সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট
সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট

Other

সংস্কারের অভাবে বেহাল রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। করোনার জন্য দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় এখন একে বারে স্থবির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। জরাজীর্ণ ভবনের খসে পড়ছে প্ল্যাস্টার। এরই মধ্যে ভেঙ্গে পরেছে সিলিংও।

শেওলা জমে রঙ নষ্ট হয়েছে ভাস্কর্যগুলোর।

বাইরের অবস্থা ভালো হলেও ভেতরের অবস্থা একেবারে শোচনীয়। কর্তৃপক্ষের নজড়দাড়ি না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংরক্ষিত সংস্কৃতির ও ঐতিহ্য। তাই উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে পার্বত্যাঞ্চলের ১০ভাষাভাষীর ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও
বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (বর্তমান নাম- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট) প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ পাস হওয়ার পর ইনস্টিটিউট একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। আইনের আলোকে ইনস্টিটিউটের বর্তমান নাম রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট।

আরও পড়ুন:


চাকরিচ্যুত সংবাদিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন

জাফরুল্লাহ এরশাদের দোসর: রিজভী

গুলশান লেকে নৌকাডুবি, যাত্রীরা সাঁতরে উঠে গেল পাড়ে


বর্তমানে তা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত একটি
বিভাগ হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পাঁশে ভেদভেদী নামক স্থানে ৭.৬৫ একর জমির উপর এ ইনস্টিটিউট অবস্থিত। ইনস্টিটিউটের দু’তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, ত্রিতলবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন একটি জাদুঘর ভবন, একটি ত্রিতলবিশিষ্ট ট্রেনিং সেন্টার কাম  আর্টিস্ট হোস্টেল ভবন এবং ২৫০ আসন বিশিষ্ট ০১টি অডিটরিয়াম রয়েছে। ইনস্টিটিউটের ৪টি শাখা রয়েছে।

শাখা গুলো হলো- প্রশাসন ও অর্থ শাখা, সংস্কৃতি শাখা, গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা ও জাদুঘর ও লাইব্রেরি শাখা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ এর ৬ এবং ৭ ধারা মোতাবেক সরকারের ইনস্টিটিউটের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাহী পরিষদ রয়েছে।

একটা সময় বছর জুড়ে এ ইনস্টিটিউটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য সংষ্কৃতি গোষ্ঠীর বিভিন্ন আয়োজনে মাতোয়া থাকলেও এখন ভিন্ন চিত্র। করোনার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে স্থবির। আনাগোনা কমেছে সংষ্কৃতি কর্মীদের। তাই অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে ইনস্টিটিউট।

রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রুনেল চাকমা বলেন, অডিটোরিয়ামটির ভেতরে কিছু কিছু জায়গায় সিলিং ভেঙে পরছে কথাটা সত্য।

এছাড়া আরও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অবগত করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটে এখন আগের মতো কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে যখন সংস্কৃতিক প্রোগ্রাম শুরু হবে তখন শঙ্কা দেখা দেবে। তাই আপাতত অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে ইনস্টিটিউটে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি এখনো।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের আহ্বায়ক রেমলিয়ানা পাংখোয়া
বলেন, ‘অডিটোরিয়ামটি ভেঙ্গে নতুন করে সেখানে ‘অফিস কাম মাল্টিফাংসনাল ভবন’ নির্মাণ করা হবে। সে কারণে
অডিটোরিয়াম ভবনটি সংস্কার না করে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একজন সচিব আসার কথা রয়েছে। তিনি এসে পরিদর্শন করার পর পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

news24bd.tv তৌহিদ

সম্পর্কিত খবর

;