অনেকেই সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

অনেকেই সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন

অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে ইনবক্সে চিঠি লিখেন, যেগুলোর অধিকাংশেরই উত্তর দিতে পারি না। কিছুদিন ধরে মৌলিক লেখা ফেসবুকে প্রকাশ করছি না, আগেরগুলোও সরিয়ে নিয়েছি। 

শুধু মাঝে মধ্যে মেসেঞ্জারে ঢুকে চিঠিগুলো পড়ি। উত্তর দিতেই হবে, এরকম কোনো চাপ অনুভব করি না। আর ব্যক্তিগত সমস্যা বিষয়ক কোনো প্রশ্নের উত্তর এমনিতেও দিই না, কারণ এটি আমার আগ্রহ ও এক্সপার্টাইজের বাইরে। কেবল কারও ব্যক্তিগত সমস্যায়, সামাজিক ও দার্শনিক উপাদান খুঁজে পেলে উত্তর লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। 

প্রশ্নকর্তার পরিচয় গোপন রেখে সে-উত্তর মাঝেমধ্যে ফেসবুকে প্রকাশও করি। কারণ একই প্রশ্ন, সমাজের আরও অনেক মানুষের মনে থাকতে পারে। কিন্তু কেউ যখন লিখেন, "প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন না হলে আমার মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই", তখন খুব বিপদে পড়ি। একটি অপরাধবোধ মনের ভেতর উশখুশ করতে থাকে।
 
এ চিঠিটির উত্তরে স্পেসিফিক পরামর্শ দেয়া খুব কঠিন। কিন্তু এর জবাবে কিছু কথা বলতে চাই। অন্যথায় ছেলেটি সত্যি সত্যি মৃত্যুর পথ বেছে নিলে আমি খুব অপরাধবোধে ভুগবো।

আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে শিশুদের যে-প্রক্রিয়ায় লালন-পালন করা হয়, তা বেশ ট্রমাটাইজিং। দশম শ্রেণীর একটি শিশুর কাঁধেও আমরা বিশ্বজয়ের প্রত্যাশা চাপিয়ে দিই, যা আহাম্মকি ছাড়া কিছু নয়। ছেলেটি মাধ্যমিকে রেজাল্ট খারাপ করেছে, অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত জিপিএ পায় নি। এ জন্য তার জীবনে নেমে এসেছে দুর্বিষহ যন্ত্রণা। 

এ যন্ত্রণার উৎস সমাজ ও পরিবার। সমাজ এখন মানুষের সফলতা মাপছে জিপিএ ও চাকুরি-বাকুরি দ্বারা। সমাজের এ দৃষ্টিভঙ্গী, সংক্রমিত হয়েছে পরিবারে, অথবা পরিবারের এ দৃষ্টিভঙ্গী, সংক্রমিত হয়েছে সমাজে। 

পরিবারগুলো এতো বেশি বৈষয়িক হয়ে উঠেছে যে, শিশুরা অবৈষয়িক কোনো শখই পূরণ করতে পারছে না। যে-মানুষ সারাজীবন লাড্ডু ফলিয়েছে, সে-ও তার সন্তানের কাছে লাখ টাকার চাকুরি আশা করছে। যে নিজে নানা পরীক্ষায় ফেল করেছে, সে আশা করছে তার সন্তান সব পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাবে। আমার ‘জিপিএ ফাইভ ও জুতোর ফ্যাক্টোরি’ প্রবন্ধে এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম। 

ছেলেটি ইন্টার পাশ করার পর তার বাবা-মা আর তার খরচ বহন করতে চাচ্ছে না। আমি জানি না ছেলেটির বাবা-মা কেন এ কথা বলছে। তবে এর দুটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করি। এক—  তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই। দুই— তারা চাচ্ছে, ছেলেটি যেন নিজে আয় করে স্বাবলম্বী হয়। 

আমাদের দেশে একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এরকম— কিছু পড়ালেখা করে ফেললে আর সাধারণ কোনো কাজ করা যাবে না। করতে হবে বড় বড় কাজ। কাকে বলে বড় কাজ? কৃষিকাজ কি বড় কাজ নয়? দোকান খুলে পণ্য ও সেবা বিক্রি করা, এটা কি বড় কাজ নয়? ঘুড়ি উড়ানো কি ছোট কাজ? গান গাওয়া কি ছোট কাজ? বড় কাজ কি শুধু লাখ টাকা বেতনের চাকুরি করা? ছেলেটিও সম্ভবত, সমাজের ফাঁদে পা দিয়ে এসব কাজকে ছোট কাজ জ্ঞান করছে। ছেলেটির উচিত, আর্থিক সংকট কাটাতে কোনো ‘ছোট’ কাজে লেগে পড়া। ছোট কাজ করে যখন আর্থিক সচ্ছলতা আসবে, তখন বড় কাজ শুরু করা। 

রও পড়ুন:


জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আর মানসিক যন্ত্রণা একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। অধিকাংশ যন্ত্রণাই মানুষের নিজের উদ্ভাবন। নানা বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে মানুষ যন্ত্রণায় পতিত হয়। স্টয়োক ও বুদ্দিস্ট ফিলোসোফিতে এর কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। পরিবার আমাকে ত্যাগ করেছে, সমাজ আমাকে ভালো চোখে দেখছে না, এ তুচ্ছ কল্পনাগুলো বাদ দিলে যন্ত্রণা কমে যাবে। বাবা-মার আচরণের প্রতি বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়েই ছেলেটি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে বলে মনে করি।

‘মৃত্য ছাড়া উপায় নেই’ এটি একটি নিহিলিস্ট চিন্তা। যারা নিহিলিজম চর্চা করেন, তাদের কাছে এগুলো ডালভাত, কিন্তু নিহিলিস্ট মানুষদের অধিকাংশই ভণ্ড। এরা নিজেরা মরতে চায় না, শুধু অন্যদের মরে যাওয়ায় নির্বিকার থাকতে চায়। কেউ মারা গিয়েছে, এ সংবাদে নিহিলিস্টরা বলবে— তো কী হয়েছে? মরুক! আবার নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দিলে, চিকিৎসাবিদ্যার সকল সুযোগই এরা গ্রহণ করবে। 

জীবন জিনিসটাই একটা অসুখের মতো। পৃথিবীতে কোনো সুখি মানুষ নেই। কখনো ছিল, এমনটিও মনে হয় না। সুতরাং, ছেলেটি নিজেকে অসুখী ভাববে, সেটাই স্বভাবিক। যারা বলে— আমরা সুখি মানুষ, তারা মূলত নিজেদের অসুখগুলো লুকিয়ে রাখার কৌশল আয়ত্ত করেছে। 

এ জন্য মৃত্যুকে, তার আপন গতিতে আসতে দেয়াই ভালো। তাড়াহুড়ো করে মৃত্যুর কাছে পৌঁছানোর কোনো দরকার নেই। একবার মৃত্যু হয়ে গেলে, কোনোভাবেই আর পৃথিবীতে ফেরা যাবে না। আর মৃত্যুচিন্তা বেকার ও অকর্মণ্য মানুষদেরই বেশি গ্রাস করে। কারণ এরাই সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়। কোনো কাজ না পেলে, ছেলেটির উচিত অন্তত বই পড়ার কাজ বেছে নেয়া। সবাইকে ধন্যবাদ। 

(এই লেখাটি ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের। স্যোশাল মিডিয়া পাতায় প্রকাশিত লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

রাউফুল আলম

সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে অপমানিত বোধ করছি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেওয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেওয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।

প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

আরও পড়ুন:


ফতুল্লায় সুজন ফকির হত্যাকাণ্ডে দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

মন্দিরে হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

প্রেম করে বিয়ে করায় ৪ নাতি ও ২ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা

বড় ভাই শেখ জামালের মতো সেনা অফিসার হতে চাইতো শেখ রাসেল: প্রধানমন্ত্রী


বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোনো সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণির নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণির নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি।

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোনোপ্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

কোন বাংলাদেশে আছি আমরা

মেহের আফরোজ শাওন

মুসলিম পরিবারে জন্ম আমার। ছোটবেলায় হুজুর রেখে সিপারা, আমপারা, কুরআন পড়িয়েছেন মা-বাবা। ‘আলিফ বে তে’ পড়ার সময় ‘আঈন’ এবং ‘গাঈন’ অথবা ‘কাফ’ এবং ‘ক্বাফ’ এর উচ্চারণ নিয়ে একটু হিমশিম খেলেও বারবার পড়তে পড়তে শিখে গেলাম। 

স্কুলেও ‘ইসলাম শিক্ষা’ নামক একটি বিষয় ছিল। সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের সেই ক্লাস বাধ্যতামূলক না থাকলেও দু’একজন বন্ধু সেই ক্লাসও করতো। কখনও তাকে আলাদা চোখে দেখতে শেখাননি আমাদের শিক্ষকেরা। তাই ‘সাহা, চক্রবর্তী কিংবা সেন’ কে ‘আহমেদ, রহমান কিংবা হোসেন’ এর সাথে পার্থক্য করিনি কখনও। 

নাচ শিখতাম শুক্লা সরকারের কাছে। আমি মুসলিম বলে আমার এই নৃত্য গুরু নিজ কন্যাদের চেয়ে এক বিন্দু আলাদা করে দেখেননি কোনোদিন। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ই পেয়েছি!

শিল্পী হিসেবে সেই শৈশব থেকেই নাচ গান করেছি ঈদের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পূজার উৎসবেও। আমার সনাতন বন্ধুটিকে যেমন ঈদের সেমাই খেতে আমার বাড়িতে ডেকেছি তেমনি আমিও গিয়েছি নাড়ু খেতে। বাক্সো ভরে নিয়েও এসেছি তার মা’কে বলে। 
কোনোদিন কোনো সাম্প্রদায়িক চিন্তা মাথায় তো আসেনি! সত্যি বলতে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটিই বোঝার দরকার হয়নি আমাদের কখনও। 

কিন্তু আজ এ কোন বাংলাদেশে আছি আমরা! কি শিখাচ্ছি আমাদের সন্তানদের!! কোন বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের হাতে!!!

যে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ‘ঈদ মুবারক’ লিখলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেন কিন্তু একজন মুসলিম ‘শুভ বিজয়া’ লিখলেই তার গুষ্টি উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন শত শত মানুষ! যে বাংলাদেশে অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের কোনো স্বাধীনতা নেই!!

আরও পড়ুন


বঙ্গবন্ধু যেতেই গুলি বন্ধ করল বিডিআর

মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন বিশ্বনবী

সূরা বাকারা: আয়াত ১২৮-১৩৩, আল্লাহর নির্দেশ ও হয়রত ইব্রাহিম (আ.)

কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার’


যে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবে ভেঙে দেয়া হয় তাদের দেবী মূর্তি, লুটপাট করা হয় হিন্দুদের দোকানপাট, রাতের আঁধারে পুড়িয়ে দেয়া হয় হিন্দু জেলেপল্লী আর কিছুই করতে পারিনা আমরা!!!

না… আমার সন্তানদের আমি এই বাংলাদেশ দিয়ে যেতে চাই না। আমি সেই আগের বাংলাদেশ চাই। কি করবো, কিভাবে হবে জানিনা- কিন্তু করতে হবে… কিছু একটা করতে-ই হবে…

লেখাটি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

রউফুল আল

ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি- এই তিনে আবর্তিত এক জাতি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যখন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়, বাংলাদেশের মানুষ খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। ট্রুডো এই কাজটা মূলত করে কানাডার সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্য। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদেরকে মানসিক শক্তি যোগান দেয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দেশের সংখ‍্যালঘুদের সাহস দেয়াকে সে একটা কর্তব‍্য মনে করে। 

নিউজিল‍্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা যখন মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিম কমিউনিটির অনুষ্ঠানে যায়, মুসলমানদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে, আমরা তখন বাহবা দেই। জেসিন্ডা মূলত নিউজিল‍্যান্ডের সংখ‍্যালঘু মুসলিমদের সাহস দেয়ার জন‍্যই এ কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদের উৎসবে গিয়ে ওদেরকে মানসিক শক্তি যোগাতে যায়—তখনই আমরা মেনে নিতে পারি না। সেসব খবরের লিংকে অশ্রাব‍্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকি।
প‍্যারিসে ধর্মের অবমাননা হলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই। ব‍্যথিত হই। অথচ পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মালম্বীদের উৎসব মেনে নিতে পারি না। তাদের ধর্মের আচার মেনে নিতে পারি না। অন‍্য ধর্মের আচারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রকাশ করেতে পারি না। 

একটা স্ট‍্যাটাস দিলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষককে তড়িৎ গতিতে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন‍্য যারা দায়ী ও জড়িত—তাদের কি শাস্তি হয়? প্রশাসন শুধু ষড়যন্ত্রই খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্র, ভাবমূর্তি আর অনুভূতি—এই তিনে আবর্তিত এক জাতি।

বাংলাদেশের সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে আমি কখনো আলাদা শক্তি পাইনি। আলাদা কোন সুযোগ পাইনি। বরং একজন চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিকের চেয়েও বেশি প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমাদের দেশেটাতে যাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও টাকা আছে—তারাই যাচ্ছেতাই করতে পারে। তারাই সকল সুবিধা ভোগ করে। তাদের জন‍্যই বিচার আছে। অন‍্যান‍্যরা চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক হিসেবেই বেঁচে থাকে। কিন্তু আজ যখন অসংখ‍্য হিন্দু ধর্মালম্বীরা কালো ব‍্যাজ ধারণ করেছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করছে—সংখ‍্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অংশ হিসেবে তখন নিজেই অপমানিত বোধ করছি। 

আজীবন স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক কখনোই ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত-জন্মপরিচয়ের জন‍্য কোন প্রকার প্রবঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হবে না। 

লেখাটি রউফুল আলম ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন ফারুকী

মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী।

তিনি লিখেছেন, এ মুহূর্তে করণীয় হলো ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।

তার স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:-

এখন আমরা কি করতে পারি? 
ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া।  

তবে সবচেয়ে বেশী দরকার যেটা সেটা হচ্ছে, প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা। হিন্দু বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে জানানো, তুমি একা নও! এখন তাকে একা বোধ না করতে দেয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ! এই সময় এক জগতবিধ্বংসী ক্ষোভ-অভিমান চেপে বসে। তার হাতটা চেপে ধরে বলি চলেন, ইউ আর নট অ্যালোন। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে সংখ্যালঘু। কেউ রাজনৈতিক সংখ্যালঘু, কেউ সামাজিক সংখ্যালঘু, কেউ অর্থনৈতিক সংখ্যালঘু। ফলে দুর্বলের বেদনা, মজলুমের জ্বালাতো আমাদের না বোঝার কথা না! আল্লাহ যেনো আমাদেরকে সকল প্রকার মজলুমের বেদনা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করেন। 

অন্য দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানকে অত্যাচার করলে আমাদের হৃদয় যেমন ব্যথিত হয়, নিজের দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বা অন্য কেউ অত্যাচারিত হলেও আমাদের হৃদয় যেনো সেটা একই ভাবে উপলব্ধি করতে পারে, আল্লাহ যেনো আমাদের এই তৌফিক দান করেন।

লেখাটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

মারুফ কামাল খান

একটা মানুষ একজীবনে দেশ-জাতির জন্য আর কী করতে পারে?

(ছবি বাঁ-দিক থেকে) বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), মারুফ কামাল খান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে তাঁর বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও কৌশল নিয়েও আছে নানা ভিন্নমত। রাজনীতির মানুষদের সাথে দ্বিমত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো মানুষ ফেরেশতা নয়। 

ভুল, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বাইরে নয় কেউই। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্যাভিসারী মুক্তিযুদ্ধে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে তাঁর ভূমিকাই বোধ করি তাঁর বাকি জীবনের আর সব কিছুই ছাপিয়ে যায়। একটা মানুষ একজীবনে দেশের জন্য, জাতির জন্য এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারে?

আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধে বাঘা সিদ্দিকী নামে পরিচিত হয়েছিলেন দেশজুড়ে শুধু নয়; আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের সুবাদে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছিল তাঁর সাহস ও বীরত্বের গাথা। কেন্দ্রীয় কমান্ড এবং ব্রিগেড ও সেক্টরের বাইরে নিজের নামে এক বিশাল যোদ্ধৃবাহিনী গড়ে তিনি লড়েছেন। 

বাংলাদেশের বিজয়ের ইতিহাস থেকে কাদেরিয়া বাহিনীর নাম তো কেউ কখনো মুছতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাইরে তিনি জীবিত অবস্থায় 'বীরউত্তম' খেতাবে ভূষিত একমাত্র বেসামরিক অধিনায়ক।

সময় কাউকে ক্ষমা করেনা। বয়স হয়েছে এককালের অসম সাহসী এই দুর্ধর্ষ বীরযোদ্ধারও। শুনলাম তিনি গুরুতর অসুস্থ। এমন একজন জাতীয় বীরের অসুস্থতা নিয়ে সংবাদ-মাধ্যমে তোলপাড় করা খবর নেই। তাঁর রোগের ও চিকিৎসার বিবরণ সম্বলিত নিয়মিত 'হেলথ বুলেটিন' প্রচার হওয়া উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় প্রচার-মাধ্যমে। 

আরও পড়ুন:


গাজীপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পার্লার কর্মীকে গণধর্ষণ

পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পূজায় সহিংসতা সৃষ্টি করেছে: কাদের

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩

ঘোড়ার খামারে বিয়ে করছেন বিল গেটসের মেয়ে


অথচ তার কিছুই নেই। বরং ঘটনাচক্রে সরকারি পদ-পদবিতে আসীন অর্বাচীনদের বচনও এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই হোক তাঁর উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এই রাষ্ট্রেরই কর্তব্য। যে রাষ্ট্র স্থাপনের যুদ্ধে তিনি নিজের জীবন ও যৌবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁর আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘ পরমায়ুর জন্য আল্লাহ্'র কাছে জানাই আন্তরিক মিনতি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর