আল্লাহর প্রিয় জায়গা

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

কিছু আমল আছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তন্মধ্যে অন্যতম আমল হলো, গুরুত্বসহ সময়মতো নামাজ আদায় করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ 

আল্লাহর প্রিয় জায়গা

পৃথিবীতে কিছু জায়গা মহান আল্লাহর বেশি প্রিয়। আর তা হলো মসজিদ, যেখানে মহান আল্লাহকে সিজদা করা হয়। এটি মহান আল্লাহকে সিজদা করার জায়গা হওয়ায় একে মসজিদ বলা হয়। বান্দা মহান আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে সিজদারত অবস্থায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজার।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৪১৪)

রও পড়ুন:

মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র

নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


মহান আল্লাহ তাআলা সকল মুমিনদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং আল্লাহর বেশি প্রিয় কাজগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু     

পরবর্তী খবর

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া

কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার দোয়া নিচে তুলে ধরা হল... 

উচ্চারণ: রাব্বানাগ ফিরলানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্কদামানা ওয়ানছুরনা আলাল কাওমিল ক্বাফিরীন। (সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ১৪৭) 

বাংলা অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের গুনাহ এবং কোন কাজের সীমা লঙ্ঘনকে তুমি ক্ষমা কর। আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ী কর।

আরও পড়ুন:


মোবাইলে টুজি সচল, থ্রিজি ও ফোরজির জন্য নেটিজেনদের আক্ষেপ

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)


মহান আল্লাহ তা'আলা যেন মুসলিম জাতিকে কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ দান করেন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

মদিনার মুসলিমরা যেভাবে ভাই ভাই হয়ে যায়

আতাউর রহমান খসরু

মদিনার মুসলিমরা যেভাবে ভাই ভাই হয়ে যায়

মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের আগে ও পরে বিপুলসংখ্যক সাহাবি মদিনায় হিজরত করেন। তাঁদের আগমনে মদিনার কৃষিনির্ভর সমাজ ও অর্থনীতিতে সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিচক্ষণতায় তা উত্তরণ করা সম্ভব হয়। মদিনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় হিজরতের পাঁচ মাস পর তিনি মক্কার নিঃস্ব মুহাজির ও মদিনার আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করেন। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) লেখেন, ‘নবী (সা.) আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর ঘরে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন। সে সময় ৯০ জন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। অর্ধেক মুহাজির ও অর্ধেক আনসার। ভ্রাতৃবন্ধনের মূলকথা ছিল তারা পরস্পরের দুঃখে দুখী এবং সুখে সুখী হবে। মৃত্যুর পর নিকটাত্মীয়দের পরিবর্তে পরস্পরের সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে। উত্তরাধিকারী হওয়ার নিয়ম বদরের যুদ্ধ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এরপর কোরআনের আয়াতের (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭৫) মাধ্যমে উত্তরাধিকারের বিধান রহিত করা হয়।’ (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৯৪; সিরাতে মোস্তফা : ৪২০)

এটা কোনো মৌখিক সম্পর্ক ছিল না; বরং সার্বিক বিবেচনায় একটি সফল ও ফলপ্রসূ বন্ধন। আনসাররা সব কিছুতে মুহাজিরদের প্রাধান্য দিতেন। সাআদ ইবনে রাবি (রা.) তাঁর মুহাজির ভাই আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-কে বলেন, দেখো! এই আমাদের ধন-সম্পদ। এর অর্ধেক তোমার। যেটা খুশি গ্রহণ কোরো। আমার দুজন স্ত্রী। এদের মধ্যে তোমার কাকে পছন্দ, বোলো। আমি তাকে তালাক দিই এবং তোমার সঙ্গে বিয়ে দিই। মুহাজিররাও আত্মমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব রক্ষা করেই চলতেন। ফলে আনসার ভাইয়ের উত্তরে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বললেন, আল্লাহ তোমার ঘরে-বাইরে ও বিষয়সম্পদে বরকত দান করুন। দয়া করে তুমি আমাকে বাজারের রাস্তাটা দেখিয়ে দাও। ওখানে আমি আমার ভাগ্য পরীক্ষা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৮১; নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ২০৫)

পবিত্র কোরআনে আনসারিদের এই আত্মত্যাগের প্রশংসায় ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের জন্যও, মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এই নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে। তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। আর তারা (আনসার) তাদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম।’ (সুরা হাশর, আয়াত : ৯)

মদিনায় আসার পর মুহাজির সাহাবিরাও তাদের ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট হন, জীবন-জীবিকার সংগ্রামে আনসারিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন এবং স্বাবলম্বী হন। যেমন—আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, আপনাদের বাজার কোথায়? তারা তাঁকে বনু কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন। যখন ঘরে ফিরলেন তখন কিছু পনির ও কিছু ঘি সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। এরপর প্রতিদিন সকালবেলা বাজারে যেতে লাগলেন। একদিন নবী (সা.)-এর কাছে এমন অবস্থায় এলেন যে তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন ছিল। নবী (সা.) বললেন, ব্যাপার কী! তিনি (রা.) বললেন, আমি বিয়ে করেছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৮০)

এই ভ্রাতৃ-বন্ধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমাম গাজালি (রহ.) লেখেন, ‘জাহেলি যুগের রীতি-নীতির অবসান ঘটানো, ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বর্ণ, গোত্র ও আঞ্চলিকতার পার্থক্য মিটিয়ে দেওয়াই ছিল এই ভ্রাতৃ-বন্ধনের উদ্দেশ্য।’ (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৯৫)

আরও পড়ুন:


মোবাইলে টুজি সচল, থ্রিজি ও ফোরজির জন্য নেটিজেনদের আক্ষেপ

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)


তবে ইসলামের ইতিহাসে এটাই প্রথম ভাতৃ-বন্ধন ছিল না। হিজরতের আগে নবীজি (সা.) মক্কার মুসলিমদের মধ্যেও ভাতৃ-সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ কয়েকটি ভ্রাতৃ-যুগল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবু বকর ও ওমর (রা.), হামজা ও জায়িদ ইবনে হারিসা (রা.), উসমান ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)। (সিরাতে মোস্তফা : ১/৪২০)

ভ্রাতৃ-সম্পর্ক মুসলিম জাতিসত্তা গঠনে এবং আগামী দিনের বিশ্ব নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেননা এর মাধ্যমে তারা সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস, অভিন্ন লক্ষ্য ও কর্মসূচিতে আবদ্ধ হয়েছিল। একই সঙ্গে পার্থিব জীবনের মোহ ও পূর্ববর্তী বিদ্বেষ-দূরত্ব দূর করতে সক্ষম হয়েছিল।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

কৃপণতার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

কৃপণতার শাস্তি

ধন-সম্পদ, অর্থ-কড়ি সবকিছুই আল্লাহর দান। কৃপণতা আল্লাহ পছন্দ করেন না, শাস্তিরও বিধান রেখেছেন।

কৃপণতা সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন : ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ যোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা ২৬৯)

‘কিন্তু যখনই তিনি তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদে ওদের ধন্য করলেন, তখন ওরা কৃপণের ন্যায় ধন-সম্পত্তি আঁকড়ে ধরল এবং (আল্লাহর সঙ্গে) অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।’ (সূরা তওবা ৭৬)।

ইসলামি শরিয়তে পরিভাষায় কৃপণতা বলা হয়, যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা কারও ওপর ওয়াজিব; তা না করাকে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কৃপণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কারণ এটিই তোমাদের পূর্বের লোকদের ধ্বংস করেছে। এটিই তাদেরকে রক্তপাত ঘটাতে এবং অপরের মর্যাদাহানি নিজের জন্য বৈধ করতে প্ররোচিত করেছে। এটিই তাদের জুলুম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে তাই তারা জুলুম করেছে। পাপের নির্দেশ দিয়েছে তাই পাপ করেছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে বলেছে তা তারা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছে। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা শুহ বা মনের সংকীর্ণতা, কার্পণ্য থেকে মুক্ত থেকেছে, তারাই সফলকাম হয়েছে।’ –সূরা তাগাবুন: ১৬।

কৃপণতার শাস্তি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে। কোরআনে কারিমের একাধিক আয়াতে এটিকে অকল্যাণকর বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং কোরআনে কৃপণ ব্যক্তিকে কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা স্বর্ণ-রোপ্য জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না। তাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও।’ -সূরা তওবা: ৩৪

এ আয়াতে এটি একটি অকল্যাণকর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কৃপণ ব্যক্তি জান্নাত হতে দূরে, আল্লাহ হতে দূরে, কিন্তু জাহান্নামের নিকটবর্তী।’ –সুনানে তিরমিজি।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথাবিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পার্শ্ব কামড়ে ধরে বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত অর্থ।’ 

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) তিলাওয়াত করেন, ‘আল্লাহ যাদের সম্পদশালী করেছেন অথচ তারা সে সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য করছে, তাদের ধারণা করা উচিত নয় যে সেই সম্পদ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর হবে। অচিরেই কিয়ামত দিবসে যা নিয়ে কার্পণ্য করছে, তা দিয়ে তাদের গলদেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হবে।’ (আল-ইমরান, আয়াত : ১৮০; বুখারি, হাদিস : ১৪০৩)।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ইসলাম সব ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দিয়েছে

আতাউর রহমান খসরু

ইসলাম সব ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দিয়েছে

মুসলিম বিশ্বাসে ইসলাম চূড়ান্ত ধর্ম ও জীবনবিধান হলেও ইসলামী শরিয়ত সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে ইসলাম মানুষকে অভিন্ন মানবিক অধিকার ও মর্যাদা দিয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে মানবিক মূল্যবোধ ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক মানুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সে ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক আল্লাহভীরু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু জানেন, সব খবর রাখেন।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১৩)

মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য : সব মানুষের প্রতি উদার ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে শিখিয়েছে। কেননা মানুষ হিসেবে সবাই সমান। হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে একসময় একটি লাশ নেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁকে বলা হলো, এটা তো এক ইহুদির লাশ। তখন তিনি বলেন, ‘তা কি প্রাণ নয়?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২৫০)

ধর্ম পালনে স্বাধীনতা : ইসলাম সব ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। যদি না তা অন্য ধর্মের মানুষদের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহতে ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে, যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

সবার প্রতি ন্যায়বিচার করা : ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ সুবিচার থেকে বঞ্চিত না হয়—এ ব্যাপারে কোরআনের হুঁশিয়ারি হলো, ‘হে মুমিনরা, আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে, এটাই আল্লাহভীতির নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা যা করো নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৮)

নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা : ইসলাম অপরাধী নয়—এমন সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বিনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, তোমাদের স্বদেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করবেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

জান-মালের সুরক্ষা প্রদান : যেসব অমুসলিম মুসলিম দেশে রাষ্ট্রের আইন মেনে বসবাস করে অথবা ভিসা নিয়ে মুসলিম দেশে আসে, তাদের সুরক্ষা এবং জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না, অথচ তার সুগন্ধ ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৫)

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা : ইসলাম মুসলিম ও অমুসলিম সব প্রতিবেশীর সঙ্গে সাধারণ সুসম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে শর্ত হলো এই সম্পর্ক ঈমান ও ইসলামের পথে অন্তরায় হতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য সব ভালো জিনিস হালাল করা হলো। যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্যদ্রব্য (শর্তসাপেক্ষে) তোমাদের জন্য হালাল, তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাদের জন্য বৈধ।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫)

বিতর্কে সংবেদনশীল থাকা : ঈমান ও ইসলামের প্রয়োজনে কখনো অমুসলিমদের সঙ্গে বিতর্ক করতে হয়, তবে অবশ্যই ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা উত্তমপন্থা ছাড়া কিতাবিদের সঙ্গে বিতর্ক করবে না, তবে তাদের সঙ্গে করতে পারো, যারা তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনকারী। এবং বলো, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ একই এবং আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৪৬)

আরও পড়ুন:


স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

মাথার টুপিতে ৭৩৫টি ডিম নিয়ে গিনেস রেকর্ড! (ভিডিও)

দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু আজ

তিন সন্তানের মাকে গলা কেটে হত্যা!


জাতীয় স্বার্থে ঐক্য : রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পাঁচ মাস পর মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত মদিনায় বসবাসকারী অমুসলিমদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন। যা ইতিহাসে সনদ নামে পরিচিত। সনদে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। যেমন: চুক্তির প্রথম ধারায় বলা হয়, ‘বনু আওফের ইহুদিরা মুসলমানের সঙ্গে মিলে একই উম্মত বিবেচিত হবে। ইহুদি ও মুসলিমরা নিজ নিজ দ্বিনের ওপর আমল করবে। বনু আউফ ছাড়া অন্য ইহুদিরাও একই রকম অধিকার লাভ করবে।’ আট নম্বর ধারায় বলা হয়, ‘চুক্তির অংশিদারদের জন্য মদিনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাত নিষিদ্ধ থাকবে।’ ১১ নম্বর ধারায় বলা হয়, ‘ইয়াসরিবের ওপর হামলা হলে তা মোকাবেলায় পরস্পরকে সাহায্য করবে এবং নিজ নিজ অংশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।’ (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ২০০)

আল্লাহ সবাইকে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতা দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর

নেক সন্তানদের জন্য দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

নেক সন্তানদের জন্য দোয়া

নেক সন্তানদের জন্য যে দোয়া পড়বেন...  

উচ্চারণ: নেক সন্তানদের জন্য দোয়া: রাব্বি হাবলি মিনাস সালেহীন।

বাংলা অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নেককার সৎ-কর্মশীল সন্তান দান কর।

মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনের সকল দোয়া কবুল করার সুযোগ দিন। আমিন।  

আরও পড়ুন:


স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

মাথার টুপিতে ৭৩৫টি ডিম নিয়ে গিনেস রেকর্ড! (ভিডিও)

দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু আজ

তিন সন্তানের মাকে গলা কেটে হত্যা!

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর