দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

অনলাইন ডেস্ক

দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

একটি নতুন দেশীয় জাতের মুরগি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই মুরগির পালক বহুবর্ণ হবার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে 'মাল্টি কালার টেবিল চিকেন'। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এই মুরগি এখনপরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পোল্ট্রি উৎপাদন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক বলেছেন, নতুন এই জাত মূলত মাংসের জাত। এটি দ্রুত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে অর্থাৎ খাওয়ার উপযোগী হয় আট সপ্তাহ মানে ৫৬ দিনে।

মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের বৈশিষ্ট্য

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের শাকিলা ফারুক বলেছেন, এ মুরগি মূলত দেশে মাংসের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাল্টি কালার টেবিল চিকেন খুব দ্রুত বাড়ে। এটি মাংস খাওয়ার জন্য উৎপাদন করা হবে, ডিমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে এর ওজন সাড়ে নয়শ’ গ্রাম থেকে এক কেজির মত ওজন হয়। কিন্তু এর স্বাদ এবং মাংসের গুণাগুণ দেশি মুরগির মতই।

মুরগির শারীরিক গঠন, ঠোট ও ঝুঁটি দেশি মুরগির মত, এর পালকও অনেক রঙ এর হয়। এই মুরগি দেখতে দেশীয় জাতের মুরগির মত। এই মুরগিকে দেশীয় ব্রয়লার বলে থাকেন কেউ কেউ।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে প্রথম নতুন মুরগির এ জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ২০১৮ সালে গবেষণাগারে সাফল্যের পর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা, বরিশাল এবং পাবনায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। এখন খুব অল্প পরিসরে মাল্টি কালার টেবিল চিকেন উৎপাদন করা হচ্ছে।

শাকিলা ফারুক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চারটি সরকারি এবং দু’টি বেসরকারি খামারে নতুন জাতের মুরগি উৎপাদন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এখনও যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

নতুন জাত উদ্ভাবনে বিদেশি জাত এবং দেশীয় কয়েক জাতের মুরগির জার্মপ্লাজম মিলিয়ে করা হয়েছে। মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ মুরগির মৃত্যু হার অনেক কম।

শাকিলা ফারুক বলেছেন, এখনও পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে।

ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির সাথে পার্থক্য

বাংলাদেশে গত এক দশকে মুরগির চাহিদা এবং ব্যবহার অনেকগুন বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি যেমন রয়েছে, তেমনি দেশি মুরগি, সোনালী মুরগি, যা পাকিস্তানি মুরগি নামেও পরিচিত এগুলো বেশ জনপ্রিয়।

এই মুরগিগুলোর মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগি ২৮-৩২ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়।

সোনালি মুরগির এক কেজি ওজনে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন।

কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাজারজাত করতে অন্তত আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।

ব্রয়লার মুরগির মাংস ও হাড় নরম হয়, কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মাংস ও হাড় দেশি মুরগির মত শক্ত।

রও পড়ুন:

ইভা রহমান এখন ইভা 'আরমান'

আবারও নাটক শুরু করেছেন জাভেদ ওমর বেলিম

সরলতার সুযোগে রোনালদোর ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ

রণবীরকে দাম্পত্য বিষয়ক সমস্যার সমাধান দিলেন কারিনা!


ব্রয়লার মুরগি পালনে বড় জায়গা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং আলো-বাতাসের দরকার হয়, কিন্তু এ মুরগি পালনের ক্ষেত্রে দেশি জাতের মুরগির মত খোলা জায়গায় পালন করা যায়।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, এই মুরগি লালনপালন সহজ, ফলে প্রান্তিক খামারীদের জন্য এটি পালন সহজ হবে এবং ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ বেশি থাকবে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে মুরগির বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ডিম পাড়া দু’টি নতুন জাতের মুরগি---স্বর্ণা এবং শুভ্রা, উদ্ভাবন করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।

এই মুহূর্তে কমন দেশি, গলা ছিলা এবং হিলি বা পাহাড়ি জাতের তিনটি মুরগির জাত উন্নয়নের কাজ চলছে।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হারিয়ে যাওয়া এক উপত্যকা: 'তে ওতুকাপুরাঙ্গি'

অনলাইন ডেস্ক

হারিয়ে যাওয়া এক উপত্যকা: 'তে ওতুকাপুরাঙ্গি'

ওশেনিয়াতে অস্ট্রেলিয়ার ১ হাজার ৬শ' কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ দেশ নিউজিল্যান্ড। ভূপ্রাকৃতিক বিস্ময় এই দেশটি পানির নীচে লুকিয়ে থাকা পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশ 'জিল্যান্ডিয়া' হিসেবেও পরিচিত। 

নিউজিল্যান্ডে রয়েছে বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য হিসেবে পরিচিত এক ভূতাপীয় অঞ্চল যা দেশটির রোটোরুয়া অঞ্চলে পাহাড়ের পাশে নেমে আসা গোলাপী এবং সাদা রঙের সোপান। যা একসময়ে একটি দর্শনীয় স্থান বলে পরিচিত ছিল। প্রায় দেড়শ' বছর আগে অগ্নুৎপাতে যা নষ্ট হয়ে যায়।

পৃথিবীর মূল থেকে প্রবাহিত ভূ-তাপীয় পানির দ্বারা সৃষ্ট এই সোপানগুলো শত শত বছর ধরে জমে স্ফটিক আকৃতি নিয়েছে। যা স্থানীয় রোটোমহানা হ্রদে ৩০ মিটার নেমে এসেছে। এই অঞ্চলটি ৭ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।

১৯ শতকের শেষের দিকে অগ্নুৎপাতে ধ্বংসের আগে এই প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলো ছিল নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটনের আকর্ষণ কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে ধনী পর্যটকেরা 'তে ওতুকাপুরাঙ্গি' ( স্থানীয় ভাষায় গোলাপী) এই সোপানগুলোর গোলাপী পানিতে স্নান করতে আসতো। মনে করা হতো এই পানির আশ্চর্যজনকভাবে যে কোন রোগ সারিয়ে তোলার ক্ষমতা ছিল।

তবে সেখানে পৌঁছানো এতোটা সহজ ছিলো না। ব্রিটেন থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে ৭৫ দিনের পথ পাড়ি দিতে হতো। এরপর অকল্যান্ড থেকে তউরাঙ্গা পর্যন্ত ভ্রমণ ছিলো প্রায় ২০০ কিলোমিটারের, এই পথ পাড়ি দিতে হতো বাষ্পীয় ট্রেনে। তারপর রোটোমহনা হয়ে রোটোরুয়া লেক পাড়ি দিতে হতো ঘোড়ায় টানা গাড়িতে চড়ে।

কিন্তু দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেয়ার পর অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করত বিশাল দৃষ্টিনন্দন সিলিকা সোপানগুলো। বেসিনের স্তর এবং ফুটন্ত গিজারগুলির দিকে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকতেন পর্যটকেরা। তারা ছবি তুলে বা অনেকসময় ছবি এঁকে এই অসাধারণ দৃশ্যকে স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।

রোটোরুয়াতে তাদেরকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় থাকতো তে আরাওয়া মাওরির তুহৌরাঙ্গি উপজাতির নারীরা। ১৩২৫ সাল থেকে তারা এই আগ্নেয় উপত্যকা অঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসী ছিলো। তারাই পর্যটকদের ওয়াকা (স্থানীয় বিশেষ ধরণের নৌকা) দিয়ে সোপানের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত। 

এটি ছিল নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্মস্থান, এবং এই মাওরিরা নিউজিল্যান্ডের প্রথম ট্যুর গাইড ছিল। এই নারী পর্যটন গাইডেরা তাদের সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং উষ্ণ আতিথেয়তা দিয়ে পর্যটকদের মন জয় করে নিয়েছিল। 

সোফিয়া হিনারঙ্গি-গ্রে, যিনি গাইড সোফিয়া নামেও পরিচিত, তিনি রোটোরুয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত নারী হয়ে ওঠেন এবং শুধুমাত্র গোলাপী এবং সাদা টেরেসের প্রধান গাইড হিসেবেই নয়, হাজার হাজার মানুষের কাছে একজন শিক্ষিত দার্শনিক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।

তিনি তার সম্প্রদায়ের একজন রোল মডেল ছিলেন এবং স্থানীয় নারীদেরকে তাদের গাইড হিসাবে কাজের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতেও উত্সাহিত করেছিলেন।

তবে সোপানগুলো অগ্নুৎপাতে ধ্বংস হয়ে গেলেও আধুনিক পর্যটকেরা এখনও ভূতাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় এই অসাধারণ জায়গাটি ঘুরে আসতে পারেন। সেই একই পরিবারের বংশধরেরা এখনও তাদের উষ্ণ আতিথেয়তার মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পর্যটকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চলেছেন।

রোটোরুয়া এবং ওয়াইমাঙ্গু আগ্নেয় উপত্যকার মধ্যবর্তী অর্ধেক পথ 'তে ওয়াইরোয়া' এখন সমাহিত গ্রাম নামে পরিচিত। এর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলির মূল স্তরে খনন করা হয়েছে। পর্যটকেরা সেখানে গেলে স্থানীয় মাওরি গাইডদের কাছ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে এখনো নানা রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ গল্প শুনতে পাবেন।

আরও পড়ুন:

সুপারসনিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো ভারত


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

গোঁফ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন শতাধিক মানুষ (ভিডিও)

চন্দ্রানী চন্দ্রা

জার্মানিতে হয়ে গেলো ব্যতিক্রমধর্মী গোঁফ প্রতিযোগিতা।পূর্ব বাভারিয়ান জার্মানিতে আয়োজিত বার্ষিক এ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন বিভিন্ন শহরের শতাধিক মানুষ।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের কারো গোঁফ সূচালো, কারোটা চন্দ্রাকৃতির, কেউ আবার গোঁফ পাকিয়েছেন ঊর্ধ্বমুখী। বাহারি এমন নকশার গোঁফেরও আছে বাহারি নামও। ইংলিশ, শেভরণ, ডালি, পিরামিড কিংবা হর্স স্যু আকৃতির গোঁফ সবার নজর কেড়েছে।

জার্মানিতে আয়োজিত বার্ষিক এ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন বিভিন্ন শহরের শতাধিক মানুষ।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সেরা তিন গোঁফওয়ালাকে নির্বাচিত করেন বিচারকরা।

আর ভারতের হরিয়ানায় চুলের ছাটে তাজমহল, মাইকেল জ্যাকসন ও মিকিমাউসসহ এমন অনেক কিছুর ছবিই ফুটিয়ে তুলছেন দুই নরসুন্দর রাজবিন্দর সিং সিধু ও গুরবিন্দর সিং সিধু। তাদের হেয়ার কাট অন্য যেকোনো সেলুনের চেয়ে আলাদা।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

যে ক্লাবের সদস্য হতেই লাগে দেড়শ' কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

যে ক্লাবের সদস্য হতেই লাগে দেড়শ' কোটি টাকা

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের জন্য নতুন একটি ক্লাব খোলা হয়েছে যেখানের সদস্য হতেই লাগবে ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় অঙ্কটা ১৫৪ কোটি টাকারও বেশি। তবে পকেটে টাকা থাকলেই যে এই এক্সক্লুসিভ ক্লাবের সদস্য হওয়া যাবে তা নয়, টাকার অঙ্কটা হতে হবে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি! তারপরেও এই ক্লাবের সদস্য হওয়া যাবে না, প্রয়োজন হবে আমন্ত্রণের। কেননা এই এক্সক্লুসিভ ক্লাবটি একটি 'ইনভাইট অনলি' ক্লাব।

এক্সক্লুসিভ এই ক্লাবের নাম আর-৩৬০। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চার্লস গারসিয়া। এবছরই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। সম্মিলিতভাবে এই ক্লাবের উদ্দেশ্য এর সদস্যদের মধ্যে বিনিয়োগ ও সেবামূলক সুযোগ তৈরি করা।

এরই মধ্যে দুইজন বিলিয়নিয়ারকে ফিরিয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা গারসিয়া। তিনি বলেন, 'তাদের একজন ক্লাবের মধ্যে নিজের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসেছিল, আরেকজন কিছু পারিবারিক সমস্যার সমাধান করতে চায় নি।

চার্লস গারসিয়া

আর-৩৬০ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস গারসিয়া এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১০০০ হাজার করতে চান, যেখানে ৫০০ সদস্য থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের এবং বাকি ৫০০ জন বিশ্বের অন্যান্য দেশের। দুজন বিলিয়নিয়ারকে ফিরিয়ে দিলেও এই সংখ্যা পূরণ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন চার্লস।

এই ক্লাবের সদস্য হলে তাকে তিন বছরের সদস্যপদ দেওয়া হয়। সদস্যদের লক্ষ্য হল ছয়টি ভিন্ন ধরনের পুঁজিতে সম্পদ অর্জন করা: আর্থিক, বৌদ্ধিক, আধ্যাত্মিক, মানবিক, মানসিক এবং সামাজিক।

আর-৩৬০ ক্লাবের ব্যবস্থাপনা অংশীদারদের একজন ৬১ বছর বয়সী মাইকেল কোল। তিনি বলেন, যখন কারো ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ থাকে, তখন তাদের সমস্যাগুলো তাদের স্তরের যারা নয় তাদের চেয়েও বেশি থাকে।

আরও পড়ুন:

মূল পর্ব শুরুর আগেই দল ছাড়লেন জয়াবর্ধনে

আগামী মাসেই ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে আসছেন ট্রাম্প

মার্কিন ড্রোন হামলায় আল কায়েদার শীর্ষ নেতা নিহত

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য


তিনি আরও বলেন, তারা তাদের সাফল্য অর্জন করেছে। এখন তারা নিজেদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন, নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য প্রভাব ফেলে এমন বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে।

এর আগেও চার্লস গারসিয়া নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে স্টারলিং ফাইনান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ নামে একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য

অনলাইন ডেস্ক

জাপানী নারীদের দীর্ঘ যৌবনলাভের গোপন রহস্য

চারটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ছোট্ট একটি দেশ জাপান। সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য জাপানের অধিবাসীরা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। সেই সঙ্গে পরিচিত সদা যৌবনময়ী হাসিখুশি, প্রাণবন্ত ও সুঠাম জাপানি নারীরাও। এর সবচেয়ে বড় কারণ জাপানের সংস্কৃতি ও তাদের বেছে নেয়া জীবনযাপনের ধরণ।

সৌন্দর্যের বিষয়টি আপেক্ষিক হলেও জাপানী নারীদের দেখে যে তাদের বয়স অনুমান করা যায় না, তা সকলেই মানেন। কিন্তু এর পেছনে রহস্য কী? অনেক সময় তাদেরকে স্বাস্থ্য ধরে রাখার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে তারা হয়তো শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। কারণ এর জন্য তাদেরকে আলাদা কিছু করতে হয় না। দীর্ঘ জীবন ও সুস্বাস্থ্যের রহস্য লুকিয়ে আছে তাদের জীবনাচরণের মধ্যেই।

দেখে নেয়া যাক জাপানী নারীদের সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের গোপন রহস্য-

১. সবুজ চা পান করা

গ্রীন টি বা সবুজ চা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত। এটি ৮ম শতাব্দী থেকেই চীনে পান করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ভেষজ রোগের চিকিৎসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রীন টি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

ভারতীয় সংস্কৃতিতে এটি রক্তপাত বন্ধে ও ক্ষত সারানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এটি মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। এটি শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। গ্রীন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিতে ভরপুর একটি পানীয়।

এছাড়া গ্রীন টিতে রয়েছে ক্যাফেইন এবং অ্যামাইনো এসিড এল-থেনাইন, এই দুটি উপাদানের সংমিশ্রণ একসঙ্গে মস্তিষ্কের গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। 

গ্রীন টি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে দিনে ২ থেকে ৩ কাপ গ্রীন টি পান করা উচিত।

২. ফারমেন্টেড খাবার গ্রহণ

ফারমেন্টেড খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়া দেখতে ভালো না লাগলে বা শুনতে খুব ভালো না শোনালেও এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। ফারমেন্টেশন বা গাঁজানো প্রক্রিয়াটি ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টকে সুগার বা স্টার্চ খাওয়ানোর একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে খাদ্যে উপকারী এনজাইম, বি-ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং প্রোবায়োটিক ইত্যাদি উপাদান নষ্ট হয় না।

পরিচিত ফারমেন্টেড খাবারের মধ্যে রয়েছে সাওয়ারক্রাউট, কিমচি, দই, আচার এবং মিসো সুপ। পানীয়ের মধ্যে রয়েছে কম্বুচা, কেফির ইত্যাদি।

৩. সামুদ্রিক খাবার

দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় জাপানে সামুদ্রিক খাবারের কোন অভাব নেই। দেশটির খাবার টেবিলে অহরহই দেখতে পাওয়া যায় স্কুইড, মাছ, অক্টোপাস, ঈল কিংবা শেলফিশ। এছাড়া জাপানি খাবার সুশি, সালাদ, কারি এবং টেম্পুরাতেও সামুদ্রিক খাবার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। কখনো গ্রীল, আবার কখনো জাপানী নিজস্ব ভাত ও মিসো সুপের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায় সামুদ্রিক খাবার।

সামুদ্রিক খাবার প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ থাকে। কাজেই খাবারের টেবিলে এসব খাবারের উপস্থিতি একটি শক্তিশালী হৃদযন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয়।

৪. স্বল্প আহারের অভ্যাস

জাপানী সংস্কৃতিতে 'ইচিজু-সানসাই' বা 'ওয়ান স্যুপ, থ্রি সাইডস' নামে একটি কথা প্রচলিত আছে যা খাবারের সময় মেনে চলা হয়। সাধারনত একবেলার জাপানি খাবারে সামান্য ভাত বা নুডলস থাকে, এরসঙ্গে প্রধান খাবার হিসেবে থাকে মাছ, মুরগী, শূকরের মাংস বা গরুর মাংস। এর সঙ্গে 'সাইড ডিশ' হিসেবে থাকে আচার দেওয়া সবজি এবং মিসো স্যুপ। 

প্রথমে শুনতে এটাকে অনেক বেশি খাবার মনে হলেও প্রতিটি খাবারই থাকে সামান্য পরিমাণে। ফলে প্রতি বেলায় শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় ঘটে। এছাড়া জাপানি আদবকায়দা অনুযায়ী, প্রতিটি খাবারই থাকে আলাদা আলাদা পাত্রে যেন একটার সঙ্গে আরেকটি খাবারের স্বাদ মিশে না যায়। ফলে প্রত্যেকে কতোটুকু খাবার গ্রহণ করছে তা সে সহজেই বুঝতে পারে।

আরও পড়ুন:

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা কে এই ইকবাল?

আগামী মাসেই ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে আসছেন ট্রাম্প

পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে গদা নিয়ে যায় ইকবাল

মানবদেহে প্রতিস্থাপিত হল শূকরের কিডনী


৫. চলতি পথে খাবার নয়

খাবার গ্রহণকে জাপানে প্রায় উপাসনার পর্যায়ে দেখা হয়। ফলে ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে চলার পথে বা হাঁটতে চলতে তারা কখনোই খাবার গ্রহণ করে না। আর দিনের মাঝে যত ব্যস্ততাই থাকুক, খাবার গ্রহণের সময়টা তারা খুবই মনোযোগ দিয়ে নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ করে। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ভুবন চিল নামেই বেশি পরিচিত, পৃথিবী জুড়েই এদের বসবাস

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

ভুবন চিল নামেই বেশি পরিচিত, পৃথিবী জুড়েই এদের বসবাস

ছবি: রেজাউল হাফিজ রাহী, ছবিটি তোলা হয়েছে মহিপুরব্রীজ, গংগাচড়া, রংপুর

চিল নামেই এই পাখিকে আমরা চিনি তবে এই পাখির আরো কিছু বাংলা নাম আছে যেমন, ভুবন চিল, বাদামি চিল, গোদা চিল, ডোম চিল, চিলা। আর এই পাখিকে ইংরেজিতে বলা হয় ব্লাক কাইট/Black Kite এবং বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans

অনেক উপরে আকাশে কোন পাখি উড়তে দেখলেই আমরা ভাবি এটা চিল। তবে এই চিল পাখির অনেক প্রজাতি আছে আমাদের দেশে। শুধু দুই মেরু আর দুই আমেরিকা মহাদেশ বাদে প্রায় পুরো পৃথিবী জুড়ে এদের দেখা পাওয়া যায়।

তবে বিগত কয়েক বছরে এই চিল এর সংখ্যা কি হারে কমছে বা বাড়ছে সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। এখনো এরা সন্তোষজনক সংখ্যায় রয়েছে। সে কারণে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। পৃথিবীতে মোট ভুবন চিলের সংখ্যা আনুমানিক ১০ লক্ষ থেকে ৬০ লক্ষটি বলে বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে।

খোলা বিস্তীর্ণ এলাকা ভুবন চিলের প্রিয় এলাকা। এছাড়া ঘন বন, পাতলা বন, পার্বত্য অঞ্চল, নদীর পাড়, বেলাভূমি, বন প্রান্ত, ঘাসবন, সাভানা প্রভৃতি অঞ্চলে দেখা যায় এদেরকে। মাঝে মাঝে বড় বড় বন্দর, শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলেও দেখা যায়। Govinda উপ-প্রজাতিটি নগর এলাকায় বেশি দেখা যায়। lineatus উপ-প্রজাতি আর্দ্র ও জনহীন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বড় বড় গাছে এরা দলবদ্ধভাবে রাত কাটায়। ভোরে সূর্য উঠলে এরা দল বেঁধে আকাশে ওড়ে আর অনেক্ষণ ঝাঁক বেঁধে চক্রাকারে উড়ে বেড়ায়। তারপর খাদ্যের সন্ধানে বিভক্ত হয়ে যায়। সন্ধ্যা বেলায় এরা তাদের আবাসে ফিরে আসে এবং পুনরায় ভোর বেলার মত চক্রাকারে কিছুক্ষণ ওড়ে। তারপর গাছে এসে বসে পড়ে।

শীতে বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী ভুবন চিল এসে বাংলাদেশে আবাসিক পাখির দলে যোগ দেয়। ভুবন চিল সুযোগসন্ধানী খাদক। এর খাদ্যতালিকা বেশ বিশাল। এর খাদ্যতালিকা স্থানীয় খাদ্যের যোগানের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পানির আশেপাশে আবাস হলে মাছই এদের প্রধান শিকার হয়। অনেকসময় এরা মৃত বা রুগ্ন মাছও খায়। আহত, মৃত বা অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি, স্থন্যপায়ী, ব্যাঙ, সরিসৃপ ও পোকামাকড়ও খায়। অন্য ভুবন চিল, পাখি বা প্রাণীর কাছ থেকে এরা খাবার ছিনিয়ে খায়। গ্রামে হাঁস-মুরগির ছানা ছিনতাই করতে এরা ওস্তাদ। বর্জ্যভূক পাখি হিসেবে কসাইখানা, বর্জ্যস্থুপ, ময়লাপোঁতা, মাছবাজার ও পোতাশ্রয়ে ওরা উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য খায়। প্রায়ই শকুনের সাথে মিলে উচ্ছিষ্ট বা পশুর মৃতদেহ খায়।

খাদ্যের সন্ধানে এরা আকাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস ভঙ্গিমায় চক্কর কেটে বেড়ায়। এরা খুব কমই ডানা ঝাপটায়। ডানার তুলনায় শরীর হালকা হওয়ায় এরা অনেক্ষণ ডানা না ঝাপটে ভেসে বেড়াতে পারে। নৌকার হালের মতো লেজ ব্যবহার করে ঝটপট দিক বদল করতে পারে। উড়তে পারে বাতাসের প্রতিক‚লেও। খাদ্যের সন্ধান পেলে এরা ডানা গুটিয়ে ফেলে ও ঝাঁপ দিয়ে শিকার ধরে।

আরও পড়ুন


রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

একটি অশুভ মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গুজব ছড়াচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

মাদককাণ্ড: শাহরুখ খানের বাড়ি ‘মান্নাতে’ এনসিবি’র অভিযান

আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিকার সঙ্গে ধরা শিক্ষক, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে বিয়ে


মার্চ থেকে মে ভুবন চিলের প্রধান প্রজনন ঋতু। এ সময় পুরুষ চিল আকাশে চক্রাকারে উড়তে থাকে এবং হঠাৎ ঝাঁপ দিয়ে ডালে বসে থাকা স্ত্রী চিলের পিঠে এসে নামে। স্থানভেদে প্রজনন মৌসুমে বিভিন্নতা দেখা যায়।

উঁচু গাছে কাঠি, ডালপালা ও কাঠি দিয়ে এলোমেলো মাচার মত বাসা বানায়। উঁচু দালানে পানির ট্যাঙ্কেও বাসা করতে পারে। বাসায় নষ্ট কাগজ, পাখির পালক, ছেঁড়া কাপড়, শুকনো গোবর, কাদা, উজ্জ্বল প্লাস্টিকের বস্তুও থাকে। বাসার উচ্চতা ভূমি থেকে ৫ মিটার থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। বাসা বানানো হয়ে গেলে ২-৪টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ পাটল-সাদা। ডিমের মাপ ৫.৩ দ্ধ ৪.৩ সেন্টিমিটার। ৩০ থেকে ৩৪ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। ছানারা প্রায় দুই মাস বাসায় থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় চিলই বাসা বানায়, ডিমে তা দেয় ও সন্তান লালন-পালনের ভার নেয়। দুই বছর বয়সে ছানারা প্রজননক্ষম হয়।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর