গাজীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মোহাম্মদ আল আমীন, গাজীপুর

গাজীপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

গাজীপুরের টঙ্গী আউচপাড়া এলাকা থেকে ফারজানা আক্তার তুলি (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন: 


সমুদ্রে নামতে মানতে হবে এই ১০ নির্দেশনা

হাতিয়ায় দেশীয় বন্দুক, তাজা গোলা ও পাইরোটেকনিক উদ্ধার

তিন কিউই ক্রিকেটারের করোনা শনাক্ত, পাকিস্তান সিরিজ বাতিল

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে মেয়র তাপসের কুশপুত্তলিকা দাহ


news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

বিয়ের তিন মাস পর সন্তান প্রসব, সাবেক প্রেমিকের নামে মামলা

অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের তিন মাস পর সন্তান প্রসব, সাবেক প্রেমিকের নামে মামলা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিয়ের প্রায় ৩ মাস পর এক নববধূ সন্তান প্রসব করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। জানা গেছে ভুক্তভোগী তরুণীর (১৭) সঙ্গে এক বছর আগে মো. রাসেল (২০) নামে যুবকের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। সে উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাসেল তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল ভিকটিমের সঙ্গে কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে। ভিকটিম রাজি না হলে ভিকটিমকে তার শয়ন কক্ষে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

এদিকে এই ঘটনায় রোববার বিকালে সন্তান প্রসব নিয়ে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চরজব্বর থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চরজব্বর থানার ওসি মো. জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি ভিকটিম প্রথমে গোপন করে রাখে। পরবর্তীতে গত ২-৩ মাস পূর্বে ভিকটিমের অন্যত্র বিয়ে হয়। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই তরুণী সন্তান প্রসব করেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

পাসপোর্ট অফিসে বানিজ্যমন্ত্রীর ভুয়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আটক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

পাসপোর্ট অফিসে বানিজ্যমন্ত্রীর ভুয়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আটক

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বানিজ্যমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারনা করার সময় রাসেল গোলন্দাজ(৩০) নামে একজন আটক হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকালে দুইজন ব্যক্তির পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসে বসে উপ-পরিচালকের সুপারিশ করলে এ নিয়ে সন্দেহ হয় এবং তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রতারক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। আটক রাসেল গোলন্দাজের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। 

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকালে পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য দুইজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে রাসেল গোলন্দাজ  অফিসে আসেন। এ সময় তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দুইজন ব্যক্তির পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে। তার কথাবার্তায় অসংলগ্ন মনে হলে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভারতীয় হাই কমিশনার কর্তৃক এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসায়ীর আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। পরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে দেখে প্রতারক রাসেল কোন দেশকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। 

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


 

তিনি আরো জানান, পাসপোর্ট করতে আসা জাল-জালিয়াতির সাথে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। 

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল জানান, প্রতারণার অভিযোগে রাসেল গোলন্দাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

টিভি দেখতে গিয়ে ধর্ষিত হলো শিশু!

অনলাইন ডেস্ক

টিভি দেখতে গিয়ে ধর্ষিত হলো শিশু!

এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুল বারেক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় এই ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


আরও পড়ুন:

টিকা নিতে অস্বীকার করায় কোচকে বহিষ্কার

কাতারে শুরা কাউন্সিলে ২ নারী নিয়োগ

দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে যা বললেন সাকিব

নাইজেরিয়ার বন্দুকধারীদের হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে টেলিভিশন না থাকায় বারেকের বাড়িতে প্রতিদিন টেলিভিশন দেখতে যায় মেয়েটি। সপ্তাহখানেক আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বারেক। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাবা জানান, ঘটনার গত রোববার আমার মেয়ে খেলার করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। জিজ্ঞেস করলে ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলে মেয়ে।

এই ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বারেককে আসামি করে দামুড়হুদা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আজ সকালে অভিযান চালিয়ে নিজবাড়ি থেকে বারেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃত বারেককে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত 

পরবর্তী খবর

বোনকে উত্ত্যক্তকারির টাকা নিক্ষেপ, প্রতিবাদ করায় ভাইকে হত্যা!

অনলাইন ডেস্ক

বোনকে উত্ত্যক্তকারির টাকা নিক্ষেপ, প্রতিবাদ করায় ভাইকে হত্যা!

দীর্ঘ দিন যাবত মঈনুল ইসলামের(২০) ছোট বোন সাগিরা আক্তারকে (১৬) প্রতিবেশী হাকিম হোসেন উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সাগিরা আক্তারের বড় ভাই মঈনুলসহ পরিবারের লোকজন হাকিমকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু হাকিম তাদের কোনো কথায় পাত্তা দিচ্ছিলেন না। বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এবার উত্ত্যক্তকারি কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে মঈনুল, তার ভাই রমজান, মা ময়নাসহ পরিবারের পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় মঈনুলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোববার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জয়পুরহাটে  সদর উপজেলার চকবরকত ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) অভিযুক্ত হাকিম হোসেনকে পাঁচবিবি উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  গ্রেফতার হাকিম হোসেন একই গ্রামের মো. মোস্তাফার ছেলে।

গত ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাগিরা তার মায়ের কাছে ২০ টাকা চান। তখন হাকিম এ কথা শুনে সাগিরাকে লক্ষ্য করে ১০০ টাকার নোট ছুড়ে দেন। সাগিরা হাকিমের দেওয়া ১০০ টাকা নেননি। তখন মঈনুল হাকিমকে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাকিম তার ঘর থেকে ধারালো কাস্তে এনে মঈনুল, তার ভাই রমজান, মা ময়নাসহ পরিবারের পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করেন।

আরও পড়ুন:


ইভ্যালিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব: বিচারপতি মানিক

করোনা: দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলো তরুণী!

ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাব ডিজি’র পদোন্নতি


পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মঈনুল ইসলামসহ আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে মঈনুল ও আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মঈনুল মারা যান।

চকবরকত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুলতান মাহমুদ বলেন, সোমবার জয়পুরহাট থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত মঈনুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর হাকিম হোসেন পালিয়ে যান। মঙ্গলবার সকালে তাকে পাঁচবিবি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ভূমি জালিয়াতির আখড়া কেরানীগঞ্জ

রেকর্ড বহির্ভূত জাল দলিলেই হচ্ছে নামজারি

অনলাইন ডেস্ক

ভূমি জালিয়াতির আখড়া কেরানীগঞ্জ

জমিজমা নিয়ে হয়রানি কমাতে সরকার ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনসহ নানা সংস্কার পদক্ষেপ নিলেও ভূমি অফিসগুলোর সর্ষের ভূত কিছুতেই যাচ্ছে না। পদ্মা সেতুর কারণে জমির দাম বাড়ায় কেরানীগঞ্জের ভূমি অফিসগুলো যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দালাল ও কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে একজনের জমি বিক্রি করে ফেলছেন আরেকজন। জমির দালাল, দলিল লেখক, ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মচারীর হাতব্যাগেই থাকছে সাব-রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সিলমোহর। নকল স্বাক্ষর ও সিলমোহরে এক ঘণ্টায় তৈরি হচ্ছে জাল দলিল। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত না হলেও সেই দলিলের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজনের জমি নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে।

এদিকে জমি হারিয়ে শত শত মানুষ দ্বারস্থ হচ্ছেন সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে। জমি উদ্ধারে প্রতি মাসে জমা পড়ছে অসংখ্য মিসকেস।

ভূক্তভোগীরা বলছেন, টাকা খরচ করলেই যে কোনো জমির দলিল নিজের নামে করিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। নামজারিও হচ্ছে। জমি নিয়ে যত বেশি ঝামেলা, তত বেশি মিস কেস, তত বেশি আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি জালিয়াতিতে নেমে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন কেরানীগঞ্জের অনেকে। একইসঙ্গে তারা বিত্তশালী করেছেন জালিয়াতিতে সহযোগিতাকারী ভূমি অফিসের দালাল ও দুর্নীতিগ্রস্থ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে পৈত্রিক ভিটা হারানো কয়েকজনের অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায়, শুধু হতদরিদ্রের জমি নয়, একটি কোম্পানির ক্রয়কৃত প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৪৫ শতক জমি জাল দলিল করে নিজেদের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন উপজেলাজুড়ে ভূমি জালিয়াতির হোতা হিসেবে পরিচিত মো. আবু সাঈদ ও মো. আবু হোসেন নামের দুই ভাই। দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত না হলেও ভূমি অফিসের দালালদের সহযোগিতায় ওই দলিলের ভিত্তিতেই ইকুরিয়া মৌজার ওই ৪৫ শতক জমি নিজেদের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন। একইসঙ্গে জমিটি আবার প্রকৃত মালিকের দখলে যাবার আগেই তা বিক্রির পায়তারা করছেন।

শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৫ জুন ৫৮৯৭ নম্বর আমমোক্তার দলিলের মাধ্যমে হানিফ হাওলাদারকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন ইকুরিয়া পূর্ব মধ্যপাড়ার আবু সাঈদ ও আবু হোসেন। ওই বছরের ২৯ জুন আম-মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে হানিফ হাওলাদার ইকুরিয়া মৌজায় ২৩৭ নম্বর আরএস খতিয়ানের (এসএ দাগ-১৩) ১৪,১৫,১৬,১৭ নম্বর আরএস দাগের ৪৫ শতাংশ জমি ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কাছে সাফ কবলা দলিলমূলে (দলিল নম্বর ৯১৩৯) বিক্রি করেন। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমিটি ওই কোম্পানির অনুকূলে নামজারি হয়। খরিদসূত্রে মালিক হয়ে ৪৬ নম্বর জোনে নামজারি ও জমাভাগ করে তখন থেকে মালিকানা ভোগ ও দখলে আছে ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেড।  নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালে হঠাৎ করে জমিটি আবার আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে নামজারি হয়ে যায়।

সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই ৫৭৮৪ নম্বর বিনিময় দলিলের ভিত্তিতে ওই নামজারিটি হয়েছে, যে দলিলে দেখানো হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভলপমেন্ট লি. (ইডব্লিউপিডি) নামের একটি কোম্পানিকে সম পরিমান জমি অন্য কোথাও দিয়ে ইকুরিয়ার ওই ৪৫ শতক জমি পেয়েছেন ওই দুই ভাই। নামজারি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সানজিদা পারভীন, কানুনগো, নামজারী সহকারী এবং শুভাঢ্যা ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাছান আহমেদ। দলিলের রেকর্ড খুঁজতে কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে চোখ কপালে ওঠে। যে দলিলের ভিত্তিতে আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে ওই ৪৫ শতক জমির নামজারি হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডে নেই তার অস্তিত্ব। তবে একই তারিখের এবং একই সিরিয়ালের (৫৭৮৪) একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ডভুক্ত আছে, যা অন্য একটি আমমোক্তার দলিল, কোনো বিনিয়ম দলিল নয়।

সাব-রেজিস্ট্রার মো. শাহাজাহান আলী নিশ্চিত করেন, রেকর্ডভুক্ত ৫৭৮৪ নম্বর দলিলটি আবু সাঈদ ও আবু হোসেন নামের কারো নয়। এটি ইডব্লিউপিডি থেকে শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে দেওয়া আমমোক্তার দলিল। রেকর্ডহীন দলিলের ভিত্তিতে কীভাবে আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের নামে নামজারি হলো তা ভূমি অফিস বলতে পারবে।

এদিকে জমিটির প্রকৃত মালিক খুঁজতে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে নিবন্ধন বইয়ে দেখা যায়, ইকুরিয়া মৌজায় ২৩৭ নম্বর আরএস খতিয়ানের ৪৬ নম্বর জোনের এসএ দাগ-১৩, ১৪,১৫,১৬,১৭ নম্বর আরএস দাগের জমির মালিক ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেড। অথচ, আবু সাঈদ ও আবু হোসেন ইডব্লিউপিডি’র কাছ থেকে জমিটি বিনিময়সূত্রে পেয়েছেন বলে তাদের জাল দলিলে উল্লেখ করেছেন।

এক প্রতিষ্ঠানের জমি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে বিনিময় করে নেওয়া সম্ভব এবং সেই নামজারির প্রস্তাবে কীভাবেই বা স্বাক্ষর হয় এমন প্রশ্নে ওই অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এখানে বড় ধরনের কোনো ভুল হয়তো হয়ে গেছে। যিনি নামজারির প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন, তিনি হয়তো অফিসের বিশ্বস্ত কারো সুপারিশে সরল বিশ্বাসে এটা করেছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন মাঝেমধ্যেই হাতে এসে পড়ে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি দেখেশুনে নামজারির প্রস্তাব দিতে।

সরেজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিটি বিক্রির জন্য সম্প্রতি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন আবু সাঈদ ও আবু হোসেন। জমিটির কাছে গেলে হাজির হন স্থানীয় স্বপন আলী শেখ, শামসুল হক ও রমজান আলীসহ অনেকে। তারা বলেন, এতদিন শুনেছি এই জমি ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচার নামের একটি কোম্পানির। এখন শুনছি এটা আবু সাঈদ ও আবু হোসেনের। এ ব্যাপারে আবু হোসেনকে পাওয়া না গেলেও কথা হয় আবু সাঈদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমার জমি আমি উদ্ধার করেছি। এখন বিক্রি করব। ১৫ জন থেকে টাকা নিয়েছি, তবে কাউকে এখনো দলিল দেইনি। পূর্ব পুরুষের দলিল দেখিয়ে বলেন, আমি জীবনে কাউকে আমমোক্তার নিয়োগ করিনি। জমিও বিক্রি করিনি। নতুন কোনো দলিলও করিনি। বাপ-দাদার জমি এখন নিজেদের নামে খারিজ করেছি।

এদিকে নতুন দলিল না করা ও আগে জমি বিক্রি না করা নিয়ে তার বক্তব্যের অসত্যতার প্রমাণ পূর্বে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দফতর থেকে মিললেও আমমোক্তার নিয়োগ না করার বিষয়টি জানতে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে পাওয়া যায়, ২০০৬ সালে আবু সাঈদের দেওয়া আম-মোক্তার দলিলের প্রমাণ। ২০০৬ সালের ফিস বইয়ের ৮৬৩৭ ক্রমিক নম্বরে লিপিবদ্ধ ৮৫৯৭ নম্বর দলিলে মো. আবু সাঈদ আম-মোক্তার নিয়োগ করেন।

এদিকে যে জাল দলিলের ভিত্তিতে ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের নামজারি কেটে ওই দুই ভাইয়ের নামে নামজারি হয়েছে, সেই দলিলে একাধিক স্থানে সাব-রেজিস্টারের স্বাক্ষরে মিল নেই।

আরও পড়ুন:


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইপিএল নিয়ে জুয়া, ৩ জনের সাজা

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বোমা হামলা মামলার রায় আজ

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্প

যুবলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও ফাঁস! মামলা তুলে নিতে নারীকে হুমকি


সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দলিলের সবগুলো স্বাক্ষরই জাল। তবে ওই ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা। স্বাক্ষরের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) কানুনগো মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ওই নামজারির প্রস্তাবে অফিসের সবারই স্বাক্ষর আছে। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য দলিল আসে নামজারি প্রস্তাবের জন্য। সব যাচাই করা সম্ভব হয় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ওই দলিল রেকর্ডভুক্ত কিনা সেটাও দেখা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে মিসকেস করলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) বর্তমান সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রিয়াদ বলেন, দলিল জাল হলে নামজারিরও ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী মিসকেস করলে আমরা দ্রুত সমাধান দেব। প্রতি মাসে প্রচুর মিসকেস জমা পড়ছে। ভূমির তথ্য পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে তখন তথ্য যাচাই সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে প্রায় ১৫ বছর আগে ক্রয়, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সূত্রে জমিটির মালিকানা ভোগ করা ঢাকা মাল্টি এগ্রিকালচারাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলছেন, কারো মালিকানার জমি অন্যের নামে নামজারির আগে আইনগতভাবে নোটিশ দিতে হয়। এতো বড় একটা জমি, অথচ আমাদেরকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি!

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর