হুলহুলিয়া: ২০০ বছরেও যে গ্রামে ঢোকেনি পুলিশ

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

হুলহুলিয়া: ২০০ বছরেও যে গ্রামে ঢোকেনি পুলিশ

নাটোরের সিংড়া উপজেলা চৌগাছা ইউনিয়নের একটি ছোট গ্রাম 'হুলহুলিয়া'। দেশের মোট ৬৮ হাজার গ্রামের মতোই একটি সাধারণ গ্রাম এটি। তবে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রামটিকে করে তুলেছে অনন্য সাধারণ। দেশের মানুষের কাছে হুলহুলিয়া এখন পরিচিত আদর্শ গ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

নাটোরের হুলহলিয়া এমন একটি গ্রাম যেখানে নেই কোন হানাহানি, কোন অনাচার। গত দুইশ' বছরে অপরাধজনিত কারণে এ গ্রামে যায়নি পুলিশ। গ্রামের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত।সাড়ে তিন হাজার মানুষের এই গ্রামে হাজারো গল্প থাকলেও সেই গল্পে নেই কোনো সংঘাত, নেই ধর্ষণ খুন কিংবা রাহাজানির মতো অনাচার। আর তাইতো নাটোরের সিংড়া উপজেলার এই গ্রামটি সারা দেশের কাছেই এখন আদর্শ।

গ্রামটি বাল্যবিবাহ, মাদক ও যৌতুকমুক্ত। 'হুলহুলিয়া' গ্রামটি নাটোর জেলা সদর থেকে ৩৮ কিলোমিটার এবং সিংড়া থানা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে চলনবিলের মাঝে অবস্থিত। ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছে ঘেরা এ গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় তিন হাজার। মোট ১১টি পাড়া নিয়ে গঠিত গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে 'নিয়ামত খাল' নামের একটি ছোট নদী, যা এ গ্রামের সৌন্দর্যকে অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। শীতে এ গ্রামে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি। কিন্তু পাখি মারার প্রবণতা নেই গ্রামবাসীর তাছাড়া গ্রামটিতে আরো রয়েছে ছোট-বড় অনেকগুলো পুকুর।

গ্রামবাসী মনে করেন, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও শতভাগ শিক্ষিত হওয়ার কারণে মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও মননে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। একারণে গ্রামের মানুষজন কলহ ও সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া গ্রামটি পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব সংবিধান রয়েছে। যা সবাই মেনে চলেন। গ্রামে কোনো সমস্যা-সংকট দেখা দিলে গ্রামবাসী মিলে সংবিধানের আলোকে তা সমাধান করেন। 

এজন্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত তাদের একটি কমিটিও রয়েছে। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, মসজিদ ও গোরস্থানভিত্তিক তাদের আলাদা আলাদা পরিচালনা কমিটিও রয়েছে। এ কমিটিও ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

গ্রামবাসী গ্রামের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি করেন না। দরিদ্রদের সহায়তায় সবাই একসাথে এগিয়ে আসেন। গ্রামের জনসংখ্যা ৬ হাজার হলেও প্রায় ৪ হাজার মানুষ গ্রামের বাইরে চাকরি করেন।  তারাও অর্থনৈতিকভাবে গ্রামবাসীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। 

ছেলেমেয়েদের জন্য এসএসসি পাশ করা বাধ্যতামূলক। এসএসসি পাশ না করালে কেউ তার মেয়েও বিয়ে দিতে পারেন না। দরিদ্রদের শিক্ষার জন্য দরিদ্র তহবিল কমিটিও আছে যে কমিটি থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সহায়তা করা হয়ে থাকে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এ গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তবে গ্রামের স্বাক্ষরতার হারও শতভাগ। 

প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক উচ্চ শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন। অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশে উচ্চ পর্যায়ে চাকরি করছেন। এমনকি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করাদেরও এ গ্রামে অর্ধশিক্ষিত হিসেবে গণ্য করা হয়। শিক্ষার প্রতি হুলহুলিয়ার বাসিন্দাদের এমন আগ্রহ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

গ্রামের ৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এসএসসি পাশ করা বাধ্যতামূলক। এসএসসি পাশের আগে কেউ তার মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবে না। যদি কেউ কোনো কারণে তার মেয়েকে ১৮ বছরের পূর্বে বিয়ে দিতে চাইলে, কেন বিয়ে দিতে চাচ্ছে তা জেনে সমাধান করা হয়। কিন্তু এসএসসি পাশ না করে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়া ও দেওয়াও এখানে সম্পূর্ণ নিষেধ। গ্রামটি শতভাগ মাদকমুক্ত ও সবার জন্য স্যানিটেশনের ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রাম থেকে হুলহুলিয়া গ্রামটিকে যে কারণে পৃথক করেছে তার অন্যতম প্রধান কারণ এই হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ নামের সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি। একে উচ্চ আদালতও বলা হয়। এই পরিষদের মাধ্যমেই গ্রামের সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামবাসীর মধ্যে কখনো কলহ দেখা দিলে তা মীমাংসা করা হয়।

সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিচালনার একটি কমিটিও রয়েছে। কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানসহ সদস্য রয়েছেন আরও ২১ জন। তারা সবাই গ্রামের পুরুষ ভোটারদের দ্বারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। দুইবছর পর পর ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন তারাই সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এছাড়া পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও রয়েছে তাদের। এছাড়া গ্রামের বিচার বিভাগীয় আটটি পাড়াতেও আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। যাকে বলা হয় নিæ আদালত। এই কমিটি পাড়ার আকার-আকৃতি অনুসারে ৫ থেকে ৮ সদস্যের হয়ে থাকে।

জানা গেছে, ১৯১৪-১৫ সালের দিকে একবার প্রবল বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রামে অভাব দেখা দেয়। গ্রামের অনেক চাষী ধান-বীজের অভাবে জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হন। সবার মনে কষ্ট, হতাশা। বিষয়টি গ্রামের মাতবর মছির উদ্দিন মৃধার মনে দাগ কাটে। একদিন গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে লোক ডেকে সভায় বসেন তিনি। সিদ্ধান্ত হয়, যাদের ঘরে অতিরিক্ত ধান-বীজ আছে, তারা বিনাশর্তে অন্যদের ধার দেবেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, খালি জমি ফসলে ভরে ওঠে। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের উন্নয়নে ১৯৪০ সালে 'হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ' নামে একটি পরিষদ গঠিত হয়।

ব্রিটিশ আমল থেকে স্বশাসন ব্যবস্থা চলে আসছে এখানে। সবাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসচেতন। এর প্রতিফলন দেখা যায় এ গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসা মেধাবীদের পরিসংখ্যানে। গ্রামের দেড় শতাধিক সন্তান প্রকৌশলী, শতাধিক চিকিৎসক। আছেন কৃষিবিদ, আইনবিদ, প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও।এই পরিষদ গ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করে। 

গ্রামে কোন বিরোধ হলে এই প্যানেল আলোচনার মাধ্যমেই তা মীমাংসা করে। বিচারক প্যানেল ও পরিষদের ওপর গ্রামবাসীর আস্থা আছে বলে তারা পরিষদের উপরই নির্ভর করে। পরিষদের উদ্যোগে স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান, চলাচলের রাস্তা সবই তৈরী করা হয়েছে। এ সংগঠন ছাড়াও হুলহুলিয়ায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে আসছে ‘শেকড়’ ও ‘বটবৃক্ষ’ নামের দু’টি সামাজিক সংগঠন। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য সবাই চাকুরিজীবী। তাদের অনুদানে গ্রামের অভাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, অসহায় মানুষকে সহায়তা ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়।

শুধু তাই নয়, গেল দুইশ বছরে অপরাধজনিত কারণে এ গ্রামে আসেনি কোনো পুলিশ। থানায় হয়নি একটি মামলাও। আর যদি কোনো বিরোধও হয় তা মীমাংসায় আছে হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ।

রও পড়ুন:

ধীর জীবন মানেই অলস জীবন নয়

একটি হটডগ আয়ু কমাতে পারে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত!

ইভ্যালি ধরলেও সমস্যা, ছাড়লেও সমস্যা! কোথায় যাবেন ফারিয়া?

তৃতীয় স্বামীর কাছে শুধু বিচ্ছেদই নয়, খরচও চাইলেন শ্রাবন্তী


নাটোরের সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, নিজেরাই যদি নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় তাহলে প্রশাসনের উপর চাপ অনেকাংশেই কমে আসে। দেশের সবগুলো গ্রাম যদি হুলহুলিয়ার আদলেই গড়ে ওঠে তাহলে হয়তো বিশ্ব মানচিত্রে রূপকথার দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় প্রশাসনের।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ জাহেদুল ইসলাম ভোলা বলেন, পরিষদ থাকায় হুলহুলিয়া গ্রামে কোন বিবাদ বা সংঘর্ষ হয় না বললেই চলে।

জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ বলেন, হুলহলিয়া গ্রামের নিয়ম নীতিগুলো যদি অন্যান্য গ্রামেও ব্যবহার করা হয় এবং সকলে মিলে সম্মিলিত প্রয়াসে সর্বদা ভাল কিছু করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করা যায় তবে হুলহলিয়া গ্রামের মতোই গড়ে উঠবে আরও অসংখ্য গ্রাম। হুলহুলিয়া গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো। এখানকার শান্তিপূর্ণ মনোভাব ও সমৃদ্ধির চেষ্টাকে দৃষ্টান্ত হিসেব দেশের অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া গেলে গড়ে উঠবে সুন্দর এক বাংলাদেশ। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় আমূল পরিবর্তন

ফাতেমা জান্নাত মুমু:

রাঙামাটির রাজস্থলীর গাইন্দ্যা ইউনিয়নের সড়ক উন্নয়নের ফলে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে পাহাড়বাসীর জীবনে। জুম চাষীদের জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যালয়মুখী করেছে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদেরও। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ সড়ক উন্নয়ন করেছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ।

রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা রাজস্থলী। এ উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের একটি অংশের বাস পাইন্দং, শ্মশানঘাট, তুরগুপাড়া, ইসলামপুর, বালুমুড়া, কেচি পাড়া ও কমলছড়ি পাড়ায়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় ভোগান্তির কমতি ছিলনা এ অঞ্চলের মানুষের। 
সম্প্রতি এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে এখানের পাহাড়ে বাস করা মানুষের জীবনে। 

আরও পড়ুন:


শেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টানা পাঁচ দিন ছুটির ফাঁদে ভোমরা স্থলবন্দর

অনলাইনে চালু হচ্ছে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন!

আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ


৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সড়ক উন্নয়নে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৫শতাংশ।  ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া এ সড়কটির উন্নয়নের কাজ শেষ হলে এর সুফল ভোগ করবে স্থানীয়রা, দাবি  জেলা পরিষদের।

পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবন মান্নোয়নের জন্য সড়ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা পরিষদ।
তাদের মতে, রাজস্থলীর পাশাপাশি রাঙামাটির অন্যান্য দুর্গম উপজেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠতো পাহাড়ে বসবাসরত মানুষেরা। 

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক

নগ্ন শরীরে পাথরের ঘরে বিচিত্র স্নান চিকিৎসা

উনিশ শতক পর্যন্ত পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে চালু ছিলো এক অদ্ভুত চিকিৎসাব্যবস্থা। মানুষজন অসুস্থ হলে গায়ের জামাকাপড় খুলে ইগলুর মত দেখতে পাথরের ঘরের মধ্যে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতো। ঘরগুলো ছিলো কোন জলাশয় বা পাশ দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে এমন কোন জায়গায়। ফলে বদ্ধ জায়গায় শব্দহীন এক ছোট্ট অন্ধকার ঘরে আক্ষরিকভাবেই তারা ঘেমে-নেয়ে উঠতো!

এই চিকিৎসা নিতে যেয়ে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তো, কেউবা আবার হ্যালুসিনেশনেরও শিকার হতো। দেশটিতে '১৬ থেকে '১৯ শতক পর্যন্ত প্রায় তিনশ' বছর এই চিকিৎসা পদ্ধতি চালু ছিল। সম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া এই ঘরগুলোকে আবার কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এবার আর চিকিৎসার জন্য নয়, একে বিশ্বব্যাপী টুরিস্টদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।

এক প্রতিবেদনে প্রত্নতত্ত্ববিদ এইডেন হারটে পাথরের ঘরগুলোতে এই বিচিত্র চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিবিসিকে বলেন, অনেকেই মনে করে এই পদ্ধতিতে রোগের চেয়ে রোগের চিকিৎসা বেশি মারাত্মক ছিলো। 

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে হারটে বলেন, স্নানাগারগুলোতে প্রবেশের জন্য উপরে ছোট একটি রাস্তা থাকতো। রোগী ভেতরে ঢুকলে পাথর চাপা দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হতো। কয়েক ঘণ্টা পর এর ভেতরে ধোঁয়া প্রবেশ করানো হতো। এর ফলে ভেতরে থাকা রোগী গরমে পুরো ঘেমে উঠতো। অনেক সময় সে সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে ও হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতো। 

রোগী যতক্ষণ সহ্য করতে পারতো, ততোক্ষণ চলতো এই চিকিৎসা ব্যবস্থা। এরপর সেখান থেকে বের করে তাকে পাশের ঝর্না বা প্রস্রবণ থেকে শরীর ঠান্ডা ও পরিষ্কার করানো হতো। 

তবে কখনো কখনো এই চিকিৎসায় কাজ হতো। আয়ারল্যান্ডের ম্যায়নুথ ইউনিভার্সিটির একজন বিশেষজ্ঞ ড. রোনান ফলি অবশ্য এটাকে 'প্লাসিবো ইফেক্ট' বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন:

পরকীয়ার জেরে শ্যালিকার বিয়ে ভাঙলেন দুলাভাই, আপত্তিকর ছবি!

গাঁজা সেবনে অভ্যস্তদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি: গবেষণা

অবশেষে যশের সঙ্গে বিয়ের কথা স্বীকার করলেন নুসরাত!

পল্লবী থেকে উধাও হওয়া সেই ৩ বান্ধবীকে দেওয়া হল পরিবারের জিম্মায়


দেশটির লেইট্রিম কাউন্টি কাউন্সিল হেরিটেজ অফিসার সারা ম্যালোনি জানান, ১৬০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের প্রান্তিক অঞ্চলে পাথরের এমন অসংখ্য স্নানাগার দেখতে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র লেইট্রিম অঞ্চলেই ১০০-এর বেশি স্নানাগার রয়েছে। আর প্রায় লন্ডনের সমান আয়তনের এই রাজ্যটির জনসংখ্যা মাত্র ৩৫ হাজার।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

নাটোরে এক রাতে ফুটলো তিনটি রাতের রাণী ‘নাইট কুইন’

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরে এক রাতে ফুটলো তিনটি রাতের রাণী ‘নাইট কুইন’

নাটোরের লালপুরে একটি গাছে এক সঙ্গে তিনটি রাতের নারী নাইট কুইন ফুল ফুটেছে। সারাবিশ্বে রাতের রানী হিসেবে পরিচিত ‘নাইট কুইন’ ফুল। আমাদের দেশে দুর্লভ প্রজাতির ফুল হিসেবেই গণ্য করা হয় ‘নাইট কুইন’কে। 

মিষ্টি মনোহারিণী সুবাস, দুধসাদা রঙ, স্নিগ্ধ ও পবিত্র পাপড়ি আর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত ‘নাইট কুইন’। ‘নাইট কুইন’ যে রাতে নিজেকে মেলে ধরে প্রকৃতির কাছে, সে রাতেই আবার ঝরে পড়ে। তাও আবার একটি ফুলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর।

বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) গভীর রাতে দুর্লভ এই ফুলটিরই দেখা মিলে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামে সাংবাদিক আশিকুর রহমান টুটুল এর ফুল বাগানে। উদ্ভাসিত হলো বহু আরাধ্যের নাইট কুইন। ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন একটি ফুলের জন্য। বেশ কয়েকবার কলি এসেও ফুল ফোটার আগেই ঝরে পড়ে গেছে। কিন্তু এবার আর ‘রাতের রানী’ হতাশ করেননি তাকে। একটি গাছে এক সঙ্গে ৩টি রাতের রানীর দেখা মিলেছে। আশিকুর রহমান টুটুল লালপুর প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সামাজিক সংগঠন ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের সভাপতি।

আশিকুর রহমান টুটুল জানান, ‘৪ বছর আগে একটি বাড়ি থেকে নাইট কুইনের একটি পাতা এনে টবে লাগিয়েছিলেন তিনি। নিবিরস যত্নে গছটি বড় হয়ে মাঝে কয়েকবার কলি এলেও ফুল ফুটেনি। ৪টি বছর ধরে অপেক্ষার পরে গত জুলই মাসে প্রথম একটি গাছে এক সঙ্গে তিনটি ফুল ফুটে। তিন মাসের ব্যবধানে আজ রাতে আরও তিনটি ফুল ফুটেছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘বিকেল থেকেই গাছে কলি তিনটি অদ্ভুত সুন্দর রূপে সাজে। যেন বুজে থাকা পদ্মফুল। ফুল ফোটা থেকে বুজে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই রাত জেগে উপভোগ করেছি। আমি ছোট থেকেই ফুল পছন্দকরি। তবে পরিবারের সবাই মিলে মিষ্টি সুবাসের রাতের অতিথিকে উপভোগ করেছি। ফুলের মিষ্টি গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশিরা রাতের রানীকে একবার দেখার জন্য ছুটে আসে তার বাসায়। তিন মাসের ব্যবধানে এক সঙ্গে তিনিটি ফুল ফোটায় তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।’

আরও পড়ুন


দুই উপজেলা ও ১০ পৌরসভা উপনির্বাচনে নৌকার টিকিট পেলেন যারা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ইউনিটে আরও ৮ জনের মৃত্যু

শাহরুখপূত্র আরিয়ানকে হৃতিকের চিঠি, মুখ খুললেন কঙ্গনা

আরিয়ান খান গ্রেপ্তারের পর শাহরুখকন্যা সুহানা যে পোস্ট দিলো!


জানা গেছে, বহু আরাধ্য ও অপেক্ষার পর দেখা দেয় বলেই হয়তো নাইট কুইনকে সৌভাগ্যের প্রতীকও বলা হয়। তবে সৌভাগ্য আর কাহিনী ছাপিয়ে ফুলটির অপার সৌন্দর্যই একে ‘রানী’ উপাধি দিয়েছে। পাথরকুচির মতো পাতা থেকেই এ ফুলগাছের জন্ম হয়। আবার পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় ফুলের গুটি। নাইট কুইনের বৈজ্ঞানিক নাম পেনিওসিরাস গ্রেজ্জি (Peniocereus greggii)| । বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। ফুলটির আদি নিবাস আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চালে এবং মেক্সিকোতে। দেখতে অনেকটা পদ্মফুলের মতো, সাদা রং ও মিষ্টি গন্ধ যুক্ত।

বছরের মাত্র একদিনে এবং মধ্যরাতে পূর্ণ বিকশিত হয়। আর শেষরাতেই জীবনাবসান ঘটে। ১৫ দিন পর গুটি থেকে কলি হয়। যে রাতে ফুলটি ফুটবে, সেই বিকেল থেকেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর রূপে সাজে। যেন বুজে থাকা পদ্মফুল। ধীরে ধীরে অন্ধকার যখন চারপাশকে ঘিরে ধরে, ঠিক তখনই নিজের সৌন্দর্যে স্বমহিমায় প্রকাশিত হয় নাইট কুইন। এর সুবাসে তীব্রতা না থাকলেও অদ্ভুত মিষ্টি এক মোহ আছে, যা পুষ্পপ্রেমীদের সবসময়ই টানে। সারা দুনিয়ায় নাইট কুইন নিয়ে নানা কাহিনী আছে।

ফুল দেখতে আসা ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের কোষাধক্ষ্য আজিবর রহমান তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন,‘আমি জীবনে অনেক বার নাইট কুইনের নাম শুনেছি আজ বাস্তবে দেখলাম, তার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে আমি বিমোহিত।’

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়তে পারে সংঘাত: আইইপির প্রতিবেদন

অনলাইন ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়তে পারে সংঘাত: আইইপির প্রতিবেদন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দশকগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। একারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে সংঘাত বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। বৈশ্বিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস(আইইপি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন ও এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ খাদ্য ও পানীয়জলের সংকটে পড়েছেন। দিন দিন এই সংকট আরও বাড়ছে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকগুলোতে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে থাকা মানুষ আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। এসব কারণে অদূর ভবিষ্যতে দেশে-দেশে, জাতিতে-জাতিতে সংঘাত বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আইইপি।

আইইপি ইউরোপ শাখার পরিচালক সের্জ স্ট্রুব্যান্টস বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে জলবায়ু পরিবর্তন ও এ কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ ও সংকটের প্রত্যক্ষ্য ভূমিকা রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে এশিয়া ও আফ্রিকার ৩০টি দেশকে 'হটস্পট' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইইপি বলেছে, গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় সবচেয়ে বেশি দেখা এই ৩০ টি দেশে। এসব বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে বন্যা, খরা ও উষ্ণতা বৃদ্ধি।

আরও পড়ুন:


আফগানিস্তানের উদাহারণ টেনে আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত প্রায় তিন দশক ধরে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছে।

দেশটিতে গত ৫০ বছরের জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আফগানিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খরা, উষ্ণতা বৃদ্ধি ঘটেছে গত ৩০ বছরে। যার প্রভাবে দেশটিতে খাদ্য ও পানীয় জলের নিরাপত্তা নেই- এমন মানুষের সংখ্যরাও বেড়েছে।

রয়টার্সকে সের্জ স্ট্রুব্যান্টস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যে হারে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে- সেক্ষেত্রে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়া দেখতে সম্ভবত আমাদের আর খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।’

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ঢাকায় মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে: গবেষণা

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহরগুলোয় জনসংখ্যাও বাড়ছে, সেই সঙ্গে চরমভাবে বাড়ছে শহরগুলোর তাপমাত্রাও। আর এই উষ্ণতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরের তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। খবর বিবিসি বাংলার।

বিশ্বব্যাপী চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, চরম উষ্ণতার কারণে মানুষের মধ্যে অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়ছে, যার ফলে বাংলাদেশের মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন।

ওই গবেষণায় ঢাকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৮৩ সালে এই শহরে জনসংখ্যা ৪০ লাখ থাকলেও এখন দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজনীন আফরোজ হক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''তাপমাত্রা বেশি হলে মানুষ খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ক্লান্ত হলে তো স্বাভাবিকভাবেই তার কাজের ক্ষমতা কমে যায়। ঢাকার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক মানুষ বসবাসের কারণে যানজটের তৈরি হয়, সেটাও মানুষের গতি ও ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।''

গবেষকরা একটি প্যাটার্ন দেখতে পেয়েছেন যে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শহর এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র মানুষরা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে নাগরিক সুবিধার অনেক কিছু পান না।

গবেষকরা ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩৩ বছর ধরে বিশ্বের ১৩ হাজার শহরে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করেছেন। যেসব শহরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা থাকে, তাকেই তারা চরম তাপমাত্রা হিসাবে বিবেচনায় নিয়েছেন। এরপর অন্য শহরগুলোর বাসিন্দাদের তথ্যের সঙ্গে সেগুলো তুলনা করে দেখেছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যদিও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু অনেক শহরে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে সেখানে তাপমাত্রাও চরমভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে লাখ লাখ মানুষ গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরে আসায় সেখানে দ্রুত জনসংখ্যার বৃদ্ধি হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে তাপমাত্রা।

আরও পড়ুন:

১ লাখ ২৫ হাজার অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধ করল বিটিআরসি

প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে শিক্ষিকা ধর্ষণের অভিযোগ !

শত বছর চেষ্টার পর ম্যালেরিয়ার ভ্যাকসিন অনুমোদন

ভাঙা মোবাইল নিয়ে গেল খুনির কাছে


গবেষক দলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থ ইউনিভার্সিটির আর্থ ইন্সটিটিউটের গবেষক ক্যাসকেড টুহলস্কি বলেছেন, ''চরম উষ্ণতার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের কর্মক্ষমতার ওপর, ফলে তাদের আয়-রোজগারও কমে যাচ্ছে। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হচ্ছে।''

চরম তাপমাত্রার কারণে ঢাকার পরেই ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ভারতের দিল্লি, কলকাতা ও মুম্বাই এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহর। রয়েছে চীনের সাংহাই, গুয়াংজু, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাই। এসব শহরে গত ৩২ বছরে উষ্ণতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

গবেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব ৩৭ শতাংশ, বাকি ৬৩ শতাংশের পেছনে স্থানীয় কারণ রয়েছে।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর