করোনাকালে এক উপজেলায় ৬০০ বাল্যবিয়ে

শেখ আহসানুল করিম করিম, বাগেরহাট

করোনাকালে এক উপজেলায় ৬০০ বাল্যবিয়ে

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবন সন্নিহিত দক্ষিণ খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তার (১২)। শরণখোলা গ্রামের নবী হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। সে লেখাপড়ায় একেবারেও খারাপ না। ৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ক্লাসে তার রোল চার। কিন্তু তাকে আর লেখাপড়া করতে দিল না করোনা। বাল্যবিয়ে

হয়ে গেছে সুমি আক্তারের। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই কিশোরী এখন অন্যের ঘরের বধূ।

অভিশপ্ত করোনা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি কেড়ে নিয়েছে তাদের ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন-স্বাধ। করোনাকালে শরণখোলায় সুমির একারই শুধু বিয়ে হয়নি। তার মতো কিশোরীবধূ হয়েছেন পঞ্চম থেকে এসএসসি পর্যন্ত প্রায় ছয় শত শিক্ষার্থী।

শুধু শরণখোলা উপজেলাতেই নয়, করোনাকালে বাগেরহাটের অন্য ৮টি উপজেলার প্রাথমিক, নিন্ম মাধ্যামিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শত-শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের স্বীকার হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যে এমন হয়েছে, তা নয়। উপজেলা সদর ও আশপাশের ঐতিহ্যবাহী স্কুল-মাদরাসাগুলোতেও অকালে বিয়ে হয়ে গেছে বহু শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে মাদরাসার চেয়ে স্কুলে বিয়ের হার বেশি। অভিভাবকদের অসচেতনতা, আর্থিক দৈন্যতা, নিরাপত্তার অভাব এবং শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তাই শিক্ষার্থীদের অকালে বিয়ের হওয়ার কারণ। বাল্যবিয়ের পাশাপাশি ঝরে পড়ার সংখ্যাও হতাশাজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।

বাল্যবিয়ে স্বীকার সুমি আক্তারের বাবা নবী হোসেন সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভিটেমাটি বলতে আছে মাত্র এক শতক চরের জমি। ছোট্ট একটি ঘর তুলে তাতেই বসবাস।

সংসারে সদস্য সংখ্যা ছয়জন। স্বামী, স্ত্রী, তিন মেয়ে আর এক ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে সুমি সবার বড়। বাবা মাছ ধরে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে টানাটানি করে। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অর্থনেতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নবী হোসেনের তিন মেয়ে তার মাথার বোঝা হয়ে দেখা দেয়। একই সাথে যোগ হয় মহামারী করোনা। স্কুলবন্ধ।

মা-বাবা পড়ে যান এক ঘোর অনিশ্চয়তায়। তাই অভাবের সংসারে চাপ কমাতে এক মাস আগে অকালে বিয়ে দিয়ে দেন তাদের বড় মেয়েটিকে।

দক্ষিণ খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ খানম জানান, স্কুল খোলার পর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আর ক্লাসে আসেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আফসোস করে বলেন, মেয়েটি ভালো ছাত্রী ছিল। ওর বাবা খুব গরীব। তাই এতো অল্প বয়সে মা-বাবা তাকে বিয়ে দিয়েছে। করোনার কারণেই অকালে ঝরে গেল মেয়েটি। স্কুল খোলা থাকলে আর এমনটি হতো না।

সহপাঠী রাবেয়া আক্তার, জান্নাতী আক্তার ও সুমন গাজী জানায়, স্কুল খোলার পর সুমিকে না দেখে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ওর বিয়ে হয়ে গেছে। সুমির বিয়ে হওয়াতে ওদের খুব মন খারাপ। ওরাও বলে, এতো অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে সুমির মা-বাবা ঠিক করেনি।

সুমিদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি বাবা নবী হোসেনকে। তিনি গেছেন মাছ ধরতে সুন্দরবনে। সুমি শ্বশুর বাড়ি থেকে কয়েকদিন আগে এসেছে বাবার বাড়িতে। সুমির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়েতে তার মত ছিল না। ইচ্ছার বিরুদ্ধেই মা-বাবা তাকে বিয়ে
দিয়েছেন। তারপরও সমাপনী পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা আছে বলে জানায় সুমি।

মেয়েকে এতো কম বয়সে বিয়ে দিয়ে ঠিক করেছেন কিনা জানতে চাইলে সুমির মা মুকুল বেগম বলেন, সংসারে সদস্য ছয়জন। ওর বাপে জঙ্গলে (সুন্দরবনে) মাছ ধইরা কয় টাহা আর পায়?

তা দিয়া সংসার চলে না। তার উপর তিনডা মাইয়া বিয়া দিমু ক্যামনে? মাইয়াও বড় ওইতে আছে। স্কুল বন্ধ থাকায় মাইয়াগো লেহাপড়া বন্ধ। তাই ভালো পোলা (ছেলে) পাইয়া বিয়া দিয়া দিছি। জামাই পোষাক কারখানায় চাকরি করে।

শরণখোলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলে গিয়ে জানা যায়, করোনার বন্ধে নবম, দশম এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী মিলিয়ে ৫০ জনের মতো বিয়ে হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে।

এসএসসিতে ৬৮ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০ জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। চালিতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম, দশম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে ২৫ জন ছাত্রীর। এদের মধ্যে কিছু কিছু এখনো বিদ্যালয়ে আসছে। বাল্য বিয়ের শিকার নবম শ্রেণির ফাতিমা আক্তার জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে যায় সে। তখন পরিবারের পছন্দে প্রতিবেশী এক সৌদী প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেয় তাকে। তবে, বিয়ে হলেও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায় সে। এসএসপি পরীক্ষার্থী রিমা আক্তার জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৭ জন, খোন্তাকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ জন, বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ জন, সাউথখালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২৩ জন, আমেনা স্মৃতি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২০জন ছাত্রীর মধ্যে ১৫ জন, তাফালবাড়ী কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত ১৫ জন, রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫জন, উপজেলা সদরের ‘আরকেডিএস’ বালিকা বিদ্যালয়ে ১১ জন।

এভাবে শরণখোলা উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ২০ জন করে কমপক্ষে ৪০০ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সুন্দরবন দাখিল মাদরাসায় নবম, দশম ও দাখিল পরীক্ষার্থী মিলিয়ে বিয়ে হয়েছে ১৩ জনের। রায়েন্দা-রাজৈর ফাজিল মাদরাসায় অষ্টম থেকে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে ১০ জনের, দারুল হেদায়েত নেছারুল উলুম ফাজিল মাদরাসায় ১২ জন, রায়েন্দা মহিলা দাখিল মাদরাসায় নবম. দশম ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ জন, রায়েন্দা বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ৬ জন, সোনাতলা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ২০ জন। এমনিভাবে শরণখোলা উপজেলার ১৬টি মাদরাসায় গড়ে ১৫ করে প্রায় ২৪০জন ছাত্রী করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের স্বীকার হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে পাওয়া গেগে এসব তথ্য।

প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, করোনাকালে বাল্য বিয়ের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতির সংখ্যাও কম নয়। গড় হিসাবে ৪০ভাগ আর কোনো দিনই বিদ্যালয়মুখি হবে না বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

শরণখোলা উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল আনোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পারিবারিক অসচ্ছ্বলতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনায় বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়েছে। স্কুল-মাদরাসা খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সংস্পর্শে থাকতো, খোঁজখবর নেওয়া যেত। তখর আর এই পরিস্থিতি হতো না।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী বলেন, স্কুলবন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন স্কুলবন্ধ থাকায় অভিভাবকরাও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। তাছাড়া, সুন্দরবন ঘেঁষা এই এলাকার বেশিরভাগ পরিবারই নিম্নআয়ের।

আরও পড়ুন: 


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে সময় বাঁচবে ৩ ঘণ্টা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় যাচ্ছে: ফখরুল

প্রকাশ হলো এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষার রুটিন

নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন বাইকার


তাই অনেকে পরিবারের বোঝা মনে করে মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়। পরিবার ইচ্ছে করেই তার মেয়েকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে এতো পরিমাণ বিয়ে হতো না।

শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে অসংখ্য বাল্য বিয়ের খবর জানতে পেরেছি। বাল্যবিয়ের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাতে আর এমন অপ্রাপ্ত বিয়ের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হবে।

শরণখোলা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এইচ এম আব্দুল হালিম বলেন, করোনার দুর্যোগে শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। বাল্য বিয়ের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হাবে। এটাকা একটা সামাজিক অবক্ষয়। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে। পাবিারিক কলহ বৃদ্ধি পাবে। সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। এব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, বাল্য বিয়ে সমাজের জন্য একটা অসনি সংকেত। এটা আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। সামনে যাতে আর এধরণের অনাকঙ্খিত বিয়ে না হয়, সেব্যাপারে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ইমাম, পুরোহিত, কাজী ও গ্রাম পুলিশদের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তি সভা করা হচ্ছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মাংস বেশি খাওয়ার জেরে তালাক, সেই বর-কনের আবার পালিয়ে বিয়ে!

অনলাইন ডেস্ক

মাংস বেশি খাওয়ার জেরে তালাক, সেই বর-কনের আবার পালিয়ে বিয়ে!

২৪ অক্টোবর, রবিবার চুয়াডাঙ্গায় বিয়ের আসরে বর পক্ষের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নববধূকে তালাক দেওয়া হয়েছিল। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, সেই বর-কনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার পালিয়ে নিজেরা বিয়ে করে নিয়েছেন   

বিষয়টি নিশ্চিত করে বর সবুজ আলী বলেন, 'বিয়ের দিন যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দু’জনের তো কোন দোষ নেই। বিয়ে বাড়িতে একদুই কথা হয়। কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবি নাই। আমরা নিজেরাই বিয়ে করেছি। এখন ভালো আছি।' 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকালে বরপক্ষের তিনজনকে পিটিয়ে আহত করেছে কনেপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় বরের স্বজনরা জানান, বদরগঞ্জ দশমিপাড়ার রহিম আলীর ছেলে সবুজের সঙ্গে রবিবার একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে সুমি খাতুনের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বরপক্ষের লোকজনকে খেতে দেওয়া হয়। বর সবুজের সঙ্গে খেতে বসেন তার বন্ধুসহ আত্মীয়-স্বজনরা। খাওয়া শেষ হওয়ার মুহূর্তে বরপক্ষের লোকজন আরও মাংস চান। কনেপক্ষের লোকজন দিতে না চাইলে উভয়পক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে কনেপক্ষের লোকজন বরপক্ষের তিনজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।

আরও পড়ুন:


বিয়েতে মাংস বেশি খেয়েছে, নববধূকে তালাক!

আসছে ইউনিসেক্স কনডম, ব্যবহার করতে পারবে নারী-পুরুষ উভয়ই


তবে বর সবুজ আলীর দাবি, মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না। যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোন স্বজন নন।

news24bd.tv রিমু    

 

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। এছাড়া এছাড়াও নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।  

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তুলুয়া চাঁদপুর গ্রামের বারিরহাট বাজার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি আবু সায়েদ রিপন (৫০) ওই এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির রফিক উল্যার ছেলে। তিনি মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তায় ‘লাল-সুবজ’ বাস কাউন্টারের মালিক। প্রতিদিন কাজ শেষে গভীর রাতে কাউন্টার থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরতেন তিনি। ধারণা কারা হচ্ছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। 

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে বারিরহাট বাজার মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিরা সড়কের ওপর রিপনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তারা মাইকে ঘোষণা করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। নিহতের পায়ের ওপর মোটরসাইকেলটি পড়েছিল। এছাড়াও তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।   

তিনি আরও জানান, রিপনের সঙ্গে সবসময় ৩টি মোবাইল ফোন থাকলেও মরদেহের আশপাশে কোনো মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি, পকেটে কোনো টাকাও ছিল না।

আরও পড়ুন:


আবাসিক হোটেল থেকে ঢাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, চিঠিতে যা লেখা ছিল

স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মন্দিরে ১৭ লাখ রুপির স্বর্ণ দান

নির্বাচনে এক সতীনকে জেতাতে দুই সতীনের প্রচারণা!

চুল কিভাবে কাটতে হবে নিয়ম জারি ইউপি চেয়ারম্যানের!


এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

প্রেম করে বিয়ে অতঃপর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা!

অনলাইন ডেস্ক

প্রেম করে বিয়ে অতঃপর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা!

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন স্বামীও। গতকাল বুধবার রাতে এ ঘটনায় আশংকাজনক অবস্থায় স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌর সদরের প্রেমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  সীতাকুণ্ড পৌর সদরের প্রেমতলা গ্রামের রামচন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী জ্যোতিকা সূত্রধরের (২৩) সঙ্গে আনুমানিক দুই বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর যুবক অভি ধরের (২৭)। জ্যোতি ও অভি প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু অভি তাকে নিজ বাড়িতে তুলে না নেওয়ায় জ্যোতি তাকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার সন্ধ্যার পর অভি এখানে এসে জ্যোতিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করলে বাকবিতন্ডা হয়। এতে অভি জ্যোতিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে নিজেও আত্মঘাতী হতে নিজের পেটে নিজে ছুরিকাঘাত করে। 

ঘটনার পর জ্যোতির পরিবার ও এলাকাবাসী দু’জনকেই উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জ্যোতিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অভির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

আরও পড়ুন:


যুক্তরাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হয়নি মিজানুর রহমান আজহারীকে

চুল কিভাবে কাটতে হবে নিয়ম জারি ইউপি চেয়ারম্যানের!

যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার


সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক জানান, নিহত জ্যোতির লাশের সুরতহাল তৈরি করা শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকের মর্গে পাঠানো হবে। অভির অবস্থাও সংকটজনক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

news24bd.tv রিমু  

 

পরবর্তী খবর

নির্বাচনে এক সতীনকে জেতাতে দুই সতীনের প্রচারণা!

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচনে এক সতীনকে জেতাতে দুই সতীনের প্রচারণা!

বাঙালি সংস্কৃতিতে সতীনকে শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। সবাই মনে করে সতীনের সংসার মানেই ঝগড়া বিবাদের পরিবার। কিন্তু আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এক ভিন্ন রকম দৃষ্টান্ত দেখা গেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায়।

নির্বাচনে একটি ইউনিয়নে একজন মহিলা সদস্য প্রার্থীর প্রচারণায় নেমেছে অপর দুই সতীন।

আরও পড়ুন:


চুল কিভাবে কাটতে হবে নিয়ম জারি ইউপি চেয়ারম্যানের!

যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

আগামী ২৮ নভেম্বর আটোয়ারী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ৪, ৫ এবং ৬ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন করবেন ওই এলাকার মৎস্য চাষি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম।

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

চুল কিভাবে কাটতে হবে নিয়ম জারি ইউপি চেয়ারম্যানের!

অনলাইন ডেস্ক

চুল কিভাবে কাটতে হবে নিয়ম জারি ইউপি চেয়ারম্যানের!

চুল কাটতে দুই নিয়ম জারি করে নোটিশ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার। ঘটনাটি ঘটে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নে। জানা গেছে,  গত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) তাঁর স্বাক্ষর করা নোটিশটি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হয়। নোটিশে ইউনিয়নের সেলুন মালিক ও কারিগরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখা হয়, ‘সুন্নতি কাটিং ও ডিফেন্স-আর্মি কাটিং ব্যতীত অন্য কোনোভাবে চুল কাটলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

এদিকে গতকাল বুধবার চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। এ বিষয়ে এক কিশোর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যানের ছেলে তুষারের বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুন:


পাকিস্তানের জয় উদযাপন করে চাকরি হারালেন ভারতীয় শিক্ষিকা

যশোরে ৫ শিশুকে বলাৎকার! যুবক গ্রেফতার

বাড়িতে ঢুকে যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা


জাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার গত মঙ্গলবার তাঁর ইউনিয়নের স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে চুল কাটার বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনাটি কাগজে প্রিন্ট করে ইউনিয়নের জলিল বেপারীর হাট, বাসিরদোন বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাগিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সেলুনগুলোতে গিয়ে নির্দেশনা পালনের কথাও বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পরে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান গতকাল তাঁর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ক্ষমা চেয়ে একটি স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে নেন। 

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর