করোনা মোকাবিলায় জাতিসংঘে ৬ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

করোনা মোকাবিলায় জাতিসংঘে ৬ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুঃখজনক হলেও এই করোনা মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য ৬টি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার প্রত্যাশার নেতৃত্বে (প্রেসিডেন্সী অব হোপ) আমাদেরকে টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বোজকিরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত  গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৬টি প্রস্তাব হল -

প্রথমত

কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না। তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর  টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত

এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।   

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত

মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।  

চতুর্থত

কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

আরও পড়ুন


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৯-৯৩, মহানবী (সা.) কে ইহুদীদের অস্বীকার

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন শেখ হাসিনা

‘শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনাম হিন্দুদের ঐক্যে চিড় ধরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’


পঞ্চমত

মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। 

ষষ্ঠত

রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

অনলাইন ডেস্ক

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ বুধবার দুপুর দুইটায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।   

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, পরীক্ষার সূচি সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই আজ সকালে এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২০২১ সালের দাখিল পরীক্ষার সময়সূচি আলাদাভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ নভেম্বর দাখিলের কোরআন মজিদ ও তাজবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ নভেম্বর হাদিস শরিফ, ২১ নভেম্বর ইসলামের ইতিহাস, রসায়ন, তাজবিদ নসর ও নজম (মুজাব্বিদ গ্রুপ) এবং তাজবিদ (হিফজুল কোরআন গ্রুপ) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

আরও পড়ুন:


নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এবার করোনার কারণে পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে আগামী নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ও মাত্র তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণও পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশনা এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

দিলীপ মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আশ্রাফ হোসেন (৫০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আশ্রাফ বন্দর উপজেলার সালেনগর এলাকার মৃত মুসা মিয়ার ছেলে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন:


যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম জানান, ১৪ অক্টোবর বন্দর থানার একটি মাদক মামলায় আদালত আশ্রাফ হোসেনকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আশ্রাফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন। এছাড়া তার শ্বাসকষ্টের রোগও ছিল। রাতে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। 

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

এনআইডি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার শূন্য বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালুর পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। 

সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম’ আয়োজিত বিএসএফ সংলাপে গতকাল এ কথা বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে মূল দুটি বিভাগ রয়েছে; এর একটি হচ্ছে জননিরাপত্তা বিভাগ এবং অপরটি সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ। এই দুই বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে বেশ কয়েকটি অনুবিভাগ করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরেকটি বিভাগ যুক্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম। আমরা জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম ওভাবে শুরু করতে পারিনি। এখনও পরিকল্পনা চলছে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। হয়তো আরও কিছু দিন সময় লাগবে।’


আরও পড়ুন: 

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে টাইগার শিবিরে বড় দুটি দুঃসংবাদ


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যারা ভোটার তাদেরই কেবল এনআইডি দেওয়া হতো। আমাদের নির্বাচন কমিশন ১৮ বছরের পর থেকে এনআইডি দিতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শূন্য বয়স থেকে এনআইডি চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার কিছু আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

সচিবালয়ে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

১০ মিনিটের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

অনলাইন ডেস্ক

১০ মিনিটের সংঘর্ষে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন এলাকা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিএনপি সম্প্রীতি সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশও টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। 

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তারা প্রতিবাদ জানাতে একটা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শান্তিপূর্ণ র‌্যালি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। আমরা আগে চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার শুরু করে। মিছিলে অতর্কিত হামলা করে পুলিশ। ৬০ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ 

মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল আহাদ বলেন, বিএনপির সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয়নি। তাদের মিছিলের অনুমতি ছিল না। তবু তারা মিছিল করছিল। মিছিল থেকে বিএনপিই পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের ধাওয়া দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৩০ জনের মতো বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শান্তি শোভাযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। এ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছিল পুলিশের সাঁজোয়া যানও। সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নিতে শুরু করেন। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক বন্ধ না করার অনুরোধ জানানো হয়। সড়ক বন্ধ করা হবে না বলে নেতারা জানান। কিন্তু সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় বিএনপি অফিসের সামনে ছোট একটি ট্রাকে শান্তি সমাবেশ শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতারা অংশ নেন। মির্জা ফখরুল সমাবেশ থেকে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে পৌঁছলে বাধে সংঘর্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়াপল্টনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে একটি মিছিল নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় প্রথমে স্কাউট ভবনের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন মিছিলকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যানারের সঙ্গে থাকা বাঁশ ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় অনেক নেতা-কর্মী আহত হন।

আরও পড়ুন:


যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


এদিকে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে আরেকটি অংশ নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিচে ও উপরে আটকা পড়ে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নেতা-কর্মীরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ১০ মিনিটের সংঘর্ষে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে কোনো যানবাহন ভাঙচুর হয়নি।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

অনলাইন ডেস্ক

জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী বাসেত মজুমদার আর নেই

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আবদুল বাসেত মজুমদারের ছেলে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর