবলুম মিম মাসাদ।

বাংলায় অনুবাদ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
২. কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪. এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করে,
৫. তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

কাসেম শরীফ

নবীর ভবিষ্যদ্বাণী, বৃষ্টির মতো বিপদ নেমে আসবে

উসামা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সা.) মদিনার সুউচ্চ এক অট্টালিকার ওপর আরোহণ করে বলেন, ‘আমি যা কিছু দেখি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের ঘরের ভেতরে বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগ নিপতিত হওয়ার স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭১৩৭)

ব্যাখ্যা : এটা নবী করিম (সা.)-এর বিশেষ মুজিজা। তিনি অদূর ভবিষ্যতে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে এ পৃথিবীতে কী ধরনের, কত ধরনের ফিতনা আসবে তা প্রত্যক্ষ করে ওই কথা বলেছেন।

হাদিসের মূল কথা হলো, কিয়ামতের আগে বৃষ্টির মতো বিস্তৃত পরিসরে ফিতনা ও বিপদাপদ মুসলমানদের গ্রাস করবে, যার লক্ষণ ইতিমধ্যে পৃথিবীতে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশে দেশে কারণে-অকারণে মুসলমানরা নির্যাতিত, নিপতিত হচ্ছে। এবং বহু মুসলিম একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঘোরাফেরা করছে। এ ধরনের ইঙ্গিতও রাসুল (সা.) দিয়ে গেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অচিরেই এমন ফিতনার আত্মপ্রকাশ ঘটবে, যার ফলে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি থেকে উত্তম থাকবে। আর দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি থেকে উত্তম থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি থেকে ভালো থাকবে। যে ব্যক্তি ওই ফিতনায় জড়িয়ে পড়বে তাকে সে ফিতনা ধ্বংস করে দেবে। আর যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল পাবে, সেটা দিয়ে তার আশ্রয় নেওয়া উচিত।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭১৩৯)

আরও পড়ুন


ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)


মূলত এই দুই হাদিসে আত্ম-কলহের দিকেও ইঙ্গিত আছে। রাসুল (সা.) বলে গেছেন, মুসলমানরা পার্থিব ও অপার্থিব বহু বিপদে পতিত হবে। তবে প্রথম হাদিসে মদিনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, মদিনায় উসমান (রা.)-কে হত্যা করা হয়। এবং এর পর থেকে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

ক্ষমা ও রহমতের জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবেন... 

উচ্চারণ:  রাব্বিগ ফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করে দাও, আর আমার প্রতি রহম কর, তুমিই তো উত্তম দয়ালু। 

মহান আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুমিনকে ক্ষমা ও রহমত দান করুন। আমিন। 

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

ওজুর মাকরূহ ও ভঙ্গের কারণ

অনলাইন ডেস্ক

ওজুর মাকরূহ ও ভঙ্গের কারণ

ওজু মানে হলো- পবিত্রতা অর্জন। নামাজ পড়ার জন্য ওজু আবশ্যক। ওজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআন স্পর্শ করার জন্য ওজু শর্ত। ওজুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন।

ওজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।

ইতোপূর্বে ওজুর ফরজ, সুন্নাত, আহকাম ও তারতিব তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ওজু মাকরূহ হয় এবং ভঙ্গ হয়ে যায়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। যা জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-

ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ:

যে সব কারণে ওজু ভঙ্গ হয় বা নষ্ট হয় তা হলো-

ক. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

খ. দেহের কোনো অংশ থেকে রক্ত, পুঁজ বের হয়ে যদি পবিত্র হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ গড়িয়ে পড়ে।

গ. মুখ ভর্তি বমি অর্থাৎ বেশি পরিমাণে বমি হলে।

ঘ. নাক দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে।

ঙ. ঘুমানো- চিৎ হয়ে; কাত হয়ে; হেলান দিয়ে কিংবা কোনো কিছুর সঙ্গে ঠেস দিয়ে ঘুমালে যা সরিয়ে ফেললে ঘুমন্ত ব্যক্তি পড়ে যাবে।

চ. অজ্ঞান হওয়ার পর; এমন অজ্ঞান যাতে বোধ শক্তি লোপ পায়।

ছ. অপ্রকৃতিস্থতা। যা ঘুম বা নিদ্রার চেয়েও প্রবল।

জ. রুকু-সাজদা বিশিষ্ট নামাজে অট্ট হাসি; তবে জানাজা নামাজে, তিলাওয়াতে সিজদায় এবং নামাজের বাইরে হাসলে অযু নষ্ট হবে না।

ঝ. পিছনের রাস্তা দিয়ে অর্থাৎ পায়খানার রাস্তা দিয়ে কীট বের হলে পবিত্রতা অর্জন তথা অযু করতে হবে।

ঞ. ফোঁড়া বা ফোস্কার চামড়া তুলে ফেলার কারণে যদি পানি বা পুঁজ বের হয়ে  ফোঁড়া বা ফোস্কার মুখ অতিক্রম করে তাহলে পবিত্র নষ্ট হবে।

ট. পুরুষ ও মহিলার গুপ্তাঙ্গ কোনো অন্তরায় ব্যতিত একত্রিত হলে; বীর্যপাত হোক আর না হোক ওজু নষ্ট হবে।

আরও পড়ুন:


‘পবিত্র কোরআন অবমাননার’ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার পিছনে কোন রাজনৈতিক বংশের জোর ছিল না: মোদি

ক্যামেরার সামনেই বিরাট-আনুশকার কথা কাটাকাটি!

সরকারের মদদেই পূজা মণ্ডপে কোরআন অবমাননা: ফখরুল


ওজুর মাকরূহসমূহ:

ক. প্রয়োজনের বেশি পানি ব্যয় করা।

খ. প্রয়োজনের চেয়ে কম পানি ব্যয় করা।

গ. মুখমণ্ডলে এমনভাবে পানি নিক্ষেপ করা যে, পানির ছিঁটা অন্যত্র পড়ে।

ঘ. ওজুর সময় অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা বলা।

ঙ. ওজুর সময় বিনা ওজরে অন্যের সাহায্য নেয়া।

চ. নতুন পানি নিয়ে তিনবার মোথা মাসেহ করা।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ। তার নির্দেশনায় কেউ কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তার দেখানো পথেই লুকায়িত কল্যাণ ও মুক্তি। সবার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যবহার ছিল মানবিক। হাদিসে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

মানুষের জীবন পরিচালনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর কথা-বার্তা ধরনেও রয়েছে শিক্ষা। তিনি কি ভাবে, কোন ভঙ্গিতে কথা বলতেন! তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কেরামে বর্ণনা থেকে যা পাওয়া যায়। তাহলো-

১. স্পষ্ট ও ধীর স্থির কথা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে কথা বলতেন, যা শুনে সবাই তার কথাগুলো আত্মস্থ করতে পারতেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের মতো এমন তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না; এক নাগাড়ে কথা বলে যেতেন না। বরং তিনি স্পষ্ট ও ধীর-স্থিরভাবে কথা বলতেন। তার বৈঠকে যারা উপস্থিত থাকতো; সবাই তার কথাগুলো মুখস্থ করে ফেলতো।’ (তিরমিজি)

২. সহজ ও নরম

বিশ্বনবীর কথাগুলো ছিল এত সহজ ও নরম যে, সবার কাছে তার কথাগুলো বোধগম্য ছিল এবং সহজেই শ্রোতারা তা বুঝতে পারতেন। কথা বলার সময় উম্মতের প্রতি এতো খেয়াল রাখতেন যে, কে কতটুকু কথা বুঝতে সক্ষম; সে অনুসারেই তিনি কথা বলতেন। তার কথা বলার ধরন কখনও শ্রোতাদের বুঝ শক্তির সীমা অতিক্রম করেনি। সহজ ও নরম কথা বলার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল ছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার পদ্ধতি ছিল ধীর-স্থির; যারাই তার কথা শুনতো সবাই তা বুঝতে পারতো।’ (আবু দাউদ)

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে ভয়ে ভয়ে কথা বলতে লাগলো; এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ভয় করো না; কেননা আমি কোনো রাজা-বাদশাহ নই। আমি তো এক নারীর সন্তান; যিনি শুকনো মাংস খেয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ)

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’

সাইবার আগ্রাসন থামছেই না

সুতার বাড়তি দামে বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা


৩. বার বার কথা বলা

কথা বলায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন বিনয়ী, উদার ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। তার কথা বুঝার সুবিধার্থ তিনি একটি কথা তিনি বার বলতেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (কোনো) কথাকে ভালভাবে বুঝার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথাকে তিন বার করে পুনরাবৃত্তি করতেন।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলার ধরনও মুমিন মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মানুষের সঙ্গে নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলতেন। ব্যবহারেও তিনি কোমল ছিলেন। তাই কোনো মুসলিমের কথা বলার ধরন যেন এমন না হয় যে, কথা শুনেই যেন কারো মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয়। কথা যেন এত কঠিন না হয় যে, বুঝতে কষ্ট হয়। কথা যেন এমন না হয় যে, তাতে অস্পষ্ট ও অভদ্রতা প্রকাশ পায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবীর কথা বলার ধরন অনুযায়ী কথা-বার্তা বিনিময় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর