করোনাকালে এক উপজেলায় ৬০০ বাল্যবিয়ে

শেখ আহসানুল করিম করিম, বাগেরহাট

করোনাকালে এক উপজেলায় ৬০০ বাল্যবিয়ে

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবন সন্নিহিত দক্ষিণ খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তার (১২)। শরণখোলা গ্রামের নবী হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। সে লেখাপড়ায় একেবারেও খারাপ না। ৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ক্লাসে তার রোল চার। কিন্তু তাকে আর লেখাপড়া করতে দিল না করোনা। বাল্যবিয়ে

হয়ে গেছে সুমি আক্তারের। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই কিশোরী এখন অন্যের ঘরের বধূ।

অভিশপ্ত করোনা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি কেড়ে নিয়েছে তাদের ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন-স্বাধ। করোনাকালে শরণখোলায় সুমির একারই শুধু বিয়ে হয়নি। তার মতো কিশোরীবধূ হয়েছেন পঞ্চম থেকে এসএসসি পর্যন্ত প্রায় ছয় শত শিক্ষার্থী।

শুধু শরণখোলা উপজেলাতেই নয়, করোনাকালে বাগেরহাটের অন্য ৮টি উপজেলার প্রাথমিক, নিন্ম মাধ্যামিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শত-শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের স্বীকার হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যে এমন হয়েছে, তা নয়। উপজেলা সদর ও আশপাশের ঐতিহ্যবাহী স্কুল-মাদরাসাগুলোতেও অকালে বিয়ে হয়ে গেছে বহু শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে মাদরাসার চেয়ে স্কুলে বিয়ের হার বেশি। অভিভাবকদের অসচেতনতা, আর্থিক দৈন্যতা, নিরাপত্তার অভাব এবং শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তাই শিক্ষার্থীদের অকালে বিয়ের হওয়ার কারণ। বাল্যবিয়ের পাশাপাশি ঝরে পড়ার সংখ্যাও হতাশাজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।

বাল্যবিয়ে স্বীকার সুমি আক্তারের বাবা নবী হোসেন সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভিটেমাটি বলতে আছে মাত্র এক শতক চরের জমি। ছোট্ট একটি ঘর তুলে তাতেই বসবাস।

সংসারে সদস্য সংখ্যা ছয়জন। স্বামী, স্ত্রী, তিন মেয়ে আর এক ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে সুমি সবার বড়। বাবা মাছ ধরে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে টানাটানি করে। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অর্থনেতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নবী হোসেনের তিন মেয়ে তার মাথার বোঝা হয়ে দেখা দেয়। একই সাথে যোগ হয় মহামারী করোনা। স্কুলবন্ধ।

মা-বাবা পড়ে যান এক ঘোর অনিশ্চয়তায়। তাই অভাবের সংসারে চাপ কমাতে এক মাস আগে অকালে বিয়ে দিয়ে দেন তাদের বড় মেয়েটিকে।

দক্ষিণ খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ খানম জানান, স্কুল খোলার পর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আর ক্লাসে আসেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আফসোস করে বলেন, মেয়েটি ভালো ছাত্রী ছিল। ওর বাবা খুব গরীব। তাই এতো অল্প বয়সে মা-বাবা তাকে বিয়ে দিয়েছে। করোনার কারণেই অকালে ঝরে গেল মেয়েটি। স্কুল খোলা থাকলে আর এমনটি হতো না।

সহপাঠী রাবেয়া আক্তার, জান্নাতী আক্তার ও সুমন গাজী জানায়, স্কুল খোলার পর সুমিকে না দেখে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ওর বিয়ে হয়ে গেছে। সুমির বিয়ে হওয়াতে ওদের খুব মন খারাপ। ওরাও বলে, এতো অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে সুমির মা-বাবা ঠিক করেনি।

সুমিদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি বাবা নবী হোসেনকে। তিনি গেছেন মাছ ধরতে সুন্দরবনে। সুমি শ্বশুর বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগে এসেছে বাবার বাড়িতে। সুমির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়েতে তার মত ছিল না। ইচ্ছার বিরুদ্ধেই মা-বাবা তাকে বিয়ে
দিয়েছেন। তারপরও সমাপনী পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা আছে বলে জানায় সুমি।

মেয়েকে এতো কম বয়সে বিয়ে দিয়ে ঠিক করেছেন কিনা জানতে চাইলে সুমির মা মুকুল বেগম বলেন, সংসারে সদস্য ছয়জন। ওর বাপে জঙ্গলে (সুন্দরবনে) মাছ ধইরা কয় টাহা আর পায়?

তা দিয়া সংসার চলে না। তার উপর তিনডা মাইয়া বিয়া দিমু ক্যামনে? মাইয়াও বড় ওইতে আছে। স্কুল বন্ধ থাকায় মাইয়াগো লেহাপড়া বন্ধ। তাই ভালো পোলা (ছেলে) পাইয়া বিয়া দিয়া দিছি। জামাই পোষাক কারখানায় চাকরি করে।

শরণখোলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলে গিয়ে জানা যায়, করোনার বন্ধে নবম, দশম এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী মিলিয়ে ৫০ জনের মতো বিয়ে হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে।

এসএসসিতে ৬৮ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০ জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। চালিতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম, দশম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে ২৫ জন ছাত্রীর। এদের মধ্যে কিছু কিছু এখনো বিদ্যালয়ে আসছে। বাল্য বিয়ের শিকার নবম শ্রেণির ফাতিমা আক্তার জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে যায় সে। তখন পরিবারের পছন্দে প্রতিবেশী এক সৌদী প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেয় তাকে। তবে, বিয়ে হলেও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায় সে। এসএসপি পরীক্ষার্থী রিমা আক্তার জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৭ জন, খোন্তাকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ জন, বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ জন, সাউথখালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২৩ জন, আমেনা স্মৃতি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২০জন ছাত্রীর মধ্যে ১৫ জন, তাফালবাড়ী কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত ১৫ জন, রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫জন, উপজেলা সদরের ‘আরকেডিএস’ বালিকা বিদ্যালয়ে ১১ জন।

এভাবে শরণখোলা উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ২০ জন করে কমপক্ষে ৪০০ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সুন্দরবন দাখিল মাদরাসায় নবম, দশম ও দাখিল পরীক্ষার্থী মিলিয়ে বিয়ে হয়েছে ১৩ জনের। রায়েন্দা-রাজৈর ফাজিল মাদরাসায় অষ্টম থেকে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে ১০ জনের, দারুল হেদায়েত নেছারুল উলুম ফাজিল মাদরাসায় ১২ জন, রায়েন্দা মহিলা দাখিল মাদরাসায় নবম. দশম ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ জন, রায়েন্দা বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ৬ জন, সোনাতলা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ২০ জন। এমনিভাবে শরণখোলা উপজেলার ১৬টি মাদরাসায় গড়ে ১৫ করে প্রায় ২৪০জন ছাত্রী করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের স্বীকার হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে পাওয়া গেগে এসব তথ্য।

প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, করোনাকালে বাল্য বিয়ের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতির সংখ্যাও কম নয়। গড় হিসাবে ৪০ভাগ আর কোনো দিনই বিদ্যালয়মুখি হবে না বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

শরণখোলা উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল আনোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পারিবারিক অসচ্ছ্বলতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনায় বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়েছে। স্কুল-মাদরাসা খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সংস্পর্শে থাকতো, খোঁজখবর নেওয়া যেত। তখর আর এই পরিস্থিতি হতো না।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী বলেন, স্কুলবন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন স্কুলবন্ধ থাকায় অভিভাবকরাও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। তাছাড়া, সুন্দরবন ঘেঁষা এই এলাকার বেশিরভাগ পরিবারই নিম্নআয়ের।

আরও পড়ুন: 


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে সময় বাঁচবে ৩ ঘণ্টা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় যাচ্ছে: ফখরুল

প্রকাশ হলো এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষার রুটিন

নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন বাইকার


তাই অনেকে পরিবারের বোঝা মনে করে মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়। পরিবার ইচ্ছে করেই তার মেয়েকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এতো পরিমাণ বিয়ে হতো না।

শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে অসংখ্য বাল্য বিয়ের খবর জানতে পেরেছি। বাল্যবিয়ের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাতে আর এমন অপ্রাপ্ত বিয়ের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হবে।

শরণখোলা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এইচ এম আব্দুল হালিম বলেন, করোনার দুর্যোগে শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। বাল্য বিয়ের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হাবে। এটাকা একটা সামাজিক অবক্ষয়। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে। পাবিারিক কলহ বৃদ্ধি পাবে। সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। এব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, বাল্য বিয়ে সমাজের জন্য একটা অসনি সংকেত। এটা আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। সামনে যাতে আর এধরণের অনাকঙ্খিত বিয়ে না হয়, সেব্যাপারে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ইমাম, পুরোহিত, কাজী ও গ্রাম পুলিশদের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তি সভা করা হচ্ছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষ

মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত চারজনের পরিচয় জানা গেছে

অনলাইন ডেস্ক

মাগুরা সদর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলাদলির ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ জগদল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাহাবাজ মোল্যার ছেলে সবুর মোল্যা, কবির হোসেন, চাচাতো ভাই রহমান মোল্যা এবং ইমরান। 

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


এলাকাবাসী জানায়, এই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার নজরুল হোসেন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে তফসিল ঘোষণার পর এই ওয়ার্ড থেকে সৈয়দ আলি নামে অপর একজন মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। 

এ ঘটনার পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় নজরুল মেম্বার এবং সৈয়দ আলি সমর্থিতদের মধ্যে বাদ বিবাদ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

পাসপোর্ট অফিসে টাকা দিলে সব মেলে

সৈয়দ রাসেল, সিলেট

অনিয়ম-দুনীর্তির কারণে দুর্ভোগ আর যন্ত্রণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, এসব অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলেও তারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এ কারণে দুর্নীতির মায়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নানা তৎপরতার পর থেমে নেই সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশন, জন্মনিবন্ধন সনদ আর সত্যায়িত করার সিল সবই আছে দালালের কাছে। দরকার শুধু টাকা। 

এসব অবৈধ কাজ দিনের পর দিন করছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।

২০১১ সালে অনিয়মের অভিযোগে বদলি হন সিলেট পাসপোর্ট অফিসের তৎকালীন উপ পরিচালক এ.কে.এম মাজহারুল ইসলাম। ২০১৭ সালে ডিডি হয়ে সিলেটে এসে ফের অনিয়মে জড়ান এই কর্মকর্তা। আবারও বদলি করা হয়।  

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


তবে ২০১৯ সালে তৎকালীন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচালক হয়ে ফেরেন এই অফিসে। ফের  নতুন করে নানা অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে এই পাসপোর্ট অফিস।

নানা অভিযোগে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সরকারের একাধিক সংস্থা। তবে বরাবরের মতো অভিযোগ অস্বীকার করলেন এই কর্মকর্তা। এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম- দুর্নীতি বন্ধে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে দমন করা হবে: মিসবাহ

অনলাইন ডেস্ক

কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার অশুভ উদ্দেশ্য মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্।

দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ,গণমাধ্যম কর্মীসহ বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে সুনামগঞ্জে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কেউ এটি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে, কঠোরভাবে তা দমন করা হবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে: জাফরুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক


কুমিল্লার ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পূজামণ্ডপ রক্ষার মূল দায়িত্ব সরকারের, ব্যর্থতার দায়ও সরকারের। ব্যর্থতা আমাদেরও রয়েছে। তবে সরকারকে এ ঘটনার দায় নিতে হবে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের ভাঙচুর হওয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলপাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জাফরুল্লাহ বলেন, এত পুলিশ থাকার পরও কীভাবে ঘটনাটি ঘটল? এটি দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। এত বড় ঘটনা ১৯৪৭-এর পর আর ঘটেনি। কক্সবাজার, নাসিরনগর, শাল্লা ও হাজীগঞ্জে আক্রমণ হয়েছে। তবে কুমিল্লার মতো এত বড় ঘটনা কোথাও ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নৈরাজ্য হচ্ছে। এ জন্য জাতীয় সরকার দরকার। এখানে পুলিশের ব্যর্থতা আছে। তাদের সাসপেন্ড করা দরকার। ব্যর্থ পুলিশের ট্রাইব্যুনালে বিচার করা দরকার।

জাফরুল্লাহ বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার গঠন করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা উচিত। 

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই মন্তব্য করে কুমিল্লার ঘটনায় লোক দেখানো ধরপাকড়ের নামে সরকার ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় পূজামণ্ডপটি পরিদর্শনে আসেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা নানুয়া দিঘির পাড় এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুন


থেমে-থেমে জ্বর আসছে খালেদা জিয়ার, খাচ্ছেনও খুবই অল্প

কুমিল্লার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন মৌসুমী, ভিসা মেলেনি ওমর সানীর

ক্ষমতায় যাওয়ার বিএনপির রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে: কাদের


জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এর বিচার চাই। মানুষ প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। সেটা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

এদিকে একই সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। ঐক্য পরিষদের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রামু থেকে কুমিল্লা, কারও ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রামুর ২২ মামলার অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন নির্যাতনের শিকার গায়ে আগুন দেয়া সেই কিশোরী

প্লাবন রহমান

মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন স্বামীর নির্যাতনে গায়ে আগুন দেয়া কিশোরী মা লাবণ্য। যৌতুকের টাকার চাপে শেষ পর্যন্ত নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় লাবণ্যের। মেয়েকে নির্যাতনকারী স্বামী শাহীন আলম ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন লাবণ্যের বাবা-মা।   

সুরাইয়া নেওয়াজ লাবন্য। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণী এখন না ফেরার দেশে। নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে নির্যাতন থেকে মুক্তি খুঁজে চলে গেছেন পরপারে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছেন সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য। বিয়ের এক বছর না যেতেই স্বামীর যৌতুকের চাপ-সেইসঙ্গে শশুর বাড়ির লোকজনের নানামুখী নির্যাতনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন এই স্ত্রী। পেটে সন্তানের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছিল লাবন্যের ওপর শারিরীক-মানসিক নির্যাতন। এসব সইতে না পেরে নিজের শরীর নিজেই ঝলসে দেন আগুনে। পরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে চলে গেলেন লাবন্য। তার আগে শরীরের ৯০ ভাগ পোড়া নিয়ে হাসপাতালে জন্ম দেন পাঁচ মাসের মৃত কন্যা সন্তান।

অথচ গত বছর নভেম্বরে ভালবেসে বিয়ে করেন শাহীন আলম ও লাবণ্য। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে চাপে রেখেছিলেন স্বামী শাহীনসহ শশুর বাড়ির লোকজন। এরইমধ্যে সন্তান সম্ভবা হলেও এতটুকু সহানুভুতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত লাবণ্যের ঠাই হয় বাপের বাড়ি। সেখানে থাকা অবস্থায়ও ফোনে স্বামী যৌতুক দাবি করলে, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই তরুণী। 

আরও পড়ুন:


নতুন সুখবর দিলেন জয়া

চট্টগ্রামে মা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশের সেই খুদে লেগস্পিনারকে নিয়ে যা বললেন শচীন! (ভিডিও)

মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়ে জানলেন ১১ বছর আগেই মৃত!


অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে চেষ্টা করলে স্বামী শাহীনের দুইটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ফোনে শাহীনের বাবা আবু তাহের জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত কিছু জানেন না তিনি।

সুরাইয়া ইয়াসমিন লাবণ্যের শশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউরার খাগড়া এলাকায়। আর বাবার বাড়ি নেত্রোকোনার কলমাকান্দার গাখাজোড়া এলাকায়। পাঁচ দিন আগে ওই বাবার বাড়ি থাকা অবস্থায় ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা হওয়ার পরই গায়ে আগুন দেয় মেয়েটি।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর