জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার প্রত্যাশার নেতৃত্বে (প্রেসিডেন্সী অব হোপ) আমাদেরকে টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বোজকিরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত  গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের  মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে।

আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাংখার কেন্দ্র’ মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন: “আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে।” 

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত  বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে।

আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১’ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।
এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

জনাব সভাপতি,

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি-

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।  
 
তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর  টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।   

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।  

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।  

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

আরও পড়ুন


সূরা বাকারা: আয়াত ৮৯-৯৩, মহানবী (সা.) কে ইহুদীদের অস্বীকার

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন শেখ হাসিনা

‘শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনাম হিন্দুদের ঐক্যে চিড় ধরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে : তথ্যমন্ত্রী


সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।

 শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
সূত্র: বাসস।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

অনলাইন ডেস্ক

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ বুধবার দুপুর দুইটায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।   

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, পরীক্ষার সূচি সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই আজ সকালে এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২০২১ সালের দাখিল পরীক্ষার সময়সূচি আলাদাভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ নভেম্বর দাখিলের কোরআন মজিদ ও তাজবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ নভেম্বর হাদিস শরিফ, ২১ নভেম্বর ইসলামের ইতিহাস, রসায়ন, তাজবিদ নসর ও নজম (মুজাব্বিদ গ্রুপ) এবং তাজবিদ (হিফজুল কোরআন গ্রুপ) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

আরও পড়ুন:


নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এবার করোনার কারণে পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে আগামী নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ও মাত্র তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণও পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশনা এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

দিলীপ মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আশ্রাফ হোসেন (৫০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আশ্রাফ বন্দর উপজেলার সালেনগর এলাকার মৃত মুসা মিয়ার ছেলে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন:


যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম জানান, ১৪ অক্টোবর বন্দর থানার একটি মাদক মামলায় আদালত আশ্রাফ হোসেনকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আশ্রাফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন। এছাড়া তার শ্বাসকষ্টের রোগও ছিল। রাতে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। 

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার শূন্য বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালুর পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। 

সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম’ আয়োজিত বিএসএফ সংলাপে গতকাল এ কথা বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে মূল দুটি বিভাগ রয়েছে; এর একটি হচ্ছে জননিরাপত্তা বিভাগ এবং অপরটি সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ। এই দুই বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে বেশ কয়েকটি অনুবিভাগ করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরেকটি বিভাগ যুক্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম। আমরা জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম ওভাবে শুরু করতে পারিনি। এখনও পরিকল্পনা চলছে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। হয়তো আরও কিছু দিন সময় লাগবে।’


আরও পড়ুন: 

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে টাইগার শিবিরে বড় দুটি দুঃসংবাদ


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যারা ভোটার তাদেরই কেবল এনআইডি দেওয়া হতো। আমাদের নির্বাচন কমিশন ১৮ বছরের পর থেকে এনআইডি দিতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শূন্য বয়স থেকে এনআইডি চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার কিছু আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

সচিবালয়ে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

১০ মিনিটের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

অনলাইন ডেস্ক

১০ মিনিটের সংঘর্ষে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন এলাকা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিএনপি সম্প্রীতি সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশও টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। 

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তারা প্রতিবাদ জানাতে একটা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শান্তিপূর্ণ র‌্যালি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। আমরা আগে চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার শুরু করে। মিছিলে অতর্কিত হামলা করে পুলিশ। ৬০ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ 

মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল আহাদ বলেন, বিএনপির সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয়নি। তাদের মিছিলের অনুমতি ছিল না। তবু তারা মিছিল করছিল। মিছিল থেকে বিএনপিই পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের ধাওয়া দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৩০ জনের মতো বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শান্তি শোভাযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। এ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছিল পুলিশের সাঁজোয়া যানও। সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নিতে শুরু করেন। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক বন্ধ না করার অনুরোধ জানানো হয়। সড়ক বন্ধ করা হবে না বলে নেতারা জানান। কিন্তু সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় বিএনপি অফিসের সামনে ছোট একটি ট্রাকে শান্তি সমাবেশ শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতারা অংশ নেন। মির্জা ফখরুল সমাবেশ থেকে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে পৌঁছলে বাধে সংঘর্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়াপল্টনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে একটি মিছিল নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় প্রথমে স্কাউট ভবনের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন মিছিলকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যানারের সঙ্গে থাকা বাঁশ ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় অনেক নেতা-কর্মী আহত হন।

আরও পড়ুন:


যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


এদিকে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে আরেকটি অংশ নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিচে ও উপরে আটকা পড়ে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নেতা-কর্মীরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ১০ মিনিটের সংঘর্ষে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে কোনো যানবাহন ভাঙচুর হয়নি।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

অনলাইন ডেস্ক

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আবদুল বাসেত মজুমদারের ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর