কালো আপেল, লাল কলা এবার আসেন আমরা কালো মোরগ দেখি

শান্তা আনোয়ার

কালো আপেল, লাল কলা এবার আসেন আমরা কালো মোরগ দেখি

শান্তা আনোয়ার

এই কালো মোরগ পাওয়া যায় ইন্দোনেশিয়াতে। ইন্দোনেশিয়াতে এই মোরগকে ডাকা হয় Ayam Cemani বলে। এদের আদি নিবাস ছিলো জাভা দ্বীপপুঞ্জে। ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় ayam মানে মুরগী আর জাভা ভাষায় cemani অর্থ সম্পূর্ন কালো। ইন্টারনেটে একে গথ মুরগীও বলা হয়। এই মুরগীর এমন একটা জিন আছে যার ফলে পুরো শরীরে হাইপারপিগমেন্টেশন হয়। শুধু পালক আর চামড়া না এই মুরগীর মাংসও কালো।

১৯৯৮ সালে প্রথম ইউরোপে এ জাতের মোরগ আনা হয়। সৌখিনদের কাছে এই জাতের মোরগ খুবই জনপ্রিয়। তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রতুলতার কারণে এক একটি মোরগের দাম পড়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকা।

দেখতে যাই হোক অথবা দাম যেমনই হোক খেতে কেমন লাগে জানার ইচ্ছা থাকলো। যে সমস্ত ভাই বোনেরা ইন্দোনেশিয়া থাকেন, তারা একটু আওয়াজ দিবেন এই কালা মুর্গির স্বাদ কেমন তা নিয়ে।
 
আর হ্যাঁ একটা তথ্য আমরা অনেকেই  হয়তো জানি না। মোরগের কেন ঝুঁটি হয়?  মোরগের ঝুঁটিতে তাকে খুব সুন্দর লাগে। অনেকেরই ধারণা  সৌন্দর্যের জন্যে ঝুঁটি আছে মোরগের কিন্তু এই ঝুঁটির কাজ কী?
 
মোরগের শরীরে কোন ঘামের গ্রন্থি নাই। তাই সে ঘাম ঝরিয়ে তার শরীরকে ঠাণ্ডা করতে পারেনা। যখন মোরগের শরীর গরম হয় তখন মোরগের শরীরের রক্ত এই ঝুটিতে আসে। এই ঝুটি রক্ত ঠাণ্ডা করতে পারে। রক্ত আসে জন্যই ঝুটির রঙ থাকে উজ্জ্বল লাল।

লেখাটি শান্তা আনোয়ার-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ( লেখাটির আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত   

পরবর্তী খবর

জাস্টিন ট্রুডো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীকে

শওগাত আলী সাগর

জাস্টিন ট্রুডো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীকে

যে কোনো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় হচ্ছে অর্থ, পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়। নারীবাদী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন তিন নারীর উপর। 

কানাডার ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে খ্যাত ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড অর্থমন্ত্রী এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অনিতা আনন্দ। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক নারী ম্যালেনি জুলি। 

কানাডার অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা আর  বহিঃর্বিশ্বে কানাডাকে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ তিন নারীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

লেখাটি শওগাত আলী সাগর -এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

তরুণদের দল নিয়ে এখনই উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম

মারুফ কামাল খান সোহেল

তরুণদের দল নিয়ে এখনই উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর সদ্যসাবেক ছাত্রনেতারা তরুণদের এক রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন নির্যাতীত সেক্টর কমান্ডারকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত সেই জাসদ হঠকারি পথ ধরে অনেক ঘটনার জন্ম দিলেও রাজনীতিতে সফল কিংবা বিজয়ী হতে পারে নি।

আজ একই ধারায় তরুণদের  আরেকটি দল জন্ম নিলো। এদেরকে নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা কিংবা উপসংহারে পৌঁছা থেকে বিরত রইলাম।

তাদের ব্যাপারে আমার কৌতুহল আছে, তবে প্রত্যাশা কিংবা বিদ্বেষ নেই কোনো। আর ভবিষ্যদ্বাণীও তুলে রাখছি ভবিষ্যতের জন্যই।

তবে এরা জাতিসংঘের তদারকি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে যে বক্তব্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সে বক্তব্যে তারা কতোটা অটল থাকতে পারে সেটাই প্রথম দেখার বিষয়।

লেখাটি মারুফ কামাল খান সোহেলের-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

যৌন হয়রানির অভিযোগের পর কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন একজন নারী

শওগাত আলী সাগর

যৌন হয়রানির অভিযোগের পর কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন একজন নারী

সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক যৌন হয়রানির অভিযোগের পর এবার কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন একজন নারী- অনিতা আনন্দ।

 অপেক্ষাকৃত তরুন রাজনীতিক অনিতা আনন্দ- কোভিড মহামারীতে কানাডার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহে আশাতীত সাফল্য দেখিয়েছেন। এবার তার উপর দায়িত্ব পরছে দেশের সেনাবাহিনীর দেখভাল করা।আজই জাস্টিন ট্রুডো নতুন মন্ত্রীসভা ঘোষনা করবেন।

আরও পড়ুন:

নিজের মেয়েকে হত্যা করতে গুগল সার্চ!

মা কালী সেজে জনগণকে তাক লাগালেন রিখিয়া

আরিয়ানের জামিন শুনানি আজ, টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব

সেনা প্রধানের দায়িত্বটিও একজন নারীর হাতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সব লেখার আইনগত ও অন্যান্য সব দায় লেখকের। মতামত লেখকের নিজস্ব, সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

ভাত কম খাওয়া প্রসঙ্গে

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

ভাত কম খাওয়া প্রসঙ্গে

ভাত কম খেতে হবে- এই পরামর্শ ঠিক আছে৷ কিন্তু এই পরামর্শ একজন চিকিৎসক দিলে এর অর্থ একরকম। কৃষিমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রী বললে তার অর্থ হয় আরেক রকম। চালের মূল্য সহ নানাবিধ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি যখন সমকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় সেই সময়ে এ জাতীয় পরামর্শ উপহাসের মত লাগে। 

আজ থেকে বিশ-পঁচিশ বছর আগেও এরকম রসিকতা হজম করতে হয়েছে। কিংবা তারও আগে। আশির দশকে শ্লোগান ছিল বেশি বেশি আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান। সাইফুর রহমান সাহেবও একবার বলেছিলেন ভাত কম করে খেতে।  পেঁয়াজের দাম বাড়লে মন্ত্রীরা বলেন পেঁয়াজ না খেলে কি হয়? আমাদের মন্ত্রীদের কেন এসব বলতে হয়? এত হিউমার তো ভাল লাগেনা।

সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সব লেখার আইনগত ও অন্যান্য সব দায় লেখকের। মতামত লেখকের নিজস্ব, সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি এবাদত

সাদিয়া নাসরিন

এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি এবাদত

সন্তান গর্ভে ধারণ করলে আর ডিউ সময়ে ডেলিভারি দিলেই মা হওয়া যায়না। সন্তান গর্ভে ধারন, জন্মদান ও প্যারেন্টিং এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি এবাদত এবং অতি অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত বলে আমি মনে করি। কারণ, একজন শিশু শুধু ব্যক্তির সন্তান মাত্র নয়, শিশু মানে এই মানব সভ্যতার বিকাশ। সুতরাং শিশুর বিকাশের এই পুরো প্রক্রিয়ায় যে কোন একটি ধাপের ছোট ভুল পুরো এবাদতকেই শেষ করে দিতে পারে। 

আমরা সবাই জানি, শিশুর মনোবিকাশের শুরু হয় মায়ের গর্ভ থেকে। বিশেষ করে, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে শূন্য থেকে এক হাজার দিন। একজন মা, যার গর্ভে বেড়ে ওঠছে তার সন্তান, সেই মায়ের চিন্তা, ভাবনা, শিশুর সাথে মায়ের ইন্টারএ্যাকশন, মাযের গর্ভকালীন জীবন যাপন ও প্র্যাকটিস এসবই প্রভাব ফেলে সন্তানের মনোজগত নির্মাণের উপর। 

আমি যেদিন প্রথম জানতে পারি আমি মা হবো, তখন আমার গর্ভের ভ্রুণটির বয়স পাঁচ সপ্তাহের একটু বেশি। আমার বয়স চব্বিশ বছর। আমার মতো একজন তারছেঁড়া মানুষ, শামীমের মতো একজন বাউন্ডেলে কী করে মুহূর্তেই ‘মা’ আর ‘বাবা’ হয়ে গিয়েছিলাম সেটা এখনো এক অপার বিস্ময় আমার কাছে। 

শামীম তখন ইসিসিডি (আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্ট) ন্যাশনাল টীমের প্রশিক্ষকদের একজন। সেই সুবাদে সে আমার আর আমাদের সন্তানের গর্ভকালীন যত্ন ও যোগাযোগের ব্যাপারে খুব সচেতন। রিতিমতো ইসিডির মডিউল পড়ে পড়ে শেখাচ্ছে আমাকে কোন স্টেজে কী করতে হবে। শুধু আমাকেই না, বাড়ির সবাইকেই শেখাচ্ছে।একটা যৌথ পরিবারের ভেতরে থেকে পুরো পরিবারকে শিশুর গর্ভকালীন মনোবিকাশের বিষয়ে সচেতন রাখার কঠিনতম কাজটি সে করে ফেলেছিলো। 

আমার মনে আছে, আমার শ্বাশুড়ি বাড়ির পোষা পাখি, বেড়াল কুকুরের খাবার আমার হাত দিয়ে দেয়াতেন যেনো অনাগত শিশুটি প্রাণের প্রতি দয়াশীল ও দায়বদ্ধ হয়, ওই অবোধ প্রাণীগুলোর প্রাণের দোয়া যেন আমার বাচ্চার উপর থাকে। 

আর আমি ? শামীম....আমরা কী করিনি আমাদের সন্তানের পজেটিভ ডেভেলপমেন্টের জন্য !! ব্রেইনকে সারাক্ষণ সুস্থ চিন্তা, সুন্দর ভাবনার ভেতরে রাখার মতো কঠিন চর্চাটি আমি তখন পা টিপে টিপে করেছি। বিশ্বাস করুন, করেছি। 

যেহেতু ওই সময় আমি বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, আমার বেশিরভাগ সময় এমনিতেই টেবিলে কাটতো পড়ালেখা করে। তার সাথে ছিলো বই পড়া, গান শোনা। দ্য গড অব স্মল থিংস, মানবজমীন, পার্থিব, দূরবীন, কালবেলা, কালপুরুষ, সাতকাহন, ভোলগা সে গঙ্গা....আরো কতো বই আমার আর বাচ্চার সারাক্ষণের সঙ্গী যে ছিলো!!

আমি যেহেতু আস্তিক মানুষ, সন্তানের মঙ্গল কামনায় নিয়ম করে নামাজ পড়েছি।মারসাদ পেটে থাকতেই আমি পুরো কোরান বাংলা অনুবাদ, ব্যখ্যা সহ পড়েছি তিনবার।কোরান পড়ার সময় সুর করে জোরে পড়তাম যেনো বাচ্চা শুনতে পায়।নামাজ পড়ার সময় সুরাও জোরে পড়তাম যেনো বাচ্চা শুনতে পায়। 

বইএর যে অংশটা আমার ভালো লাগতো, সেটুকু জোরে পড়তাম, বাচ্চা যেনো শুনতে পায়। শামীম নিয়ম করে বাচ্চার জন্য গান শোনাতো আমাকে।আমি নিজে গান শুনতাম সারাক্ষণ, গাইতাম। ঘুমাতে যাওয়ার আগে সুন্দর সব স্বপ্ন কল্পনা করে রাখতাম যা আমি দেখতে চাই।

শুধু মারসাদের সময়ই নয়, তিনটা বাচ্চার সময়ই আমি প্রেগন্যান্সিকে প্রার্থনার মতো করে মেনেছি। বিশ্বাস করুন, আমি এই দু:খী দেশের কিছু অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মায়েদের অন্যতম যার গর্ভকালীন শারিরীক ও মানসিক যত্নের অভাব হয়নি। তার ফল আমি পেয়েছি। 

আমার মেয়েটার শান্ত ও মানবিক একটা হ্রদয় হয়েছে। সে শিশুকাল থেকেই টেবিল আর বইএর সাথে এটাচ্ড হয়েছে। শৈশব থেকেই তার সমস্ত খেলাধুলা টেবিল আর কলম কেন্দ্রিক। তার গলায় করুণাময় মধুছন্দ ঢেলে দিয়েছেন। আমার ছেলেরাও মানবিক হ্রদয় নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে, পরমেশ্বরের কাছে এই কৃতজ্ঞতা জাননোর ভাষা আমার নেই। 

এই যে এতো কাহিনী বললাম কেনো জানেন? নিচের ছবির ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামীর কোলের শিশুটিকে দেখে। হ্যাঁ, নুসরাত হত্যা মামলার আসামী কামরুন্নাহার মণির কথা বলছি। 

এই শিশুটিকে পাঁচমাসের গর্ভে রেখে এই মেয়েটি আরেকজন জীবন্ত মানুষের গায়ে আগুন দেয়ার কাজটি করেছে। এই মেয়েটি তার বান্ধবী নুসরাতকে ডেকে এনেছে, অন্যদের সাথে হাত বেঁধেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী প্রথম আগুন সেই লাগিয়েছে। 

পেটের ভেতর সন্তান রেখে একটি মেয়ে মনের মধ্যে এতো ঘৃণার চাষ কী করে করতে পারে!! গর্ভে সন্তানের নড়াচড়া বুঝেও, হ্রদস্পন্দন শুনতে শুনতেও  কী ভয়ানক সব চিন্তা সে করেছে, একটি জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনায় অংশ গ্রহন করেছে, অন্য খুনীদের জন্য বোরকা, হাতমোজা কিনে এনেছে!!  

কী ভয়ঙ্কর, কী ভয়ঙ্কর!!! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, এই মেয়েটির পরিবারে এমন কেউ ছিলোনা যে তাকে এই সুন্দর সময়ে এইসব অসুন্দর থেকে দূরে রাখবে? এমন কেউ ছিলোনা যে এই শিশুটির কথা একবার ভাববে ? কেউ ছিলোনা যে এই মেয়েটির ভয়ঙ্কর মনোবৈকল্যকে বুঝতে পারবে ? কেউ না !!! পুরো পরিবারটিই তবে অসুস্থ !!!!

কথা উঠেছে মণির সাজা মওকুফের বিষয়ে। আইন এইসব সংবেদনশীল বিষয় কিভাবে বিবেচনা করবে সেটা আইনের এখতিয়ার। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মণির মাতৃপরিচয় কোনভাবেই তার সাজা মওকুফের জন্য বিবেচ্য হতে পারেনা। একমাত্র বিবেচ্য বিষয় তার অপরাধ।  

বরং তার অপরাধের মাত্রা বেড়েছে এখানেই যে, সে তার মনের ঘৃণা, হিংস্রতা আর বর্বরতার বীজ বপন করে দিয়েছে তার গর্ভের সন্তানের মনোজগতে। সে ব্যহত করেছে একজন মানবশিশুর স্বাভাবিক ও সুস্থ বিকাশকে। 

আরও পড়ুন: শহীদ আফ্রিদি-শাহিন আফ্রিদিকে নিয়ে আইসিসির টুইট

মা হয়ে সন্তানের ভেতরে ঘৃণা ও সহিংসতার যে বীজ সে বপন করে দিয়েছে এখন অন্তত সেই বীজ উপড়ে ফেলার জন্যও শিশুটিকে তার কাছ থেকে দূরে রাখা জরূরী। খুব জরূরী। শিশুটিকে রাষ্ট্রিয় সম্পদ হিসেবে একটি সুস্থ পরিবেশ দেয়া দরকার। সব মায়ের কাছে সন্তান নিরাপদ নয়। 

মণির সাজা যদি কমাতে হয় সেটা তার অপরাধের মাত্রা ও মোটিভ বিবেচনায় করা হতে পারে, কোনভাবেই তার নারীত্ব ও  মাতৃপরিচয় বিবেচনায় নয়। একজন অপরাধী নারী হিসেবে বিশেষ সুবিধা পেতে পারেনা, মা হিসেবে আনুকূল্য পেতে পারেনা। 

অপরাধীর কোন লৈঙ্গিক পরিচয় নেই। অপরাধীর একটাই পরিচয়, অপরাধী। খুনীর জেন্ডার একটাই, ‘খুনী’।

লেখক-সাদিয়া নাসরিন, উন্নয়ন কর্মী। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সব লেখার আইনগত ও অন্যান্য সব দায় লেখকের। মতামত লেখকের নিজস্ব, সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর