সূরা বাকারা: আয়াত ৯৪-৯৮, শিক্ষাণীয় বিষয়

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৯৪-৯৮, শিক্ষাণীয় বিষয়

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৯৪ থেকে ৯৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৯৪ ও ৯৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন,

قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآَخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (94) وَلَنْ يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ (95)

"(ওই ইহুদীদের) বলে দিন, যদি পরকালের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে- অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে তোমরা নিজেদের মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।" (২:৯৪)

"কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনোই মৃত্যু কামনা করবে না। আর আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের সম্পর্কে অবহিত।" (২:৯৫)

অতীতকাল থেকে ইহুদীরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি মনে করতো। তারা বিশ্বাস করতো বেহেশত তাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং দোজখের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। আর তারা আল্লাহর সন্তান ও তারই বন্ধু। এই মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা একদিকে তাদের খুশীমত জুলুম-অত্যাচার ও পাপ কাজ করতো আর অন্যদিকে আক্রান্ত হতো আত্মম্ভরিতা, গর্ব ও অহঙ্কারের ব্যাধিতে। ফলে এই আয়াতে তাদের বিবেকের ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, 'বেহেশত একমাত্র ইহুদীদের জন্য' যদি তোমাদের এ দাবি সত্য হয় তাহলে তোমরা কেন দ্রুত বেহেশতে যাওয়ার জন্য মৃত্যু কামনা কর না? কেন মৃত্যুকে ভয় পাও? মৃত্যু ভয় অনেকটা চালকের ভ্রমণভীতির মত। ওই চালকই সফর করতে ভয় পায় যে রাস্তা চেনে না, জ্বালানি নেই কিংবা অপরাধ করেছে, অথবা চোরাই মাল বহন করছে বা গন্তব্যস্থলে থাকার কোন জায়গা নেই। কিন্তু প্রকৃত মোমিন রাস্তা চেনে, সৎকাজের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে, তওবার মাধ্যমে অপরাধ মার্জনা করে নিয়েছে, তার কাছে চোরাই কিছু নেই এবং পরকালেও তার রয়েছে বাসস্থান বা বেহেশত।

অধিকাংশ মানুষ যারা মৃত্যুকে ভয় পায়,তাদের ভীতি মূলত: দু'টি কারণে।

প্রথমত: তারা মৃত্যুকেই চূড়ান্ত ধ্বংস মনে করে। দ্বিতীয়ত: তারা হয়ত পরকালে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজেদের পাপ ও অন্যায় কাজের জন্যে মৃত্যুকে ভয় পায়। কারণ মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় মানুষের কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ। আর তাই মৃত্যু যাতে দেরীতে আসে ইহুদীরা সেটাই কামনা করতো। কিন্তু নবী-রাসুল এবং আল্লাহর অলীরা মৃত্যুকে বিনাশ ও ধ্বংস মনে করেন না বরং একে আরেকটি জীবনের সূচনা বলে বিশ্বাস করেন। তারা তাদের কর্মে ও চিন্তায় কোন অপরাধ করেননি বলে মৃত্যুকে ভয় পান না বরং উদ্যম ও আগ্রহের সাথে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, খোদার কসম! মৃত্যুর প্রতি আমার আকর্ষণ মাতৃস্তনের প্রতি নবজাতকের আকর্ষণের চেয়ে বেশী৷

৯৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمَّرَ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ (96)

"আপনি তাদেরকে (ইহুদীদেরকে) জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা দেখেন।" (২:৯৬)

রাসূলে খোদা (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে এ আয়াতে বলা হয়েছে, বেহেশতের দাবিদার ইহুদীরা মৃত্যু কামনাতো করেই না বরং অন্যান্য মানুষ এমনকি মুশরিকরা যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং মৃত্যুকে জীবনের ধ্বংস বলে মনে করে, তাদের চেয়েও এ দুনিয়ার প্রতি তারা বেশী লোভী। তারা দুনিয়ার জীবনের প্রতি এতই আসক্ত যে, পৃথিবীতে হাজার বছর জীবন-যাপন করতে চায়। যাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে দূরে থাকা যায় এবং জমা করা যায় দুনিয়ার ধন-সম্পদ। কিন্তু আল্লাহপাক জবাবে বলেন, তাদেরকে এক হাজার বছর বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়া হলেও ওই দীর্ঘায়ূ তাদের প্রাপ্য শাস্তি ঠেকাতে পারবে না। কারণ তাদের সমস্ত কাজ আল্লাহ দেখেন, কাজেই এই শিশুসুলভ চিন্তা তাদের জন্য কোন ফল বয়ে আনবে না ৷

আরও পড়ুন


খালেদা জিয়া স্যুটকেস ভর্তি টাকা সৌদির লকারে রেখেছেন: প্রধানমন্ত্রী

ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, আঘাত হানবে কোথায় (লাইভ দেখুন)

টাকাই নয়,কাজ দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় : আইজিপি

ষড়যন্ত্র করে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না: শিল্পমন্ত্রী


এরপর ৯৭ ও ৯৮ নম্বর আল্লাহ পাক বলেছেন-

قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ (97) مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ (98)

"আপনি বলুন, যে জীবরাঈলের শত্রু সে জেনে রাখুক, জিবরাঈল আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কোরআন পৌঁছে দিয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ।" (২:৯৭) 

"যে কেউ আল্লাহ, তার ফেরেশতা, রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু, সে জেনে রাখুক আল্লাহ নিশ্চয় সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের শত্রু। " (২:৯৮)

রাসূলে খোদা (সা.) যখন মদীনায় আসলেন তখন কিছু ইহুদী তাদের একজন পুরোহিতসহ রাসূলের কাছে এসে কিছু প্রশ্ন করল। তাদের একটি প্রশ্ন ছিল, তোমার কাছে যে ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসে তার নাম কি? রাসূলে খোদা জবাবে বলেন, জিবরাঈল। তখন ইহুদীরা বলল, যদি ওহীর ফেরেশতা মিকাঈল হতো তাহলে আমরা ঈমান আনবো। কারণ জিবরাঈল আমাদের শত্রু। সে আমাদের জন্য জেহাদের মত কঠিন বিধান নিয়ে আসে। মানুষ যখন সত্যকে মেনে নিতে চায় না তখন অজুহাত খুঁজে বেড়ায়। এমনকি তারা আল্লাহর ফেরেশতাকেও অযৌক্তিকভাবে দায়ী করে যাতে সত্য থেকে পালিয়ে থাকা যায়। জিবরাঈল, মিকাঈল প্রমুখ ফেরেশতাগণ নিজের থেকে কোন বাণী আনেন না। তাঁরা আল্লাহর বাণী পয়গম্বরদের কাছে পৌঁছে দেন। তারা কেবল আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন। তাই এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে ইহুদীবাদীদের এ দাবি ছিল ইসলাম গ্রহণ না করার একটি বাহানা।

আজকের আলোচিত আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

১. প্রত্যেক মানুষকে এমনভাবে জীবন-যাপন করা উচিত, যাতে সে যেকোন সময় মৃত্যুর জন্যে তৈরি থাকতে পারে। এই পৃথিবীতে কেউ যদি সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করে এবং অপরাধের জন্য তওবা করে তাহলে মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

২. দীর্ঘ জীবন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। একমাত্র আল্লাহর নৈকট্যের মাধ্যমেই জীবন হয়ে উঠে মূল্যবান। তাই দেখা যায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) তার এক দোয়ায় বলেছেন, হে আল্লাহ! আমার আয়ু যদি তোমাকে মেনে চলার মাধ্যম হয় তাহলে তা বাড়িয়ে দাও। আর যদি শয়তানের অনুসরণের জন্য হয় তাহলে তা সংক্ষিপ্ত করে দাও।

৩. ধর্ম হলো অনেকগুলো বিশ্বাসের সমষ্টি। তাই কেউ যদি বলে আল্লাহকে বিশ্বাস করি কিন্তু তার ফেরেশতা আমার শত্রু বা ওই নবীকে বিশ্বাস করি না তাহলে তার ঈমান নেই। সুতরাং একজন প্রকৃত মুমিন হলো সেই যে আল্লাহ, সব নবী ও সব ফেরেশতার প্রতি বিশ্বাস রাখে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আত্মহত্যার শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

আত্মহত্যার শাস্তি

ফাইল ছবি

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম ও কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যাকারীর গন্তব্য জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এ ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬; মুসলিম, হাদিস : ১১৩)


আরও পড়ুন:

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই পুরুষ

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিন: সরকারকে রিজভী

ফাঁকিবাজ সরকার বলেই সত্য বললেও মানুষ বিশ্বাস করেনা: মান্না


আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যে দোয়া পড়বেন

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর কাছে সুস্থ থাকার জন্য যেমন দোয়া করা উচিত তেমনি অসুস্থ হলেও তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা উচিত। সুস্থ থাকাটা হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। আবার অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনদের পাপ মোচন হয়। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবী।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায়

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

উপকার: আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি যে আপনি এই দোয়া পাঠ করছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দোয়া করতে শুনেছি। সে জন্য আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে দোয়া করবেন

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv/ কামরুল 

পরবর্তী খবর

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

অনলাইন ডেস্ক

হাক্কুল্লাহ'র অর্থ ও ব্যাখ্যা

হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক। আরবি হাক্ক শব্দটিকে বাংলায় হক বলা হয়। অর্থ কয়েক রকম আছে, তার মধ্যে এক অর্থ হলো অধিকার, হক, দাবি, পাওনা। এখানে হাক্কুল্লাহ অর্থ আল্লাহর হক, আল্লাহর পাওনা।

আমরা সচরাচর যে ক্ষমা প্রসঙ্গে জানি তা হলো, হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল অবশ্যই সে চরম ভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো।(সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১১৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল, অবশ্যই সে মহাপাপ রচনা করল।’ (আন-নিসা, আয়াত : ৪)

উল্লিখিত আয়াতে গুনাহ হচ্ছে সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত, যেগুলো আল্লাহর হক সেগুলো পালন না করা যা আল্লাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন, কারণ এগুলো আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৪)

হাদিসে এসেছে, মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে রাসুলের সঙ্গী ছিলাম। যে উটকে ‘উফাইর’ বলা হয়। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘হে মুআজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার কী কী হক রয়েছে? এবং আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার কী কী হক রয়েছে? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন। তিনি বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার হক হচ্ছে, তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না।’

আরও পড়ুন:


তাইজুল ম্যাজিকে লিড পেলো বাংলাদেশ

হেফাজত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম আইসিইউতে

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করে পেট চিরে বাচ্চা চুরি!


আল্লাহ তাআলার ওপর বান্দার হক হচ্ছে, যে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি কি সবাইকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দেব না? তিনি বলেন, তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

‘ইন্না লিল্লাহ’র বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

 

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মানুষের মৃত্যুসংবাদ পেলে কেবল এটি পড়তে হয়। অথচ এই পবিত্র বাক্য আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ রাখার বড় উপায়। 

একটি হাদিসে উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয় এবং আল্লাহ তাকে যা বলতে বলেছেন (নিচে উল্লেখিত) তা বলে, তখন আল্লাহ তাকে ওই মুসিবতের উত্তম বদলা এবং আগের চেয়ে উত্তম বিকল্প দান করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১৮)।

দোয়াটির আরবি :

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণ : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি; ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

আরও পড়ুন:


দ. আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন খুবই ভয়ঙ্কর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একই ইউপিতে বাবা-ছেলে ও আপন দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী!

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ


অর্থ : আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে আমার এই বিপদে বিনিময় দান করুন এবং আমার জন্য এরচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা করে দিন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

অনলাইন ডেস্ক

শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ

প্রতীকী ছবি

শীতকালে সহজে অনেক আমল করা যায়, আর এসব আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব ও পুণ্যও লাভ হয়।

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৬৫৬)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে। (বায়হাকি, হাদিস : ৩৯৪০)

শীতকালে সবার জন্য সুবিধাজনক ও সহজে আদায় করা যায়— এমন কিছু আমল হলো-

অনেকের কাছে শীতের সময়ে অজু করা কষ্টদায়ক। কিন্তু শীতের অজু বড় সওয়াবের কাজ। গরম পানি দিয়ে অজু করলেও সমপরিমাণ সওয়াব লাভ হবে।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না; যার কারণে আল্লাহ তাআলা পাপ মোচন করবেন এবং জান্নাতে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সা.) বললেন, মন না চাইলেও ভালোভাবে ওজু করা, অধিক পদক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫১)

রাতের গভীরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা সিজদাহ, আয়াত : ১৬)

আরও পড়ুন:

প্রতি নামাজের পর সম্পদলাভের দোয়া


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর